আরাফার খুতবা ১৪৩৫ হি.

আরাফার খুতবা ১৪৩৫ হি.

শাইখ আবদুল আযীয ইবন আবদুল্লাহ আলে শাইখ

হে আল্লাহ, সব স্তুতি তোমার জন্য। তুমি আমাদের সৃজন করেছ নাস্তি থেকে। বড় করেছ ছোট থেকে। সবল করেছ দুর্বলতা থেকে। ধনবান করেছ নির্ধনতা থেকে। চক্ষুষ্মান করেছ অন্ধত্ব থেকে। শ্রবণক্ষম করেছ বধিরতা থেকে। জ্ঞানবান করেছ মূর্খতা থেকে। সুপথ দেখিয়েছ পথভ্রষ্টতা থেকে। তোমার প্রশংসা ঈমান দান করার জন্য। তোমার প্রশংসা কুরআন নাযিল করার জন্য। তোমার প্রশংসা পরিবার, ধন-দৌলত ও সুস্থতার জন্য। তুমি আমাদের শত্রুদের পরাস্ত করেছ, আমাদের নিরাপত্তা বিধান করেছ। হে রব, তোমার কাছে যা-ই চেয়েছি তুমি তাই আমাদের দিয়েছ। অতএব তোমার জন্য যাবতীয় প্রশংসা যাবৎ তুমি সন্তুষ্ট হও। তোমার জন্য প্রশংসা সন্তুষ্টির পরেও।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিজন ও সাহাবীদের ওপর।
আল্লাহর বান্দারা, আমি আপনাদের এবং প্রথমত নিজের পাপাচারী ক্ষুদ্র অন্তরকে আল্লাহভীরুতার উপদেশ দিচ্ছি। কেননা তা সব কল্যাণকর্মের সমন্বয়ক। আল্লাহ বলেন,
﴿ وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجٗا ٢ وَيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُۚ وَمَن يَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسۡبُهُۥٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَٰلِغُ أَمۡرِهِۦۚ قَدۡ جَعَلَ ٱللَّهُ لِكُلِّ شَيۡءٖ قَدۡرٗا ٣ ﴾ [الطلاق: ٢، ٣]
‘যে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ {সূরা আত-তালাক, আয়াত : ২-৩}

(more…)

More

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ২৮)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

রফউল য়্যাদাইন

সূরা পাঠ শেষ হলে দম নেওয়ার জন্য নবী মুবাশ্‌শির (সাঃ) একটু চুপ থাকতেন বা থামতেন। (আবূদাঊদ, সুনান,হাকেম, মুস্তাদরাক ১/২১৫) অতঃপর তিনি নিজের উভয়হাত দুটিকে পূর্বের ন্যায় কানের উপরি ভাগ বা কাঁধ পর্যন্ত তুলতেন। এ ব্যাপারে এত হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, তা ‘মুতাওয়াতির’-এর দর্জায় পৌঁছে।

ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাঃ) যখন নামায শুরু করতেন, যখন রুকূ করার জন্য তকবীর দিতেন এবং রুকূ থেকে যখন মাথা তুলতেন তখন তাঁর উভয়হাতকে কাঁধ বরাবর তুলতেন। আর (রুকূ থেকে মাথা তোলার সময়) বলতেন, “সামিআ’ল্লা-হু লিমানহামিদাহ্‌।” তবে সিজদার সময় এরুপ (রফয়ে য়্যাদাইন) করতেন না।’ (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৭৯৩নং)

মহানবী (সাঃ) এর দেহে চাদর জড়ানো থাকলেও হাত দুটিকে চাদর থেকে বের করে ‘রফয়ে য়্যাদাইন’ করেছেন। সাহাবী ওয়াইল বিন হুজর (রাঃ) বলেন, তিনি দেখেছেন যে, নবী (সাঃ) যখন নামাযে প্রবেশ করলেন, তখন দুই হাত তুলে তকবীর বলেহাত দুটিকে কাপড়ে ভরে নিলেন। অতঃপর ডান হাতকে বামহাতের উপর রাখলেন। তারপর যখন রুকূ করার ইচ্ছা করলেন, তখন কাপড় থেকে হাত দু’টিকে বের করে পুনরায় তুলে তকবীর দিয়ে রুকূতে গেলেন। অতঃপর যখন (রুকূ থেকে উঠে) তিনি ‘সামিআল্লাহু লিমানহামিদাহ্‌’ বললেন, তখনও হাত তুললেন। আর যখন সিজদা করলেন, তখন দুই হাতের চেটোর মধ্যবর্তী জায়গায় সিজদা করলেন। (মুসলিম,  মিশকাত ৭৯৭ নং)

(more…)

More

চলে গেলেন ড. আফিয়া………………

বেঁচে গেলেন তিনি। মরে গিয়ে বরং বেঁচেই গেলেন আফিয়া। বিশ্বের একমাত্র নিউরো সাইন্টিস্ট ড. আফিয়া সিদ্দিকি অবশেষে মুক্তি পেলেন… নারকীয় যন্ত্রনা থেকে। নিস্তার পেলেন আমেরিকান ধর্ষকদের খেলা থেকে, বিশ্ব দর্শকদের হেলা থেকে। বেঁচে গেলো পিচ্চি মেয়ে মালালাও। আশ্চর্য এক ম্যাসেজ মিলছে এই দু’জন থেকে। দু’জনেই পাকিস্তানি। মালালা স্কুল পড়ুয়া এক কিশোরী। আফিয়া পিএইচডি হোল্ডার। একজনকে ওরা খুবলে খায়, অন্যজনকে নিয়ে মেতে ওঠে পরিকল্পিত খেলায়! ড. আফিয়াকে আল-কায়েদার সাথে জড়িত সাজিয়ে ইউএস আদালত তাকে সাজা দেয়। সাথে দেয় গণ ধর্ষণের অলিখিত লাইসেন্স। আর মালালাকে কোলে তুলে গেয়ে উঠে মানবতার গান! বিশ্ব বিবেক গা ভাষায় স্রোতের অনুকূলে! মানবতার ধ্বজাধারীরা বসে থাকে মুখে কুলুপ এটে। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার এক চোখা দৃষ্টিভঙ্গি এড়িয়ে যায় এই দিক। আর যারা বৃহন্নলা, নিরবে হজম করে যায় আর চেটে খায়, খুঁজে ফিরে গর্ত, যে কোনো শর্তে। অন্য যৎসামান্য বাকি যারা চুড়ি পরা, দেখতে থাকে, বুঝতে থাকে আর গাইতে থাকে মনে মনে…তুমি চুর হইয়া চুরি করো পুলিশ হইয়া ধরো/সর্প হইয়া দংশন করো ওঝা হইয়া ঝারো ! ধরণী কেনো যে দ্বিধা হয় না! (more…)

More

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ২৭)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

আসরের নামাযে সুন্নতী ক্বিরাআত

আসরের নামাযে নবী মুবাশ্‌শির (সাঃ) প্রায় ১৫ আয়াত পাঠ করার মত ক্বিরাআত করতেন। যোহরের প্রথম দু’ রাকআতে যতটা পড়তেন তার অর্ধেক পড়তেন আসরের প্রথম দু’ রাকআতে।

তিনি এ নামাযেও পড়তেন, সূরা আ’লা ও সূরা লাইল। (মুসলিম,  মিশকাত ৮৩০ নং) সূরা ত্বারিক্ব ও বুরুজ। (আবূদাঊদ, সুনান ৮০৫ নং)  এতেও তিনি কখনো কখনো মুক্তাদীদেরকে আয়াত শুনিয়ে দিতেন।

মাগরেবের নামাযে সুন্নতী ক্বিরাআত

মাগরেবের নামাযে কখনো কখনো তিনি ‘ক্বিসারি মুফাস্‌স্বাল’ থেকে পাঠ করতেন। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৮৫৩ নং) এই সংক্ষেপের ফলেই সাহাবাগণ যখন নামায পড়ে ফিরতেন তখন কেউ তীর ছুঁড়লে তাঁর তীর পড়ার স্থানটিকে দেখেতে পেতেন। কারণ, তখনও বেশ উজ্জ্বল থাকত। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৫৯৬ নং)

কখনো সফরে তিনি এর দ্বিতীয় রাকআতে সূরা তীন পাঠ করেছেন। (ত্বায়ালেসী, আহমাদ, মুসনাদ, সিফাতু স্বালাতিন নাবী (সাঃ), আলবানী ১১৫ পৃ:)

(more…)

More

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ২৬)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

পাঁচ-ওয়াক্ত নামাযে সুন্নতী ক্বিরাআত

সূরা ফাতিহার পর নামাযী তার নিজের মুখস্থ ও সহ্‌জ মত অন্য যে কোন একটি সূরা পাঠ করতে পারে। অবশ্য কতকগুলি বিশিষ্ট সূরা মহানবী (সাঃ) বিশেষ নামাযে পাঠ করতেন বলে অনুরুপ পাঠ করাকে সুন্নতী ক্বিরাআত বলে। এ সকল নামায ও সূরার বিস্তারিত বিবরণ জানার পূর্বে কুরআন মাজীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কয়েকটি পরিভাষা জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

কুরআন মাজীদকে ৭ ভাগে বিভক্ত করলে শেষ ভাগে যে সব সূরা পড়ে তার সমষ্টিকে ‘মুফাস্‌স্বাল’ বলা হয়। ‘ফাস্ৱল’ মানে পরিচ্ছেদ। এই অংশে সূরা ও পরিচ্ছেদের সংখ্যা অধিক বলে একে ‘মুফাস্‌স্বাল’ বা পরিচ্ছেদ-বহুল অংশ বলা হয়ে থাকে। সঠিক অভিমত অনুসারে এই অংশের প্রথম সূরা হল সূরা ক্বাফ।

এই মুফাস্‌স্বাল আবার ৩ ভাগে বিভক্ত; সূরা ক্বাফ থেকে সূরা মুরসালাত পর্যন্ত অংশকে ‘ত্বিওয়ালে মুফাস্‌স্বাল’ (দীর্ঘ পরিচ্ছেদ-বহুল অংশ), সূরা নাবা থেকে সূরা লাইল পর্যন্ত অংশকে ‘আউসাত্বে মুফাস্‌স্বাল’ (মাঝারি পরিচ্ছেদ-বহুল অংশ), আর সূরা য্বুহা থেকে শেষ সূরা (নাস) পর্যন্ত অংশকে ‘ক্বিসারে মুফাস্‌স্বাল’ (ছোট পরিচ্ছেদ-বহুল অংশ) বলা হয়।(আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/১০৫)

(more…)

More

নামাযের স্থায়ী ক্যালেন্ডার

নামায ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ। সঠিক সময়ে সালাত আদায় করার গুরুত্ব সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে অনেক তাগীদ এসেছে। এ সম্পর্কে আল-কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন :

إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا

নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করা মুসলমানের উপর ফরয করা হয়েছে। (সুরা আন্-নিসা আয়াত ১০৩)

এ বিষয়ে অনেক হাদীস রয়েছে। যেমন:

আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেছেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বললেনঃ তুমি যদি এমন ইমামের অধীনস্থ হয়ে পড় যে উত্তম সময়ে নামায না পড়ে দেরী করে পড়বে তাহলে কি করবে ? আবু যার (রা.) বলেন- একথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম (হে আল্লাহর রাসুল) এরূপ অবস্থায় পতিত হলে আপনি আমাকে কি করতে আদেশ করছেন ? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, তুমি উত্তম সময়ে নামায পড়ে নেবে । তারপরে যদি তাদের সাথে অর্থাৎ ইমামের সাথে জামায়াতে নামায পাও তাহলে তাদের সাথেও পড়বে । এটা তোমার জন্য নফল হিসাবে গন্য হবে।  (সহীহ মুসলিম ২য় খন্ড ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫ম অধ্যায় অনুচ্ছেদ ৪৩ হাদিস নং- ১৩৫০)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ হে আবু যার (রা.)! আমার পরে অচিরেই এমন সব আমীর বা শাসকের আবির্ভাব ঘটবে যারা একেবারে শেষ অয়াক্তে নামায পড়বে । এরূপ হলে তুমি কিন্তু সময় মত (নামাযের উত্তম সময়ে) নামায পড়ে নেবে । পরে যদি তুমি তাদের সাথে নামায পড়ো তা তোমার জন্য নফল হিসাবে গন্য হবে । আর যদি তা না হয় তাহলে তুমি অন্ততঃ তোমার নামায রক্ষা করতে সক্ষম হলে। (সহীহ মুসলিম ২য় খন্ড ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫ম অধ্যায় অনুচ্ছেদ ৪৩ হাদিস নং- ১৩৫১; ১৩৫২; ১৩৫৩; ১৩৫৪; ১৩৫৫) (more…)

More

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ২৫)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

ক্বিরাআতে যা মুস্তাহাব

আল্লাহর রসূল (সাঃ) (তাহাজ্জুদের) নামাযে যখন কুরআন পড়তেন, তখন ধীরে ধীরে পড়তেন। কোন তাসবীহর আয়াত পাঠ করলে তাসবীহ পড়তেন, কোন প্রার্থনার আয়াত পাঠ করলে প্রার্থনা করতেন এবং কোন আশ্রয় প্রার্থনার আয়াত পাঠ করলে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। (মুসলিম, সহীহ ৭৭২ নং)

ব্যাপারটি নফল নামাযের হলেও ফরয নামাযেও আমল করা বৈধ। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৩৯৬)

তিনি সূরা কিয়ামাহ্‌ এর শেষ আয়াত, أَلَيْسَ ذلِكَ بِقَادِرٍ عَلى أَنْ يُحْيِىَ الْمَوْتى (অর্থাৎ যিনি এত কিছু করেন তিনি কি মৃতকে পুনঃজীবিত করতে সক্ষম নন?) পড়লে জওয়াবে বলতেন,  سُبْحَانَكَ فَبَلى  (সুবহা-নাকা ফাবালা), অর্থাৎ তুমি পবিত্র, অবশ্যই (তুমি সক্ষম)।

সূরা আ’লার প্রথম আয়াত, سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلىঅর্থাৎ তোমার প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ঘোষণা কর) পাঠ করলে জওয়াবে বলতেন,سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلى  (সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা। অর্থাৎ আমি আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি)। (আবূদাঊদ, সুনান ৮৮৩, ৮৮৪নং, বায়হাকী)

আল্লামা আলবানী বলেন, উক্ত আয়াতদ্বয়ের জওয়াবে উক্ত দুআ বলার ব্যাপারটা সাধারণ; অর্থাৎ, ক্বিরাআত নামাযে হোক বা তার বাইরে, ফরযে হোক বা নফলে সর্বক্ষেত্রে উক্ত জওয়াব দেওয়া যাবে। আবূ মূসা আশআরী এবং উরওয়াহ্‌ বিন মুগীরাহ্‌ ফরয নামাযে উক্ত দুআ বলতেন। (ইবনে আবী শাইবা ৮৬৩৯, ৮৬৪০, ৮৬৪৫ নং)

(more…)

More

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ২৪)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

                                       জোরে ‘আমীন’ না বলার একটি খোঁড়া যুক্তি                

ইমামের পশ্চাতে নিঃশব্দে ‘আমীন’ বলার সমর্থকরা সশব্দে ‘আমীন’ বলার পিছনে ঝাল ধরানো যুক্তি পেশ করে থাকেন যে, ‘সাহাবারা নবীর পিছুতে নামায পড়তে পড়তে পালিয়ে যেতেন! তাই তিনি সকলকে জোরে ‘আমীন’ বলতে আদেশ করেছিলেন, যাতে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁরা পিছুতে মজুদ আছেন!!’

আলগা জিভের এই খোঁড়া যুক্তিতে রয়েছে দুটি অপবাদ; প্রথমত: সাহাবাগণের নামাযের প্রতি অনীহা প্রকাশ তথা নামায ও রসূল (সাঃ) কে ত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার অপবাদ!

দ্বিতীয়ত: মহানবী (সাঃ) এর তরবিয়তে ত্রুটি থাকার অপবাদ! অথচ তাঁর তরবিয়ত এমন ছিল যে, সাহাবাগণ তীরবিদ্ধ অবস্থাতেও নামায পড়ে গেছেন। কাতর হয়ে নামায ছেড়ে দেন নি। তাছাড়া আল্লাহর রসূল (সাঃ) নামাযের মধ্যে নবুওয়াতের মোহ্‌র দ্বারা নিজের পিছনে সাহাবাদের রুকু-সিজদা দেখতে পেতেন। (বুখারী, মুসলিম, সহীহ মিশকাত ৮৬৮ নং) অতএব তাঁরা নামাযে আছেন, না পালিয়ে যাচ্ছেন তা জানার জন্য জোরে ‘আমীন’ বলাকে ব্যবহার তাঁর কি প্রয়োজন ছিল? আর যদি তাই হয়, তাহলে মাগরেব ও এশার শেষ তৃতীয় ও চতুর্থ রাকআতে এবং যোহ্‌র-আসরে কি ব্যবহার করতেন? পরন্তু তিনি স্বয়ং কেন জোরে ‘আমীন’ বলতেন?

বলাই বাহুল্য যে, এটা হল বক্তার সহীহ সুন্নাহর প্রতি অবজ্ঞা ও অনীহার বহিঃপ্রকাশ। আর এর ফল অবশ্যই ভালো নয়।

(more…)

More

রাসূল (সা)-এর ২৪ ঘন্টা

ইসলাম অন্যান্য প্রচলিত ধর্মের ন্যায় কেবল কতিপয় কর্মকান্ডের সমাহারের নামই নয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার নাম। একজন ব্যক্তি ফজরের সালাতের জন্য সুবহে সাদিকের পর ঘুম থেকে উঠা এবং দিন অতিবাহিত হতে হতে সন্ধ্যা হয়ে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সম্পন্ন করার মাধ্যমে রাত্রিযাপন করে। আবার সুবহে সাদিক পর্যন্ত এই যে ২৪ঘন্টা সময় আছে তাতে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইসলামের বিধান বিদ্যমান আছে। আমাদের অনেকের ইসলাম সম্পর্কে ভালো জ্ঞান না থাকা, সামাজিকভাবে ইসলাম বিদ্বেষীভাব, রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের প্রতি বৈরিতা প্রদর্শনসহ বিবিধ কারণে ইসলামকে অন্যান্য ধর্মের ন্যায় মনে করার মাধ্যমে ইসলাম থেকে অনেক দূরে অবস্থান করেছেন।

রাসূল (সা)-এর জীবনে রয়েছে আমাদের জন্য চলার পথে পাথেয়। তার জীবনের সম্পূর্ণ দিকই সুন্নাহ। আবার তাঁর চরিত্রই কুরআন। অর্থ্যঅত কুরআনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন রাসূল (সা)-এর চরিত্র। রাসূল (সা) এর সামগ্রিক জীবন তথা পূর্ণাঙ্গ ২৪ ঘন্টা সম্পর্কে আমাদের জানা বাঞ্জনীয়। এই জীবনই অনুসরণ করার মাধ্যমে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করতে পারে। রাসূল (সা)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবন সম্পর্কে ধারণা দিতেই পিস পাবলিকেশন্স, বাংলাদেশ পরিবেশন করছে “রাসূল (সা)-এর ২৪ ঘন্টা”। (more…)

More