যইফ ও জাল হাদীস সিরিজ (২য় খন্ড)

উম্মাতের মাঝে জাল ও যইফ হাদীস এর কুপ্রভাব দূর করতে মুহাদ্দিসগণের প্ররিশ্রমের অন্ত নেই। আল্লাহর এই ওয়াহী সংরক্ষণ করতে তাঁরা পরিশ্রম করেছেন। তারা সহীহ ও যইফ হাদীসগুলোকে আলাদা করে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন যাতে আমরা যইফ হাদীসে উপর আমল করে বিভ্রান্ত না হই। এছাড়া যেন আমরা সহীহ হাদীসের উপর আমল করতে পারি। এরকমই একজন গত শতাব্দীর অন্যতম সেরা মুহাদ্দিস শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ)। তিনি যইফ ও জাল হাদীস সিরিজ নিয়ে “সিলসিলাতুল যইফাহ ওয়াল মাউযুআহ’ নামে হাদীস সিরিজ লিখেছেন। এই বইটিরই ১ম থেকে ৪র্থ খন্ড প্রকাশ বাংলায় প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থটির প্রথম ও দ্বিতীয় ও তৃতীয় খন্ড ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়েছিলো। কিন্তু কোয়ালিটি তেমন ভালো ছিলো না। এই কপিটিতে হাই কোয়ালিটি স্ক্যান করা হয়েছে। পরবর্তিতে প্রথম খন্ডও প্রকাশ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

বইটির অনুবাদ করেছেন আবূ শিফা আকমাল হুসাইন বিন বাদীউযযামান। প্রকাশ করেছে তাওহীদ পাবলিকেশন্স।

বিস্তারিত…


সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ১৬)

লেখক : আবদুল হামীদ ফাইযী

মসজিদে যা অবৈধ

১। হারানো জিনিস খোঁজা; মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি কাউকে মসজিদে তার হারানো বস্তু খোঁজ করতে দেখবে, সে ব্যক্তি যেন তাকে বলে, ‘আল্লাহ তোমার জিনিস ফিরিয়ে না দিক।’ কারণ, মসজিদসমূহ এ উদ্দেশ্যে বানানো হয়নি।” (মুসলিম, সহীহ ৫৬৮নং)

২। বেচা-কেনা; মহানবী (সাঃ) বলেন, “যখন তোমরা দেখবে যে, মসজিদে কেউ কিছু বেচা-কেনা করছে, তখন তাকে বলবে যে, ‘আল্লাহ তোমার বেচা-কেনায় লাভ না দিক।” (তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান, দারেমী, সুনান, মিশকাত ৭৩৩নং)

৩। অসার, বাজে ও অশ্লীল কবিতা, গজল বা ছড়া পাঠ। আমর বিন শুআইবের পিতামহ বলেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাঃ) মসজিদে আপোসে কবিতা আবৃতি ও বেচা-কেনা করতে, জুমআর দিন (জুমআর) নামাযের পূর্বে গোল হয়ে বসতে নিষেধ করেছেন। (আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, মিশকাত ৭৩২নং) বিস্তারিত…


নববী আদর্শের আলোকে সুখময় জীবনের সন্ধানে

আরব বিশ্বে সাড়া জাগানো বিখ্যাত গ্রন্থ استمتع بحياتك লেখক ড. শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আরিফী। ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ একজন সাচ্চা দাঈ। ইসলামের সৌন্দর্যকে সাবলীল ভাষায় উম্মাহর সম্মুখে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি অতুলীয়। লেখনীর ময়দান ও বক্তৃতার অঙ্গনে বর্তমান আরব বিশ্বের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রে তিনি। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি তার একটি অমর সৃষ্টি। আচরণ-দক্ষতাকে পরিস্ফুট করার শত কৌশল তিনি এতে তুলে ধরেছেন।

কিতাবটির বাক্যবিন্যাস ও শব্দচয়ন অসাধারণ। প্রাঞ্জল ও জাদুময় লেখায় তিনি ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন – আখলাক চরিত্র, চিন্তা-চেতনা ও মানবীয় মহৎ গুণাবলির বিকাশ ঘটিয়ে আমরা আমাদের জীবনকে কীভাবে উজ্জ্বল করতে পারি। কীভাবে আমরা সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ একটি সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারি। সর্বোত্তম আখলাক ও চরিত্রের অধিকারী হয়ে কীভাবে নিজেদের জীবনকে আলোকিত ও সাফল্যমণ্ডিত করতে পারি। বিস্তারিত…


অসীলার শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ

রচনায় : ডক্টর আব্দুস সালাম বারজাস আল আব্দুল করীম

অনুবাদ : মোহাম্মদ ইদরীস আলী মাদানী

অসীলার শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ

এ মাহফীলে বক্তব্যের প্রথম বিষয় হলো: ‘‘আরব এবং শরিয়তের ভাষায় তাওয়াস্সুল বা অসীলার অর্থ’’ নিয়ে আলোচনা। কেননা এ বিষয়ে অধিকাংশ লোক যে কারণে পথভ্রষ্ট হয়েছে, তা হলো আরব এবং শরিয়তের ভাষায় তাওয়াস্সুল এর অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞতা। তারা তাওয়াস্সুল এর অর্থ করেছে আরব এবং শরিয়তের ভাষার পরিপন্থি অর্থ, ফলে ধ্বংসে নিমজ্জিত হয়েছে।

আরবদের ভাষায় তাওয়াস্সুল শব্দের কয়েকটি অর্থ হয়:

এক: তাওয়াস্সুল অর্থ : নৈকট্য লাভ করা, আর অসীলা অর্থ : নিকটবর্তী হওয়া।

আল কামূসে বলা হয়েছে: وسّل إلى الله تعالى توسيلا “ এমন কাজ করেছে যার মাধ্যমে সে আল্লাহর নিকটবর্তী হয়েছে। যেমন তাওয়াস্সুল।

     এ অর্থই আমাদের আজকের বিষয়, তাই আলোচনা তাতেই সীমাবদ্ধ রাখব।

     আর শরিয়তের ভাষায় তাওয়াস্সুল বা অসীলার অর্থ সম্পর্কে আল কুরআনে দুটি আয়াত এসেছেবিস্তারিত…


স্বলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ১৫)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

মসজিদের প্রতি আসক্তি ও তথায় অবস্থানের ফযীলত

মহান আল্লাহ বলেন,

إِنّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللهِ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلاَّ اللهَ، فَعَسَى أُولئِكَ أَنْ يَّكُوْنُوْا مِنَ الْمُهْتَدِيْنَ
অর্থাৎ, নি:সন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে, যারা আল্লাহতে ও পরকালে ঈমান রাখে, নামায কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে, আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, তারা সৎপথপ্রাপ্তদের দলভুক্ত হবে। (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত নং-১৮)

আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “আল্লাহ তাআলা সাত ব্যক্তিকে সেই দিনে তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর  কোন ছায়া থাকবে না; (তারা হল,)
১। ন্যায় পরায়ণ বাদশাহ্‌ (রাষ্ট্রনেতা),
২। সেই যুবক যার যৌবন আল্লাহ আযযা অজাল্লার ইবাদতে অতিবাহিত হয়, সেই  ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদ  সমূহের সাথে লটকে থাকে (মসজিদের প্রতি তার মন সদা আকৃষ্ট থাকে।)
৩। সেই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা স্থাপন করে; যারা এই ভালোবাসার উপর মিলিত হয় এবং এই ভালোবাসার উপরেই চিরবিচ্ছিন্ন (তাদের মৃত্যু) হয়।
৪। সেই ব্যক্তি যাকে কোন কুলকামিনী সুন্দরী (অবৈধ যৌন-মিলনের উদ্দেশ্যে) আহ্বান করে কিন্তু সে বলে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি।
৫। সেই ব্যক্তি যে দান করে গোপন করে; এমনকি তার ডানহাত যা প্রদান করে তা তার বাম হাত পর্যন্তুও জানতে পারে না। আর সেই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে; ফলে তার উভয় চোখে পানি বয়ে যায়।” (বুখারী ৬৬০নং, মুসলিম, সহীহ ১০৩১নং) বিস্তারিত…


স্বলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ১৪)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

মসজিদ ও নামায পড়ার জায়গা সম্পর্কিত

মহানবী (সাঃ) বলেন, “—আর সারা পৃথিবীকে আমার জন্য মসজিদ (নামাযের জায়গা) এবং পবিত্রতার উপকরণ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তির নিকট যে কোন স্থানে নামাযের সময় এসে উপস্থিত হবে , সে যেন সেখানেই নামায পড়ে নেয়।” (বুখারী ৪৩৮নং, মুসলিম প্রমুখ)

কবরস্থান ও গোসলখানা ছাড়া সারা পৃথিবীর (সমস্ত জায়গাই) মসজিদ (নামায ও সিজদার স্থান)। (আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, দারেমী, সুনান, মিশকাত ৭৩৭নং)

একদা আবূ যার (রাঃ) মহানবী (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন্‌ মসজিদ স্থাপিত হয়? উত্তরে তিনি বললেন, “হারাম (কা’বার) মসজিদ।” আবূ যার বললেন, তারপর কোন্‌টি? তিনি বললেন, “তারপর মসজিদুল আকসা।” আবূ যার বললেন, দুই মসজিদ স্থাপনের মাঝে ব্যবধান কত ছিল? তিনি বললেন, “চল্লিশ বছর। আর শোন, সারা পৃথিবী তোমার জন্য মসজিদ। সুতরাং যেখানেই নামাযের সময় এসে উপস্থিত হবে, সেখানেই নামায পড়ে নেবে।” (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৭৫৩নং)

নির্মিত গৃহ্‌ মসজিদ ছাড়া অন্য স্থানেও নামায পড়ার বৈধতা উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার জন্য এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। বিস্তারিত…


তাহকীক সুনান ইবনে মাজাহ ২য় খন্ড ডাউনলোড

সুনান ইবনে মাজাহ প্রসিদ্ধ ছয়টি হাদীস গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম। হাদীস শাস্ত্রে ইমাম ইবনে মাজাহর অন্যতম অবদান এটি। ইমাম ইবন মাজাহ (রহ) সারাজীবন গভীর সাধনা, নিরবচ্ছিন্ন অধ্যবসায় ও ঐকান্তিক অভিনিবেশের মাধ্যমে হাদীস সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করেন। এ গ্রন্থে অনেক মূল্যবান হাদীস রয়েছে যা অন্য কুতুবে সিত্তাহতে নেই। গ্রন্থটিতে ইমাম ইবনে মাজাহ ফিকহী মাসআলার তরতীব অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন।  হাদীসের বিন্যাস পদ্ধতি অনুপম ও অনন্য সাধারণ। সেই সাথে কোন পুন:পুন: হাদীস উল্লেখ করা হয়নি। এর বাব (পরিচ্ছেদ) গুলো দীর্ঘ নয়। এই গ্রন্থটির পূর্ণাঙ্গ তাহকীক সহ অনুবাদ ও প্রকাশ করেছে তাওহীদ পাবলিকেশন্স। বিস্তারিত…


স্বলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ১৩)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

আযানের জওয়াব

আযান শুরু হলে চুপ থেকে শুনে তার জওয়াব দেওয়া বিধেয় (সুন্নত)। মুআযযিন ‘আল্লাহু আকবার’ বললে, শ্রোতাও তার জবাবে ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে। মুআযযিন ‘আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্‌’ বললে শ্রোতা বলবে, ‘অআনা, অআনা।’ অর্থাৎ আমিও সাক্ষি দিচ্ছি, আমিও। (আবূদাঊদ, সুনান ৫২৬নং)

এই সময় নিম্নের দুআও বলতে হয়:-

وَ أَنَا أَشْهَدُ أَنْ لاَّ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ وَ (أَشْهَدُ) أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، رَضِيْتُ بِاللهِ رَباًّ وَبِمُحَمَّدٍ (সাঃ) رَسُوْلاً وَّ بِالإِسْلاَمِ دِيْناً।

উচ্চারণ:- অআনা আশহাদু আললা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহ, অ (আশহাদু) আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অরাসূলুহ্‌। রাযীতু বিল্লাহি রা ব্বাঁ উঅবিমুহাম্মাদিন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামা) রাসূলাঁউঅবিল ইসলামি দীনা।

অর্থাৎ, আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর বান্দা ও রসূল। আল্লাহ আমার প্রতিপালক হওয়ার ব্যাপারে, মুহাম্মাদ (সাঃ) রসূল হওয়ার ব্যাপারে এবং ইসলাম আমার দ্বীন হওয়ার ব্যাপারে আমি সন্তুষ্ট।

এই দুআ পড়লে গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়। (মুসলিম, সহীহ ৩৮৬, আবূদাঊদ, সুনান ৫২৫নং, তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান) বিস্তারিত…


স্বলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ১২)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

আযানের বিশেষ নিয়মাবলী

১। আযান যেন তার শব্দবিন্যাসের বিপরীত না হয়। যার পর যে বাক্য পরস্পর সজ্জিত আছে ঠিক সেই পর্যায়ক্রমে তাই বলা জরুরী। সুতরাং -উদাহ্‌রণস্বরুপ- যদি কেউ حيَّ عَلَى الصَّلاَة  বলার আগে حيَّ عَلَى الْفَلاَح বলে ফেলে, তাহলে পুনরায় حيَّ عَلَى الصَّلاَة বলে যথা অনুক্রমে আযান শেষ করবে। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ১/৩৪৮)

২। একটা বাক্য বলার পর অন্য বাক্য বলতে যেন বেশী দেরী না হয়। মাইক ইত্যাদি ঠিক করতে গিয়ে বা অন্য কোন কারণে বিরতি অধিক হলে পুনরায় শুরু থেকে আযান দিতে হবে।

৩। আযান যেন নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বে না হয়। যেহেতু ওয়াক্তের পূর্বে আযান যথেষ্ট নয়। (মুগনী ১/৪৪৫) পূর্বে দিয়ে ফেললে ওয়াক্ত হলে পুনরায় আযান দেওয়া জরুরী। (আউনুল মা’বূদ ২/১৬৬) একদা হযরত বিলাল (সাঃ) (ফজরের) আযান ফজর উদয় হওয়ার আগেই দিয়ে ফেলেছিলেন। মহানবী (সাঃ) তাঁকে আদেশ করলেন যে, তিনি যেন ফিরে গিয়ে বলেন, ‘শোনো! বান্দা ঘুমিয়েছিল। শোনো! বান্দা ঘুমিয়েছিল।’ (অর্থাৎ ঘুমের ঘোরে সময় বুঝতে পারিনি।) (আবূদাঊদ, সুনান ৫৩২নং) বিস্তারিত…