সহীহ হাদীসের আলোকে দাজ্জালের বর্ণনা (পর্ব ১)

পৃথিবীর বুকে যত ফিতনা ঘটেছে এবং ক্বিয়ামাতের পূর্ব পর্যন্ত ঘটবে তার মধ্যে কানা দাজ্জালের ফিতনাই সবচেয়ে ভয়ংকর। তাই সমস্ত নাবী-রাসূলগণ স্বীয় উম্মাতকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করে গেছেন। কাজেই মুসলিমদের এ বিষয়ে সঠিক ও সচ্ছ ধারণা থাকা একান্তই জরুরী। অথচ আমাদের সমাজে এ নিয়ে বেশ বিভ্রান্তি বিদ্যমান। সেই সাথে এমনকিছু কিতাব রচিত হয়েছে যেগুলো বিভ্রান্তিপূর্ন ব্যাখ্যায় ভরপুর। এছাড়া অনেকেই এ সম্পর্কে সঠিকভাবে না জেনেই প্রচার করছেন যার মধ্যে সহীহ যইফ, জাল বানোয়াট কথা বিদ্যমান। এ বিভ্রান্তি দূর করতেই শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছেন। সেটা আলোকেই এই প্রবন্ধ।

“মাসীহ দাজ্জালের কাহিনী নামে বইটিতে আলবানী (রহ) প্রথমেই আবূ উমামাহ (রা) থেকে বর্ণিত একটি বড় হাদীস উল্লেখ করেন। অত:পর তিনি হাদীসের বক্তব্যগুলোকে মোট ৪৯টি অংশে ভাগ করেন এবং প্রতিটি অংশকে এক একটি অনুচ্ছেদ বা ধারা গণ্য করে তার সমর্থনে অন্যান্য সাহাবায়ে কিরামগণ থেকে যেসব হাদীস বর্ণিত হয়েছে সেসব একত্রিত করে তাহক্বীকের মাধ্যমে হাদীসগুলোর অবস্থান তুলে ধরেছেন। পরিশেষে তিনি দাজ্জাল সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ থেকে যা কিছু সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন। আগামীতে বইটির পিডিএফ প্রকাশ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

details description of dajjal

আমরা প্রথমে হাদীসটি ও তার তাখরীজ উল্লেখ করবো এই লেখায়। পরবর্তীতে আলবানী (রহ) যে সহীহ বর্ণনা গুলো এনেছেন তা উল্লেখ করবো। মাঝখানে হাদীসের তাখরীজগুলো উল্লেখ করবো না। আগ্রহী পাঠকগণ আমাদের দেয়া বইটি থেকে পড়ে নিবেন।

সহীহ হাদীসের আলোকে দাজ্জালের বিবরণ

রচনায় :- শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ)

অনুবাদ : আহসানুল্লাহ বিন সানাউল্লাহ।

সংক্ষেপায়নে : সম্পাদনা পরিষদ

হাদীসটির মূল ইবারত : (অনুবাদ ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর ইবনে মাজাহ থেকে সংকলিত)

আবূ উমামা আল-বাহিলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। আমাদের উদ্দেশে দেয়া তাঁর দীর্ঘ ভাষণের অধিকাংশ ছিলো দাজ্জাল প্রসঙ্গে। তিনি আমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেন। তার সম্পর্কে তিনি তাঁর ভাষণে বললেনঃ

১. হে লোক সকল ! আল্লাহ আদমের বংশধর সৃষ্টি করার পর থেকে দাজ্জালের ফেতনার চেয়েমারাত্মক কোন ফেতনা পৃথিবীর বুকে সংঘটিত হবে না।

২. আল্লাহ এমন কোন নবী পাঠাননি যিনিতাঁর উম্মাতকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেননি।

৩. আর আমি সর্বশেষ নবী এবং তোমরাসর্বশেষ উম্মাত।

৪. সে (দাজ্জাল) অবশ্যই তোমাদের মাঝে আত্মপ্রকাশ করবে।

৫. আমি তোমাদের মধ্যেবর্তমান থাকতে যদি সে আবির্ভূত হয়, তবে আমিই প্রত্যেক মুসলমানের পক্ষ থেকেপ্রতিরোধকারী হবো। আর যদি সে আমার পরে আবির্ভূত হয় তবে প্রত্যেক মুসলমানকে নিজেরপক্ষ থেকে প্রতিরোধকারী হতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আমারপ্রতিনিধি।

৬. নিশ্চয় সে সিরিয়া ও ইরাকের ‘খাল্লা’ নামক স্থানথেকে বের হবে। অতঃপর সে তার ডানে ও বামে সর্বত্র বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। আল্লাহরবান্দাগণ! তোমরা (দীনের উপর) অবিচল থাকবে।

৭. কেননা আমি এখনই তোমাদের নিকট এমন সবনিকৃষ্ট অবস্থা বর্ণনা করবো যা আমার পূর্বে, বিশেষভাবে কোন নবীই তাঁর উম্মাতের নিকটবলেননি।

৮. সে তার দাবির সূচনায় বলবে, আমি নবী। অথচ আমারপরে কোন নবী নাই।

৯. অতঃপর সে দাবি করবে, আমি তোমাদের রব। অথচ মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ততোমরা তোমাদের প্রভুকে দেখতে পাবে না।

১০. সে হবে অন্ধ। অথচ তোমাদের রব মোটেই অন্ধ নন।

১১. তার দু’ চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে ‘‘কাফের’’।

১২. শিক্ষিত ও অশিক্ষিত প্রত্যেক মুমিনব্যক্তিই এ লেখাটি পড়তে সক্ষম হবে।

১৩. দাজ্জালের ফিতনা মধ্যে একটি এই যে, তারসাথে জান্নাতে ও জাহান্নাম থাকবে। তবে তার জাহান্নাম হবে জান্নাত এবং তার জান্নাতহবে জাহান্নাম।

১৪. যে ব্যক্তি তার জাহান্নামের বিপদে পতিত হবে, সে যেন আল্লাহর সাহায্যপ্রার্থনা করে এবং সূরা কাহফ-এর প্রথমাংশ তিলাওয়াত করে।

১৫. তাহলে সেই জাহান্নাম হবেতার জন্য শীতল আরামদায়ক, ইবরাহীম (আ)-এর বেলায় আগুন যেরূপ হয়েছিল।

১৬. দাজ্জালের আরেকটি ফিতনা এই যে, সে একবেদুঈনকে বলবে, আমি যদি তোমার পিতা-মাতাকে তোমার সামনে জীবিত করে তুলতে পারি তবেতুমি কি এই সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় আমি তোমার রব? সে বলবে, হাঁ। তখন (দাজ্জালেরনির্দেশে) দু’টি শয়তান তার পিতা-মাতার অবয়ব ধারণ করে হাযির হবে এবং বলবে, হে বৎস!তার অনুগত্য করো। সে-ই তোমার রব।

১৭. দাজ্জালের আরেকটি ফিতনা এই যে, সে জনৈকব্যক্তিকে পরাভূত করে হত্যা করবে।

১৮. অতঃপর করাত দ্বারা তাকে ফেড়ে দু’ টুকরা করে ছুঁড়ে মারবে। অতঃপর সে বলবে, তোমরা আমার এ বান্দার দিকে লক্ষ্য করো, আমি একে এখনই জীবিত করবো। তারপরও কেউ বলবে কি যে, আমি ব্যতীত তার অন্য কেউ রব আছে? এরপর আল্লাহ তা‘আলাসে লোকটিকে জীবিত করবেন। তখন (দাজ্জাল) খবীস তাকে বলবে, তোমার রব কে? সে বলবে, আমার রব আল্লাহ। আর তুই তো আল্লাহর দুশমন। তুই তো দাজ্জাল। আল্লাহর শপথ! আজ আমি তোর সম্পর্কে প্রত্যক্ষভাবে বুঝতে পারছি (যে, তুই-ই দাজ্জাল)।

আবুল হাসান আত-তানাফিসী (রহ) বলেন … আবূ সাঈদ(রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে জান্নাতেই সে ব্যক্তির সর্বাধিক মর্যাদা হবে। রাবী বলেন, আবূ সাঈদ(রা) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমরা ধারণা করতাম যে, এ ব্যক্তি উমার ইবনুল খাত্তাব, এমনকি তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

মুহারিবী(রহ) বলেন, এরপর আমরা আবূ রাফে(রা)-র সূত্রে বর্ণিত হাদীসে ফিরে যাচিছ। তিনি বলেন,

১৯. দাজ্জালের আরেকটি ফিতনা এই যে, সেআসমানকে বৃষ্টি বর্ষাতে নির্দেশ দিলে বৃষ্টি হবে এবং যমীনকে ফসল উৎপাদনের নির্দেশদিলে ফসল উৎপাদিত হবে।

২০. দাজ্জালের আরেকটি ফিতনা এই যে, সে একটি জনপদ অতিক্রমকালে তারা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবে। ফলে তাদের গবাদি পশু সমূলে ধ্বংস হয়ে যাবে।

২১. দাজ্জালের আরেকটি ফিতনা এই যে, সে আরেকটি জনপদ অতিক্রমকালে তারা তাকে সত্য বলে মেনে নিবে। সে আসমানকে বৃষ্টি বর্ষণের নির্দেশ দিলে বৃষ্টি বর্ষিত হবে। অতঃপর সে যমীনকে শস্য উৎপাদনের নির্দেশ দিলে যমীন শস্য উৎপাদন করবে। যমীন পর্যাপ্ত ফসলাদি, ঘাসপাতা ও তৃণলতা উদগত করবে, এমনকি তাদের গবাদি পশু সেদিন সন্ধ্যায় মোটাতাজা এবং উদর পূর্তি করে দুধে স্তন ফুলিয়ে ফিরে আসবে।

২২. অবস্থা এই হবে যে, সে গোটা দুনিয়া চষে বেড়াবে এবং তা তার পদানত হবে, মক্কা ও মদীনা ব্যতীত।

২৩. এই দু’ শহরের প্রবেশদ্বারে উন্মুক্ত তরবারিসহ সশস্ত্র অবস্থায় ফেরেশতা মোতায়েন থাকবেন।

২৪. শেষে সে একটি ক্ষুদ্র লালপাহাড়ের পাদদেশে অবতরণ করবে যা হবে তৃণলতা শূন্য স্থানের শেষভাগ।

২৫. এরপর মদীনা তার অধিবাসীসহ তিনবার প্রকম্পিতহবে। ফলে মুনাফিক নারী-পুরুষ মদীনা থেকে বের হয়ে দাজ্জালের সাথে যোগ দিবে।

২৬. এভাবে মদীনা তার ভেতরকার নিকৃষ্ট ময়লা বিদূরিত করবে, যেমনিভাবে হাঁপর লোহার মরিচা দূরকরে।

২৭. সে দিনের নাম হবে ‘‘নাজাত দিন’’।

২৮. আবুল আকার-কন্যা উম্মু শুরাইক (রা) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আরবের লোকেরা তৎকালে কোথায় থাকবে? তিনি বলেনঃ তৎকালে তাদের সংখ্যা হবে খুবই নগণ্য।

২৯. তাদের অধিকাংশ (ঈমানদার) বান্দা তখন বাইতুল মুকাদ্দাসে অবস্থান করবে।

৩০. তাদের ইমাম হবেন একজন নিষ্ঠাবান সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তি।

৩১. এমতাবস্থায় একদিন তাদের ইমাম তাদের নিয়ে ফজরের নামায পড়বেন। ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) সেই সকালবেলা অবতরণ করবেন। তখন ইমাম পেছন দিকে সরে আসবেন যাত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) সামনে অগ্রসর হয়ে লোকেদের নামাযে ইমামতি করতে পারেন। ঈসা (আ) তাঁর হাত ইমামের দু’ কাঁধের উপর রেখে বলবেনঃ আপনি অগ্রবর্তী হয়ে নামাযে ইমামতি করুন। কেননা এই নামায আপনার জন্যই কায়েম (শুরু) হয়েছে। অতএব তাদের ইমামতাদেরকে নিয়ে নামায পড়বেন।

৩২. তিনি নামায থেকে অবসর হলে ঈসা (আ) বলবেন, দরজা খুলে দাও। তখন দরজা খুলে দেয়া হবে এবং দরজার পেছনে দাজ্জাল অবস্থানরত থাকবে।

৩৩. তারসাথে থাকবে সত্তর হাজার ইহূদী কারুকার্য খচিত ও খাপবদ্ধ তরবারিসহ।

৩৪. দাজ্জাল ঈসা (আ)-কে দেখামাত্র পানিতে লবণ বিগলিত হওয়ার ন্যায় বিগলিত হতে থাকবে

৩৫. ভেগে পলায়নকরতে থাকবে। তখন ঈসা (আ) বলবেনঃ তোর উপর আমার একটা আঘাত আছে, যা থেকে তোর বাঁচারকোন উপায় নাই।

৩৬. তিনি লুদ্দ-এর পূর্ব ফটকে তার নাগাল পেয়ে যাবেন এবং তাকে হত্যাকরবেন।

৩৭. অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা ইহূদীদের পরাজিত করবেন। আল্লাহর সৃষ্টি যে কোনবস্ত্ত-পাথর, গাছপালা, দেয়াল অথবা প্রাণী, যার আড়ালেই কোন ইহূদী লুকিয়ে থাকবে, আল্লাহ তাকে বাকশক্তি দান করবেন এবং সে ডেকে বলবে, হে আল্লাহর মুসলমান বান্দা! এইযে এক ইহূদী, এদিকে এসো এবং তাকে হত্যা করো। তবে গারকাদ নামক গাছ কথা বলবে না। কারণসেটা ইহূদীদের গাছ।

৩৮. রাসূলুল্লাহ  ﷺ বলেনঃ দাজ্জাল চল্লিশ বছর বিপর্যয় ছড়াবে।

৩৯. তার এক বছর হবে অর্ধ বছরের সমান, এক বছর হবে এক মাসের সমান, এক মাস এক সপ্তাহেরসমান

৪০. এবং অবশিষ্ট কাল অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বায়ুমন্ডলে উড়ে যাওয়ার মত দ্রুত অতিক্রান্তহবে।

৪১. তোমাদের কেউ সকালবেলা মদীনার এক ফটকে (প্রান্তে) থাকলে তার অপর ফটকে পৌঁছতেসন্ধ্যা হয়ে যাবে।

৪২. জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! এতো ক্ষুদ্র দিনে আমরা কিভাবে নামায পড়বো? তিনি বলেনঃ তোমরা অনুমান করে নামাযের সময় নির্ধারণ করবে, যেমনতোমরা লম্বা দিনে অনুমান করে নামাযের সময় নির্ধারিণ করে থাকো এবং এভাবে নামায আদায়করবে।

৪৩. রাসূলুল্লাহ ﷺ  বলেনঃ ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) আমার উম্মাতের একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক ও ইনসাফগার ইমাম হবেন। তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, এমনভাবে শূকর হত্যা করবেন যে, তার একটিও অবশিষ্ট থাকবে না। সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে তিনি জিযিয়া মওকুফ করবেন, যাকাত আদায় বন্ধ করবেন এবং না বকরীর উপর যাকাত ধার্য করা হবে, আর না উটের উপর। লোকেদের মাঝে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতার অবসান হবে। প্রত্যেক বিষাক্ত প্রাণী বিষশূন্য হয়ে যাবে। এমনকি দুগ্ধপোষ্য শিশু তার হাত সাপেরমুখের ভেতর ঢুকিয়ে দিবে কিন্তু তা তার কোন ক্ষতি করবে না।

৪৪. এক ক্ষুদ্র মানব শিশু সিংহকে তাড়া করবে, তাও তার কোন ক্ষতি করবে না। নেকড়ে বাঘ মেষ পালের সাথে এমনভাবে অবস্থান করবে যেন তা তার পাহারায় রত কুকুর।

৪৫. পানিতে পাত্র পরিপূর্ণ হওয়ার মত পৃথিবীশান্তিতে পূর্ণ হয়ে যাবে। সকলের কলেমা এক হয়ে যাবে। আল্লাহ ব্যতীত কারো ইবাদত করা হবে না। যুদ্ধ-বিগ্রহ তার সাজসরঞ্জাম রেখে দিবে। কুরাইশদের রাজত্বের অবসান হবে ।পৃথিবী রূপার পাত্রের ন্যায় স্বচ্ছ হয়ে যাবে। তাতে এমন সব ফলমূল উৎপন্ন হবে যেমনটি আদম (আ)-এর যুগে উৎপাদিত হতো। এমনকি কয়েকজন লোক একটি আংগুরের থোকার মধ্যে একত্র হতেপারবে এবং তা সকলকে পরিতৃপ্ত করবে। অনেক লোক একটি ডালিমের জন্য একত্র হবে এবং তাসকলকে পরিতৃপ্ত করবে। তাদের বলদ গরু হবে এই এই (উচ্চ) মূল্যের এবং ঘোড়া স্বল্পমূল্যে বিক্রয় হবে।

৪৬. লোকজন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঘোড়া সস্তা হবে কেন? তিনি বলেনঃ কারণ যুদ্ধের জন্য কখনো কেউ অশ্বারোহী হবে না।

৪৭. তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, গরু অতি মূল্যবান হবে কেন? তিনি বলেনঃ সারা পৃথিবীতে কৃষিকাজ সম্প্রসারিত হবে।

৪৮. দাজ্জালের আবির্ভাবের তিন বছর পূর্বে দুর্ভিক্ষদেখা দিবে, তখন মানুষ চরমভাবে অন্নকষ্ট ভোগ করবে। প্রথম বছর আল্লাহ তা‘আলা আসমানকে তিন ভাগের এক ভাগ বৃষ্টি আটকে রাখার নিদেৃশ দিবেন এবং যমীনকে নির্দেশ দিলে তাএক-তৃতীয়াংম ফসল কম উৎপাদন করবে। এরপর তিনি আসমানকে দ্বিতীয় বছর একই নির্দেশ দিলে, তা দু’-তৃতীয়াংশ কম বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং যমীনকে হুকুম দিলে তাও দুই-তৃতীয়াংশ কমফসল উৎপন্ন করবে। এরপর আল্লাহ তা‘আলা আকাশকে তৃতীয় বছরে একই নির্দেশ দিলে তাসম্পূর্ণভাবে বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দিবে। ফলে এক ফোঁটা বৃষ্টিও বর্ষিত হবে না। আরতিনি যমীনকে নির্দেশ দিলে তা শস্য উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখবে। ফলে যমীনে কোন ঘাস জন্মাবে না, কোন সবজি অবশিষ্ট থাকবে না, বরং তা ধ্বংস হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ যাচাইবেন।

৪৯. জিজ্ঞাসা করা হলো, এ সময় লোকেরা কিরূপে বেঁচে থাকবে? তিনি বলেনঃ যারা তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার), তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) ও তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) বলতে থাকবে এগুলো তাদের খাদ্যনালিতে প্রবাহিত করা হবে।

আবূ আবদুল্লাহ ইবনে মাজাহ (রা) বলেন, আমি আবুল হাসান আত-তানাফিসী (রহ) থেকে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি আবদুর রহমান আল-মুহারিবী (রা)-কে বলতে শুনেছি যে, এই হাদীস খানি মকতবের উস্তাদগণের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন, যাতে তারা বাচ্চাদের এটা শিক্ষা দিতে পারেন। (সুনান ইবনে মাজাহ)

হাদীসের তাখরীজ :-

হাদীসটি সম্পূর্ণ বর্ণনা করেছেন ইবনু মাজাহ (২/৫১২-১১৬) এবং সংক্ষেপে রাওইয়ানী (৩০/৪, ১০/১) ঈসমাইল ইবনু রাফি’ হতে, তিনি আবূ যুর’আহ ইয়াহইয়া ইবনু ‘আবু ‘আমরা (আমর ইবনু আব্দুল্লাহ আল-হাদরামী হতে) আবূ ‘উমামাহ আল-বাহিলী সূত্রে।

শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী এই হাদীসের তাহক্বীকে বলেন :

এই হাদীসটি দুর্বল। আমর ইবনু ‘আবদুল্লাহ হাদরানী হতে শাইবানী ছাড়া কেউ বর্ণনা করেননি, ইবনু হিব্বান ছাড়া কেউ তাকে সিক্বাহ বলেননি (১/১৮৫)। এজন্যই হাফিয বলেছেন : মাক্ববুল। আর ইসমাঈল ইবনু রাফি’ স্মরণ শক্তিতে দুর্বল। কিন্তু তার মুতাবা’আত করেছেন দামরাহ ইবনু রাবী’আহ। আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সীবানী…………তবে এ হাদীসের অংশটুকু বাদে : “তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ঘোড়ার মূল্য কম হবে কেন ? ……….হাদীসের শেষ পর্যন্ত।

এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনু হাম্বাল ইবনু শাইবানী- যিনি ইমাম আহমাদের চাচাতো ভাই “আল-ফিতান” অধ্যায়ে (ক্বাফ ৫২/১-৫৩-২) এবং পুরোটা “ফাওয়ায়িদ (৩/৩৭/১-৩৮/১), আল-আজরী “আশ-শারী’আহ’ (৩৭৫ পৃ:) কিন্তু তিনি উক্ত শব্দে বর্ণনা করেননি, বরং তিনি সামনে আগত নাওয়াস বর্ণিত হাদীসের শব্দে পরিবর্তিত করেছেন। ইবনু আসিম ‘আস-সুন্নাহ’ (৩৯১ পৃ: আমার তাহক্বীক্ব) “আবদুল্লাহ ইনবু আহমাদ ‘সুন্নাহ (১৩৮-১৩) পৃ:, আবু দাউদ (২/২১৩)। তাবারানী কাবীর (৮/৭৬৪৫, ২৫/২৯৫/৪৮), এবং ইবনু আসাকীর (১-৬১১-৫১৪ ত্বোয়া)।

শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ) বলেন : দামরাহ ইবনু রাবী’আহ সম্পর্কে হাফিয বলেন : সত্যবাদী, তবে কিছুটা সন্দেহভাজন। তার মুতাবা’আত করেছেন ‘আত্বা আল-খুরাসানী ইয়াহইয়া হতে………..তবে কিছু অংশ বাদে।

হাকিম (৪/৬৩৫-৬৩৭) । তিনি বলেছেন : মুসলিমের শর্তে সহীহ।

শাইখ নাসিরুদ্দীন আরো বলেন, এটা তাদের ধারণাপ্রসূত। কেননা ‘আমর হাদরামী হতে মুসলিম কিছুই বর্ণনা করেননি। আর ‘আত্বা হলেন ইবনু আবূ মুসলিম খুরাসানী- যদিও মুসলিম তার বর্ণনা এনেছেন। কিন্তু তিনি প্রচুর সন্দেহভাজন এবং তাদলীসকারী। তিনি তো এটি আন আন শব্দে বর্ণনা করেছেন। তাহলে কিভাবে এর সানাদ বিশুদ্ধ হয় ?

হাদীসটির তাখরীজ শেষে শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ) পরিশিষ্ট এনেছেন যা সহীহ হাদীসে পাওয়া গেছে। এবং যেসব বর্ণনার শাহেদ হাদীস পাননি তা ছাড়াই বর্ণনা করেছেন।

আগামী পর্বগুলোতে সেগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

About wj_admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Solve : *
1 × 12 =