জামা‘আতে শামিল হওয়ার গুরুত্ব

রচনায় : হাফেয মুকাররাম বিন মুহসিন*

অনুলিখন : মুহাম্মাদ আলীমুদ্দিন

তাবেঈ ওবায়দুল্লাহ ইবনু আব্দিল্লাহ (রাঃ) বলেন, একদা আমি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বললাম, আপনি কি আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর রোগ সম্পর্কে কিছু বর্ণনা করবেন না? তিনি বললেন, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই করব। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর রোগ যখন গুরুতর আকার ধারণ করল, তখন তিনি একবার বললেন, লোকেরা কি ছালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! না, তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমার জন্য গামলায় (পাত্রে) পানি ঢাল। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমরা পাত্রে পানি দিলে তিনি ওযূ করলেন এবং খুব কষ্ট করে দাঁড়াতে চাইলেন; কিন্তু অজ্ঞান হয়ে গেলেন। অতঃপর জ্ঞান ফিরে এলে পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি ছালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমার জন্য পাত্রে পানি ঢাল। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তিনি উঠে বসলেন এবং ওযূ করলেন। অতঃপর দাড়াঁতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু আবার অজ্ঞান হয়ে গেলেন।জ্ঞান ফিরে আসলে পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি ছালাত আদায় করেছে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! না, তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি আবার বললেন, আমার জন্য পাত্রে পানি ঢাল। তিনি উঠে বসলেন এবং তৃতীয়বার ওযূ করলেন। অতঃপর দাড়াঁতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু এবারও অজ্ঞান হয়ে গেলেন। অতঃপর জ্ঞান ফিরলে তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি ছালাত আদায় করেছে? আমরা বললাম, না ,তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে । বিস্তারিত…


দাওয়াতী কাজে ইখলাসের গুরুত্ব

দাওয়াতী কাজে ইখলাসের গুরুত্ব

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য ইসলামকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। দরূদ ও শান্তির অবিরাম ধারা বর্ষিত হোক নবীকুল শিরোমণী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও সম্মানিত সাথীদের উপর।

দ্বীনের প্রচার ও প্রসারের কাজে আত্ননিয়োগ করা বিরাট একটি এবাদত এবং ইসলামের অন্যতম একটি মৌলিক বিষয়।এটিই ছিল নবী ও রাসূলদের কাজ। তারা মানব জাতিকে আজীবন দ্বীনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।বিশেষ করে উম্মাতে মুহাম্মাদী য়ার অন্যতম বৈশিষ্ট হচ্ছে তারা কিয়ামত পর্যন্ত মানুষকে সত্যের আহবান জানাবে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
كُنْتُمْخَيْرَأُمَّةٍأُخْرِجَتْلِلنَّاسِتَأْمُرُونَبِالْمَعْرُوفِوَتَنْهَوْنَعَنِالْمُنْكَرِوَتُؤْمِنُونَبِاللَّهِ
“তামরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানব জাতির কল্যাণের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে।তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনবে”। (সূরা আল-ইমরানঃ ১১০) বিস্তারিত…


পর্দাঃ নারী মর্যাদার অন্যতম উপায়

রচনায় : শাহীদা বিনতে তসীরুদ্দীন*

পর্দা ইসলামের এমন একটি মৌলিক বিধান, যা মানুষকে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক নাশকতা থেকে মুক্তি দিতে পারে। স্বার্থবাদী, ভোগবাদী, কুচক্রী পশ্চিমা মিডিয়া যখন নারীর ক্ষমতায়ন ও সমানাধিকারের নামে নারীদেরকে তাদের অন্দরমহল থেকে টেনে বের করে এনে চরমভাবে লাঞ্ছিত করছে, তখন সময়ের অনিবার্য দাবী হ’ল ইসলামী শরী’আহ মোতাবেক পর্দার বিধান মেনে চলা। আলোচ্য নিবন্ধে পর্দার বিভিন্ন দিক তুলে ধরার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।

পর্দা কি?

আরবী ‘হিজাব’ (حِخَابٌ) শব্দের অর্থ হ’ল পর্দা, আবরণ, আচ্ছাদন, ঘোমটা[1] বোরক্বা বা শরীরের আচ্ছাদন।[2] পরিভাষায় মেয়েদের সমস্ত শরীর ঢিলেঢালা বড় কাপড় দ্বারা এমনভাবে ঢেকে রাখা, যাতে তার গোপনীয়তা প্রকাশ না পায়। তবে প্রকৃতপক্ষে পর্দা হ’ল সকল সামাজিক বিধি-বিধানের একত্রিভূত এমন একটি সূত্র, যা নারী-পুরুষ সকলকে ইসলামী বিধানের আওতাভুক্ত হ’তে সবচেয়ে বেশী সাহায্য করে।[3] বিস্তারিত…


হাদীস কেনো মানতে হবে?

ইসলামের প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত ইহুদী-খ্রিষ্টানদের ষড়যন্ত্রে যেভাবে লিপ্ত হয়েছে তাদের থেকেই সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন ভ্রান্ত  মতবাদ। যেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আহলে কুরআন (যারা শুধু কুরআন অনুসরণ করে হাদীসকে অস্বীকার করে)। এই ভ্রান্তপথের অনুসারীর বর্তমানে আমাদের সমাজে ও ইন্টারনেট জগতে প্রবেশ করেছে। এগুলো ইহুদী খ্রিষ্টানদের দালালী করে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করতে চেস্টা করছে। এ বিষয় সবাইকে সচেতন করতে আগেও বেশ কয়েকটি পোস্ট করা হয়েছে। তাদের এই অর্থহীনযুক্তিগুলো সম্পর্কে আরো ভালোভাবে সতর্ক করতে নিম্নের ছোট বইটি অত্যন্ত সহায়ক হবে।

বইটিতে ছোট ছোট অনুচ্ছেদের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় সুন্দরভাবে ও বিপক্ষের দলীলগুলোকে খন্ডন করা হয়েছে। বইটি লিখেছেন কামাল আহমেদ । এবং এটি প্রকাশ করেছে জায়েদ লাইব্রেরী। বিস্তারিত…


দুর্নীতির পরিণাম ভয়াবহ

আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে চরম পর্যায়ের দুর্নীতি। আমাদের দেশ কয়েকবার এতে শীর্ষস্থান দখল করেছে। দুর্নীতির এই করাল গ্রাসের অন্যতম কারণ আমাদের মাঝে ইসলামের শিক্ষা অনুপস্থিত ও তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) অভাব। সমাজ থেকে দুর্নীতির এই ভয়াল থাবা দূর করতে জুমার নামাযে নসীহত বেশ কাজে আসতে পারে। মাসজিদের ইমামদের খুতবার জন্য প্রণীত এই ছোট বইখানা প্রকাশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। বইটি রচনা করেছেন ড. আব্দুল্লাহ আল মারুফ। আমাদের দেশের প্রায় ৩ লক্ষ্য মাসজিদের ইমামগণ কুরআন ও হাদীসের বেশ কিছু প্রাসঙ্গিক মূল্যবান উদ্ধৃতি এই বইটিতে পাবেন এবং এটি দুর্নীতি দমনে আলেমদের ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়ক হতে পারে। আশা করি দেশের সম্মানিত আলেম ও ইমামগণ এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ তাদের বক্তব্য ও খুতবায় এই প্রসঙ্গটি এনে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও উচ্ছেদের এই প্রয়াসে মূল্যবাদ ভূমিাকা রাখবেন।   আল্লাহ আমাদের এই প্রচেষ্টা কবুল করুন। বিস্তারিত…


বাইআত কি ও কেন? (পর্ব-৩)

আধুনিক বাইআতঃ
আধুনিক কালে বিভিন্ন সংগঠন ও দলে দলীয় প্রধান বা আমীর কর্তৃক কর্মীদের বাইআত এর বিধান দেখা যায়। তারা এই বাইআতকে ফরয মনে করেন। বাইআত বিহীন মৃত্যুকে জাহিলিয়াতের মৃত্যু হিসেবে বিশ্বাস করেন। তারা ঈমান হারানোর ভয়ে তাদের শ্রদ্ধেয় নেতার নিকট বাইআত নিয়ে ঈমান রক্ষার চেষ্ট করছেন এবং তাকেই (দলীয় প্রধানকে) খলীফার মর্যাদা দিয়ে তার প্রতি সর্বপ্রকার আনুগত্য পেশ করছেন। এই বাইআত ভঙ্গকারীকে তারা দ্বীনচ্যুত অপরাধ ভাবেন। তাদের দলীল নিম্ন অর্থবোধক হাদীস সমূহঃ

ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মারা গেল আর তার গলদেশে বাইআত নেই সে জাহিলিয়াতের অবস্থায় মৃত্যু বরন করল। (মুসলিম, কিতাবুল ইমারত অধ্যায়)

পর্যালোচনাঃ উপরোক্ত হাদীস ও অনুরূপ অর্থবোধক হাদীসের পর্যালোচনা নিম্নভাবে করা যায়- বিস্তারিত…


মুত্তাফাকুন আলাইহি বাংলা ডাউনলোড

ইসলামী শরীআতের অন্যতম উত্স হাদীস। এটিকে সহীহ সনদে ও মতনে সুসংরক্ষিত। এই হাদীসগুলো বিভিন্ন মানের দিক দিয়ে সর্বাধিক উত্তম হলো মুত্তাফাকুন আলাইহি। যেসব হাদীস একই সাথে ইমাম বুখারী (রহ.) ও ইমাম মুসলিম (রহ.) স্বীয় গ্রন্থে সংকলন করেছেন। এসব হাদীস উভয় ইমাম সহীহ বলে একমত পোষণ করেছেন সেই সাথে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে স্বীয় হাদীস গ্রন্থে সংকলন করেছেন। এই হাদীসগুলো বেছে বেছে সংকলন করেছেন আল্লামা ফুয়াদ আল বাকী (রহ)। এই সংকলেনর নাম করণ করেছেন “আল লূ’লু ওয়াল মারজান” এটি বাংলা ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। এটি প্রকাশ করেছে তাওহীদ পাবলিকেশন্স।

হাদীস গ্রন্থটি হাক্ব পিয়াসীদের জন্য এক অনন্য সংকলন। বইটির এই হাদীসগুলোকে বিষয়ভিত্তিক সাজিয়ে তাকে আরো সুন্দর করা হয়েছে। সাবলীল ভাষায় অনুবাদকৃত এই সংকলনটি আমাদের সবার ঘরে (হার্ডকপি) থাকার মতো কিতাব। আল্লাহ আমাদের তা কেনার সেই সাথে তা অন্যকে কিনতে উত্সাহিত করা তাওফিক দিন।

বিস্তারিত…


হয়োনা তুমি রমজানের আবেদ

রচনায় :- মুহাম্মদ আল-হামুদ আন-নজদি

অনুবাদ : চৌধুরী আবুল কালাম আজাদ

আল্লাহ তাআলা মুমিনদের বন্ধু। আমরা সবাই তার প্রিয় বান্দা হতে চাই। কিন্তু কীভাবে? ক্ষণিকের তরে ইবাদত করলে কীভাবে তুমি আল্লাহর প্রিয় হবে? মাহে রমজান ইবাদতের মৌসুম বটে, কিন্তু তার মানে কী রমজান চলে যাওয়ার সাথে সাথে ইবাদত ফুরিয়ে যাবে? দীর্ঘ একমাস যাবত যে সকল আমলের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করেছে, তা সারা বছরই বাকী থাকে। এমনকি যতদিন জীবিত থাকে ততদিনই অবশিষ্ট থাকে। প্রকৃত মুমিন মৃত্যু পর্যন্ত আমল করতে থাকে।

জনৈক বুযুর্গকে বলা হলো অনেক মানুষকে শুধুমাত্র রমজানে ইবাদত করতে দেখা যায়। তিনি বলেন : সে জাতি বড়ই হতভাগ্য, যারা কেবলমাত্র রমজানেই আল্লাহর হাক্ব সম্পর্কে সচেতন থাকে। যে ব্যক্তি সারা বছর ঠিকমত ইবাদত করে সে-ই প্রকৃত সফল নেককার। বিস্তারিত…


মানব জীবনে ভ্রষ্টতা

আল্লাহ তার ইবাদতের জন্য সমস্ত সৃষ্টি জগত সৃষ্টি করেছেন এবং ইবাদতের কাজে সহায়ক, তাদের জন্য এমন রিযকের সকল ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ  مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ  إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ

‘আমার ইবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জ্বিন জাতি সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে জীবিকা চাইনা এবং এটাও চাইনা যে, তারা আমাকে আহার্য যোগাবে। আল্লাহই তো রিয্ক দান করেন, তিনি প্রবল, পরাক্রান্ত। [1]

মানবাত্মাকে যদি তার ফিতরাতের উপর ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে সে অবশ্যই আল্লাহর উলুহিয়াত তথা ইলাহ হওয়ার স্বীকৃতি প্রদান করবে। আল্লাহর প্রতি ভালবাসা পোষণ করবে, তাঁর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোন কিছুর শরিক করবেনা। কিন্তু যখন মানুষও জ্বিন শয়তান, তাদের সুন্দর অথচ প্রতারনামূলক কথাবার্তা তার কাছে সুশোভিত করে তোলে, তখনই তার বিপর্যয় ঘটে এবং সত্যপথ থেকে সে দূরে সরে যায়। কেননা তাওহীদ মানব প্রকৃতিতে আগে থেকেই বিদ্যামন। আর শিরক হচ্ছে মানব প্রকৃতির উপর অনুপ্রবিষ্ট একটি নুতন জিনিস। বিস্তারিত…