ভালবাসা ও দু’টি বাস্তবতা

সাধারণভাবে ভালবাসা বলতে আমরা যা বুঝি তেমন প্রত্যেক ভালবাসাই, যদি সত্য হয়ে থাকে, একটা পরিণতিকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে – বিয়ে। একে অপরকে ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার সেইসব কপটপূর্ণ ফেলনা ভালবাসার কথা আজ বাদ। আপনি একেবারে মন থেকেই কাওকে ভালবাসেন আর মন থেকে চান যেন আপনার ভালবাসা পরিণতি পাক, অথবা আপনি কাওকে ভালবাসলে মন থেকেই ভালবাসবেন এমন সততা পোষণ করেন, তাহলে অনুরোধ থাকবে একবার পুরোটা পড়ে দেখার জন্য। কেননা মন থেকে সৎ থাকলেও আপনি হয়ত দু’টি বাস্তবতাকে উপেক্ষা করছেন বা করবেন যা চুরমার করে দিতে পারে আপনার ভালবাসা।

প্রথমেই এক ভাইয়ের জীবনে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা উল্লেখ করব। ভার্সিটি জীবন থেকেই এক আপুর সাথে প্রেম করতেন। তারা দু’জনেই মন থেকে ছিলেন সৎ এবং তাদের এই ভালবাসাকে পরিণতি দিতে দু’জনেই ছিলেন বদ্ধপরিকর। এরপর ভার্সিটি থেকে বের হয়েই ভাইটি ভাল একটা চাকরি পেয়ে যান এবং এক সময়ে তাদের এই ভালবাসার কথা তাদের পরিবারদ্বয়কে জানানো হয়, প্রকাশ করা হয় বিয়ের আগ্রহ। দুই পরিবারই সহজেই মেনে নেয় এবং একটা সময়ে কথাবার্তা বলে বিয়ের দিন-তারিখও ঠিক করা হয়ে যায়। কোথাও কোন সমস্যা ছিল না – শুধুমাত্র একটা বিষয় ছাড়া। আর তা হল তাদের বিয়ে ঠিক হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বিয়ের আগ পর্যন্ত তাদের সমস্ত মেলেমেশাগুলো ছিল আল্লাহ, যিনি এই বিশ্বজগৎ-আমার-আপনার রব, তাঁর পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ। আর একারণেই একেবারে ঘটনার শেষ পর্যন্ত সেই ভাইটিকে আমার আরেক দ্বীনি ভাই বার বার স্মরণ করিয়ে দিতেন আল্লাহর নিষেধাজ্ঞার কথা। কিন্তু এই দ্বীনি ভাইটি ঐ ভাইটিকে কোন যুক্তি দেখাতে পারতেন না।

“কয়েকদিন পরেই তো বিয়ে করছি। বিয়ের তারিখও ঠিক হয়ে গেছে। তাহলে এখন কথা বলতে – দেখা করতে সমস্যা কোথায় ?” – এই প্রশ্নের মনমত কোন জবাব দিতে পারত না সেই দ্বীনি ভাইটি। তারপরও শুধু না করে যেতেন। কারণটা ছিল ঐ যে – রবের নিকট এর অবৈধতা। এভাবে করেই দিন কেটে যাচ্ছিল। অতঃপর বিয়ের দিন-তারিখ ঘনিয়ে আসলো। বিয়ের উদ্দেশ্যে ভাইটি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন – বাসে।

ভাইটি চট্টগ্রামে পৌঁছেছিলেন ঠিকই। কিন্তু প্রাণ নিয়ে নয়। আসার পথে বাস অ্যাক্সিডেন্ট করে আর সেই অ্যাক্সিডেন্টে অধিকাংশ বেঁচে গেলেও হাতে গোনা যে দুই-তিনজন মৃত্যুবরণ করেছিল – তাদের মধ্যে সেই ভাইটিও ছিল একজন।

দ্বীনি ভাইটি সেই ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পান কয়েকদিন পরে। তিনি যখন ঘটনাটি বলছিলেন তখন উল্লেখ করেছিলেন, “মৃত্যু যে এভাবে চলে আসতে পারে – সেটা আমাদের কারও মাথাতেই আসে নি। আমার নিজেরও একেবারে কল্পনার বাইরে যেটা ছিল অগত্যা তাই হয়েছিল।”

এই হল প্রথম বাস্তবতা। আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেন, সমস্ত কিছু যতই ঠিক দিকে এগোচ্ছে বলে মনে হোক না কেন – আপনার রবের অনুমতি না থাকলে কোনো কিছুই সম্ভব না। যে ভাইটির ঘটনা বলছিলাম তিনি তো মন থেকে সৎই ছিলেন, আপুটিও ছিলেন। তাদের পরিবারও তো রাজি ছিল – না শুধু রাজিই নয়, বরং তারা তো খুশি হয়ে বিয়ের দিন তারিখও নির্ধারণ করেছিলেন। ঘটনাটির পর এতসমস্ত চিন্তা করে দেখলাম, শুধুমাত্র যে জিনিসটির অভাব এখানে ছিল তা হল আল্লাহ সুবহানাহুতা’লার ইচ্ছা বা অনুমতি।

পরবর্তীতে সেই আপুটির আরেক জায়গায় বিয়ে হয়ে যায়। কারও জীবনই তো আর থেমে থাকে না। কিন্তু আমি এটা নিশ্চিত যে আপুটি অনেক যন্ত্রণা পেয়েছিলেন, হয়ত এখনও পান।

এটা একটা ঘটনা, কোন গল্প নয়। এমন আরও বহু ঘটনা মানুষের জীবনে ঘুরপাক খায় – একেবারে হুবহু না হলেও এমন যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি সৃষ্টি করা ঘটনা। তানাহলে আত্নহত্যা তো দূরের কথা, ব্রেকআপ শব্দটাও বর্তমানে এতটা প্রচলন পেত না। কৌতুহল আশা-আকাঙ্খা আর আনন্দমাখা অনুভূতি দিয়ে যে সম্পর্কগুলোর সূচনা হয় সেগুলো শেষ হয় মনোমালিন্য, হতাশা আর যন্ত্রণা দিয়ে। আর সমস্ত কিছু ঠিক থাকার পরও যে পরিণতি অধরাই রয়ে যেতে পারে তার উদাহরণ তো কেবলই দিলাম। আর এই জীবন বিষিয়ে তোলা ঘটনার কারণ ঐ এক বাস্তবতাকে ভুলে যাওয়া : আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনকিছুই সম্ভব না।

তাই ভাই বা বোন আমার, আপনি হয়ত এখন উদ্দেশ্য ভাল রেখেই কারও সাথে প্রেম করে চলেছেন, কাটাচ্ছেন অনেক সুন্দর সময়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছা না থাকলে আপনার কাটানো সেই সুন্দর সময়গুলোই হয়ত দানব হয়ে আপনার জীবনকে তিক্ত করে তুলবে। ইসলাম বিয়ের আগে প্রেম ভালবাসাকে নিষিদ্ধ করেছে আমার-আপনার আত্মিক-মানসিক নিরাপত্তার জন্যেই। যাতে আমরা বাস্তবতাকে ভুলে গিয়ে জীবনকে দুর্বিষহ করে না তুলি।

এই তো গেল প্রথম বাস্তবতা। এটা নিয়ে একটু চিন্তা ভাবনা করলে একটা প্রশ্ন মাথায় চলে আসে আর সেই প্রশ্নটা আমাদেরকে ক্রমান্বয়ে দ্বিতীয় বাস্তবতার দিকে ধাবিত করে।

প্রশ্নটা ভাগ্যবিশ্বাস নিয়ে। আল্লাহর হাতেই যদি শেষ পর্যন্ত সবকিছু থাকে তাহলে কি আমরা কখনও চেষ্টা করব না? এটা সুবিস্তারিতভাবে আরেকসময়ে আলোচনার দাবি রাখে। এখন শুধু একথা মাথায় রাখি যে, আল্লাহ সুবহানাহুতা’লা তাঁর বান্দাদেরকে স্বাভাবিকভাবে যা কিছু কল্যাণকর তাঁর দিকেই ধাবিত করেন। বান্দার গুনাহ আর দুআ সেই স্বাভাবিকতার পরিবর্তন আনতে পারে। যদিও বান্দা দুআ করবে নাকি করবে না তা আল্লাহ সুবহানাহু তাঁর ই’লমে গায়িবের কারণে আগে থেকেই লিখে রেখেছেন, প্রকৃতপক্ষে আমরা দুআ করব বলেই তিনি লিখে রেখেছেন। তিনি লিখে রেখেছেন বলে আমরা করব – ব্যাপারটি এমন নয়। দুআ ছাড়াও অন্যান্য যেকোনো কাজের জন্যও এটি প্রযোজ্য।

আর এই কথাগুলো আসলে এমন যা একজন বিশ্বাসীর সন্দেহ দূর করে তার বিশ্বাসকে পোক্ত করে আবার একইসাথে অবিশ্বাসীর সন্দেহ বাড়িয়ে তুলে তার অবিশ্বাসকেও পোক্ত করে। এটা নির্ভর করে সেই মানুষটি মনের গহীনে এই সত্যকে অন্যসব সত্যের সাথে স্বীকার করে বিশ্বাসী হতে চায়, নাকি সন্দেহের মধ্যেই ডুবতে ডুবতে অতলে হারিয়ে যেতে চায় – তার ওপর। তাই দেখা যায়, অনেক অবিশ্বাসীও তাদের মনের সত্য স্বীকারের অনুভূতির দরুণ বিষয়গুলো বুঝতে পারে এবং বিশ্বাসীদের পথে পা বাড়ায়। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ। (তাকদীর আর এই সংক্রান্ত বিষয়াদি বিস্তারিত লিখা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ; নোটের নাম – ‘এক’ এর উপপাদ্য। শেষে লিংক দেওয়া আছে)

যাই হোক, ভালোবাসায় ফিরে যাই। প্রথম বাস্তবতা আমাদেরকে শেখায় যে কোন কাজের সফলতা-ব্যর্থতা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। তাই আমাদের ভালবাসার বা অন্য যেকোন কাজের সফলতার জন্য আল্লাহর অনুমতি প্রয়োজন। আর আল্লাহর অনুমতি কীভাবে পাওয়া যায়? – দুআ !

দুআর মাধ্যমে আপনি আল্লাহর কাছে চাইবেন। দুআ হল মুমিনের অস্ত্র। এর মাধ্যমে আপনি আল্লাহর অনুমতি চাইবেন। কিন্তু কীভাবে চাইবেন? এই প্রশ্নটির উত্তরেই রয়েছে দ্বিতীয় বাস্তবতা যা ক্রমে ক্রমে আসবে বলেছিলাম।

আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করব যা আপনাকে পুরো ব্যাপারটি বুঝতে সহজ করে দিবে ইনশাআল্লাহ।

এক বোন বছরের পর বছর ধরে দুআ করেছিলেন যেন তার বিয়ে এক নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথে হয়। অতঃপর ৭-৮ বছরের দুআ আর চেষ্টার পর সকল বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে সেই বোনের বিয়ে যখন অমুক ব্যক্তির সাথেই হয়েছিল তখন তিনি উল্লেখ করেন – আল্লাহ সুবহানাহুতা’লা যে তার দুআ কবুল করেছিলেন তা তিনি একেবারে অনুভব করেছিলেন। অতঃপর হয়ত ভালই কেটেছিল সেই বোনের কিছুদিন। হ্যাঁ হয়ত, তাও আবার কিছুদিন। কেননা বিয়ের দেড় বছরের মাথায় শুনেছিলাম স্বামীর ব্যবহার আর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এক খালাত বোনের বাসায় একেবারে চলে আসেন।

মাঝে যে তিনি একবারও দুঃখ কষ্ট সইতে না পেরে বাবার বাড়িতে চলে আসেন নি – এমনটি নয়। মানসিক নির্যাতন আর তার স্বামীর অন্য নারী-বান্ধবী-কলিগদের প্রতি কাতরতা দেখে রেগে বহুবারই বাবার বাড়িতে চলে এসেছিলেন। কিন্তু বাড়িতে শোনানো ‘তুমি তো নিজের পছন্দেই বিয়ে করেছ। তাহলে এখন এখানে এসব বলছ কেন?’ – এমনসব প্রশ্ন আর কিছুদিন পর পর স্বামীর ক্ষমা চেয়ে নিতে আসা – ইত্যাদি তাকে বাধ্য করত বারবার স্বামীর কাছে ফিরে যেতে। কিন্তু তা বেশিদিন স্থায়ী হত না। পরবর্তীতে তার স্বামী আরও খারাপ-অকথ্য কিছু ঘটনা ঘটালে তিনি বাধ্য হয়ে চলে যান সেই খালাত বোনের বাসায়। আরও অনেক ঘটনার পরে বোনটির স্বামী তাকে তালাক দিলে শেষে বোনটির আরেকবার বিয়ে হয়। হয়ত বোনটি এখন যথাসম্ভব ভালই আছেন।

কিন্তু তার দুঃখের দিনগুলোতে তিনি আফসোস করে করে কাঁদতেন, “কেন যে আল্লাহ তার দুআ কবুল করেছিলেন? তাতে যে কোন কল্যাণ ছিল না…” – এখানেই হল আল্লাহর কাছে কীভাবে চাইবেন তার উত্তর ও দ্বিতীয় বাস্তবতা। আর সেটা হলঃ আল্লাহর নিকট দুআতে আমাদের চাইতে হবে ‘যা কিছু কল্যাণকর’ বা এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে, মোটেই নির্দিষ্ট করে কিছু উল্লেখ করে নয়। কারণ একটি নির্দিষ্ট বিষয় কারও জন্য কল্যাণকর নাও হতে পারে। আমরা আমাদের সীমিত জ্ঞান দিয়ে হয়ত বুঝতে পারছি না। কিন্তু আল্লাহ সুবহানহুতা’লা জানেন – আমাদের জন্য প্রকৃতপক্ষে কী কল্যাণকর আর কী অকল্যাণকর। আমরা এখন জীবনের যে সাদা বিন্দুতে অবস্থান করে একে ভাল ভাবছি হয়ত সেই সাদা বিন্দুটিই সমস্ত জীবনছবির সবচেয়ে অসুন্দর-অকল্যাণকর অংশ। সমস্তটার খবর তো কেবল আল্লাহই জানেন।

রাসূলুল্লাহ সা. এর শেখানো দুআগুলো খেয়াল করলেও এই বাস্তবতা চোখে পড়ে। দুআ যে বিষয়েই হোক না কেন, কখনই তা নির্দিষ্ট করে না চেয়ে বরং সেই বিষয়ে যা কিছু আল্লাহর জ্ঞানে কল্যাণকর তা চাওয়া হয়েছে, আর নিস্তার চাওয়া হয়েছে অকল্যাণ থেকে। উপরের ঘটনাটিতে বোনটির ভুল ছিল একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেই স্বামী হিসেবে পাবার জন্য দুআ করা। অথচ উত্তম হতো তিনি যদি ‘যে স্বামী তার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হবে’ এমনটি চেয়ে দুআ করতেন।

তাই ভাই বা বোন আমার, এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করবেন না। আল্লাহর অনুমতি প্রয়োজন বোঝার পর আপনি যে নির্দিষ্ট মানুষটির সাথে আপনার পরিণতির জন্য দুআ করবেন বলে ভাবছিলেন সেই যে কিছুদিন পর আপনার জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক মানুষে পরিণত হবে না তার গ্যারান্টি তো আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন ছাড়া আর কেউ দিতে পারে না। যে মানুষটি আপনাকে আজ এত ভালবাসছে, সে তো পরবর্তীতে অন্য কারও প্রতি আরও আকৃষ্ট হতেই পারে। দেখতে, শুনতে, জ্ঞানে গুণে যে স্কেলেই তুলনা করুন না কেন, আপনার চেয়েও ভাললাগার মত, ভালবাসার মত মানুষ আশেপাশেই রয়েছে, অহরহ রয়েছে। আর একারণেই আজ লক্ষ লক্ষ ব্রেকআপের পর কোটি কোটি নতুন রিলেশন দেখা যায়। আর নিয়মিত হারে পেপার পত্রিকার পরকীয়ার ঘটনা তো বাদই দিলাম।

তাছাড়া আল্লাহর ভয়বিহীন মানুষগুলোর পক্ষে যে পশুর স্তরেও নেমে যাওয়া অসম্ভব না। আর যে এখন আপনার সাথে হারাম সম্পর্কে মজে গিয়ে দুনিয়ার জীবনের সামান্য লৌকিক ভাল সময়ের আড়ালে অনন্ত অসীম আখিরাতের জীবনটিকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছে – তাও আবার শুধু নিজেরটাকেই নয় বরং আপনারটাকেও, সে আসলে আল্লাহর আযাবকে কতটাই বা ভয় করে আর আপনাকেই বা আসলে কতটা ভালবাসে ! প্রকৃতঅর্থেই সে আপনাকে ভালবাসলে যে সে তার এই ভালবাসাকে কেবল এই জীবনে সীমাবদ্ধ রাখতে মোটেই চাইত না, বরং অনন্তকালের জন্য স্থায়ী করতে চাইত। বাদ দিত এই কয়েকদিনের হারাম সম্পর্ক। তাই হারাম সম্পর্ক বাদ দিন, আল্লাহর কাছে কল্যাণকর জীবনসঙ্গী চেয়ে দুআ করতে থাকুন এবং সবর করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার প্রতি কোনও যুলুম করবেন না।

আর কথা বাড়াব না। অতি সংক্ষেপে সমস্তটা আরেকবার উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হব –

১। আপনি যা কিছুই করার স্বপ্ন দেখুন না কেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছা বা অনুমতি ছাড়া তা অসম্ভব। সুতরাং দুআর মাধ্যমে আল্লাহর অনুমতি প্রার্থনা করুন।

২। আল্লাহই যাবতীয় কল্যাণ এবং অকল্যাণের জ্ঞান রাখেন। সুতরাং আল্লাহর কাছে যা চাইবেন তা নির্দিষ্ট না করে যা আপনার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হবে তা চাইবেন। এরপর আল্লাহর সিদ্ধান্তে ভরসা করে সবর করবেন।

এই দুই বাস্তবতাকে যতদিন মেনে নিয়ে কাজ করতে পারবেন না, ততদিন জীবন বিষিয়ে ওঠা অস্বাভাবিক কিছু না, বরং অতি স্বাভাবিক। আর ভালবাসা ভাললাগার ব্যাপারটিও যে এর উর্ধ্বে নয় তা তো বিভিন্ন জীবন থেকে নেওয়া দু’টো ঘটনা উল্লেখ করেই বোঝানোর চেষ্টা করলাম। কী করা সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত তাও দেখানোর চেষ্টা করলাম। এরপরও না বুঝলে আরও সহজ করে দিই। ভালবাসুন তাঁকে যিনি ভালবাসার সবচেয়ে বেশি দাবি রাখেনঃ আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন। তারপরও না বুঝলে মাফ করবেন : আপনার দুই দিনের জীবনের কিছু সময় নষ্ট করলাম।

অতঃপর ভাল থাকুক আপনার জীবন, আপনার ভালবাসা।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর বান্দাদেরকে এতটা ভালবাসেন, এতটা ক্ষমা করেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্ললাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর যিনি তাঁর উম্মাতকে ভালবেসেছেন, ভালবাসতে শিখিয়েছেন।

About WaytoJannah

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Solve : *
7 × 23 =