কেমন আছেন চিনের মুসলমানরা?

চীনে ইসলামের আবির্ভাব হয় হিজরি প্রথম শতকে। ধারণা করা হয়, সাহাবায়ে কেরামের যুগেই চিনে ইসলাম আসে। চিনে কয়েকজন সাহাবির [রা.] কবর রয়েছে বলেও জানা যায়।
.
চীনে ইসলামের আবির্ভাব হয় হিজরি প্রথম শতকে। ধারণা করা হয়, সাহাবায়ে কেরামের যুগেই চিনে ইসলাম আসে। চিনে কয়েকজন সাহাবির [রা.] কবর রয়েছে বলেও জানা যায়। তং রাজবংশের শাসনামলে সিল্ক রোড আর সমুদ্রপথে আরব ও ইরানি মুসলমানরা এসে প্রথমে এ দেশে ইসলাম প্রচার করে। তখন থেকেই চিনের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছে মুসলমানরা। মুসলমানরাই চিনে জ্যোতির্বিদ্যা প্রথমবারের মতো নিয়ে আসে এবং এ শাস্ত্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখনও মুসলমানরা চিনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অব্যাহত রেখেছেন। তাই ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা সত্ত্বেও চিনে, বিশেষ করে দেশটির বৃহত্তম হান গোত্রের মধ্যে ইসলামে দীক্ষিতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।


.
গণচিন আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এবং জনসংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম দেশ। সবচেয়ে জনসংখ্যা বহুল এ দেশটিতে বাস করেন আট কোটি মুসলমান। তবে চিনের যেসব এলাকায় উন্নতির ছোঁয়া এখনও তেমনটা লাগেনি সেখানেই বেশির ভাগ মুসলমানের বসবাস। ধনী রাষ্ট্র চিনের মুসলমানরা অপেক্ষাকৃত দরিদ্র। চিনের ৫৬টি সম্প্রদায়ের মধ্যে ১২টি গোত্র মুসলমান।
.
চিনের মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে বহির্বিশ্বে খুব কম তথ্যই প্রচারিত হয়। আর এ থেকেই বোঝা যায় কম্যুনিস্ট সরকার দেশটির মুসলমানদের ওপর কত কঠিন অবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ধর্মীয় বা আদর্শিক মতপার্থক্য নয় বরং মূলত চিনা মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, বৈষম্য ও অবিচারের ফলেই চিন সরকারের সঙ্গে মুসলমানদের দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে এবং এসবের বিরুদ্ধে চিনা মুসলমানরা বারবার প্রতিবাদ জানিয়েছে।
.
২০০৯ সালের জুলাই মাসে চিনের সিংকিয়াং প্রদেশে যে সহিংসতা হয়েছিল তাকে বাহ্যিক দিক থেকে বর্ণবাদী হানদের সঙ্গে উইঘর মুসলমানদের জাতিগত সংঘাত বলে মনে করা হয়। কিন্তু মূলত চিন সরকারের ইসলাম-বিদ্বেষী নীতির মধ্যেই ওই সহিংসতার শেকড় বিস্তৃত হয়েছিল। উইঘর মুসলমানরাও বেইজিংয়ের ব্যাপক বৈষম্যের শিকার। সেখানে ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৬ সালে সিংকিয়াং-এর ৯৩৮ টি মাদ্রাসা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেয়া হয়। গত কয়েক বছরে মুসলিম অধ্যুষিত সিংকিয়াং প্রদেশে জ্বালানি তেল উৎপাদন দুই গুণ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও সেখানকার মুসলমানরা এই আয় থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
.
বেইজিংয়ের বিশেষ কিছু নীতির কারণে এ অঞ্চলে হানরা অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব ক্রমেই বিস্তার করে চলেছে এবং উইঘররা ক্রমেই দরিদ্র হয়ে পড়ছে। তবে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও চিনে মুসলমানদের ধর্মের প্রতি আন্তরিকতা অনেক বেশি। প্রতি বছর চিন থেকে অনেক লোক হজে যান। দীনের দাওয়াত নিয়ে যারা চিনে যান তাদের সহযোগিতায়ও যথেষ্ট আন্তরিকতার প্রমাণ দেন চিনা মুসলমানরা।
.
‪#‎দেশে_দেশে_ইসলাম‬
‪#‎দেশে_দেশে_ইসলাম_ও_মুসলিম‬

About WaytoJannah

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Solve : *
29 − 5 =