সাম্প্রতিক বিষয়

আরাফার খুতবার বাংলা অনুবাদ (১৪৩৯ হিজরী)

খতীব: শাইখ হুসাইন বিন আব্দুল আযীয আলু শাইখ।

ভাষান্তর: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল খাবীর (গোদাগাড়ী)

যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। যিনি পরম করুণাময় অতি দয়ালু। যিনি প্রতিফল দিবসের মালিক। যিনি বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন বিভিন্ন রকমের রিযিক প্রদান ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যেমে। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলাই সত্যিকারের মালিক তিনি ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ নেই, তিনি সম্মানিত আরশেরও রব্ব।

হে বিশ্ববাসী জেনেরাখ! আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের অন্তরের সমস্ত খবর জানেন, সুতরাং তোমরা সতর্ক হয়ে যাও। সেই সাথে তোমরা আরো জেনেরাখ যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ক্ষমাশীল ও দয়ালু। আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ নেই তিনি সকল কিছুর শ্রষ্ঠা ও সর্বজ্ঞ। আমি আরো সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, নিশ্চয় আমাদের নাবী মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে বিশেষ ভাবে বিশেষিত করেছেন এই বলে যে, “নিশ্চয়ই তুমি মহান চরিত্রের অধিকারী।” (সূরা আল-কলাম : ৪)

দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি, তার সাহাবী ও অনুসারীদের প্রতি যারা তার দেখানো পথেই সকল ভালো কাজে ও উত্তম চরিত্রের প্রতি অনুসরণ করেছেন। অতঃপর –

হে মু‘মিনগণ!! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তার নির্দেশাবলিকে মান্য করো, সেগুলোকে অন্তরে প্রিয় করে নাও এবং তার প্রতি আশা রাখো। নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে সে দুনিয়া ও আখেরাতে সফলকাম। যারা আল্লাহকে ভয় করে তারাই হেদায়াত প্রাপ্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন- ওহে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর আর তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আন, তিনি তাঁর অনুগ্রহে তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কার দিবেন আর তিনি তোমাদের জন্য আলোর ব্যবস্থা করবেন যা দিয়ে তোমরা পথ চলবে, আর তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।(সূরা আল-হাদীদ : ২৮) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন, “আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।”(সূরা- আলু ইমরান : ১৩০)

মু’মিনদের উত্তম পরিণাম সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, “আল্লাহর নিয়ামত এবং অনুগ্রহের কারণে তারা আনন্দ প্রকাশ করে এটা জেনে যে, আল্লাহ মু’মিনদের সাওয়াব বিনষ্ট করেন না।”(সূরা- আলু ইমরান : ১৭২)

আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন, “ইব্রাহীম তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর আর তাঁকে ভয় কর। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, তোমরা যদি জানতে!” (সূরা- আনকাবূত : ১৬)

ইবাদাত হবে কেবল আল্লাহর জন্য। নিশ্চয় বান্দার ভীতি অর্জনটি কেবল তার প্রতিপালকের জন্য, সকল ইবাদাতের মাঝেই রয়েছে তার একত্ববাদ। সুতরাং ইবাদাত আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য হতে পারে না। যেমনটি আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন- “হে মানুষ! ‘তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ‘ইবাদাত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা মুত্তাকী (পরহেযগার) হতে পার’। যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা ও আকাশকে ছাদ করেছেন এবং আকাশ হতে পানি বর্ষণ ক’রে তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপাদন করেন, কাজেই জেনে বুঝে কাউকেও আল্লাহ্র সমকক্ষ দাঁড় করো না।”(সূরা- বাকারাহ : ২১-২২)

আল্লাহ তা‘আলা এস¤পর্কে আরো বলেছেন, “আমি জিন্ন ও মানবকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র এ কারণে যে, তারা আমারই ‘ইবাদাত করবে।”(সূরা- আয যারিয়াত : ৫৬) “তাদেরকে এ ছাড়া অন্য কোন হুকুমই দেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহ্র ‘ইবাদাত করবে খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে। আর তারা নামায প্রতিষ্ঠা করবে আর যাকাত দিবে। আর এটাই সঠিক সুদৃঢ় দ্বীন।”(সূরা- আল-বায়্যিনাহ : ০৫) আমাদের রব্ব বলেছেন, “প্রকৃতই আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, কাজেই আমার ‘ইবাদাত কর, আর আমাকে স্মরণ করার উদ্দেশে নামায কায়িম কর।” (সূরা- ত্ব-হা : ১৪)

সকল নাবী-রাসূলগণই এসেছিলেন তাওহীদ নিয়ে, যেমন- নূহ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসা এবং সর্বশেষ নাবী মুহাম্মাদ আল্লাহ তাদের সকলের উপর দুরুদ ও সালাম বর্ষন করুন। তারা সকলেই তাদেল গোত্রদের বলেছিলেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোন ইলাহ নেই, তোমরা কি তাক্বওয়া অবলম্বন করবে না?” (সূরা- আ‘রাফ : ৬৫)

অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাওহীদ ও রাসূলদের অনুসারীদের জন্য শেষ ফলাফলকে করেছেন প্রশংসনীয় আর যারা বিপরীত করবে তাদের জন্য করেছেন নিন্দনীয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “প্রত্যেক জাতির কাছে আমি রসূল পাঠিয়েছি (এ সংবাদ দিয়ে) যে, আল্লাহর ‘ইবাদাত কর আর তাগুতকে বর্জন কর। অতঃপর আল্লাহ তাদের মধ্যে কতককে সৎপথ দেখিয়েছেন, আর কতকের উপর অবধারিত হয়েছে গুমরাহী, অতএব যমীনে ভ্রমণ করে দেখ, সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের পরিণতি কী ঘটেছিল!” (সূরা- আন নাহল : ৩৬)

সুতরাং এই তাওহীদই হচ্ছে একনিষ্ঠ, যার দিকে সকল নাবী-রাসূল এক আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দিয়েছেন। এটাই ‘আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার মা‘বূদ নেই’ কথাটির সাক্ষ্য দেয়ার প্রকৃত অর্থ। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “তোমাদের উপাস্য হচ্ছেন এক আল্লাহ, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন উপাস্য নেই। তিনি পরম করুনাময়, অতি দয়ালু।”(সূরা- বাকারা : ১৬৩) আল্লাহ বলেছেন, “বল, ‘তিনি আমার প্রতিপালক, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি আর তিনিই প্রত্যাবর্তনস্থল।”(সূরা- রা‘দ : ৩০) “আল্লাহ বললেন, ‘তোমরা দু’ ইলাহ গ্রহণ করো না, তিনি তো এক ইলাহ; কাজেই আমাকে কেবল আমাকেই ভয় কর।’

আকাশসমূহ আর যমীনে যা কিছু আছে তা তাঁরই, আর দ্বীন সদা-সর্বদা একান্তভাবে তাঁরই জন্য। তাহলে তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করবে? যে নি‘মাতই তোমরা পেয়েছ তাতো আল্লাহ্র নিকট হতেই। আর যখন দুঃখ-কষ্ট তোমাদেরকে স্পর্শ করে, তখন তাঁর কাছেই তোমরা আকুল আবেদন জানাতে থাক। অতঃপর যখন তিনি তোমাদের থেকে দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেন, তখন তোমাদের একদল তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে অন্যকে শরীক করে বসে আমি তাদেরকে যা দিয়েছি তাদের না-শোকরি করা জন্য। অতএব তোমরা ভোগ করে নাও, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে। (সূরা- নাহল : ৫১-৫৫)

হে আল্লাহর বান্দা!!! সাফল্য ও মুক্তি অর্জিত হয় এই সাক্ষ্যের মাধ্যমে এবং মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রাসূল বলে সাক্ষ্য দেয়ার মাধ্যমে এবং তার নির্দেশসমূহ পালন করা ও নিষধসমূহ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে। আল্লাহ রাসূলকে পাঠিয়েছেন সমস্ত মানুষের জন্য, যাতে তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসেন, গোমরাহী থেকে হেদায়াতের পথে আনেন। এস¤পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “আমি তোমাকে সমগ্র মানবমণ্ডলীর জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।”(সূরা- সাবা : ২৮) “হে নবী! আমি তোমাকে পাঠিয়েছি (যুগে যুগে প্রেরিত নবী রসূলগণ যে তাঁদের উম্মাতের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন- এ কথার) সাক্ষীস্বরূপ এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে” আর আল্লাহ্র অনুমতিক্রমে তাঁর পথে আহ্বানকারী ও আলোকপ্রদ প্রদীপরূপে। তুমি মু’মিনদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য আল্লাহ্র নিকট আছে বিশাল অনুগ্রহ।(সূরা- আহযাব : ৪৫-৪৭)

হে মু’মিনগণ!! আল্লাহ তোমাদেরকে বিশাল নিয়ামতের ও অনুগ্রহের সুসংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন, “যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য আছে জান্নাত, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত।”(সূরা- বাকারাহ : ২৫) আল্লাহ আরো বলেছেন, “আর যারা ঈমান আনে ও নেক ‘আমাল করে তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে।”(সূরা- বাকারাহ : ৮২)

নিশ্চয় ঈমান তার রুকনের উপর অপরিপর্তিত, ঈমানের রুকন সম্পর্কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈমান হচ্ছে- আল্লাহর প্রতি, ফেরেশতাদের প্রতি, আসমানি কিতাবসমুহের প্রতি, রাসূলদের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। তেমনি ভাবেই তিনি ইসলামের রুকনের কথাও বলেছেন, ইসলামের রুকন হচ্ছে- এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন মা‘বূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল, সলাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমাযান মাসে সিয়াম পালন করা ও সামর্থ থাকলে হজ্জ আদায় করা।

স্বলাত : ইসলামের রুকনসমূহের মাঝে আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি সাক্ষ্য প্রদানের পরেই হচ্ছে স্বলাতের স্থান। এই ‘স্বলাত’ এমন একটি কর্ম যা তার ইসলামের উপর থাকাটি প্রমাণ করে এবং বান্দা ও তার প্রতিপালকের সাথে যোগাযোগেরও মাধ্যম। বান্দা স্বলাতের মাঝে তার রব্বকে আহ্বান করে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “আর নামায প্রতিষ্ঠা কর; নামায অশ্লীল ও মন্দ কাজ হতে বিরত রাখে। নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ (বিষয়)। তোমরা যা কর আল্লাহ তা জানেন।”(সূরা- আনকাবূত : ৪৫) “সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার সময় হতে রাত্রির গাঢ় অন্ধকার পর্যন্ত নামায প্রতিষ্ঠা কর, আর ফজরের স্বলাতে কুরআন পাঠ (করার নীতি অবলম্বন কর), নিশ্চয়ই ফজরের স্বলাতে কুরআন পাঠের জন্য (ফেরেশতাগণ) সরাসরি সাক্ষী হয়।”(সূরা- ইসরা : ৭৮) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন, “যারা কিতাবকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে, নামায প্রতিষ্ঠা করে, আমি (এসব) সৎকর্মশীলদের কর্মফল কখনো বিনষ্ট করি না।”(সূরা- আ‘রাফ : ১৭০)

যাকাত : আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ মাল হলে তা থেকে যাকাত বের করে গরীব দুস্থদের প্রদান করা। যাদের মাঝে যাকাত বন্টন করা হয় তারা এই যাকাত দ্বারা উপকার লাভ করে থাকে। আল্লাহ বলেছেন, “এবং তোমরা নামায কায়িম কর এবং যাকাত দাও এবং যা কিছু সৎ কার্যাবলী তোমরা স্বীয় আত্মার জন্যে আগে পাঠাবে, তোমরা তা আল্লাহ্র নিকট পাবে, তোমরা যা কিছু করছো নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’ দেখছেন।”(সূরা- বাকারা : ১১০) “তোমরা (নিয়মিত) নামায প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত প্রদান কর ও রসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও।” (সূরা- আন নূর : ৫৬)

সিয়াম : ইসলামের আরেকটি রুকন হচ্ছে, রমাযান মাসে সিয়াম পালন করা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেছেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।” (সূরা- বাকারা : ১৮৩)

হজ্জ : ইসলামের ৫ম রুকন হচ্ছে- সামর্থ থাকলে বায়তুল্লাহয় হজ্জ পালন করা। আল্লাহ বলেছেন, “আল্লাহর জন্য উক্ত ঘরের হজ্জ করা লোকেদের উপর আবশ্যক যার সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে” (সূরা- আলু ইমরান : ৯৭) “হজ্জ হয় কয়েকটি নির্দিষ্ট মাসে, অতঃপর এ মাসগুলোতে যে কেউ হজ্জ করার মনস্থ করবে, তার জন্য হজ্জের মধ্যে স্ত্রী সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয় এবং তোমরা যে কোন সৎ কাজই কর, আল্লাহ তা জানেন এবং তোমরা পাথেয়ের ব্যবস্থা করবে আর তাক্বওয়াই শ্রেষ্ঠ পাথেয়। হে জ্ঞানী সমাজ! আমাকেই ভয় করতে থাক।” (সূরা- আলু ইমরান : ১৯৭)

হজ্জের ফযিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি হজ্জ পালন করল আর হজ্জ পালনকালে স্ত্রী সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও ঝগড়া-বিবাদ করল না তাহলে সে ফিরে আসবে নিষ্পাপ হয়ে, যেভাবে তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিলো।”

হে মু’মিনগণ! হজ্জের বিধি-বিধান পালনে নবীর অনুসরণ করতে আল্লাহ আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা আমার থেকে হজ্জের নিয়ম-কানুনগুলো শিখে নাও।” একথার মাধ্যমে মূলত তিনি আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন সকল ভালো কাজে ও ইবাদাতে তার অনুসরণ করতে, এজন্য আল্লাহ তা‘আলা আল্লাহ ও তার রাসূলকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে সম্পর্কিত করেছেন। তিনি বলেছেন, “বলে দাও, ‘যদি তোমরা আল্লাহ্কে ভালবাস, তবে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসকল ক্ষমা করবেন” (সূরা- আলু ইমরান : ৩১) “তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের আশা রাখে আর আল্লাহ্কে অধিক স্মরণ করে।”(সূরা- আহযাব : ২১) নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন শিষ্ঠাচারে ও উত্তম চরিত্রে সর্বত্তম। যেমন তাঁর চরিত্রের গুণ বর্ণনায় আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “নিশ্চয়ই তুমি মহান চরিত্রের অধিকারী।” (সূরা- ক্বলাল : ০৪)

তাঁর গুণ বর্ণনায় আল্লাহ আরো বলেছেন, “সুতরাং আল্লাহর পরম অনুগ্রহ যে তুমি তাদের উপর দয়ার্দ্র রয়েছ” (সূরা- আলু ইমরান : ১৫৯) অনুরূপভাবে উম্মুল মু’মিনীন আয়েশাহ (রা) বর্ণনা করেছেন যে, “কুরআনই ছিলো তার চরিত্র” ইসলামের যাবতীয় বিষয় তার মাঝে বিদ্যমান। তিনি ছিলেন চরিত্রের সর্বচ্চো পর্যায়ে, ব্যবহারেও তিনি ছিলেন উত্তম। সেই উত্তম চরিত্রটি বর্তমান সময়ে অনেক বেশিই প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। উত্তম ব্যবহার ও চরিত্র ব্যবসায়িক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সর্বক্ষেত্রেই এটি অনেক প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। কেননা এই উত্তম চরিত্রই মানুষের হক্ব প্রতিষ্ঠা ও সকল প্রকার ন্যায় নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা রাখে। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আরাফার মাঠে উত্তম চরিত্র গঠনের জন্য উৎসাহ প্রদান করেছিলেন, আর দুঃশ্চরিত্রের অনুসরণ করতে নিষেধ করেছিলেন। তিনি আরো বলেছিলেন, “নিশ্চয় তোমাদের রক্ত ও সম্পদসমূহ হারাম করা হয়েছে।” তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, “আমার মৃত্যুর পরে তোমরা কুফরীতে ফিরে যেয়ো না।”

হে মু’মিনগণ!!! উত্তম চরিত্রই একজনকে দ্বীন ইসলামে সমুন্নত করে, নাবী-রাসূলগণ এই উত্তম চরিত্র গঠনে উৎসাহ দিতেন। সহীহায়নে বর্ণিত হয়েছে, নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে উত্তম লোক সেই ব্যক্তি যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী।” যখন ইসলামের ফযিলত প্রকাশ পেলো, শরীআত পূর্ণতা পেলো তখন ভালোকাজগুলোকে সংরক্ষণ ও খারাপ কাজকে প্রতিহত করা এবং উত্তম চরিত্র গঠনে জোরালো প্রচেষ্টার সাথে ভালো কাজ প্রচারে উৎসাহ এবং কারো যুলম থেকে অন্যজন রক্ষা করতে জোরালো প্রচেষ্টা শুরু হয়।

তাঁরা ছিলো ইসলামের এমন একটি জাতি যারা হিদায়াতের উপর একত্রিত হতো, কুরআন ও সূন্নাহ’র উপর নির্ভর করত, বিদআত ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে দূরে থাকতো, তারা এক রব্বের দিকেই অভিমুখি থাকতো, অনুসুরণ করতো এক নাবীর (আল্লাহ তার উপর দুরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন)। তারা কুরআন দ্বারা হিদায়াত প্রাপ্ত ছিলো, কা‘বার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করত, একটি ঘরকে কেন্দ্র করে হজ্জ পালন করত, এক পদ্ধতিতেই কুরবানী করতো, তারা সকল কাজে ন্যায় নিষ্ঠা বজায় রাখতো।

ইসলামী শারীআতে উত্তম চরিত্র গঠনে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। চরিত্র গঠনে শব্দবলিও হবে অতি উত্তম। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “আমার বান্দাদেরকে বলতে বল এমন কথা যা খুবই উত্তম। শয়তান মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিভেদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, শয়তান হল মানুষের প্রকাশ্য দুশমন।” (সূরা- ইসরা : ৫৩) “এবং মানুষের সাথে উত্তম ভাবে কথা বলবে” (সূরা- বাকারা : ৮৩)

কথা ও কাজে সত্যপন্থী হওয়ার ব্যাপারেও ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “ওহে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর এবং সত্যপন্থীদের অর্ন্তভুক্ত হও।” (সূরাহ তাওবাহ: ১১৯) তেমনিভাবেই অঙ্গিকারসমূহ পূরণ করতেও শারীআতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “ওহে মু’মিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ কর।” (সূরা- মায়েদাহ: ০১) “আর ওয়া‘দা পূর্ণ কর, ওয়া‘দা সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” (সূরা- ইসরা : ৩৪)

পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের প্রতি ইহসান করতেও আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “তোমরা আল্লাহ্র ‘ইবাদাত কর, কোন কিছুকেই তাঁর সাথে শরীক করো না এবং মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের আয়ত্তাধীন দাস-দাসীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ লোককে ভালবাসেন না, যে অহংকারী, দাম্ভিক।” (সূরা নিসা : ৩৬)

পিতা-মাতার অধিকার সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, “তাদেরকে বিরক্তি বা অবজ্ঞাসূচক কথা বলো না, আর তাদেরকে ভর্ৎসনা করো না। তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বল। তাদের জন্য সদয়ভাবে নম্রতার বাহু প্রসারিত করে দাও আর বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া কর যেমনভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালন পালন করেছেন।” (সূরা ইসরা : ২৩-২৪)

স্বামী-স্ত্রীর মাঝে একে অপরের প্রতি অনুগ্রহ করতেও আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “তাদের সাথে দয়া ও সততার সঙ্গে জীবন যাপন কর, তোমরা যদি তাদের পছন্দ নাও করো, মনে রেখো এমনও তো হতে পারে, যা কিছু তোমরা পছন্দ করো না তার মধ্যেই আল্লাহ তোমাদের জন্য অফুরন্ত কল্যাণ রেখেছেন। (সূরা নিসা : ১৯) আরাফার ময়দানে নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবাহ’র মাঝে বলেছিলেন, “তোমরা নারীদেরকে উত্তমভাবে উপদেশ দাও।”

ইসলামী শারীআত সৃষ্টির সকল কিছুর সাথেই ন্যায়-নিষ্ঠ আচরণের নির্দেশ দিয়েছে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেছেন, “আল্লাহ ন্যায়-বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়দেরকে দেয়ার হুকুম দিচ্ছেন, আর তিনি নিষেধ করছেন অশ্লীলতা, অপকর্ম আর বিদ্রোহ থেকে। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।” (সূরা নাহল : ৯০) আল্লাহ আরো বলেছেন, “আল্লাহর দয়া তো (সব সময়) তাদের নিকটে আছে যারা সৎ কাজ করে।” (সূরা আ‘রাফ : ৫৬)

একে অপরকে ধোকা দিতে এবং ওজনে কম দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহ কঠোর ভাবে নিষেধ করেছেন, তিনি বলেছেন, “পরিমাপ ও ওজন ন্যায়সঙ্গতভাবে পূর্ণ কর” (সূরা আনআম : ১৫২)

আমানাত রক্ষা করতে ও নির্ধারিত সময়ে মালিকের নিকট তা ফেরত দেয়ার ব্যপারেও আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন, হকদারদের হক তাদের কাছে পৌঁছে দিতে। তোমরা যখন মানুষের মাঝে বিচার করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে বিচার করবে।” (সূরা নিসা : ৫৮)

মু’মিনদের গুণাবলির প্রতি আল্লাহ তা‘আলা প্রশংসা করেছেন। “আর যারা নিজেদের আমানাত ও ওয়াদা পূর্ণ করে (তারাই সফলকাম হয়েছে)” (সূরা মু’মিনূন : ০৮) যারা নিজের উপরে অন্যদের প্রাধান্য দেয় আল্লাহ তাদেরও প্রশংসা করেছেন, তিনি বরেছেন, “আর তাদেরকে (অর্থাৎ মুহাজিরদেরকে) নিজেদের উপর অগ্রাধিকার দেয়, নিজেরা যতই অভাবগ্রস্ত হোক না কেন। বস্তুত: যাদেরকে হৃদয়ের সংকীর্ণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে তারাই সফলকাম।” (সূরা হাশর : ০৯)

যারা আল্লাহর পথে দান খয়রাত ও সাদাকাহ করে আল্লাহ তাদেরও প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, “তোমরা তোমাদের প্রিয়বস্তু খরচ না করা পর্যন্ত কক্ষনো পুণ্য লাভ করবে না, যা কিছু তোমরা খরচ কর- নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে খুব ভালভাবেই অবগত।” (সূরা আলু ইমরান : ৯২)

হে মুসলিম জাতি!!! শুনে রেখো, উত্তম চরিত্রের প্রতিদানের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন, “তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে ও সেই জান্নাতের দিকে যার বিস্তৃতি হচ্ছে আসমানসমূহ ও যমীনের সমান, যা মুত্তাকীদের জন্য তৈরী করা হয়েছে। যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল, আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন।” (সূরা আলু ইমরান : ১৩৩-১৩৪)

হে মুসলিমগণ!!! আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের জন্য তাওবার দরজা উন্মোচন করে দিয়েছেন, যাতে বান্দাহ তার কৃত অপরাধ ক্ষমা করিয়ে নিতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “ যারা তাওবাহ করবে, ঈমান আনবে, আর সৎ কাজ করবে (ক্বিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে না এবং সেখানে লাঞ্জিত হয়ে চিরবাসও করবে না) আল্লাহ এদের পাপগুলোকে পুণ্যে পরিবর্তিত করে দেবেন; আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।” (সূরা আল-ফুরক্বান : ৭০) তিনি আরো বলেছেন, “যে তাওবাহ করে, ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আর সৎপথে অটল থাকে, আমি তার জন্য অবশ্যই অতি ক্ষমাশীল।” (সূরা ত্ব-হা : ৮২)

হে মুসলিমগণ! নিশ্চয় তোমাদের এই দিনটি তাওবাহ’র মাওসুমের একটি দিন এবং এটি ক্ষমা প্রার্থনার একটি স্থান। এব্যাপারে ইমাম মুসলিম তার সহীহ মুসলিমে উল্লেখ করেছেন, নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আরাফার দিন আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম থেকে তার বান্দাদের যে পরিমাণ মুক্তি দিয়ে থাকেন অন্য কোন দিন এতবেশি মুক্তি দেন না। এই দিনে মানুষ আল্লাহর নিকট বেশি বেশি প্রার্থনা করে থাকে।” এই দিনটি কেনইবা অতি উত্তম হবেনা! কেননা এই দিনেই তো আল্লাহ নাযিল করেছিলেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিআমাত পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে কবূল করে নিলাম।” (সূরা মায়েদা :০৩) এই দিনেই তো উত্তম চরিত্র পূর্ণতা পেয়েছে, ইসলামী শারীআতও পরিপূর্ণ হয়েছে।

হে মুসলিম লক্ষ্য করো! আল্লাহ তা‘আলা সকল খারাপ কাজকে নিষেধ করেছেন এবং সত্য থেকে বিচ্যুত ব্যক্তিকে প্রতিহত করেছেন, একে অপরের দোষত্র“টি খুজতে নিষেধ করেছেন, খারাপ ধারণা পোষণ করতে, গীবত করতে ও অহংকার করতেও নিষেধ করেছেন। সুতরাং এসকল কিছু থেকে যখন বিশ্ববাসী বিরত থাকবে তখন উত্তম চরিত্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে সক্ষম হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “নিশ্চয়ই এ কুরআন সেই পথ দেখায় যা সোজা ও সুপ্রতিষ্ঠিত”। (সূরা ইসরা : ০৯) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফার দিন খুৎবাহ’র মাঝে বলেছিলেন, “আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যে ব্যক্তি তা আঁকড়ে থাকবে সে কখনোই বিপথগামী হবে না। একটি হচ্ছে- কুরআন এবং অপরটি হচ্ছে- সুন্নাহ।” তিনি মানুষদেরকে ধোকাবাজী, খিয়ানত ও অন্যদের মাল আত্মসাৎ করা থেকে আল্লাহর কিতাব কুরআনের প্রতি আহ্বান করেছেন।

উত্তম চরিত্র প্রতিষ্ঠিত হবে স¤পদ খরচ ও ব্যবসার মাধ্যমে। এই উত্তম চরিত্রই অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিও করতে পারে। এজন্যই ইসলামী শরাআতে ধোকাবাজী, সূদ ও অন্যের মাল ভক্ষণ করাকে হারাম করেছে। সেই সাথে আল্লাহ তা‘আলা সকল ক্ষেত্রে স্ব স্ব অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেও নির্দেশ দিয়েছেন।

নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে স¤পর্ক বজাই রাখতে ও নেতাদের অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর অনুগত হও এবং রসূলের অনুগত হও এবং তোমাদের মধ্যকার কর্তৃস্থানীয় ব্যক্তিগণের” (সূরা নিসা : ৫৯) সুতরাং আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করা উম্মাতের উপর আবশ্যক।

হে আল্লাহ’র বান্দাগণ!! সর্বাবস্থায় যেন সকলে উদ্দেশ্যকৃত উত্তম চরিত্রের সংরক্ষক হয়ে যায়। যেমনটি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফার খুতবায় বলেছেলেন, জাহেলী যুগের সকল কুসংস্কার আমার পদতলে নিঃশ্বেষ হয়ে গেছে।

হে বিশ্ববাসী !! সকলের উপর আবশ্যক জীবনে উত্তম চরিত্রকে ধারণ করা। সুতরাং হে জাতীর নেতাগণ! হে শরীআতের উলামাগণ! হে দায়িত্ববান ব্যক্তিবর্গ! হে সম্মানিত মুরব্বিগণ! হে পিতা-মাতাগণ! হে সাংবাদিকগণ! আমরা সকলকে আহ্বান জানাই উত্তম চরিত্রের আনুগত্যের প্রতি যা আমাদের উপর আবশ্যক।

আরাফার দিন নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবা দেয়ার পর বেলাল (রা) কে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি আযান দিলেন অতঃপর ইকামাত দিলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকলকে নিয়ে যোহরের দুই রাকাত স্বলাত আদায় করলেন। অতঃপর আবারো ইকামাত দিয়ে আসরের স্বলাত দুই রাকাত আদায় করে আরাফায় অবস্থান করেছেন। তিনি তার উটের উপর থেকে সূর্য ডুবা পর্যন্ত আল্লাহর যিকির-আযকারে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন। এরপর তিনি মুযদালিফায় গিয়েছেন। তিনি তার সাহাবীদেরকে উপদেশ দিয়েছেন, হে মানুষেরা! তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর যখন মুযদালিফায় পৌছলেন, সেখানে তিনি মাগরীবের তিন রাকাত ও এশা’র দুই রাকাত একত্রে কসর করে পড়লেন। তিনি মুযদালিফায় রাত্রি যাপন করে ফজরের স্বলাত প্রথম ওয়াক্তে আদায় করলেন এবং আল্লাহর নিকট দুআ করতে থাকলেন বাইরে আলো স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত। এরপর তিনি মিনায় গিয়ে সূর্য উদয়ের পর জামরায়ে আকাবায় সাতটি পাথর নিক্ষেপ করেছেন এবং কুরবানী যবেহ করে মাথা মুণ্ডন করেছেন। অতঃপর তিনি বায়তুল্লাহয় ‘তাওয়াফে ইফাযাহ’ করেছেন এবং মিনায় ‘আয়্যামে তাশরীক’ পর্যন্ত অবস্থান করেছেন। তিনি আয়্যামে তাশরীকের দিনগুলিতে সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢোলে যাওয়ার পর পাথর নিক্ষেপ করেছেন এবং মধ্যম জামরা ও ছোট জামরার নিকট দুআ করেছেন।

মিনায় তৃত্বীয় দিন পর্যন্ত অবস্থান করা সুন্নাত, আর সেটিই উত্তম। তবে রাসূল বৈধ করেছেন যদি কেউ ইচ্ছা করে ১২ তারিখে কার্যক্রম শেষ করে চলে আসতে তবে সেটি তার জন্য বৈধ হবে। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মিনার কার্যক্রম শেষ করলেন এবং মদীনায় সফরের ইচ্ছা করলেন তখন তিনি বায়তুল্লাহয় ‘তওয়াফে ইফাযাহ’ করে সকল কার্যক্রম শেষ করলেন।

হে বায়তুল্লাহর হজ্জ আদায়কারীগণ! নিশ্চয় তোমরা একটি সম্মানিত স্থানে ও ফযিলতপূর্ণ সময়ে অবস্থান করছো, এই সময়ে পাপ থেকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়া ও বেশি বেশি দুআ করা আবশ্যক। এজন্য নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফার দিন রোযা রাখেননি যাতে বেশি বেশি দুআ ও মাগফিরাত কামনা করা যায়। সুতরা তোমরাও তোমাদের রব্বের নিকট বেশি বেশি দুআ করো, তোমাদের জন্য, তোমরা যাদের পছন্দ করো তাদের জন্য, তোমাদের প্রতি যারা ইহসান করেছেন তাদের জন্য, এবং মুসলিম উম্মাহ’র জন্য। এরপর সম্মানিত শাইখ হারামাইন ও শারীফাইনের খাদিমের জন্য ও বিশ্ববাসীর কল্যানের জন্য দুআ করেছেন।

সূত্র :

মতামত দিন

Solve : *
23 × 13 =