পরকাল ভাবনা

মূল : মুহাম্মদ শামসুল হক সিদ্দিক

সংকট

আধুনিক বিশ্বে মানুষের সবচেয়ে বড় গুরুত্বের বিষয় কোনটি ? কোন বৈঠকে এ-প্রশ্ন করা হলে একেক জন একেক উত্তর দিবেন; কেউ বলবেন, ব্যাপকবিধ্বংসী অস্ত্রের উৎপাদন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মজুদ কীভাবে ঠেকানো যায় এটাই আধুনিক বিশ্বের সমধিক গুরুত্বের বিষয়। কেউ বলবেন, জনসংখ্যার বিস্ফোরণ প্রতিহত করাই বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আবার কেউ বলবেন, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠ বন্টন নিশ্চিত করণই আজকের বড় সমস্যা। এর অর্থ, মানুষ এখনো অন্ধকারে রয়েছে তার পরিচয় বিষয়ে; আবিষ্কার করতে পারেনি নিজের অস্তিত্বের ধরন-ধারণ; পারলে ভিন্নরকম হত সবারই উত্তর। সবাই বলতো, সবচেয়ে বড় সমস্যা আধুনিক মানুষের পরিচয় বিস্মৃতি। মানুষ তার মূল পরিচয় ভুলে গেছে বেমালুম; নশ্বর ইহজগৎ ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে অবিনশ্বর পরজগতে, যেখানে তাকে দাঁড়াতে হবে প্রতিপালকের সামনে যাপিত জীবনের হিসেব দিতে, এ-বিষয়টি বিদায় নিয়েছে তার মস্তিষ্কের সচেতন অংশ থেকে; অন্যথায় এ-খন্ডকালিক অস্তিত্বের জগতকে নয়, অনন্ত পরকালকে, স্রষ্টার মুখোমুখী হওয়াকে, স্বর্গ-নরকের সম্মুখীনতাকে সবচেয়ে বড় বিষয় বলে মনে করতো সে। আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেন :

بل تؤثرون الحياة الدنيا والآخرة خير وأبقى. سورة الأعلى : 16-17

কিন্তু তোমরা পার্থিব জীবনকে পছন্দ করে থাকো। অথচ আখেরাতের জীবনই উত্তম ও চিরস্থায়ী। (সূরা আ’লা ১৬-১৭) (more…)

More

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ২১)

রচনায় : আবদুল হামীদ ফাইযী

কিয়ামের বিবরন

আল্লাহর রসূল (সা) ফরয ও সুন্নত নামায দাঁড়িয়েই পড়তেন। মহান আল্লাহ বলেন,

 حَافِظُوْا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطى وَقُوْمُوْا للهِ قَانِتِيْنَ

অর্থাৎ, তোমরা নামাযসমূহের প্রতি এবং বিশেষ করে মধ্যবর্তী (আসরের) নামাযের প্রতি যত্নবান হও। আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দন্ডায়মান হও। (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং- ২৩৮)

অবশ্য অসুস্থ বা অক্ষম হলে বসে এবং মুসাফির হলে সওয়ারীর উপর বসে নামায পড়েছেন।

ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) বলেন, আমার অর্শ রোগ ছিল। আমি (কিভাবে নামায পড়ব তা) আল্লাহর রসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, “তুমি দাঁড়িয়ে নামায পড়। না পারলে বসে পড়। তাও না পারলে পার্শ্বদেশে শুয়ে পড়।” (বুখারী, আবূদাঊদ, সুনান, আহমাদ, মুসনাদ, মিশকাত ১২৪৮ নং)

সুতরাং সক্ষম হলে ফরয নামাযে কিয়াম (দাঁড়িয়ে পড়া) ফরয। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উসাইমীন ৪/১১২) (more…)

More

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ২০)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

নামাযের নিয়ত

যে কোনও আমলের জন্য নিয়ত জরুরী। নিয়ত ছাড়া কোন ইবাদত বা আমল শুদ্ধ হয় না। মহানবী (সাঃ) বলেন, “আমলসমূহ তো নিয়তের উপরেই নির্ভরশীল।” (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ১নং)

ইমাম নওবী (রহঃ) বলেন, নিয়ত বলে মনের সংকল্পকে। (যার স্থল হল হৃদয় ও মস্তিষ্ক।) সুতরাং নামাযী নির্দিষ্ট নামাযকে তার মন-মস্তিষ্কে উপস্থিত করবে। যেমন যোহ্‌র, ফরয ইত্যাদি নামাযের প্রকার ও গুণ মনে মনে স্থির করবে। অতঃপর প্রথম তকবীরের সাথে সাথে (মন-মস্তিষ্কে উপস্থিতকৃত কর্ম করার) সংকল্প করবে। (রওযাতুত ত্বালেবীন ১/২২৪, সিফাতু স্বালাতিন নাবী (সাঃ), আলবানী ৮৫পৃ:)

এই সংকল্প করার জন্য নির্দিষ্ট কোন শব্দ শরীয়তে বর্ণিত হয় নি। আরবীতে বাঁধা মনগড়া নিয়ত বা নিজ ভাষায় কোন নির্দিষ্ট শব্দাবলী দ্বারা রচিত নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা বা আওড়ানো বিদআত। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৩১৪, ৩১৫) সুতরাং নিয়ত করা জরুরী, কিন্তু পড়া বিদআত। (more…)

More

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ১৯)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

ক্বিবলার বিধান

সমগ্র মুসলিম-জাতির জন্য রয়েছে একই ক্বিবলার বিধান। মহান আল্লাহ বলেন,

ومِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ، وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوْا وَجُوْهَكُمْ شَطْرَه।

অর্থাৎ, আর তুমি যেখান হতেই বের হও না কেন, মসজিদুল হারাম (কা’বা শরীফের) দিকে মুখ ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক না কেন, ঐ (কা’বার) দিকেই মুখ ফিরাবে। (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং-১৫০)

আল্লাহর নবী (সাঃ) যখন নামাযে দাঁড়াতেন, তখন (ফরয-নফল সকল নামাযেই) কা’বা শরীফের দিকে মুখ ফিরাতেন। (ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ২৮৯নং) তিনি এক নামায ভুলকারীর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “যখন নামাযে দাঁড়াবার ইচ্ছা করবে তখন পরিপূর্ণরুপে ওযু কর। অতঃপর ক্বিবলার দিকে মুখ করে তকবীর বল—।” (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৭৯০নং) (more…)

More

তাইসীরুত তাফসীর

মহান আল্লাহ প্রদত্ত জীবন বিধান ইসলাম। ইসলামের বিধানকে প্রচার করার জন্য বহু নবী ও রাসূল আল্লাহ তাআলা প্রেরণ করেছেন। শেষ নবী মুহাম্মাদ (সা)-কে আল-কুরআন দিয়ে প্রেরণ করেছেন। তিনি এই গ্রন্থকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা তাফসীর করেছেন। এরপর ক্রমান্বয়ে তাফসীর হতেই চলেছে। আল-কুরআনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ভাষায় প্রায় ৩৫০০ তাফসীর রচিত হয়েছে । বাংলা ভাষায় মৌলিক তাফসীরের সংখ্যা খুবই কম। সূরা ভিত্তিক মৌলিক তাফসীর রচনায় এগিয়ে এসেছে বিআইআইটি। এটি রচনা করেছেন ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন যিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের একজন প্রফেসর। এটি মূলত একটি মাত্র সূরার তাফসীর। এটিকে সূরা আল হুজুরাতের তাফসীর বর্ণনা করা হয়েছে। (more…)

More

যইফ ও জাল হাদীস সিরিজ (১ম খন্ড)

উম্মাতের মাঝে জাল ও যইফ হাদীস এর কুপ্রভাব দূর করতে মুহাদ্দিসগণের প্ররিশ্রমের অন্ত নেই। আল্লাহর এই ওয়াহী সংরক্ষণ করতে তাঁরা পরিশ্রম করেছেন। তারা সহীহ ও যইফ হাদীসগুলোকে আলাদা করে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন যাতে আমরা যইফ হাদীসে উপর আমল করে বিভ্রান্ত না হই। এছাড়া যেন আমরা সহীহ হাদীসের উপর আমল করতে পারি। এরকমই একজন গত শতাব্দীর অন্যতম সেরা মুহাদ্দিস শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ)। তিনি যইফ ও জাল হাদীস সিরিজ নিয়ে “সিলসিলাতুল যইফাহ ওয়াল মাউযুআহ’ নামে হাদীস সিরিজ লিখেছেন। এই বইটিরই ১ম থেকে ৪র্থ খন্ড প্রকাশ বাংলায় প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থটির প্রথম ও দ্বিতীয় ও তৃতীয় খন্ড ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়েছিলো। কিন্তু কোয়ালিটি তেমন ভালো ছিলো না। এই কপিটিতে হাই কোয়ালিটি স্ক্যান করা হয়েছে। পরবর্তিতে প্রথম খন্ডও প্রকাশ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

বইটির অনুবাদ করেছেন আবূ শিফা আকমাল হুসাইন বিন বাদীউযযামান। প্রকাশ করেছে তাওহীদ পাবলিকেশন্স। (more…)

More

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ১৮)

লেখক : আবদুল হামীদ ফাইযী

সুতরাহ্‌

নামাযীর সামনে বেয়ে কেউ পার হবে না এমন ধারণা থাকলেও সামনে সুতরাহ্‌ রেখে নামায পড়া ওয়াজেব। (সিফাতু স্বালাতিন নাবী (সাঃ), আলবানী ৮২পৃ:) যেমন সফরে, বাড়িতে, মসজিদে,হারামের মসজিদদ্বয়ে সর্বস্থানে একাকী ও ইমামের জন্য সুতরাহ্‌ ব্যবহার করা জরুরী।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “সুতরাহ্‌ ছাড়া নামায পড়ো না।” (ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ ৮০০ নং)

“যে ব্যক্তি সক্ষম হয় যে, তার ও তার কিবলার মাঝে কেউ যেন না আসে, তাহলে সে যেন তা করে।” (আহমাদ, মুসনাদ, দারাক্বুত্বনী, সুনান, ত্বাবারানী, মু’জাম)

“যখন তোমাদের কেউ নামায পড়বে, তখন সে যেন সামনে সুতরাহ্‌ রেখে নামায পড়ে।” (আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ, সুনান, নাসাঈ, সুনান, ইবনে হিব্বান, সহীহ,হাকেম, মুস্তাদরাক, জামে ৬৫০, ৬৫১ নং)

পক্ষান্তরে আল্লাহর রসূল (সাঃ) এর বিনা সুতরায় নামায পড়ার হাদীস যয়ীফ। (more…)

More

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানীর শারঈ বিধান

রচনায়: আবু শিফা আকমাল হুসাইন বিন বাদীউযযামান***

মাসিক আত-তাহরীক পুরনো সংখ্যা থেকে সংগৃহীত

মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানী করা সম্পর্কে অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন। এ বিষয়েই আলোচ্য নিবন্ধের অবতারণা। ইসালামী শরী’আতের একটি মূলনীতি হচ্ছে যেকোন মুসলিম ব্যক্তি ছওয়াবের আশায় কোন ইবাদত করতে চাইলে অবশ্যই তার সমর্থনে কুরআন মাজীদ অথবা ছহীহ হাদীছ থেকে দলীল থাকতে হবে। ছহীহ দলীল থাকলে তা করা যাবে। অন্যথায় তা করা যাবে না। আর কোন আমলে স্বপক্ষে দলীল না থাকলে তা নবাবিষ্কার তথা বিদ’আত হিসাবে গণ্য হবে। এরকমই একটি বিষয় হচ্ছে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা। এ মর্মে কোন ছহীহ দলীল পাওয়া যায় না। এমনকি মৃত ব্যক্তির সাথে কুরবানীর কোন সম্পৃক্ততাই নেই।

ইমাম আবূ দাউদ এবং ইমাম তিরমিযী এ মর্মে দু’টি হাদীছ বর্ণনা করেছেন। নিম্নে হাদীছ দু’টি সম্পর্কে আলোচনা কর হ’ল-

(১) হানাশ হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আলী (রাঃ)-কে দু’টি মেষ যবেহ করতে দেখেছি। আমি তাকে বললাম, এটা কি? (অর্থাৎ দু’টি কেন?) তিনি উত্তরে বললেন, রাসূল (ছাঃ) আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে কুরবানী করার জন্য অছিয়ত করে গেছেন। তাই আমি তাঁর পক্ষ থেকে কুরবানী করছি। (more…)

More

কুরবানীর ভাগের সাথে আকীকার বিধান

লেখক: শাইখ আব্দুর রাকীব (মাদানী) সম্পাদক: শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী

আল্ হামদুলিল্লাহি রাব্বিল্ আলামীন, ওয়াস্ স্বালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিহিল্ কারীম। আম্মা বাদঃ

অতঃপর কুরবানীর সময় আমরা আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত আমল দেখতে পাই, তা হচ্ছে, গরু কিংবা উট কুরবানী দেয়ার সময় তাতে সন্তানের আক্বীকা দেওয়া। বিষয়টির ব্যাখ্যা এই রকম যে, যেহেতু একটি গরু কিংবা উটে সাতটি ভাগ প্রমাণিত। অর্থাৎ সাত ব্যক্তি শরীক হয়ে কুরবানী দিতে পারে এবং সেটি সাত জনের পক্ষে স্বীকৃত। তাই কোন কুরবানীদাতা যদি কুরবানীর উদ্দেশ্যে একটি গরু বা উট ক্রয় করে, অতঃপর তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা যদি ৪ কিংবা ৫ কিংবা ৬য় হয়, তাহলে সে অতিরিক্ত ভাগগুলিতে কুরবানীর নিয়ত না করে সেই সকল সন্তানের আক্বীকার নিয়ত করে, যাদের সে নির্দিষ্ট সময়ে আক্বীকা দেয় নি বা দিতে পারে নি। তাই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতঃ কুরবানীর একই পশুতে আক্বীকাও করে। আমরা এই আমলটি প্রায় দেখতে পাই। এখন প্রশ্ন হল, এই রকম করা কি শরীয়ত স্বীকৃত, এটা কি সহীহ দলীল সম্মত? আমরা এ স্থানে এ সম্পর্কে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করবো। [ওয়ামা তাউফীকী ইল্লা বিল্লাহ  ] (more…)

More