‘ইসলামোফোবিয়া’ নতুন কোন জিনিস নয়

‘ইসলামোফোবিয়া’ নতুন কোন জিনিস নয়। মক্কার বুকে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ (ﷺ) যেদিন থেকে সত্যের বাণী প্রচার করা শুরু করেছিলেন – সেদিন থেকেই তার সূত্রপাত। মুহাম্মাদের (ﷺ) সত্যের দাওয়াত-কে মুশরিকরা যখন সামনাসামনি মুকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে – তখন থেকেই তারা ‘ইসলামোফোবিয়া’ ছড়িয়েছে। “মুহাম্মাদ আমাদের দেবতাদের গালি দেয়, বাপ-দাদার ধর্ম থেকে আমাদের বিচ্যুত করতে চায়, মুহাম্মাদ দুষ্ট জীনের কথায় চলে, সে জাদুকর-পাগল’’ – ইত্যাদি বলে মানুষদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে। অবশ্যি তারও একটা কারণ আছে। মক্কার মুশরিকরা তাদের যে কাব্যচর্চা নিয়ে রীতিমত গর্ববোধ করতো – মুহাম্মাদের (ﷺ) উপর নাযিলকৃত কোরআন সে অহমিকাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিলো। মিথ্যার যে পাহাড়ের উপর তারা তাদের ভীত স্থাপন করেছিলো – সত্য এসে সে ভীতকে প্রবলভাবে ঝাঁকুনি দিয়েছিলো। তাদের শত কূটকৌশল ছিন্ন করে – মুহাম্মাদের (ﷺ) অনুসারীদের সংখ্যা কেবল বেড়েই চলছিলো।

সত্যকে সামনাসামনি মুকাবেলা করতে মুশরিকরা যখন ব্যর্থ হয়েছিলো – তখন-ই ‘ইসলামোফোবিয়া’ ছড়িয়েছিলো। তবে শেষমেশ মিথ্যার-ই পরাজয় হয়। পরাজয় বরণ করতে হয় মুশরিকদের। শত কুচক্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে – বিজয়ী হয় ইসলাম।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে মুশরিকদের উত্তরসূরিরা আবার সে পন্থার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে শুরু করেছে। তাদের স্বরচিত ধর্ম যখন ইসলামের সাথে টক্কর দিতে ব্যর্থ হয়েছে – তখন তারাও ইসলামের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে মাঠে নেমেছে। সম্মুখ সমরে তো বটেই, আড়াল থেকেও তারা ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে। পর্দার অন্তরাল থেকে ‘ইসলামোফোবিয়া’ ছড়াতে শুরু করেছে। আর এজন্য তারা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। ‘Center for American Progress’-এর একটি রিপোর্ট বলছে, ২০০১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত ইসলামোফোবিয়া ছড়াতে নিয়োজিত দলগুলো প্রায় ৪২.৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান পেয়েছে। [1]

সাম্প্রতিক সময়ে সে অনুদানের পরিমাণ আরও বেড়ে গেছে। ২০১৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘Berkeley Center for Race & Gender’ এবং CAIR একটি যৌথ গবেষণায় দেখা যায়, ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ইসলামোফোবিয়া ছড়াতে নিয়োজিত দলগুলো অনুদান পেয়েছে ২০৫ মিলিয়ন ডলারেরও এত বেশী। যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামোফোবিয়া নেটওয়ার্কের অন্তঃকেন্দ্রে রয়েছে প্রায় ৩৬টি গোষ্ঠী, যাদের মূল লক্ষ্যই হল ‘ইসলামোফোবিয়া’ ছড়ানো। [2]

এত বড় ষড়যন্ত্র যদি অন্য কোন ধর্মের বিরুদ্ধে করা হত? শত শত মিলিয়ন ডলার যদি শুধুমাত্র ঘৃণা ছড়ানোর কাজে ব্যয়িত হত ? তাহলে সে ধর্মের অবস্থা কি হত?

এর উত্তরটা আমরা জানি। খুব ভালো করেই জানি।

আলহামদুলিল্লাহ। যে ইসলামের বিরুদ্ধে তারা এত চক্রান্ত করছে – সে ইসলামই তাদের দেশগুলোতে সবথেকে বর্ধিষ্ণু ধর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাদের দেশের হাজারো মানুষ আজি ইসলামে প্রবেশ করছে।

না, এটা আমাদের মিথ্যা কোন দাবি নয়। স্বয়ং তাদের অর্থায়নে পরিচালিত সংস্থাগুলোই এই দাবির সত্যতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। ‘Pew Research Center’ তাদের একটি প্রতিবেদনে বলেছে, ‘Islam is the fastest-growing religion in Europe’। তাদের তথ্য থেকে জানা যায়, ইউরোপে (তুরস্ক ছাড়া) ১৯৯০ সালে মুসলিমদের সংখ্যা ছিলো ৩০ মিলিয়ন, কিন্তু ২০১০ সালে তা ৪৪ মিলিয়নে রুপান্তরিত হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, ২০৩০ সালে মুসলিমদের সংখ্যা ৫৮ মিলিয়ন অতিক্রম করবে। [3]

মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন,

“তারা তাদের মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত করবেন – যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে। তিনিই তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করেছেন হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ সকল দ্বীনের উপর তা বিজয়ী করার জন্য – যদিও মুশরিকরা সেটা অপছন্দ করে।” [4]

Reference-1

Reference-2

Reference-3

Reference-4: সূরা সফঃ ৮-৯ আয়াত।

Original Source

About Abdus Salam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Solve : *
23 × 7 =