সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ৩৩)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

সিজদার যিক্‌র ও দুআ

সিজদায় গিয়ে মহানবী (সাঃ) এক এক সময়ে এক এক রকম দুআ পাঠ করতেন। তাঁর বিভিন্ন দুআ নিম্নরুপ:-

سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلى। (সুবহা-না রাব্বিয়্যাল আ’লা)
অর্থ- আমি আমার মহান প্রভুর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করি। ৩ বার বা ততোধিক বার। (আবূদাঊদ, সুনান ৮৮৫নং, দারাক্বুত্বনী, সুনান, ত্বাহা, বাযযার, ত্বাবারানী)

 سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلى وَ بِحَمْدِهِ।
উচ্চারণ:-  সুবহা-না রাব্বিয়্যাল আ’লা অবিহামদিহ্‌।

অর্থ- আমি আমার সুমহান প্রভুর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করি। ৩ বার। (আবূদাঊদ, সুনান , আহমাদ, মুসনাদ, দারাক্বুত্বনী, সুনান, বায়হাকী ২/৮৬, ত্বাবারানী, মু’জাম)

سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّ الْمَلاَئِكَةِ وَالرُّوْحِ।
উচ্চারণ:- সুব্বূহুন ক্বুদ্দূসুন রাব্বুল মালা-ইকাতি অররুহ।

অর্থ- অতি নিরঞ্জন, অসীম পবিত্র ফিরিশ্‌তামন্ডলী ও জিবরীল (আহমাদ, মুসনাদ) এর প্রভু (আল্লাহ)। (মুসলিম)

Read more

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ৩২)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

সিজদাহ ও তার পদ্ধতি

কওমার পর নবী মুবাশ্‌শির (সাঃ) তকবীর বলে সিজদায় যেতেন। নামায ভুলকারী সাহাবীকে সিজদাহ করতে আদেশ দিয়ে বলেছিলেন, “স্থিরতার সাথে সিজদাহ বিনা নামায সম্পূর্ণ হবে না।” (আবূদাঊদ, সুনান ৮৫৭ নং,হাকেম, মুস্তাদরাক)

সিজদায় যাওয়ার পূর্বে ‘রফ্‌য়ে ইয়াদাইন’ করার বর্ণনাও সহীহ হাদীসে পাওয়া যায়। (সহিহ,নাসাঈ, সুনান ১০৪০ নং, দারাক্বুত্বনী, সুনান)সুতরাং কখনো কখনো তা করলে কোন দোষ হবে না।

সিজদায় যাওয়ার সময় আল্লাহর নবী (সাঃ) তাঁরহাত দু’টিকে নিজ পাঁজর থেকে দূরে রাখতেন। (আবূ য়্যা’লা, ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ ৬২৫ নং)

এ সময় সর্বপ্রথম তিনি তাঁর হাত দু’টিকে মুসাল্লায় রাখতেন। তারপর রাখতেন হাঁটু। এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসগুলি অধিকতর সহীহ। (আবূদাঊদ, সুনান ৭৪৬, সহিহ,নাসাঈ, সুনান ১০৪৪, মিশকাত ৮৯৯, ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ৩৫৭, সিফাতু স্বালাতিন নাবী (সাঃ), আলবানী ১৪০পৃ:, উদ্দাহ্‌ ৯৬পৃ:)

Read more

মালালা ও নাবীলা : ইতিহাসের দু’টি ভিন্ন চিত্র

মালালা ও নাবীলা : ইতিহাসের দু’টি ভিন্ন চিত্র

গত ১০ই অক্টোবর সুইডেনের নোবেল কমিটি পাকিস্তানের ১৭ বছরের তরুণী মালালা ইউসুফযাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে। মালালা হ’ল এযাবৎকালের সর্বকনিষ্ঠ এবং পাকিস্তানের দ্বিতীয় নোবেল জয়ী। মালালা শান্তির জন্য কি কাজ করেছে যে, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে? এরূপ এক প্রশ্নের উত্তরে নোবেল কমিটির সভাপতি বলেন, ‘বয়সে তরুণ হলেও গত কয়েক বছর যাবৎ তিনি নারীশিক্ষার অধিকার আদায়ে লড়াই চালিয়ে আসছেন। শিশু ও তরুণদের সামনে তিনি এই নযীর গড়েছেন যে, নিজেদের অবস্থার উন্নয়নে তারাও অবদান রাখতে পারে। আর এ লড়াই তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন সবচেয়ে বিপদসংকুল পরিস্থিতির মধ্যে থেকে’। তখন একজন সাংবাদিক বলেন, Aspirations but has’nt actually done anything  (স্রেফ আশাবাদ; কিন্তু বাস্তবে সে কিছুই করেনি)। একথা শুনে সভাপতির চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যায় এবং তার মুখে কোন উত্তর ছিল না।

১৯৯৭ সালের ১২ই জুলাই পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকার সিঙ্গোরা গ্রামে মালালার জন্ম। তার পিতা যিয়াউদ্দীন ইউসুফযাই এলাকায় একটি স্কুল চালাতেন। অতঃপর ২০১২ সালের ৯ই অক্টোবর স্কুলযাত্রী ১৫ বছরের মালালাকে তালিবানরা গুলি করে। যা তার মুখে ও মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব মিডিয়ায় তালেবানের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। অতঃপর দেশে ও বিদেশে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে মালালা এখন যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে পিতার সঙ্গে অবস্থান করছে। বর্তমানে সে বিশ্ব মিডিয়ায় শীর্ষ নারী এবং সকলের নিকট অতি পরিচিত একটি নাম। মালালা সর্বদা অহিংস নীতির কথা বলছে। অথচ তার জন্মস্থানেই যে আরেক নোবেলজয়ী ওবামার হুকুমে প্রায় প্রতিদিনই ড্রোন হামলা হচ্ছে এবং তাতে প্রাণ হারাচ্ছে অগণিত নিরপরাধ নারী-শিশু, সে বিষয়ে মালালার কোন কথাই শোনা যাচ্ছে না। মালালার নোবেল প্রাপ্তির ৭ দিনের মাথায় ইস্রাঈলী সেনাবাহিনী গাযায় ১৩ বছরের এক কিশোরকে গুলি করে হত্যা করেছে। এমনকি গত জুলাইয়ে সর্বশেষ ইস্রাঈল-হামাস যুদ্ধে ওবামার দেওয়া অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে যে ইস্রাঈল পাঁচ শতাধিক নিরপরাধ শিশুকে হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও মালালার কোন শব্দ শোনা যায়নি। তাহ’লে ব্যাপারটা আসলে কি?

Read more

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ৩১)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

কওমায় হাত কোথায় থাকবে?

সুন্নাহতে এ কথা স্পষ্ট যে, নামাযীর উভয় হাত নামাযে কিয়াম অবস্থায় বক্ষস্থলে থাকবে। কিন্তু ‘নামায’ ও ‘কিয়াম’ নির্দিষ্ট করে কোন্‌ অবস্থাকে বুঝানো হয়েছে তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

কিয়ামে হাত বাঁধা বলতেও কি (রুকূর আগের ও পরের) উভয় কিয়ামকেই বুঝায়?

প্রত্যেক হাড় তার স্বস্থানে বা নিজ জোড়ে ফিরে যায় বলতে কি হাতও নিজের জায়গায় ফিরে যায়? নাকি এখানে শুধু মেরুদন্ডের হাড়ের কথাই বুঝানো হয়েছে? হাড়গুলোর নিজের জায়গায় বা জোড়ে ফিরে যাওয়ার অর্থে পুন:হাত বাঁধাও কি শামিল? নাকি উদ্দেশ্য হল উক্ত অবস্থায় পিঠ সোজা করে স্থির হওয়া (ইত্বমিনান)? হাত নিজের জায়গায় ফিরে গেলে, তার নিজের জায়গা বুকে থাকা অবস্থাটা, নাকি স্বাভাবিকভাবে ঝুলে থাকা অবস্থাটা?

বাস্তবপক্ষে ‘নামায’ ও ‘কিয়াম’ বলতে যদি রুকূর আগের কিয়াম (লম্বা দাঁড়ানো) ও রুকূর পরের কওমাহ্‌ (একটু দাঁড়ানো) উভয়কে এবং হাড় বলতে যদি হাতকেও তথা তার নিজ জায়গা বলতে বুকের উপরকে বুঝা হয়, তাহলে কওমাতেও বুকে হাত বাঁধা সুন্নত।

Read more

তাফসীরে তাবারী ৯ম খন্ড

তাফসীর গ্রন্থ হলো মূলত মহান আল্লাহর তরফ হতে রাসূল (সা)-এর উপর নাযিলকৃত আল-কুরআনের আল-হাদীসের মাধ্যমে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। সাধারণ মানুষের জন্য আল-কুরআনের অন্তর্নিহিত ভাব ও মর্ম সহজবোধ্য হয়ে উঠে তাফসীর পাঠ করার মাধ্যমে। এজন্য ইসলামের প্রথম থেকে কুরআন ও হাদীসের বিশেষজ্ঞ ‘আলিমগণ সাধারণ মানুষের জন্য সহজসাধ্য করে রচনা করেছেন তাফসীর গ্রন্থ।

এসব তাফসীর গ্রন্থের মধ্যে পবিত্র কুরআনের প্রখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা আবূ জা’ফর মুহাম্মদ ইবন জারীর তাবারী (র) প্রণীত তাফসীরে তাবারী অন্যতম। এই তাফসীরখানা তাফসীরে তাবারী নাম সমধিক পরিচিত হলেও এর প্রকৃত নাম “জামিউল বায়ান ফী তাফসীরিল কুরআন”। পবিত্র কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যায় এই তাফসীরে সর্বাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এটি মূলত হাদীস ভিত্তিক তাফসীর। এজন্য এ গ্রন্থখানি মুসলিম জাহানে বিশেষভাবে সমাদৃত।

তত্ত্ব ও তথ্যের বিশুদ্ধতার জন্য পাশ্চাত্য জগতের পন্ডিত-গবেষকগণও এ তাফসীরখানার প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হয়েছেন। ১৯৮৮ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস তাফসীরটির প্রথম খন্ডের ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশ করেছে। আল্লাহ তাআলার অপার অনুগ্রহে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ১-১২খন্ড বাংলায় অনুবাদ প্রকাশ করেছে। ইতিপূর্বে  অন্য সাইটে ১-৭খন্ড স্ক্যানকৃত কপি প্রকাশ হয়েছে। বাকী খন্ডগুলো আমরা প্রকাশ করার আশা রাখি। Read more

জিহাদ ও জঙ্গীবাদ প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও স্পর্শকাতর বিষয় হল সন্ত্রাস। বিশেষ করে বাংলাদেশেও এই প্রসঙ্গ বর্তমানে হট কেক হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। বর্তমানে সহীহ আক্বীদার ও আমলের অনুসারীদের এক প্রকার জুলুম করে অন্যায় অভিযোগ চাপিয়ে দিয়ে অন্যায় অত্যাচার করা হচ্ছে। চরমপন্থার অভিযোগ করে সহীহ আক্বীদার দাওয়াতী কার্যক্রমকে থামিয়ে দেয়অর চেষ্টা করছে। অথচ সহীহ আক্বীদা ও আমলের অনুসারীরা সকল প্রকার চরমপন্থার বিরোধী সেইসাথে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বা দেশে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি সহীহ আক্বীদা ও আমলের পরিচয় বহন করে না। চিরশান্তির ধর্মকে সন্ত্রাসী ধর্ম হিসেব আখ্যায়িত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে এসব করানো হচ্ছে। এর আগেও বিভিন্ন দাওয়াতী এনজিওর কার্যক্রমকেও ভূয়া জঙ্গীবাদের ধূয়া তুলে বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ধর্মের নামে এক শ্রেণীর অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, মূর্খ লোকেরা মুসলিমদের চিরশত্রুদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে একদিকে যেমন আমাদের দেশকে বিতর্কিত করার অপপ্রয়াস চলছে, সেই সাথে আমাদের চিরশান্তির ধর্ম ইসলামকেও কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। একথা সর্বজনবিদিত যে, ইসলাম কোন অবস্থাতেই জঙ্গীবাদকে সমর্থন করে না। Read more

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ৩০)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

কওমাহ্‌

অতঃপর আল্লাহর রসূল (সাঃ) রুকূ থেকে মাথা ও পিঠ তুলে সোজা খাড়া হতেন। এই সময় তিনি বলতেন,

 سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَه।
“সামিআল্লাহু লিমানহামিদাহ্‌।” (অর্থাৎ, আল্লাহর যে প্রশংসা করে তিনি তা শ্রবণ করেন। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৭৯৯ নং)

নামায ভুলকারী সাহাবীকে তিনি এ কথা বলতে আদেশ করে বলেছিলেন, “কোন লোকেরই নামায ততক্ষণ পর্যন্ত সম্পূর্ণ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তকবীর দিয়েছে —- অতঃপর রুকূ করেছে — অতঃপর ‘সামিআল্লাহু লিমানহামিদাহ্‌’ বলে সোজা খাড়া হয়েছে।” (আবূদাঊদ, সুনান ৮৫৭ নং, হাকেম, মুস্তাদরাক)

এই সময়েও তিনি উভয়হাতকে কাঁধ অথবা কানের উপরিভাগ পর্যন্ত তুলতেন; যেমন এ কথা পূর্বে আলোচিত হয়েছে।

মালেক বিন হুয়াইরিস (রাঃ) বলেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাঃ) তাকবীরে তাহরীমার সময় কান বরাবর উভয় হাত তুলতেন। আর যখন তিনি রুকূ থেকে মাথা তুলতেন ও ‘সামিআল্লাহু লিমানহামিদাহ্‌’ বলতেন তখনও অনুরুপহাত তুলতেন।’ (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৭৯৫নং)

উক্ত কওমায় তিনি এরুপ খাড়া হতেন যে, মেরুদন্ডের প্রত্যেক (৩৩ খানা)হাড় নিজ নিজ জায়গায় ফিরে যেত। (বুখারী ৮২৮, আবূদাঊদ, সুনান, মিশকাত ৭৯২নং)

Read more

দল, ইমারত ও বায়আত সম্পর্কে উলামাগণের বক্তব্য (পর্ব ৭)

দল, সংগঠন, ইমারত ও বায়‘আত সম্পর্কে বিশিষ্ট উলামায়ে কেরামের বক্তব্য (সপ্তম পর্ব)

সিরিয়ার প্রসিদ্ধ আলেম শায়খ আদনান ইবনে মুহাম্মাদ আল-আরউর([1])

বৈধ ঐক্যবদ্ধতা এবং নিষিদ্ধ দলাদলির মধ্যে পার্থক্য: যেহেতু পারস্পরিক সহযোগিতা শরী‘আতে বৈধ; বরং ওয়াজিব। আর পারস্পরিক এই সহযোগিতার জন্য কখনো কখনো দলবদ্ধ হওয়ার এবং দলবদ্ধ লোকগুলিকে পরিচালনার প্রয়োজন পড়ে, সেহেতু এই বিষয়টি নিয়ে অনেকেরে মধ্যে তালগোল পাকিয়ে গেছে। ফলে তারা বৈধ ঐক্যবদ্ধতা এবং নিষিদ্ধ দলাদলিকে একাকার করে ফেলেছে। তারা নিষিদ্ধ দলাদলির বৈধতা প্রমাণ করতে গিয়ে বৈধ ঐক্যবদ্ধতার পক্ষের দলীলগুলিকে পেশ করেছে। যেমন: মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ ۞وَمَا كَانَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ لِيَنفِرُواْ كَآفَّةٗۚ فَلَوۡلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرۡقَةٖ مِّنۡهُمۡ طَآئِفَةٞ لِّيَتَفَقَّهُواْ فِي ٱلدِّينِ وَلِيُنذِرُواْ قَوۡمَهُمۡ إِذَا رَجَعُوٓاْ إِلَيۡهِمۡ لَعَلَّهُمۡ يَحۡذَرُونَ ١٢٢ ﴾ [التوبة: ١٢٢] 

      ‘তাদের প্রত্যেকটি বড় দল হতে এক একটি ছোট দল দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং ফিরে এসে নিজ কওমকে ভীতি প্রদর্শনের জন্য কেন বের হলো না, যাতে তারা (আল্লাহ্‌র আযাব থেকে) বেঁচে থাকতে পারে’ (আত-তাওবাহ ১২২) তিনি অন্যত্র বলেন,

﴿ وَلۡتَكُن مِّنكُمۡ أُمَّةٞ يَدۡعُونَ إِلَى ٱلۡخَيۡرِ وَيَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِۚ ﴾ [ال عمران: ١٠٤] 

  ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিৎ, যারা কল্যাণের পথে মানুষকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের আদেশ করবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। (আলে ইমরান ১০৪)

Read more

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ২৯)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

রুকূ ও তার পদ্ধতি

‘রফয়ে য়্যাদাইন’ করে নবী মুবাশ্‌শির (সাঃ) তকবীর বলে রুকূতে যেতেন। রুকূ করা ফরয। মহান আল্লাহ বলেন,

يا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا ارْكَعُوْا وَاسْجُدُوْا।।।।।
অর্থাৎ, হে ঈমানদাগণ! তোমরা রুকূ ও সিজদা কর—। (কুরআন মাজীদ ২২/৭৭)

মহানবী (সাঃ) ও নামায ভুলকারী সাহাবীকে তকবীর দিয়ে রুকূ করতে আদেশ করে বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কারো নামায ততক্ষণ পর্যন্ত সম্পূর্ণ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে উত্তমরুপে ওযু করে—- অতঃপর তকবীর দিয়ে রুকূ করে এবং উভয় হাঁটুর উপর হাত রেখে তার হাড়ের জোড়গুলো স্থির ও শ্রান্ত হয়ে যায়।” (আবূদাঊদ, সুনান ৮৫৭, নাসাঈ, সুনান,হাকেম, মুস্তাদরাক)

রুকূতে ঝুঁকে তিনি হাতের চেটো দু’টোকে দুই হাঁটুর উপর রাখতেন। (বুখারী, আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, মিশকাত ৮০১ নং) আর এইভাবে রাখতে আদেশও দিতেন। হাত দ্বারা হাঁটুকে শক্ত করে ধরতেন। (বুখারী, আবূদাঊদ, সুনান, মিশকাত ৭৯২ নং) হাতের আঙ্গুলগুলোকে খুলে (ফাঁক ফাঁক করে) রাখতেন। (হাকেম, মুস্তাদরাক, সআবূদাঊদ, সুনান ৮০৯ নং) আর এইরুপ করতে তিনি নামায ভুলকারী সাহাবীকে আদেশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “যখন রুকূ করবে তখন তুমি তোমারহাতের চেটো দু’টোকে তোমার দুই হাঁটুর উপর রাখবে। অতঃপর আঙ্গুলগুলোর মাঝে ফাঁক রাখবে। অতঃপর স্থির থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যেক অঙ্গ স্ব-স্ব স্থানে বসে না যায়।” (ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ ৫৯৭ নং, ইবনে হিব্বান, সহীহ)

Read more

আরাফার খুতবা ১৪৩৫ হি.

আরাফার খুতবা ১৪৩৫ হি.

শাইখ আবদুল আযীয ইবন আবদুল্লাহ আলে শাইখ

হে আল্লাহ, সব স্তুতি তোমার জন্য। তুমি আমাদের সৃজন করেছ নাস্তি থেকে। বড় করেছ ছোট থেকে। সবল করেছ দুর্বলতা থেকে। ধনবান করেছ নির্ধনতা থেকে। চক্ষুষ্মান করেছ অন্ধত্ব থেকে। শ্রবণক্ষম করেছ বধিরতা থেকে। জ্ঞানবান করেছ মূর্খতা থেকে। সুপথ দেখিয়েছ পথভ্রষ্টতা থেকে। তোমার প্রশংসা ঈমান দান করার জন্য। তোমার প্রশংসা কুরআন নাযিল করার জন্য। তোমার প্রশংসা পরিবার, ধন-দৌলত ও সুস্থতার জন্য। তুমি আমাদের শত্রুদের পরাস্ত করেছ, আমাদের নিরাপত্তা বিধান করেছ। হে রব, তোমার কাছে যা-ই চেয়েছি তুমি তাই আমাদের দিয়েছ। অতএব তোমার জন্য যাবতীয় প্রশংসা যাবৎ তুমি সন্তুষ্ট হও। তোমার জন্য প্রশংসা সন্তুষ্টির পরেও।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিজন ও সাহাবীদের ওপর।
আল্লাহর বান্দারা, আমি আপনাদের এবং প্রথমত নিজের পাপাচারী ক্ষুদ্র অন্তরকে আল্লাহভীরুতার উপদেশ দিচ্ছি। কেননা তা সব কল্যাণকর্মের সমন্বয়ক। আল্লাহ বলেন,
﴿ وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجٗا ٢ وَيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُۚ وَمَن يَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسۡبُهُۥٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَٰلِغُ أَمۡرِهِۦۚ قَدۡ جَعَلَ ٱللَّهُ لِكُلِّ شَيۡءٖ قَدۡرٗا ٣ ﴾ [الطلاق: ٢، ٣]
‘যে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ {সূরা আত-তালাক, আয়াত : ২-৩}

Read more