ওরা কিন্তু সন্ত্রাসী নয়!

গতকাল রাতে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে স্বরনকালের ভয়াবহ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। এতে প্রান হারান ৫৮ জন এবং আহত হন ৫১৫ জন। আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন ভয়াবহ ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটেনি।

এমন ভয়াবহ ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরেও পুলিশ বলছে এটা কোন সন্ত্রাসী হামলা নয়। বরং এটাকে “Domestic Violence” বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে!

হামলাকারীর নাম হল ‘ষ্টিফেন পেডক’। ভাগ্যিস ব্যাচারার নামের সাথে মুসলমানদের নামের মিল ছিলনা। নতুবা নিশ্চিৎ পুরো মুসলমান জাতির উপর তকমা এসে যেত! সবাই “মুসলমান সন্ত্রাসী” বলে আখ্যা দিত। এই পেডকের ক্ষেত্রে কিন্তু ঘটেছে ব্যাতিক্রম। তাকে “খ্রিষ্টান সন্ত্রাসী” বলা হচ্ছে না। “বন্দুকধারী” নাম দেয়া হয়েছে, যেটা প্রকৃতপক্ষে যৌক্তিকও বটে।

আমরা দৃড়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ইসলামে সন্ত্রাসবাদের কোন সুযোগ নেই এবং নেই। বরং “Extra Judicial Killing” ইসলামে সম্পূর্নরুপে হারাম। পবিত্র কুরআনুল কারীমের মধ্যে আল্লাহ পাক বলছেন, “ফিতনা হত্যার চেয়েও জঘন্য” [সূরা বাকারা-১৯১]

সন্ত্রাসের কোন ধর্ম হতে পারে না। ইহুদী ধর্মের কেউ চুরি করলে তাকে “ইহুদী চোর” বলা চলবে না। বরং সে একজন চোর এবং চোর। আবার হিন্দু কেউ পকেটমারলে তাকে কি “হিন্দু পকেটমার” বলবেন নাকি শুধুই পকেটমার বলা উচিৎ? তেমনি ভাবে কোন সন্ত্রাসী যদি মুসলমান বলে দাবী করে তাহলেকি সে “মুসলমান সন্ত্রাসী” হয়ে যায়! ভুলে গেলে চলবে না যে, ইসলামে হত্যা করা কবীরা গুনাহ। এখন এর পরেও যদি কোন কুলাঙ্গার এহেন কর্মকান্ড করে বসে তবে তাকে ধর্মীয় দিক থেকে যাচাই করা সম্পূর্ন অন্যায়, প্রচন্ড অন্যায়।

আল্লাহর রাসূল (স) যখন মক্কা বিজয় করলেন তখন একটি গাছের ডাল কাটতেও নিষেধ করেছিলেন। মানুষতো বহু দূরের কথা। তাই কোন প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা হত্যাকান্ডের সাথে ইসলামকে জড়ানো যাবে না। এর পরেও যদি কেউ এরুপ কর্মকান্ডের সাথে ইসলামকে জড়ানোর অপচেষ্টা করে তবে ধরে নিতে হবে তার সমস্যা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নয় বরং ইসলামেই তার এলার্জি। আর তাতে আমাদের কিছু যায়-আসে না।

ইসলাম কখনোই মানুষ হত্যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং ভালবাসা, ত্যাগ, সহমর্মিতা, সাহায্য, ক্ষমা সহ ইত্যাদি মানবীয় গুনের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রান বাঁচানোই হল ইসলামের নীতি, প্রান হরন করা নয়। তাই সন্ত্রাসবাদের সাথে ইসলামকে জড়িয়ে পানি ঘোলা করার চেষ্টা না করাই শ্রেয়।

অন্য আঙ্গিকে বলতে গেলে খোদ যুক্তরাষ্ট্রকেই তার কলিযুগের সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২য় Amendment এ বলা আছে— “A well regulated Militia, being necessary to the security of a free State, the right of the people to keep and bear Arms, shall not be infringed.” যা জনসাধারনের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র বহন করার পথ উন্মোক্ত করে দিয়েছে। মহা হাস্যকর বিষয় হচ্ছে তাদের এই Amendment টি ১৭৯১ সালের ১৫ই ডিসেম্বর করা হয়েছিল। অর্থাৎ ২২৫ বছর আগের; যখন পুরো যুক্তরাষ্ট্রই জঙ্গল ভরপুছ ছিল। আজ প্রথিবীর অন্যতম উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার পরেও কি উপরোক্ত আইন চলার কথা!!!

বার বার চেষ্টা করেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাকক ওবামা “Gun Control” আইনটি পাশ করতে ব্যার্থ হোন। কেননা এই ব্যাবসার সাথে স্বয়ং পার্লামেন্টেরই অনেকে সরাসরি জড়িত! তাইতো বলি এ কোন খেলা! “সর্প হইয়া দংশন কর ওঝা হইয়া ঝাড়”! তারাই মানুষের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে আবার এই তারাই বিচার করাচ্ছে… বড়ই আজব দুনিয়া। Such a double standard…!!!

রেফারেন্স :

১.

২.

 

Original Source of Post

About WaytoJannah

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Solve : *
11 + 26 =