শিরক

যদি মুমিন হয়ে থাকেন

যদি মুমিন হয়ে থাকেন——– 

আপনি মূর্তিপূজা, কবরপূজা, পীরপূজা করবেন না এবং কাউকে মধ্যস্হতা স্হাপন করবেন না ৷ এবং উপলক্ষ করে কোন উৎসব বা ওরস করবেন না ৷

الا لله الدين الخالص- والذين اتخذوا من دونه اولياء ما نعبدهم الا ليقربونا الي الله زلفي- ان الله يحكم بينهم في ما هم فيه يختلفون- ان الله لا يهدي من هو كٰذب كفار ٥

“নিশ্চয়ই একনিষ্ঠভাবে ইবাদত পাওয়ার অধিকার কেবল আল্লাহর ৷ আর তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ‘আউলিয়া’ সাব্যস্ত করেছে, (এই যুক্তিতে যে,) আমরা তাদের ইবাদত কেবল এজন্যই করি যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকট পৌছে দেয়, যেন আমরা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারি ৷ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের মাঝে ফয়সালা করে দেবেন যে বিষয়ে তারা ইখতিলাফ করত ৷ নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন কাউকে পথ দেখান না যে মিথ্যাবাদী, কাফের ৷”(সূরা যুমার ৩৯:৩)

ويوم يحشرهم وما يعبدون من دون الله فيقول ءانتم اضللتم عبادي هٰؤلاء ام هم ضلوا السبيل ٥ قالوا سبحانك ما كان ينبغي لنا ان نتخذ من دونك من اولياء ولكن متعتهم وابائهم حتي نسوا الذكر وكانوا قوما بورا ٥ فقد كذبوكم بما تقولون فما تستطيعون صرفا ولا وصرا- ومن يظلم منكم نذقه عذابا كبيرا ٥

“আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্রিত করবেন এবং তারা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত করত তাদেরকে, সেদিন তিনি জিজ্ঞেস করবেন , তোমরাই কি আমার বান্দাদেরকে বিভ্রান্ত করেছিলে না তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছিল ৷

তাঁরা বলবে, আপনি মহাপবিত্র ৷ আমরা আপনার পরিবর্তে কাউকে ‘আউলিয়া’ হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না ৷ আর আপনিই তাদেরকে ও তাদের পিতৃপুরুষদের দিয়েছিলেন ভোগসম্ভার ৷ অথচ তারা (মহান আল্লাহর) ওহীর বিধানকে ভূলে গেল এবং এক ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিতে পরিণত হল ৷

আল্লাহ (মুশরিকদের ) বলবেন, তারা তো তোমাদের কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে ৷ অতএব তোমরা শাস্তি প্রতিহত করতে সক্ষম হবে না এবং তোমরা কোন সাহায্যও পাবে না ৷ আর যে তোমাদের মধ্যে জুলুম (শিরক) করবে তাকে আমি মহাশাস্তি আস্বাদন করাব ৷”( সূরা ফুরক্বান ২৫:১৭-১৯)

“ومن اضل ممن يدعواْ من دون الله من لا يستجيب له الي يوم القيمة وهم عن دعاءهم غفلون ٥ وإذا حسر الناس كانواْ لهم اعداء وكانواْ بعبادتهم كٰفرين ٥

” তার চাইতে অধিক গোমরাহ আর কে হতে পারে যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কাউকে ডাকে যে কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাঁড়া দেবে না এবং তারাতো তাদের ডাক সম্পর্কেও গাফেল ৷ যখন মানুষকে একত্রিত করা হবে তখন তারা তাদের শত্রি হবে এবং তাদের ইবাদতকে অস্বীকার করবে”( সূরা আহক্বাফ ৪৬:৫-৬)

يايها الناس ضرب مثل فاستمعواْ له، ان الذين تدعون من دون الله لن يخلقواْ ذبابا ولو اجتمعواْ له، وان يسلبهم الذباب شيئا لايستنقذوه منه ، ضعف الطالب والمطلوب ٥

” হে মানুষ আমি একটি উদাহরণ দিচ্ছি অতএব মনোযোগ দিয়ে শোন ৷ নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ডাক তারা কখনও একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না যদিও তারা সবাই এক হয়ে যায় ৷ আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কিছু কেঁড়ে নেয় তারা তা উদ্ধারও করতে পারবে না ৷ আহবানকারি ও যাকে আহবান করা হয় উভয়ই দুর্বল ৷”( সূরা হাজ্জ্ব ২২: ৭৩)

حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن ابن شهاب عن سعيد بن المسيب عن ابي هريرة ان رسول الله صلي الله عليه قال قاتل الله اليهود اتخذوا قبور انبيائهم مساجد

আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) বলেন, অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (صلي الله عليه وسلم) বলেছেন,”আল্লাহর অভিশাপ ইহুদীদের উপর, তারা তাদের নবী-পয়গম্বরদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে ৷”( সহীহ বুখারী, অধ্যায় ৮, সালাত পর্ব , হাদীস ৪৩৭)

حدثنا الصلت بن محمد حدثنا ابو عوانة عن هلال الوزان عن عروة بن زبير عن غائشة رضي الله عنها قالت قال النبي صلي الله عليه وسلم في مرضه الذي لم يقم منه لعن الله اليهود اتخذوا قبور انبيائهم مساجد قالت عائشة لولا ذٰلك لأبرز قبره خسي ان يتخذ مسجدا

“আয়েশাহ (رضي الله عنها) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (صلي الله عليه وسلم) রোগাক্রান্ত অবস্থায় বললেন যে রোগে তিনি আর সেঁড়ে ওঠেননি যে, *ইহুদীদের উপর আল্লাহর লা’নত, তারা তাদের নবী- পয়গম্বরদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে ৷* আয়িশাহ ( رضي الله عنها) বলেন, ‘তাঁর কবরকে মসজিদ বানানোর আশঙ্কা না থাকলে তাঁর কবরকেও উন্মুক্ত রাখা হতো ৷’ “( সহীহ বুখারী, অধ্যায় ৬৪, অনুচ্ছেদ ৮৪, হাদীস ৪৪৪১)

حدثنا احمد بن صالح قرأت علي عبد الله بن نافع اخبرني بن ابي ذئب عن سعيد المقبري عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم لا جعلوا بيوتكم قبورا ولا تجعلوا قبري عيدا وصلوا علي فإن صلاتكم تبلغني حيث كنتم

” আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلي الله عليه وسلم) বলেছেন,” তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না আর তোমরা আমার কবরকে ওরস বা উৎসব পালনের স্থানে পরিণত করো না ৷ তোমরা আমার প্রতি দরুদ পড় ৷ তোমরা যেখানেই থাকো না কেনো তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌছে দেওয়া হবে ৷ “(সুনান আবু দাউদ, অধ্যায় ৫, অনুচ্ছেদ ১০০, হাদীস ২০৪২, হাদীসের মান: সহীহ , তাহক্বীক: আলবানী)

وحدثني عن مالك عن زيد بن اسلم عن عطاء بن يسار ان رسول الله صلي الله عليه وسلم قال اللهم لا تجعل قبري وثنا يعبد اشتد غضب الله علي قوم اتخذوا قبور انبيائهم مساجدا

ইয়াসার (رضي الله عنه) বলেন, অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (صلي الله عليه وسلم) বলেছেন, “হে আল্লাহ ! আমার কবরকে কবরপূজার স্থানে পরিণত হতে দিয়ো না ৷ নিশ্চয়ই সেই জাতির প্রতি আল্লাহর ক্ষোভ প্রবল হয়েছে যে জাতি তাঁর নবী পয়গম্বরদের কবরকে মসজিদ বানায় ৷”

( মুয়াত্তা ইমাম মালেক, অধ্যায় ৯, হাদীস ৪০৩, ইমাম শাফিঈ (رحيمه الله) এর শর্তে সহীহ)

حدثنا ابراهيم بن موسي اخبرنا هشام عن ابن جريج قال عطاء عن ابن عباس رضي الله عنهما صارت الاوثان التي كانت في قوم نوح في العرب بعد اما ود كانت لكلب بدومت الجندل واما سواع كانت لهذيل واما يغوث فكانت لمراد ثم لبني غطيف بالجوف عند سبإ واما يعوق فكانت لهمدان واما نسر فكانت لحمير لال ذي الكلاع اسماء رجال صالحين من قوم نوح فلما هلكوا اوحي الشيطان الي قومهم ان انصبوا الي مجالسهم التي كانوا يجلسون انصابا وسموها بأسمائهم ففعلوا فلم تعبد حتي إذا هلك أولئك وتنسخ العلم عبدت

” ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) বলেন,সর্বপ্রথম মূর্তিপূজার প্রচলন ঘটে নুহ (عليه وسلم) এর জাতির মধ্যে পরবর্তীতে তা আরবদের মধ্যে প্রচলন ঘটে ৷ ওয়াদ্দা নামক মূর্তিটি ছিল কালব গোত্রের যা ‘দাওমাতুল জান্দালে’ ছিল ৷ আর সুয়া’উন নামক মূর্তিটি ছিল হুযাইল গোত্রের নিকট আর ইয়াগুস মূর্তিটি ছিল প্রথমে মুরাদ গোত্রের নিকট অতঃপর বনু গুতাইফের নিকট ৷ এর আস্তানা ছিল কওমে সাবার নিকটবর্তী জাওফ নামক স্থানে ৷ আর ইয়াউক্ব মূর্তিটি হামদান গোত্রের নিকট আর নসর মূর্তিটি ছিল যুল কালা গোত্রের হিমইয়ার শাখার নিকট ৷ এগুলো হলো নূহ (عليه وسلم) এর জাতির সৎলোকদের নাম ৷

যখন তাঁরা মৃত্যবরণ করল তখন শয়তান তাদের জাতিকে বলল যে, তাদের বসার স্থানে অবকাঠামো নির্মাণ করো এবং তাদের নামে নামকরণ করো ৷ তারাও তাই করল ৷ তখনো তারা এর ইবাদত শুরু করেনি কিন্তু যখন তাদের পূর্ববর্তীগণ মারা গেল এবং সত্যিকারের জ্ঞান বিলুপ্ত হলো তখন তারা এর ইবাদত শুরু করল ৷”( সহীহ বুখারী, অধ্যায় ৬৫: কুরআন মাজীদের তাফসীর, সূরা নূহের ব্যাখ্যা, হাদীস ৪৯২০)

মেরাজুল ইসলাম প্রিয়

মতামত দিন

Solve : *
30 − 8 =