বই : শিরক

শিরক শব্দটি মুসলিম, অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের কাছে একটি পরিচিত শব্দ। র্শিকের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কেও হয়ত অনেকে জ্ঞাত থাকতে পারেন। কিন্তু র্শিকের বাস্তবতা বা শিরক সংঘটনের বিভিন্ন বাস্তব পন্থা সম্পর্কে অনেকেরই সঠিক ধারণা নেই। তাই সমাজের বিভিন্ন স্তরে শিরক প্রচলিত রয়েছে। মহান আল্লাহ্ তা’আলা তাওহীদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সত্যের দিশারী রূপে যুগে যুগে অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাওহীদের বাণী প্রচার ও সত্যের আহ্বানের সাথে সাথে শিরকের মূলোৎপাটনের জন্য ছিলেন সোচ্চার। প্রতিটি মানুষেরও ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে নিজেকে তাওহীদ ও সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখা এবং সেই সাথে অন্যদেরকেও সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে র্শিক বর্জিত আমল করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই লেখকের এই আয়োজন।

নবীন এই লেখকের লেখায় শিরক সম্পর্কে বেশ সুন্দর চিত্র ফুটে উঠেছে। বইটিতে সুন্দর ও সহজভাবে শিরক, এর কুপ্রভাব, ভয়াবহতা, প্রকারভেদ, সমাজে প্রচলিত শিরকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে তথ্যবিন্যাস এর ক্ষেত্রে কুরআন হাদীসের উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হয়েছে।  বইটি লিখেছেন ডাঃ মোঃ সেলিম রেজা এবং সহযোগীতায় ডাঃ মোঃ ফয়জুল বাশার। (more…)

More

নবী (সা) কি জীবিত, তিনি কি এখনো পৃথিবীতে বিদ্যমান?

মূল : শাইখ আব্দুল করিম আল-খুদাইর

 অনুবাদ : সানাউল্লাহ নজির আহমদ

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি জীবিত, তিনি কি এখনো পৃথিবীতে বিদ্যমান?

আমি একটি নিবন্ধ পড়েছি, যা প্রমাণ করে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহ সর্বদা সকল স্থানে বিদ্যমান, নিম্নে তার অধিকাংশ অংশ দলিলসহ পেশ করছি, বক্তব্যটি সঠিক কি-না দয়া করে বলুন?

উক্ত নিবন্ধের দাবী হচ্ছে, ১. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত, তাকে সর্বদা চাক্ষুষভাবে দেখা যায়। ২. তিনি সবকিছু জানেন ও আল্লাহর মখলুক পর্যবেক্ষণ করেন। ৩. তিনি বিভিন্ন জায়গায় একই সময়ে দৃশ্যমান ও উপস্থিত হতে পারেন। এবার দলিল দেখুন: আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ إِنَّآ أَرۡسَلۡنَٰكَ شَٰهِدٗا ٤٥ ﴾ [الاحزاب : ٤٥]

“হে নবী, আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতারূপে”।[1]

অপর আয়াতে তিনি বলেন:

﴿ فَكَيۡفَ إِذَا جِئۡنَا مِن كُلِّ أُمَّةِۢ بِشَهِيدٖ وَجِئۡنَا بِكَ عَلَىٰ هَٰٓؤُلَآءِ شَهِيدٗا ٤١ ﴾ [النساء : ٤١]

“অতএব কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকে উপস্থিত করব তাদের উপর সাক্ষীরূপে ?”[2] (more…)

More

ইসলামী অর্থব্যবস্থা বাস্তবায়নে আমাদের করনীয়

রচনায় : শাহ মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান**

ভূমিকা: সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অর্থনৈতিক মন্দা আরও একবার পুঁজিবাদী অর্থনীতির অন্তর্নিহিত গলদগুলি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। পুঁজিবাদী বিশ্বের মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার হাযার হাযার কোটি ডলারের সরকারী সাহায্য দিয়ে কোন রকমে সংকট উত্তরণে চেষ্টা করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের পদাংক অনুসরন করতে বাধ্য হয়েছে নিজের গরজেই। যতদিন না আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে আমরা সচেষ্ট হব ততদিন বারবার এই দুর্দিন মোকাবেলা করতে হবে।

পুঁজিবাদী অর্থনীতির অভিশাপ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও আমাদের হুঁশ হয় না। কারণ আমরা গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে চলেছি। ব্যাপক হারে শ্রমিক ছাঁটাই, বহু ব্যাংকের লালবাতি জ্বালানো, ঋনদানকারী প্রতিষ্ঠানের দেউলিয়া ঘোষণা, উৎপাদন হ্রাস, বিত্তশালীদের বিত্তের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি অথচ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জনগণের জীবন যাপনে দুর্বিষহ নাভিশ্বাস সবই পুঁজিবাদী অর্থনীতির প্রত্যক্ষ কুফল। ত্বরিত মুনাফা, সামাজিক প্রয়োজন উপেক্ষা করে মুষ্টিমেয় লোকের লোভ-লালসা চরিতার্থ করা, সবার উপরে ত্রেডিট কার্ড কালচার (Credit Card Culture) বা আয়হীন ভোগের অপসংস্কৃতি পুঁজিবাদেরই অন্তর্নিহিত দুর্বলতার প্রকাশ। এর ফলে ধস নেমেছে অর্থনীতিতে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোটি কোটি বনী আদম, বিপর্যস্ত হয়েছে বহু দেশের জাতীয় অর্থনীতি দেউলিয়া হয়েছে শত শত শিল্প-কারখানা। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে না পারলে গোটা বিশ্বমানবতাই নতুন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। এজন্য আজ আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে  এবং আশ্রয় নিতে হবে মহান রাব্বুল আলামীন প্রদত্ত ইসলামী জীবনাদর্শের নিকটে। একমাত্র এতেই অন্তর্নিহিত রয়েছে সার্বজনীন কল্যাণ ও মুক্তি। (more…)

More

বই : সহীহ মাসনুন ওযীফা

ইসলামী শারীআহর অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি। রাসূল (সা) ও তার সাহাবীগণ ফরয ইবাদাতের পাশাপাশি নফল ইবাদাত পালনে রত থাকতেন। সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে এসকল নফল ইবাদাত ও যিকরকে আমাদের সমাজে “ওযীফা” বলে পরিচিত। আমাদের বর্তমান বাজারে বিভিন্ন তরীকার বিভিন্ন রকম ওযীফা বিদ্যমান। কিন্তু সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে মাসনূন বা সুন্নাতি ওযীফার বই পাওয়া যায় না। আগ্রহী মুসলিমরা যেন অল্প পরিশ্রম ও সময়ে সহীহ সুন্নাতি ওযীফাগুলি পালন করে বেশী সাওয়াব, বরকত  পেতে পারে সেজন্য এই ওযীফাগুলো সংকলন করেছেন ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর।

বইটি প্রকাশ করেছে আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স।  (more…)

More

নিফাকের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ

লেখক : সালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান

অনুবাদ : মুহাম্মদ মানজুরে ইলাহী

নিফাকের সংজ্ঞা:

আভিধানিক ভাবে নিফাক শব্দটি نافق ক্রিয়ার মাসদার বা মূলধাতু। বলা হয়- نافقথيُنَافِقُথ نِفَاقَاًথومَنَافَقَةً শব্দটি النافقاء থেকে গৃহীত যার অর্থ ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর গর্তের অনেকগুলো মুখের একটি মুখ। তাকে কোন এক মুখ দিয়ে খোঁজা হলে অন্য মুখ দিয়ে সে বের হয়ে যায়।

এও বলা হয়ে থাকে যে, নিফাক শব্দটি نفقٌ থেকে গৃহীত যার অর্থ- সেই সুড়ঙ্গ পথ যাতে লুকিয়ে থাকা যায়। [1]

শরীয়তের পরিভাষায় নিফাকীর অর্থ হল- ভেতরে কুফুরী ও খারাবী লুকিয়ে রেখে বাহিরে ইসলাম জাহির করা। একে নিফাক নামকরণের কারণ হলো সে এক দরজা দিয়ে শরীয়তে প্রবেশ করে অন্য দরজা দিয়ে বের হয়ে যায়। এ জন্যই এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন:

إِنَّ الْمُنَافِقِينَ هُمُ الْفَاسِقُونَ ﴿67﴾ سورة التوبة

‘ নিশ্চয়ই মুনাফিকরাই ফাসিক-পাপচারী।[2]

এখানে ফাসিক মানে হল- শরীয়তের সীমানা থেকে যারা বের হয়ে যায়। আল্লাহ মুনাফিকদেরকে কাফিরদের চেয়েও নিকৃষ্ট বলে গণ্য করেছেন। (more…)

More

মানবতার দরদী বন্ধু মুহাম্মাদ (সা)

রচনায়: মুহাম্মদ রুহুল আমীন

মুজাহিদ থেকে থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরাইরা <রাঃ> বলেছেন, আল্লাহ সেই সত্তা, যিনি ছাড়া প্রকৃত উপাস্য নেই। আমি ক্ষুধায় যন্ত্রনায় উপুর হয়ে পড়ে থাকতাম, আর কখনও পেটে পাথর বেঁধে রাখতাম। একদা আমি রাসূলুল্লাহ <সঃ> এবং সাহাবায়ে কেরামের যাতায়াতের রাস্তায় বসেছিলাম। আবু বকর <রাঃ> তখন সে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে এ উদ্দেশ্যেই প্রশ্ন করলাম যেন তিনি আমাকে কিছু খেতে দেন। কিন্তু তিনি কিছুই না বলে চলে গেলেন। এরপর উমার <রাঃ> আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁকেও সেই একই উদ্দেশ্যে কুরআনের আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। কিন্তু তিনি চলে গেলেন। আমার জন্য কিছুই করলেন না। অতঃপর আবুল কাশেম অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ <সা:> আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমাকে দেখে তিনি মুচকি হাসলেন। তিনি আমার চেহারা দেখে মনের কথা বুঝতে পারলেন এবং বললেন, হে আবু হুরাইরা! আমি বললাম, লাব্বাইক ইয়া রাসুলুল্লাহ (হে আল্লাহর রাসূল আমি উপস্থিত) তিনি বললেন, এসো। অতঃপর তিনি চলে গেলেন।আমি তার অনুমতি চাইলাম। তিনি অনুমতি দিলে আমি ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি একটি পেয়ালার কিছু দুধ  দেখে জিজ্ঞাসা করলেন এ দুধ কোথা থেকে এসেছে? লোকেরা উত্তর দিল, অমুক লোক আপনার জন্য হাদিয়া স্বরুপ দিয়েছে। (more…)

More

আল-ফিকহুল আকবারের বঙ্গানুবাদ

আল-ফিকহুল আকবার

মূল: আবূ হানীফা নু’মান ইবন সাবিত (রাহিমাহুল্লাহ্‌)

অনুবাদ: ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, পি.এইচ.ডি (রিয়াদ), অধ্যাপক, আল-হাদীস বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

প্রথম পরিচ্ছেদঃ তাওহীদ, আরকানুল ঈমান ও শিরক

ইমাম আবূ হানীফা নু’মান ইবনু সাবিত (রাহিমাহুল্লাহ) “আল-ফিকহুল আকবার” পুস্তিকাটির শুরুতে বলেন:

তাওহীদের মূল এবং যার উপর বিশ্বাস বিশুদ্ধ হয় তা এই যে, অবশ্যই বলতে হবে: আমি ঈমান এনেছি আল্লাহে, এবং তাঁর মালাকগণে (ফিরিস্তাগণে), এবং তাঁর গ্রন্থসমূহে, এবং তাঁর রাসূলগণে, এবং মৃত্যুর পরে পুনরুত্থানে এবং তাকদীরে, যার ভাল এবং মন্দ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। এবং হিসাব, মীযান, জান্নাত, জাহান্নাম এ সবই সত্য। মহান আল্লাহ এক। তাঁর একত্ব সংখ্যায় নয়। বরং তাঁর একত্বের অর্থ তাঁর কোন শরীক নেই। বল, ‘তিনিই আল্লাহ, একক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নহেন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয় নি।’ [১] (more…)

More

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ৩৭)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

তাশাহহুদের গুরুত্ব

নবী মুবাশ্‌শির (সাঃ) প্রত্যেক দুই রাকআতে ‘তাহিয়্যাহ্‌’ (তাশাহহুদ) পাঠ করতেন। (মুসলিম, সহীহ ৪৯৮, আহমাদ, মুসনাদ) বৈঠকের শুরুতেই তিনি বলতেন, “আত্‌ তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি—।” (বায়হাকী, সিফাতু স্বালাতিন নাবী (সাঃ), আলবানী ১৬০পৃ:) দুই রাকআত পড়ে ‘তাশাহহুদ’ পাঠ করতে ভুলে গেলে তিনি তার জন্য ভুলের সিজদাহ করতেন।(বুখারী, মুসলিম,  ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ৩৩৮ নং)

তিনি তাশাহহুদ পড়তে আদেশও করতেন। বলতেন, “যখন তোমরা প্রত্যেক দুই রাকআতে বসবে তখন ‘আত্‌তাহিয়্যাতু—’ বল। অতঃপর তোমাদের প্রত্যেকের পছন্দমত দুআ বেছে নিয়ে আল্লাহ আযযা অজাল্লার নিকট প্রার্থনা করা উচিত।”(সহিহ,নাসাঈ, সুনান ১১১৪ নং, আহমাদ, মুসনাদ, ত্বাবারানীরানী, মু’জাম কাবীর) এই তাশাহহুদ পড়তে তিনি নামায ভুলকারী সাহাবীকেও আদেশ করেছিলেন।

তাছাড়া তিনি সাহাবাগণকে ‘তাশাহহুদ’ শিখাতেন, যেমন কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। (বুখারী, মুসলিম, সহীহ ৪০৩নং)তাশাহহুদ নিঃশব্দে পড়া সুন্নত। (আবূদাঊদ, সুনান,হাকেম, মুস্তাদরাক, মিশকাত ৯১৮নং)

(more…)

More

বিচার সম্পর্কিত দুটি গল্প

কাযীর বিচার

রচনায় : মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ**

অনেকদিন আগের কথা। শহর থেকে অনেক দূরে বাস করত একটি লোক। সে ছিল নেহায়েত গরীব। গায়ে খেটে ও বুদ্ধির জোরে সে বেশ টাকাকড়ি সঞ্চয় করেছিল। সে এক পরমা সুন্দরীকে বিয়ে করেছিল। একে একে হয়েছিল তাদের তিনটি ফুটফুটে ছেলে। ছেলে তিনটি খুব সুদর্শন ছিল। ক্রমে ক্রমে তারা বড় হতে থাকে। তারা হয়ে উঠে একজন স্বাস্থবান জওয়ান। ছেলে তিনটি কারবারে তাদের বাবাকে সাহায্য করতে শুরু করে। কিন্তু বাবাকে সাহায্য করলে কি হবে, তারা কেউই বাবার মত বুদ্ধিমান ছিল না। সেজন্য বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে লোকটির চিন্তা ভাবনাও বাড়তে লাগল। ছেলেদের ভবিষ্যতের কথা মনে করে সে চিন্তিত হয়ে পড়ল। সে ভেবে দেখল যে, তার ধন সম্পদ যা কিছু রয়েছে, তাতে ছেলেরা সারাজীবন সুখে কাটিয়ে দিতে পারবে। ছেলেরা যাতে ঝগড়া ফ্যাসাদ সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য সে ঠিক করল যে , সব সম্পদ বন্টন করে সে অছিয়তনামা তৈরী করে দিয়ে যাবে। এই ভেবে সে একজন উকিল ও দুজন সাক্ষী ডেকে একটি অছিয়তনামা তৈরী করে ফেলল। তার মৃত্যুর অছিয়ত নামা বের করা হল। তাতে লেখা রয়েছে, ছেলেরা সোনা-চাঁদি, স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তির সমান অংশ পাবে। তবে সতেরটা হাতির মধ্যে বড় ছেলে পাবে অর্ধেক, মেজো ছেলে পাবে তিন ভাগের একভাগ, আর ছোট ছেলে পারবে নয় ভাগের এক ভাগ। এটা ছিল জটিল ব্যাপার। তাই সমাধানের জন্য তারা তিন ভাই কাজীর কাছে গেল। কাজী বললেন তোমরা এখন বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম করো। আগামীকাল সকালে আমি তোমাদের বাড়িতে যাব। তোমাদের হাতীগুলো বাইরে বের করে রেখ। তোমাদের বাপের অছিয়তনামা অনুযায়ী আমি সেগুলো যথাযথভাবে ভাগ করে দেব। (more…)

More