মুহাররম মাসে করণীয় ও বর্জনীয়

মুহাররম মাসে করণীয় ও বর্জনীয়: কিছু কথা

ভূমিকাঃ
আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বারটি নির্ধারিত; এতে কম-বেশী করার ক্ষমতা কারো নেই।

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ
অর্থাৎঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বারটি, আসমান সমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে।(সূরা তাওবাঃ৩৬)

এর মধ্যে মুহাররম মাস প্রথম আর যুল হিজ্জাহ সর্বশেষ। বারটি মাসের মধ্যে আবার চারটি মাস অতি সম্মানিত। এ মাসগুলোতে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রক্তপাত হারাম ছিল। কিন্তু তা বর্তমানে ইসলামী শরীয়তে রহিত, তবে আদব ও সম্মান প্রদর্শন এবং ইবাদতে যত্নবান হওয়ার হুকুমটি এখনও বাকী আছে। সম্মানিত মাসগুলোকে চিহ্নিত করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তিনটি মাস হল ধারাবাহিক- যিল ক্বদ, যিল হাজ্জ ও মুহাররম আর অপরটি হল মুযার গোত্রের রজব। হাদীসে মুযার গোত্রের রজব বলার কারণ হল; রজব সম্পর্কে আরববাসীদের মতানৈক্য ছিল, তন্মধ্যে মুযার গোত্রের ধারণা মতে রজব হল জামাদিউস সানীর পরে এবং শাবান মাসের পূর্বের মাসটি। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুযার গোত্রের রজব বলে বিষয়টি পরিষ্কার করে দেন। (more…)

More

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ২৬)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

পাঁচ-ওয়াক্ত নামাযে সুন্নতী ক্বিরাআত

সূরা ফাতিহার পর নামাযী তার নিজের মুখস্থ ও সহ্‌জ মত অন্য যে কোন একটি সূরা পাঠ করতে পারে। অবশ্য কতকগুলি বিশিষ্ট সূরা মহানবী (সাঃ) বিশেষ নামাযে পাঠ করতেন বলে অনুরুপ পাঠ করাকে সুন্নতী ক্বিরাআত বলে। এ সকল নামায ও সূরার বিস্তারিত বিবরণ জানার পূর্বে কুরআন মাজীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কয়েকটি পরিভাষা জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

কুরআন মাজীদকে ৭ ভাগে বিভক্ত করলে শেষ ভাগে যে সব সূরা পড়ে তার সমষ্টিকে ‘মুফাস্‌স্বাল’ বলা হয়। ‘ফাস্ৱল’ মানে পরিচ্ছেদ। এই অংশে সূরা ও পরিচ্ছেদের সংখ্যা অধিক বলে একে ‘মুফাস্‌স্বাল’ বা পরিচ্ছেদ-বহুল অংশ বলা হয়ে থাকে। সঠিক অভিমত অনুসারে এই অংশের প্রথম সূরা হল সূরা ক্বাফ।

এই মুফাস্‌স্বাল আবার ৩ ভাগে বিভক্ত; সূরা ক্বাফ থেকে সূরা মুরসালাত পর্যন্ত অংশকে ‘ত্বিওয়ালে মুফাস্‌স্বাল’ (দীর্ঘ পরিচ্ছেদ-বহুল অংশ), সূরা নাবা থেকে সূরা লাইল পর্যন্ত অংশকে ‘আউসাত্বে মুফাস্‌স্বাল’ (মাঝারি পরিচ্ছেদ-বহুল অংশ), আর সূরা য্বুহা থেকে শেষ সূরা (নাস) পর্যন্ত অংশকে ‘ক্বিসারে মুফাস্‌স্বাল’ (ছোট পরিচ্ছেদ-বহুল অংশ) বলা হয়।(আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/১০৫)

(more…)

More

নামাযের স্থায়ী ক্যালেন্ডার

নামায ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ। সঠিক সময়ে সালাত আদায় করার গুরুত্ব সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে অনেক তাগীদ এসেছে। এ সম্পর্কে আল-কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন :

إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا

নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করা মুসলমানের উপর ফরয করা হয়েছে। (সুরা আন্-নিসা আয়াত ১০৩)

এ বিষয়ে অনেক হাদীস রয়েছে। যেমন:

আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেছেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বললেনঃ তুমি যদি এমন ইমামের অধীনস্থ হয়ে পড় যে উত্তম সময়ে নামায না পড়ে দেরী করে পড়বে তাহলে কি করবে ? আবু যার (রা.) বলেন- একথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম (হে আল্লাহর রাসুল) এরূপ অবস্থায় পতিত হলে আপনি আমাকে কি করতে আদেশ করছেন ? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, তুমি উত্তম সময়ে নামায পড়ে নেবে । তারপরে যদি তাদের সাথে অর্থাৎ ইমামের সাথে জামায়াতে নামায পাও তাহলে তাদের সাথেও পড়বে । এটা তোমার জন্য নফল হিসাবে গন্য হবে।  (সহীহ মুসলিম ২য় খন্ড ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫ম অধ্যায় অনুচ্ছেদ ৪৩ হাদিস নং- ১৩৫০)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ হে আবু যার (রা.)! আমার পরে অচিরেই এমন সব আমীর বা শাসকের আবির্ভাব ঘটবে যারা একেবারে শেষ অয়াক্তে নামায পড়বে । এরূপ হলে তুমি কিন্তু সময় মত (নামাযের উত্তম সময়ে) নামায পড়ে নেবে । পরে যদি তুমি তাদের সাথে নামায পড়ো তা তোমার জন্য নফল হিসাবে গন্য হবে । আর যদি তা না হয় তাহলে তুমি অন্ততঃ তোমার নামায রক্ষা করতে সক্ষম হলে। (সহীহ মুসলিম ২য় খন্ড ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫ম অধ্যায় অনুচ্ছেদ ৪৩ হাদিস নং- ১৩৫১; ১৩৫২; ১৩৫৩; ১৩৫৪; ১৩৫৫) (more…)

More

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ২৫)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

ক্বিরাআতে যা মুস্তাহাব

আল্লাহর রসূল (সাঃ) (তাহাজ্জুদের) নামাযে যখন কুরআন পড়তেন, তখন ধীরে ধীরে পড়তেন। কোন তাসবীহর আয়াত পাঠ করলে তাসবীহ পড়তেন, কোন প্রার্থনার আয়াত পাঠ করলে প্রার্থনা করতেন এবং কোন আশ্রয় প্রার্থনার আয়াত পাঠ করলে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। (মুসলিম, সহীহ ৭৭২ নং)

ব্যাপারটি নফল নামাযের হলেও ফরয নামাযেও আমল করা বৈধ। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৩৯৬)

তিনি সূরা কিয়ামাহ্‌ এর শেষ আয়াত, أَلَيْسَ ذلِكَ بِقَادِرٍ عَلى أَنْ يُحْيِىَ الْمَوْتى (অর্থাৎ যিনি এত কিছু করেন তিনি কি মৃতকে পুনঃজীবিত করতে সক্ষম নন?) পড়লে জওয়াবে বলতেন,  سُبْحَانَكَ فَبَلى  (সুবহা-নাকা ফাবালা), অর্থাৎ তুমি পবিত্র, অবশ্যই (তুমি সক্ষম)।

সূরা আ’লার প্রথম আয়াত, سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلىঅর্থাৎ তোমার প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ঘোষণা কর) পাঠ করলে জওয়াবে বলতেন,سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلى  (সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা। অর্থাৎ আমি আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি)। (আবূদাঊদ, সুনান ৮৮৩, ৮৮৪নং, বায়হাকী)

আল্লামা আলবানী বলেন, উক্ত আয়াতদ্বয়ের জওয়াবে উক্ত দুআ বলার ব্যাপারটা সাধারণ; অর্থাৎ, ক্বিরাআত নামাযে হোক বা তার বাইরে, ফরযে হোক বা নফলে সর্বক্ষেত্রে উক্ত জওয়াব দেওয়া যাবে। আবূ মূসা আশআরী এবং উরওয়াহ্‌ বিন মুগীরাহ্‌ ফরয নামাযে উক্ত দুআ বলতেন। (ইবনে আবী শাইবা ৮৬৩৯, ৮৬৪০, ৮৬৪৫ নং)

(more…)

More

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ২৪)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

                                       জোরে ‘আমীন’ না বলার একটি খোঁড়া যুক্তি                

ইমামের পশ্চাতে নিঃশব্দে ‘আমীন’ বলার সমর্থকরা সশব্দে ‘আমীন’ বলার পিছনে ঝাল ধরানো যুক্তি পেশ করে থাকেন যে, ‘সাহাবারা নবীর পিছুতে নামায পড়তে পড়তে পালিয়ে যেতেন! তাই তিনি সকলকে জোরে ‘আমীন’ বলতে আদেশ করেছিলেন, যাতে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁরা পিছুতে মজুদ আছেন!!’

আলগা জিভের এই খোঁড়া যুক্তিতে রয়েছে দুটি অপবাদ; প্রথমত: সাহাবাগণের নামাযের প্রতি অনীহা প্রকাশ তথা নামায ও রসূল (সাঃ) কে ত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার অপবাদ!

দ্বিতীয়ত: মহানবী (সাঃ) এর তরবিয়তে ত্রুটি থাকার অপবাদ! অথচ তাঁর তরবিয়ত এমন ছিল যে, সাহাবাগণ তীরবিদ্ধ অবস্থাতেও নামায পড়ে গেছেন। কাতর হয়ে নামায ছেড়ে দেন নি। তাছাড়া আল্লাহর রসূল (সাঃ) নামাযের মধ্যে নবুওয়াতের মোহ্‌র দ্বারা নিজের পিছনে সাহাবাদের রুকু-সিজদা দেখতে পেতেন। (বুখারী, মুসলিম, সহীহ মিশকাত ৮৬৮ নং) অতএব তাঁরা নামাযে আছেন, না পালিয়ে যাচ্ছেন তা জানার জন্য জোরে ‘আমীন’ বলাকে ব্যবহার তাঁর কি প্রয়োজন ছিল? আর যদি তাই হয়, তাহলে মাগরেব ও এশার শেষ তৃতীয় ও চতুর্থ রাকআতে এবং যোহ্‌র-আসরে কি ব্যবহার করতেন? পরন্তু তিনি স্বয়ং কেন জোরে ‘আমীন’ বলতেন?

বলাই বাহুল্য যে, এটা হল বক্তার সহীহ সুন্নাহর প্রতি অবজ্ঞা ও অনীহার বহিঃপ্রকাশ। আর এর ফল অবশ্যই ভালো নয়।

(more…)

More

রাসূল (সা)-এর ২৪ ঘন্টা

ইসলাম অন্যান্য প্রচলিত ধর্মের ন্যায় কেবল কতিপয় কর্মকান্ডের সমাহারের নামই নয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার নাম। একজন ব্যক্তি ফজরের সালাতের জন্য সুবহে সাদিকের পর ঘুম থেকে উঠা এবং দিন অতিবাহিত হতে হতে সন্ধ্যা হয়ে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সম্পন্ন করার মাধ্যমে রাত্রিযাপন করে। আবার সুবহে সাদিক পর্যন্ত এই যে ২৪ঘন্টা সময় আছে তাতে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইসলামের বিধান বিদ্যমান আছে। আমাদের অনেকের ইসলাম সম্পর্কে ভালো জ্ঞান না থাকা, সামাজিকভাবে ইসলাম বিদ্বেষীভাব, রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের প্রতি বৈরিতা প্রদর্শনসহ বিবিধ কারণে ইসলামকে অন্যান্য ধর্মের ন্যায় মনে করার মাধ্যমে ইসলাম থেকে অনেক দূরে অবস্থান করেছেন।

রাসূল (সা)-এর জীবনে রয়েছে আমাদের জন্য চলার পথে পাথেয়। তার জীবনের সম্পূর্ণ দিকই সুন্নাহ। আবার তাঁর চরিত্রই কুরআন। অর্থ্যঅত কুরআনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন রাসূল (সা)-এর চরিত্র। রাসূল (সা) এর সামগ্রিক জীবন তথা পূর্ণাঙ্গ ২৪ ঘন্টা সম্পর্কে আমাদের জানা বাঞ্জনীয়। এই জীবনই অনুসরণ করার মাধ্যমে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করতে পারে। রাসূল (সা)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবন সম্পর্কে ধারণা দিতেই পিস পাবলিকেশন্স, বাংলাদেশ পরিবেশন করছে “রাসূল (সা)-এর ২৪ ঘন্টা”। (more…)

More

দল, ইমারত ও বায়আত সম্পর্কে উলামাগণের বক্তব্য (পর্ব ৬)

দল, সংগঠন, ইমারত ও বায়‘আত সম্পর্কে বিশিষ্ট উলামায়ে কেরামের বক্তব্য (ষষ্ঠ পর্ব)

            সঊদী আরবের উচ্চ উলামা পরিষদের সদস্য শায়খ ছালেহ আল-ফাওযান

মুহতারাম শায়খ বলেন, আল্লাহ্‌র রাস্তায় দা‘ওয়াত দেওয়া ওয়াজিব। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ ٱدۡعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِٱلۡحِكۡمَةِ وَٱلۡمَوۡعِظَةِ ٱلۡحَسَنَةِۖ ﴾ [النحل: ١٢٥] 

‘আপনি আপনার পালনকর্তার পথের দিকে দা‘ওয়াত দিন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে এবং উত্তমরূপে উপদেশ শুনিয়ে’ (আন-নাহ্‌ল ১২৫) তবে মুসলিমদের পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং অন্যকে হক মনে না করে শুধুমাত্র নিজেকে হক মনে করা দা‘ওয়াতের কোনো পদ্ধতি ও মূলনীতি হতে পারে না। যদিও বর্তমানে বিভিন্ন দলের বাস্তব চিত্র তা-ই। যাহোক, যে মুসলিমের জ্ঞান ও সামর্থ্য আছে, তার উপর কর্তব্য হচ্ছে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন জ্ঞান সহকারে মানুষকে আল্লাহ্‌র পথে ডাকা এবং অন্যদেরকে সহযোগিতা করা। তবে যেন এমন না হয় যে, প্রত্যেকটি জামা‘আতের নিজেদের জন্য আলাদা নিয়মনীতি নির্দিষ্ট  করে নেয়, যা অন্য জামা‘আতের বিরোধী। বরং গোটা মুসলিম উম্মাহ্‌র জন্য উচিত একটিমাত্র নিয়মনীতি থাকা, সবাই পারস্পরিক সহযোগিতা করা এবং একে অন্যের সাথে পরামর্শ করে চলা। বিভিন্ন দল এবং ভিন্ন ভিন্ন পথ ও মত সৃষ্টির কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা এগুলি মুসলিম ঐক্য ধ্বংস করে এবং মানুষের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করে, যেমনটি মুসলিম ও অমুসলিম দেশে বিভিন্ন দলের মধ্যে আজ এই বাস্তব চিত্র দেখা যাচ্ছে। সুতরাং দা‘ওয়াতী ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন দল গঠন করার কোনো প্রয়োজনই নেই; বরং এক্ষেত্রে যরূরী বিষয় হচ্ছে, যার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা আছে, সে একাকী হলেও মানুষকে আল্লাহ্‌র পথে দা‘ওয়াত দিবে। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে থাকলেও দাঈদের দা‘ওয়াতী মূলনীতি এক এবং হকের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।([1])

(more…)

More

ইসলামে শপথের বিধিবিধান

মূল: গবেষণা পরিষদ, আল-মুনতাদা আল-ইসলামী

অনুবাদ : আবুল কালাম আজাদ

ইসলামে শপথ ও এর বিধিবিধান

أيمان  শব্দটি يمين শব্দের جمع (বহুবচন)। অর্থ কসম বা শপথ। তবে يمين শব্দের মূল অর্থ ডান হাত। এটি কসম অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার কারণ হলো, তখনকার লোকজন শপথ করার সময় একে অপরের হাত ধরত।

শরীয়তের পরিভাষায় يمين তথা কসম বলা হয়, আল্লাহ তাআলার নাম কিংবা সিফাত উল্লেখ করে শপথকৃত বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করা।

 

প্রকারভেদ :

শপথ দুই প্রকার।

(এক) আল্লাহ তাআলার কোন সৃষ্টি নিয়ে শপথ করা : যেমন—কাবা শরীফ, নবী, আমানত, জীবন, প্রতিমা অথবা আউলিয়া।

এ প্রকার শপথ হারাম ও শির্ক।

 

দলীল নিম্নরূপ :

(১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী :

ألا إن الله ينهاكم أن تحلفوا بآبائكم فمن كان حالفا فليحلف بالله أو ليصمت. (رواه البخاري رقم الحديث : ৬১৫৫

‘‘শুনে রাখ; আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে বাপ-দাদার নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। তোমাদের কেউ শপথ করলে আল্লাহর নামেই করবে অথবা নীরবতা অবলম্বন করবে।’’ (more…)

More

হযরত ইলিয়াস (আঃ) এর জীবনী

পবিত্র কুরআনে মাত্র দু’জায়গায় হযরত ইলিয়াস (আঃ)-এর আলোচনা দেখা যায়। সূরা আন‘আম ৮৫ আয়াতে ও সূরা ছাফফাত ১২৩-১৩২ আয়াতে। সূরা আন‘আমে ৮৩-৮৫ আয়াতে ১৮ জন নবীর তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। সেখানে কোন আলোচনা স্থান পায়নি। তবে সূরা ছাফফাতে সংক্ষেপে হ’লেও তাঁর দাওয়াতের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। ঐতিহাসিক বর্ণনায় এ বিষয়ে প্রায় সবাই একমত যে, তিনি হযরত হিযক্বীল (আঃ)-এর পর এবং হযরত আল-ইয়াসা‘ (আঃ)-এর পূর্বে দামেষ্কের পশ্চিমে বা‘লা বাক্কা (ﻚﺒﻠﻌﺑ) অঞ্চলের বনু ইস্রাঈলগণের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন। এইসময় হযরত সুলায়মান (আঃ)-এর উত্তরসুরীদের অপকর্মের দরুণ বনু ইস্রাঈলের সাম্রাজ্য দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। এক ভাগকে ‘ইয়াহূদিয়াহ’ বলা হ’ত এবং তাদের রাজধানী ছিল বায়তুল মুক্বাদ্দাসে। অপর ভাগের নাম ছিল ‘ইস্রাঈল’ এবং তাদের রাজধানী ছিল তৎকালীন সামেরাহ এবং বর্তমান নাবলুসে।

ইলিয়াসের জন্মস্থান :

হযরত ইলিয়াস (আঃ) ফিলিস্তীনের পার্শ্ববর্তী জর্ডানের আল‘আদ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহ পাক তাঁকে নবী হিসাবে মনোনীত করেন এবং ফিলিস্তীন অঞ্চলে তাওহীদের প্রচার ও প্রসারের নির্দেশ দান করেন। (more…)

More

ঈমানের মাধুর্য

ঈমানের মাধুর্য

অনুবাদ : সিরাজুল ইসলাম আলী আকবর

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ – رَضِيَ اللهُ عَنْهُ- قَالَ : قَالَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيْهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الإِيْمانِ : أَنْ يَّكُوْنَ اللهُ وَرَسُوْلُهُ أحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَاও وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءُ لَا يُحِبُّهُ إلَّا ِللهِ، وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَّعُوْدَ فِيْ الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُّقْذَفَ فِيْ النَّارِ.

আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন : যে ব্যক্তি তিনটি সৎ স্বভাব (গুণ)-এর অধিকারী হবে সে ঈমানের স্বাদ উপভোগ করবে—(এক) তার নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূল স. সব চাইতে প্রিয় হবে। (দুই) কোনো ব্যক্তিকে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভালোবাসবে। (তিন) আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে যেরূপ অপছন্দ করে, কুফরিতে ফিরে যাওয়াকেও ঠিক সে-রূপ অপছন্দ করবে।[1]

হাদিস বর্ণনাকারী : মহান সাহাবি আবু হামজা আনাস ইবনে মালেক ইবনে নছর নাজ্জারী খাযরাজী ; যিনি ইমাম, কারী, মুফতি ও মুহাদ্দিস এবং ইসলামের অন্যতম মহান রাবী ও রাসূলুল্লাহ স.-এর বিশিষ্ট খাদেম। আল্লামা যাহাবী রহ. বলেন :—

صحب النبي صلى الله عليه وسلم أةم الصحبة، ولازمه أكمل الملازمة، منذ أن هاجر إلى أن ماة، وغزا معه غير مرة، وبايع ةحة الشجرة.

তিনি রাসূল সা.-এর পরিপূর্ণ সাহচর্য-লাভে ধন্য হয়েছেন। মহানবীর হিজরতের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি তাঁর সেবা যত্নে অব্যাহতভাবে নিরত ছিলেন। একাধিক ‘গাযওয়ায়’ (ইসলাম প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে) তিনি ছিলেন রাসূলের একান্ত সহযোগী। (বাবলা) বৃক্ষের নীচে বায়আত গ্রহণকারী ভাগ্যবানদের তিনি ছিলেন অন্যতম।[2]

(more…)

More