ইসলামিক গল্প নারী

নিলার অহংকার, পর্ব ৩

বিষয়: আমার বিশ্বাসই আমার আধুনিকতা

ক্যাম্পাসের ক্যান্টিনে বসে কথা বলছে সুলতানা ও নিলা ৷

সুলতানা হল ঢাবির পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্রী ৷ আজ নিলার সাথে সে একটি ব্যাপারে আলোচনা করতে এসেছে ৷ আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ,কোনটি আধুনিক ? বিজ্ঞান নাকি অন্ধ বিশ্বাস ৷

সুলতানা বলল, দেখ ! নিলা ! এখন নাঁক মুখ ঢেঁকে চলার সময় নয় ৷ বিজ্ঞান এখন অনেক Advance ৷ এখন পর্যবেক্ষণের যুগ ৷ গোড়ামির সময় নয় ৷ এই সব ধর্ম টর্ম হলো মানুষের আবিস্কার ৷ আমি কেন এই বিজ্ঞানের যুগে অন্ধ বিশ্বাস করে থাকবো ৷ এরকম বিশ্বাস তো আমাদের পিছিয়ে নিয়ে যাবে ৷ তাই এখনো সময় আছে গোঁড়ামি ছেঁড়ে বিজ্ঞানমনস্ক হ ! বুঝলি !

নিলা নিরব ! কোন কথা বলছে না ৷

— কিরে নিলা কথা বলছিস না কেন !? কিছু বল ৷

— আপু ! বিজ্ঞান এগুচ্ছে ! Advance হচ্ছে ! ব্যাপারটি সত্য ৷ আরও হোক ! সেটাও কথা নয় ! কিন্তু profit পেয়ে মূলধন ছেঁড়ে দেওয়া বা ভূলে যাওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয় ৷

—মানে ?

—খুব সহজ ! তুমিই বলনা বিজ্ঞান কি মানুষের চিন্তার ফসল নয় !

—অবশ্যই !

—বিজ্ঞান যে দিন দিন এগুচ্ছে তাও নিশ্চয়ই মানুষই করছে ৷

—হ্যাঁ ! অবশ্যই !

—তাহলে আমাদের মূলধন হলো আমাদের চিন্তা, গবেষণা, তদন্ত ইত্যাদি আর বিজ্ঞান বা তাঁর উন্নয়ন হলো সেই চিন্তা, গবেষণা বা তদন্তের ফসল তাই না !

—হুম ! কিন্তু তাতে কি !

— সতরাং বিজ্ঞান হলো মানুষের তদন্ত, চিন্তা গবেষণা ইত্যাদি গুণের মুখাপেক্ষী ৷ অন্যভাবে বললে মানুষ হলো বিজ্ঞানের জনক এবং বিজ্ঞান হলো তাঁর শিশু ৷

এখন কেউ যদি বলল চিন্তা, গবেষণা, তদন্ত ইত্যাদি করব না, কেবল বিজ্ঞান নিয়েই থাকব ৷ তাহলে তাঁকে তুমি কি বলবে !

— she/he’s so fool !

—thats right ! আর এই চিন্তা, তদন্ত, গবেষণাই মানুষকে বিজ্ঞানের উপর শ্রেষ্ঠ বা মর্যাদাবান প্রমাণ করে ৷ তাই না !

— হুম ! right

—তবে এগুলো ছাঁড়াও মানুষের কিছু extra ordinary বা কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে যা তাঁকে বিজ্ঞানের তুলনায় মর্যাদাবান প্রমাণ করে যেমন একজন শিশুর তুলনায় একজন পরিণত মানুষের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে যা তাঁকে ঐ শিশুর থেকে মর্যাদাবান প্রমাণ করে !

—যেমন !

— যেমন ধরো মানুষ কারও পায়ের ছাঁপ দেখে বলতে পারে এখানে কোন পথিক এসেছিল ৷ কিন্তু বিজ্ঞানের এই স্বতন্ত্র ক্ষমতা নেই ৷

মানুষ উটের বিষ্ঠা দেখে উট চিনতে পারে ৷ কিন্তু বিজ্ঞান তা পারে না ৷

মানুষ ধান থেকে চাল চিন্তা করে, কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা বুঝতে পারে ৷ কিন্তু বিজ্ঞান তা পারে না ৷

মানুষ বিমানকে উড়তে দেখে পাইলটের কথা চিন্তা করতে পারে ৷ কিন্তু বিজ্ঞানের সেই স্বতন্ত্র ক্ষমতা নেই ৷

যদিও মানুষের এই গুনের সাথে দেখার মত কোন ব্যাপার ঘটেনি তবুও সে তা উপলব্ধি করতে পারে ৷ অর্থাৎ, মানুষের একটি বিশেষ গুন হলো না দেখে বিশ্বাস ! কিন্তু বিজ্ঞান কেবল তাঁর পর্যবেক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তাঁও স্বতন্ত্র নয়, বরং মানুষের মুখাপেক্ষী ৷

সুতরাং মানুষের তুলনায় বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ব্যাপক ! বিজ্ঞান মানুষের তুলনায় শিশুর মত ৷

সুতরাং শিশুর ধোহাই দিয়ে যেমন কোন পরিণত মানুষের শিশুর মত আচরণ করা বা শিশুমনস্ক হওয়া ঠিক হবে না ঠিক তেমনি বিজ্ঞানের মত শিশুর দোহাই দিয়ে নিজেকে বিজ্ঞানমনস্ক তথা সব কিছুকে বিজ্ঞানের বিচারে চিন্তা করাও ঠিক হবে না ৷

কারণ তাঁকে মনে রাখতে হবে বিজ্ঞান তাঁর কোলের শিশু ৷ এটা তাঁর লালন পালন তথা চিন্তা গবেষণার অধীন ৷ সে ঐ শিশুর বিচারে সব বিচার করতে পারে না বা পরিণত বয়সে শিশু মনস্কের হতে পারে না ৷ কারণ সে বিজ্ঞান থেকে অনেক উন্নত ৷ আর এই না দেখে বিশ্বাসের মত গুনটিও তাঁকে বিজ্ঞান থেকে অনেক উঁচু মর্যাদা দান করেছে ৷

সুতরাং সবচেয়ে আধুনিক তথা সবচেয়ে সুস্হ , বাস্তবসম্মত, সর্বোচ্চ ও সর্বোন্নতমানের চিন্তা সেটাই হবে যা তাঁকে সরাসরি সেই বিশ্বাসের দিকে ডাঁকে ৷ আর ইসলাম হলো সেই মহাধুনিক, মহিমান্বিত ও শাশ্বত দর্শণ ৷ তাইতো পবিত্র কোরআন মুত্তাক্বীদের একটি গুনের ব্যাপারে বলছে,

الذين يؤمنون بالغيب ……….

“তাঁরা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে ৷” (সূরা বাক্বারাহ ২:৩)

সুতরাং আমার বিশ্বাসই আমার অহংকার ! আমার আধুনিতা !

আমরা বিজ্ঞানীদের মত কেবল হাবল টেলিস্কোপ দিয়ে বিগ ব্যাং (Big Bang) চিন্তা করে বসে থাকি না বরং বিজ্ঞানের মত শিশুর উর্ধ্বে গিয়ে পরিণত বুদ্ধিদীপ্ত মানুষের মত চিন্তা করি বিগ ব্যাং এর অন্তরালে থাকা সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ ও মহাজ্ঞানী এক মহান সত্ত্বা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কথা ৷ আর এই ব্যাপারটিও আমাদেরকে পবিত্র কোরআনই শিক্ষা দিয়েছে ! মহান আল্লাহ বলেন

اولم ير الذين كفروا ان السموت والارض كانتا رتقا ففتقنهما- وجعلنا من الماء كل شيء حي – افلا ي‍ؤمنون ٥

“অবিশ্বাসীরা কি দেখে না, আসমানসমূহ ও যমীন মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে ৷ অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম ৷ এবং প্রাণবন্ত সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলাম পানি থেকে ৷ তবুও কি তাঁরা ইমান আনবে না ৷ “(সূরা আম্বিয়া ২১:৩০)

তাইতো আমি প্রাণভরে একথা বলি,

رضيت بالله ربا وبالاسلام دينا وبمحمد رسولا—

“আমি আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে এবং মুহাম্মদ (صلي الله عليه وسلم) কে আল্লাহর রাসূল হিসেবে পেয়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট ৷”‘ (সুনান আবূ দাউদ, অধ্যায় ২: সালাত পর্ব, অনুচ্ছেদ ৩৬১, হাদীস ১৫২৯, হাদীসের মান:সহীহ ,তাহক্বীক: আলবানী )

সেদিনের মত সুলতানার মুখ দিয়ে আর কোন কথা বের হলো না ৷ আলোচনা শেষে নিলা বাঁড়ির উদ্দেশ্যে রওয়া দিল ৷ আর সুলতানা মাথা নিচু করে কি যেন চিন্তা করল ৷

আমার বিশ্বাসই আমার আধুনিকতা / মেরাজুল ইসলাম প্রিয়

মতামত দিন

Solve : *
19 × 11 =