পর্যালোচনা সাম্প্রতিক বিষয়

কবে আমাদের হুঁশ হবে?

কবে আমাদের হুঁশ হবে?

ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের খবর লাইভ দেখলাম। খ্রিস্টানদের ধর্মীয়গ্রন্থ বাইবেলে হাত রেখে সারাবিশ্বের মিডিয়ার সামনে শপথ নিলেন। আমেরিকাকে এদেশের ‘টকমারানিরা’ সাম্প্রদায়িকতা বলছে না। পৃথিবীর সব দেশই প্রধান ধর্মকে মান্য করে উন্নতি করছে। আমেরিকায় শত শত ইসলামিক স্কুল তথা মাদরাসা হচ্ছে। তাতে রাষ্ট্র সহযোগিতা বৈ কিছু করছে না। ইংল্যান্ডে হাজার হাজার ইসলামি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে। তাতে সে দেশের মিডিয়ার কোনো মাথা ব্যথা হচ্ছে না। এদেশের জনবিচ্ছিন্ন বাম রাম ও কামপন্থীরা কেবল গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির দখলদারির মাধ্যমে ইসলামের নাম-নিশানা দেখলেই তাকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছে। কী আশ্চর্য এক ওড়না শব্দের জন্য তাদের কী শোরগোল! টিভি সংবাদ ও টকশো, পত্রিকার সংবাদ, নিবন্ধ ও সম্পাদকীয়- সবখানে একই শোর। সরকারকে তুলোধুনা করছে। অভিযোগ তুলছে- পুরো প্রজন্মকে সাম্প্রদায়িক বানানো হচ্ছে। হেফাজতের কাছে নতি স্বীকার করা হচ্ছে।

দুই
শত শত বছর ধরে সাধারণ সিলেবাসে নবী (সা) ও ইসলামের খলিফাদের জীবন গঠনমূলক আদর্শ গল্প স্থান পেয়েছে। আগে কেউ সাম্প্রদায়িক হয়নি। কেউ সেসব পড়ে জঙ্গি হয়নি। এমন অভিযোগ কোনো বিজাতিও তোলেনি। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সেসব হটানোর পর দেশপ্রেমিক ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর দাবির মুখে সেসব যথাস্থানে ফিরিয়ে আনায় তাদের এত হট্টগোল কেন। ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা এখনকার পাতি বুদ্ধিজীবীদের ঘুম হারাম। আশ্চর্য হই দেশের প্রবীণতম শিক্ষাবিদরাও যখন হাস্যকর শোরগোলে গলা মেলান। সিরাজুল ইসলামের মতো প্রবীণ বুদ্ধিজীবীও কাল দেখলাম মিডিয়াকে বলছেন একই কথা। আরে সাহেব তা আপনারাও তো এসব ছোটবেলায় পড়েছেন। আপনারা জঙ্গি কিংবা মৌলবাদী হয়ে গেছেন?

আপনাদের বৈপরীত্য ও বিবেকের দশা দেখলে করুণা হয়। অসংখ্য জায়গায় দেখি একই জিনিস ইসলামে দেখলে আপনারা বলেন সাম্প্রদায়িকতা আর হিন্দুদের অনুসরণে করলে বলেন সার্বজনীন বাঙালি সংস্কৃতি! ও তে ওড়না আপনাদের কাছে সাম্প্রদায়িক কিন্তু একই বইয়ে র তে রথদেখা সাম্প্রদায়িক নয়। অথচ রথযাত্রা কোনো সার্বজনীন উৎসব নয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার।

তিন
এদেশে ইসলাম রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা। মতবাদগতভাবে বিপর্যস্ত। সাংস্কৃতিকভাবে নির্মূলপ্রায়। রোজ নতুন নতুন ফেতনা দুয়ারে আঘাত করছে। নিত্যনতুন দুঃসংবাদ ভেসে আসছে। কুফুরি শক্তির সম্মিলিত আগ্রাসন ছাড়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে জেগে উঠেছে সর্বসম্মত ঘরের শত্রুরা। শিয়ারা উঠেছে এজেন্ডা বাস্তবায়নর চূড়ায়। কবরপূজারিরা যোগ দিয়েছে আদি মোশরেকশক্তির দলে। আর বাংলাদেশের খতমে নবুয়ত আন্দোলনের মূল কাণ্ডারি খতিব উবাইদুল হক (রহ) এর পর এর বিশ্ব আমির আবদুল হাফিজ মক্কি (রহ) এর সদ্য বিদায়ে প্রকাশ্যে জেগে উঠছে কাদিয়ানি গোষ্ঠী।

চার
এমতাবস্থায় তেয়াত্তর ফেরকার একমাত্র মুক্তিপ্রাপ্ত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সব ঘরানা লিপ্ত একে অপরের বিরুদ্ধে। সালাফি-হানাফি ও তাবলিগ-চরমোনাই- এর বাইরে যেন যুদ্ধের কেউ নেই।
ওরা যখন সব বিভেদ ভুলে একতাবদ্ধ হয়ে নেমেছে মৌলবাদ (পড়ুন ইসলামের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ) নির্মূলে, তখন আমরা ইসলামের সপক্ষের লোকেরা ব্যস্ত নিজেদের নির্মূলের জেহাদে। সিরিয়া, মায়ানমারের মুসলিমদের মতো দুর্ভাগ্য ডেকে আনতে কী ব্যস্ত আমরা!
নির্ভীক নির্লোভ বড়রা কবরমুখী। আজ ও আগামীকালের ভাগ্য যাদের হাতে সেই আমরা মশগুল গৃহবিবাদে। মেধাশূন্য আমাদের মেহনত কেবল নিজ ফেরকা বাঁচাতে। এ সরল হিসেবও কি আমরা বুঝি না, আমাদের ইসলাম তথা ওদের মৌলবাদ না থাকলে আমাদের কোনো ফেরকাই বাঁচবে না?

চার
আমরা কি পারি না কমন শত্রুর মোকাবিলায় এক হতে? ফিরকায় বন্দি না থেকে ইসলামটাকে একটু ইসলামের মতো করে দেখতে? নিজ চশমায় না দেখে আল্লাহর আলোয় ইসলামকে দেখতে?
আমরা কি পারি না সংস্কৃতি দিয়ে সংস্কৃতির, মিডিয়া দিয়ে মিডিয়ার, তথ্য দিয়ে তথ্যের, যুক্তি দিয়ে যুক্তির এবং বুদ্ধি দিয়ে বুদ্ধির মোকাবিলা করতে?
আমরা কি পারি না একে অপরের মুণ্ডপাত নয় সহযোগিতা করতে? এক কিবলাধারীকে দূরে ঠেলা নয় কাছে আনতে? পারি না কি নিজের ভালোটাকে একমাত্র না বলে অন্যের ভালোকেও শামিল করতে?
আমরা কি পারি না নিজেরা ঘরের ভেতর বসে তর্ক-ঝগড়া করতে আর বাইরে একগলা দেখাতে?
কবে আমাদের হুঁশ হবে?

তথ্যসুত্র

মতামত দিন

Solve : *
30 ⁄ 1 =