প্রচলিত জাল হাদীস

আল্লাহ তাআলা ইসলামকে সর্বশেষ ও চুড়ান্ত দ্বীন ও শরীয়ত হিসেবে মনোনীত করেছেন। ক্বিয়ামাত পর্যন্ত এই শরীয়তের বিধানই চুড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। তাই এই দ্বীনে ভিত্তিগুলোও ক্বিয়ামাত পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। কেননা এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ তাআলা নিজে নিয়েছেন। যদিও ইসলামের শত্রুগণ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ইলমে হাদীসকে বিকৃত করার চেস্টা করেছে। তারা রাসূল (সা) থেকে এমন সব কথা প্রচার করেছে যা তাঁর থেকে প্রমাণিত নয়। কতক ধর্মাদ্রোহী তো অসংখ্যা উদ্ভট, ভিত্তিহীন ও বাতিল কথাকে হাদীসে রাসুল (সা) নামে মানুষের মাঝে চালিয়ে দেওয়ার অপচেস্টা করেছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে একদল নিবেদিত প্রাণ মুহাদ্দিস হাদীস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেচেন। যারা দাজ্জাল ও মিথ্যুকদের মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্ভট ও জালিয়াতি মানুষের সামনে প্রকাশ করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে আরবীতে অসংখ্যা কিতাব লিখা হয়েছে। মুহাক্কিকগণ এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। কিন্তু বাংলা ভাষায় এরকম বই খুবই কম। অধুনা শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ) রচিত “সিলসিলাহ যইফাহ ওয়াল মাওযুআহ” এর বাংলা অনুবাদ বের হয়েছে। যেগুলো আমরা প্রকাশ করেছি।  বিভিন্ন মুহাদ্দিসের বই থেকে সংকলন করে কিছু প্রচলিত জাল হাদীস সম্পর্কে এই ছোট কিতাবটি মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মালেক-এর তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় রচিত। (more…)

More

প্রতিদিনের রুকইয়া ও ঝাড়ফুক

চোখের নজর, কালো যাদু, তাবীজ-কবজ, এক্সিডেন্ট, রোগ-ব্যাধি, জিনের আসর….এইরকম যেকোন ক্ষতি থেকে বেচে থাকার জন্য প্রতিদিন এই দুয়াগুলো পড়তে হয়। এই দুয়াগুলো ওযু ছাড়া, শুয়ে বসে যেকোন অবস্থাতে, এমনকি নারীরা ঋতু অবস্থাতেও পড়তে পারবেন। বিভিন্ন বিপদ-আপদ ও ক্ষতি থেকে নিরিপদ থাকার জন্য আমাদের এই দুয়াগুলো পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

১. জিনের আসর ও দুষ্টু জিনের ক্ষতি থেকে বাচার জন্য আমল

সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠ করা – ১ বার করে
জিনেরা মানুষের উপর আসর করে মানুষের মন-মেজাজ, চিন্তা ভাবনা এমনকি কাজের উপরও প্রভাব বিস্তার করতে পারে। অনেক দুষ্টু জিন মানুষের বিশেষ করে মুমিনদের ক্ষতি করে থাকে, এক সাহাবীকে জিনেরা তীর বিদ্ধ করে হত্যা করেছিলো। অন্য এক সাহাবীর ঘরে একটা জিন সাপ হিসেবে বসে ছিলো। ঐ সাহাবী যখন তাকে সাপ মনে করে হত্যা করতে যান তখন ঐ জিন তাকে দংশন করে হত্যা করে। জিনের ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকার সহজ একটি আমল হচ্ছে সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী ১ বার পড়া।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে তাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিনদের থেকে রক্ষা করা হবে আর, যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে তাকে সকাল পর্যন্ত রক্ষা করা হবে।” সহীহ তারগীব ওয়াত-তারতীবঃ ৬৬২। (more…)

More

দল, সংগঠন, ইমারত ও বায়‘আত সম্পর্কে বিশিষ্ট উলামায়ে কেরামের বক্তব্য (পর্ব ৩)

দল, সংগঠন, ইমারত ও বায়‘আত সম্পর্কে বিশিষ্ট উলামায়ে কেরামের বক্তব্য (তৃতীয় পর্ব)

                         (৩) জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিছ আল্লামা নাছিরুদ্দীন  আলবানী (রহঃ) 

প্রশ্ন: হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীছটির ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেনঃ ‘তাঁরা রাসূলকে কল্যাণ বিষয়ে প্রশ্ন করতেন, কিন্তু আমি কিসে অকল্যাণ আছে সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করতাম…’। উক্ত হাদীছ থেকে বর্তমানের ইসলামী জামা‘আতসমূহ সম্বন্ধে কি ইঙ্গিত পাওয়া যায়? বর্তমান সালাফী আন্দোলনের সংগঠন সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?

উত্তর: যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসূলের প্রতি। হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুরাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর হাদীছটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে। আর তা হচ্ছে, মুসলিমদের দলে দলে বিভক্ত হওয়া আদৌ বৈধ নয়; বরং তাদেরকে একটিমাত্র ইমারতের অধীনে এবং সেই ইমারতের খলীফার তত্ত্বাবধায়নে একক জামা‘আত হয়ে থাকতে হবে। কিন্তু যদি কখনও এমন হয় যে, মুসলিমরা দলমত নির্বিশেষে একক খলীফার বায়‘আত করে একক জামা‘আত হয়ে থাকতে পারছে না, তাহলে সেক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর অনুসরণ প্রিয় কোনো মুসলিমের নির্দিষ্ট কোনো একটি দলে যোগদান করা বৈধ নয়। বিশেষ করে যখন প্রত্যেকটি দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উল্লসিত থাকবে আর দাবী করবে যে, তার একজন নির্দিষ্ট আমীর রয়েছে এবং ঐ আমীরের দলে দলভুক্ত সবাইকে তাঁর কাছে বায়‘আত করতে হবে। আর যখন এই বায়‘আতকে ‘বায়‘আতে কুবরা’ বা সর্ববৃহৎ বায়‘আত গণ্য করা হবে, তখন বিষয়টি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করবে। মনে রাখতে হবে, ‘বায়‘আতে কুবরা’ সমগ্র মুসলিম উম্মাহ্‌র একক খলীফা ছাড়া অন্য কারো জন্য বৈধ নয়। বিষয়টি তখন আরো মারাত্মক আকার ধারণ করে, যখন প্রত্যেকটি জামা‘আতের একজন করে বায়‘আত গ্রহণকারী আমীর থাকেন এবং তার অনুসারীরা উক্ত বায়‘আতের শর্তাবলী এমনভাবে মেনে চলে যে, তাদের কারো জন্য অন্য কারো মতামত গ্রহণের বৈধতা থাকে না। আমি অন্য কোনো আমীরের কথা বললাম না, কারণ আমীর কথাটি বললে অন্তত: নামের ক্ষেত্রে হলেও আমরা যেন তাদের সাথে ঐক্যমত পোষণ করলাম। সেজন্য আমি আমীর না বলে অন্য কোনো ব্যক্তি বা আলেমের কথা বললাম। অর্থাৎ তাদের দলভুক্ত নয় এমন কোনো ব্যক্তি বা আলেমের সাথে দলীল-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাদের জন্য তাঁর মতামত গ্রহণের সুযোগ থাকে না। অতএব, দলগুলির অবস্থা যদি এরূপ হয়, তাহলে সেগুলোতে যোগদান করা কোনো মুসলিমের জন্য বৈধ নয়; বরং তাকে একাকী থাকতে হবে। তবে তার মানে এই নয় যে, তার যেসব ভাই পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ্‌র অনুসরণে আগ্রহী, সে তাদের থেকে দূরে থাকবে। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَكُونُواْ مَعَ ٱلصَّٰدِقِينَ ١١٩ ﴾ [التوبة: ١١٩] 

(more…)

More

আধুনিক ইসলাম ভাবনা

রচনায়: মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান*

অনুলিখন : মাকসুদ বিন আমাল

ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম দুনিয়ায় এসেছে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। এর মহানবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর আগমনের পূর্বে আরব দেশে অনাচার-অবিচার ছিল, অহেতুক রক্তপাতের ঘটনা ছিল; হিংসা-বিদ্বেষ-হানাহানি ছিল। বিভিন্ন প্রকার বিশৃঙ্খলা ছিল সমাজে। তৎকালীন ইতিহাসই তা প্রমাণ করে। কুরআন মাজীদে যেসকল অতীত কাহিনী বর্ণিত হয়েছে, তাতেও অশান্তি এবং বিশৃঙ্খলার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। সর্বকালেই আল্লাহর দ্বীন ইসলাম চেয়েছে অনাচার-অবিচার ও অশান্তির মূলোৎপাটন করতে। মহানবী (ছাঃ) নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বেই ‘হিলফুল ফুযূল’ নামে এক শান্তি সংগঠন কায়েম করেছিলেন। ইসলামের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে অশান্ত আরবে শান্তির ফোয়ারা বয়ে গিয়ে ছিল, তা ঐতিহাসিক সত্য। তবু কতিপয় ইয়াহুদি-নাছারা-মুশরিক ইসলামকে কখনও সুনজরে দেখেনি। তাদের বক্তব্য ইসলাম তরবারির জোরে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। অথচ এমন কোন দৃষ্টান্ত ইতিহাসে নেই যে, কারো গর্দানে তরবারি ঠেকিয়ে বলা হয়েছে, ইসলাম কবুল করো, নতুবা ধড় থেকে গর্দান বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বস্তুতঃ ইসলাম প্রচারিত এবং সম্প্রসারিত হয়েছে উদারতার মাধ্যমে।

কুরআন মাজীদে আল্লাহর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা-

وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُم مَّوَدَّةً لِّلَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَىٰ

‘ইয়াহুদি-নাছারা ও মুশরিকরা ইসলাম তথা মুসলমানদের দুশমন।’ (মায়েদাহ ৫/৮২)। (more…)

More

নারীবাদী লেখিকার ইসলাম গ্রহণ

থেরেসা করবিন একজন লেখিকা। বসবাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে। তিনি ইসলামউইচ ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা এবং অন-ইসলাম ডটকম ও অ্যাকিলা স্টাইল ডটকমের একজন সহযোগী। সিএনএন তার একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। সেটি প্রকাশ করা হলো-
‘আমি একজন মুসলিম কিন্তু পূর্বে আমি ছিলাম একজন ক্যাথলিক। ৯/১১-এর দুই মাস পর, ২০০১ সালের নভেম্বরে আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি।
আমি ২১ বছর বয়সী ছিলাম এবং লুইসিয়ানার বাটন রুজে বাস করতাম। মুসলিম হওয়ার জন্য এটি খুবই খারাপ সময় ছিল। কিন্তু ইসলাম ধর্মকে নিয়ে চার বছর গবেষণার পর বিশ্বের অন্যান্য ধর্ম ও তাদের অনুসারীদের খোঁচা দিতে এবং তাদের জাগিয়ে তুলতে আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেই।
আমি একজন ক্রেওল ক্যাথলিক এবং একজন আইরিশ নাস্তিক পিতামাতার সন্তান। আমি ক্যাথলিক হিসেবে বড় হয়েছি। তারপর এক সময় সংশয়বাদী হই এবং বর্তমানে আমি একজন মুসলিম।
১৫ বছর বয়সে হোস্টেলে বসবাস করার সময় থেকেই ইসলামের প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ জন্মে। আমার ক্যাথলিক ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে আমার মনে অনেক প্রশ্ন ছিল। আমার শিক্ষক এবং যাজকদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তাদের কাছ থেকে উত্তর আসে, তোমার এই সুন্দর ছোট্ট মাথায় এ সম্পর্কে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই, যা আমাকে কখনই সন্তুষ্ট করতে পারেনি। (more…)

More

ইউনুস ‘আলাইহিস সালামের ঘটনা

মূল খুতবা : শায়খ ড. সালেহ আলে তালেব

 অনুবাদ : আলী হাসান তৈয়ব

পূর্ববর্তী নবী ‘আলাইহিমুস সালামগণের ঘটনাবলিতে রয়েছে শিক্ষা ও উপদেশ। তারা আমাদের আলোকবর্তিকা ও আলোর মিছিল। আল্লাহ বলেন,

﴿ لَقَدۡ كَانَ فِي قَصَصِهِمۡ عِبۡرَةٞ لِّأُوْلِي ٱلۡأَلۡبَٰبِۗ مَا كَانَ حَدِيثٗا يُفۡتَرَىٰ وَلَٰكِن تَصۡدِيقَ ٱلَّذِي بَيۡنَ يَدَيۡهِ وَتَفۡصِيلَ كُلِّ شَيۡءٖ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٗ لِّقَوۡمٖ يُؤۡمِنُونَ ١١١ ﴾ [يوسف: ١١١]

‘তাদের এ কাহিনীগুলোতে অবশ্যই বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে শিক্ষা, এটা কোনো বানানো গল্প নয়, বরং তাদের পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী এবং প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ। আর হিদায়াত ও রহমত ঐ কওমের জন্য যারা ঈমান আনে।’ {সূরা ইউসূফ, আয়াত : ১১১}

মক্কায় যখন ঈমানদারের সংখ্যা মুষ্টিমেয়, পথ যখন দুর্গম অথচ দীর্ঘ- মুসলিমরা যখন এর শেষের দেখা পাচ্ছিল না, তখন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এসব বৃত্তান্ত নাযিল হত। এসব বৃত্তান্ত তাদের পথের শেষ উন্মোচিত করত। গন্তব্যের শেষ রেখা উদ্ভাসিত করত। তাদের সঙ্গে পথ চলত এবং তাদের হাত ধরত। এসব ছিল রাসূল ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হৃদয় স্থির করার অভিপ্রায়ে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ وَكُلّٗا نَّقُصُّ عَلَيۡكَ مِنۡ أَنۢبَآءِ ٱلرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِۦ فُؤَادَكَۚ وَجَآءَكَ فِي هَٰذِهِ ٱلۡحَقُّ وَمَوۡعِظَةٞ وَذِكۡرَىٰ لِلۡمُؤۡمِنِينَ ١٢٠ ﴾ [هود: ١٢٠]

‘আর রাসূলদের এসব সংবাদ আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করছি যার দ্বারা আমরা তোমার মনকে স্থির করি আর এতে তোমার কাছে এসেছে সত্য এবং মুমিনদের জন্য উপদেশ ও স্মরণ। {সূরা হূদ, আয়াত : ১২০} (more…)

More

সুন্নাত আঁকড়ে ধরা ও বিদআত হতে সতর্ক থাকা

লেখক: আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায রহ.

অনুবাদ: মুহাম্মদ রকীবুদ্দীন হুসাইন

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি দীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং আমাদের জন্য সকল কল্যাণ বিধান করে ইসলামকে দীন হিসাবে নির্বাচন করেছেন। শান্তি ও করুণা বর্ষিত হউক তাঁরই বিশেষ বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের উপর যিনি অতিরঞ্জন, বিদআত (নব প্রথা) ও পাপাচার হতে মুক্ত থেকে তাঁর রবের আনুগত্য করার প্রতি আহবান করেছেন। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর বংশধর ও সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর প্রদর্শিত পথের অনুসারী হবে সকলের উপর করুণা বর্ষণ করুন।

ভারতের উত্তর প্রদেশের শিল্প নগরী কানপুর থেকে প্রকাশিত ‘ইদারত’ নামক এক উর্দূ সাপ্তাহিকীর প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ সম্পর্কে আমি অবহিত হলাম। এতে প্রকাশ্যভাবে সৌদী আরবের অনুসৃত ইসলামী আকীদাসমূহ এবং বিদআত বিরোধিতার উপর আক্রমণাত্মক অভিযান চালানো হয়েছে। সৌদী সরকার কর্তৃক অনুসৃত সালাফে সালেহীনের আকীদাকে সুন্নাহ বিরোধী বলে অপবাদ দেয়া হয়েছে। লেখক আহলে সুন্নতের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট করে তাদের মধ্যে বিদআত ও কুসংস্কারের প্রসার সাধনের দুরভিসন্ধি নিয়েই উক্ত প্রবন্ধটি রচনা করেছেন। (more…)

More

মুহাররম মাসে করণীয় ও বর্জনীয়

মুহাররম মাসে করণীয় ও বর্জনীয়: কিছু কথা

ভূমিকাঃ
আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বারটি নির্ধারিত; এতে কম-বেশী করার ক্ষমতা কারো নেই।

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ
অর্থাৎঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বারটি, আসমান সমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে।(সূরা তাওবাঃ৩৬)

এর মধ্যে মুহাররম মাস প্রথম আর যুল হিজ্জাহ সর্বশেষ। বারটি মাসের মধ্যে আবার চারটি মাস অতি সম্মানিত। এ মাসগুলোতে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রক্তপাত হারাম ছিল। কিন্তু তা বর্তমানে ইসলামী শরীয়তে রহিত, তবে আদব ও সম্মান প্রদর্শন এবং ইবাদতে যত্নবান হওয়ার হুকুমটি এখনও বাকী আছে। সম্মানিত মাসগুলোকে চিহ্নিত করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তিনটি মাস হল ধারাবাহিক- যিল ক্বদ, যিল হাজ্জ ও মুহাররম আর অপরটি হল মুযার গোত্রের রজব। হাদীসে মুযার গোত্রের রজব বলার কারণ হল; রজব সম্পর্কে আরববাসীদের মতানৈক্য ছিল, তন্মধ্যে মুযার গোত্রের ধারণা মতে রজব হল জামাদিউস সানীর পরে এবং শাবান মাসের পূর্বের মাসটি। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুযার গোত্রের রজব বলে বিষয়টি পরিষ্কার করে দেন। (more…)

More

দল, ইমারত ও বায়আত সম্পর্কে উলামাগণের বক্তব্য (পর্ব ২)

দল, সংগঠন, ইমারত ও বায়‘আত সম্পর্কে বিশিষ্ট উলামায়ে কেরামের বক্তব্য (দ্বিতীয় পর্ব)

        (১) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ

তিনি বলেন, ‘কারো অধিকার নেই যে, সে উম্মতের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কাউকে খাঁড়া করে তার পথে মানুষকে আহ্বান করবে এবং সেই পথকে কোনো মুসলিমের সাথে আন্তরিক সুসম্পর্ক গড়া বা না গড়ার মানদণ্ড হিসাবে গ্রহণ করবে। অনুরূপভাবে তার জন্য এটাও বৈধ নয় যে, সে আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য এবং যেসব বিষয়ে মুসলিম উম্মাহ্‌র ‘ইজমা’ হয়েছে, সেগুলো ব্যতীত অন্য কোনো বক্তব্যের জন্ম দিয়ে তাকে কোনো মুসলিমের সাথে আন্তরিক সুসম্পর্ক গড়া বা না গড়ার মানদণ্ড হিসাবে গ্রহণ করবে। বরং এটি বিদ‘আতীদের কাজ, যারা উম্মতের জন্য কোনো ব্যক্তি বা বক্তব্যকে দাঁড় করিয়ে তার মাধ্যমে তাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে; ফলে তারা এই সৃষ্ট বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে মিত্রতা বা শত্রুতা পোষণ করে’।[1]

মানুষদের মধ্যে দলাদলি সৃষ্টি করা এবং তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষের জন্ম দেয় এমন কোনো কাজ করা কোনো শিক্ষকের উচিৎ নয়। বরং তারা সবাই ভাই ভাই হয়ে থাকবে এবং পরস্পরে সৎ ও তাক্বওয়ার কাজে সহযোগিতা করবে। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَتَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡبِرِّ وَٱلتَّقۡوَىٰۖ وَلَا تَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِۚ﴾ [المائ‍دة: ٢] 

‘সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির কাজে তোমরা একে অন্যের সাহায্য কর। আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না’ (আল-মায়েদাহ ২) (more…)

More