অন্যান্য

বলিভিয়া

বলিভিয়া

লেখাঃমুহাম্মাদ ইউসুফ

নামঃ বলিভিয়া প্রজাতন্ত্র মধ্য দক্ষিণ আমেরিকার একটি ভূমি পরিবষ্টিত দেশ। রাজধানী সুক্রে।

অবস্থানঃ এদেশের উত্তর ও পূর্বে ব্রাজিল, দক্ষিণে প্যারাগুয়ে ও আর্জেন্টিনা এবং পশ্চিমে চিলি ও পেরু।

আয়তন ও জনসংখ্যাঃ আয়তন ৪ লাখ ২৪ হাজার বর্গ মাইল বা ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮০ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ১ কোটি ৬ লাখ ৩১ হাজার ৪৮৬ (২০১৪)। জনসংখ্যা ঘনত্ব প্রতি বর্গ মাইলে ২৫ জন।

প্রধান জাতিগত গ্রুপঃ কুয়েচুয়া ৩০ ভাগ, মেসটিজো ৩০ ভাগ, , আইয়ামারা ২৫ ভাগ এবং শ্বেতাঙ্গ ১৫ ভাগ।

প্রধান ধর্মঃ রোমান ক্যাথলিক শতকরা ৯৪ ভাগ, প্রটেস্ট্যান্ট ৫ ভাগ, অনান্য ১ ভাগ।

প্রধান ভাষাঃ  স্পেনিশ ৬০.৭ ভাগ, কয়েচুয়া ২১.২ ভাগ, আইয়ামারা ১৪.৬ ভাগ, গুয়ারানি ও বিদেশী ভাষা ২.৪ ভাগ  এবং অনান্য ১.১ ভাগ।

বলিভিয়ায় ইসলামঃ

বলিভিয়ায় বর্তমানে মুসলিমদের সংখ্যা ২ হাজারের কিছু বেশি, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.১ শতাংশ। তবে এদেশে মুসলিমদের দাবি প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশী। সারা দেশে বলিভিয়ান ইসলামিক সেন্টার নামে একটি সংগঠন ছড়িয়ে আছে। ১৯৭৪ সালে ফিলিস্তিন অঞ্চল  থেকে আগত ইমাম মাহমুদ আমের আবুশারারের নেতৃত্বে ১৯৮৬ সালের অগাস্টে বলিভিয়ান ইসলামিক সেন্টার গঠিত হয়। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বলিভিয়ান ইসলামিক সেন্টার ল্যাটিন আমেরিকার ইসলামিক সেন্টারের শাখা হয়। ১৯৯২ সালে প্রথম মসজিদ  নির্মাণের উদ্দেশ্যে একটি কমিশন গঠিত হয় । ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরের সান্টা ক্রুজ নগরীতে মসজিদ নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়। ২০০৬ সালে রাজধানী লা পাজ নগরীতে আসসালাম নামে প্রথম একটি মসজিদ উদ্ধোধন হয়েছে। এখানে বলিভিয়া ইসলামী সমিতি নামে একটি সংগঠন আছে। এই সংগঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য ইসলামে দীক্ষীত বলিভীয়। এখানে বলিভিয় মুসলিম ও বিভিন্ন দেশ থেকে আগত আরব মুসলিম ও অনান্যরা একত্রে ইসলাম অনুশীলন করে থাকেন।

সরকার পদ্ধতিঃ

বলিভিয়া দু’টি আইনসভাসহ ( ২৭ সদস্যের সিনেট কক্ষ এবং ১৩০ সদস্যের প্রতিনিধি কক্ষ) একটি একক বহুদলীয় প্রজাতন্ত্র। প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন রাষ্ট ও সরকার প্রধান।

প্রধান কৃষিঃ আখ, সয়াবিন ও আলু , কপি, কোকো, তুলা, কর্ণ, চিনি, চাল, কাঠ।

প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদঃ দস্তা, টিন ও সীসা, প্রাকৃতিক গ্যাস, লোহা, পেট্রোলিয়াম, স্বর্ণ।

প্রধান আমদানি পণ্যঃ মেশিনারী ও পরিবহণ যন্ত্রপাতি, কেমিক্যাল ও রাসায়নিক পণ্য, খাদ্য, পরিশোধিত তেল,লোহা ও ইস্পাত।

প্রধান রফতানি পণ্যঃ খাদ্য, সয়াবিন, তেল ও স্বর্ণ।

আমদানী- রফতানি শরীকঃ আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, চিলি,পেরু, কলম্বিয়া, সুইজারল্যান্ড ও ভেনিজুয়েলা।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ বলিভিয়া নামে পরিচিত এই অঞ্চলটি একটানা ২ হাজার বছর ধরে বেদখল ছিল। আর এই সময়েই আইমারা জনগোষ্ঠী এই অঞ্চলে আসে। বর্তমান কালের আইমারারা নিজেদেরকে পশ্চিম বলিভিয়ার তিওয়ানাকুকে কেন্দ্র করে এককালে গড়ে ওঠা অগ্রসর সভ্যতার সাথে সংশ্লিষ্টতা দাবী করে। খৃস্টপূর্ব ১৫০০ সাল্র রাজধানী নগরী তিওয়ানাকু একটি কৃষি পল্লীর মতোই ছোট ছিল। ৬০০ থেকে ৮০০ খৃস্টাব্দের মধ্যে এই সম্প্রদায় দক্ষিণ আন্দিজে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। তিওয়ানাকু কেন্দ্রিক সভ্যাতার সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকে, তাদের নাগরিক স্থাপত্য বিকশিত হয় এবং আবাসিক জনসংখ্যা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। তারা অনান্য সংস্কৃতি নির্মুল না করে আত্মস্থ করে। তিওয়ানাকু সম্রাজ্যের অভ্যন্তরের নগরীগুলোর মধ্যে বাণিজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে। সাম্রাজ্যটির শক্তি ৯৫০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত বাড়তে থাকে। খরার কারণে শক্তির মুল উৎস খাদ্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে ১০০০ সালের দিকে তিওয়ানাকু সাম্রাজ মিলিয়ে যায়। এরপর এই এলাকায় বহু বছর ধরে কোন মানুষ বাস করেনি।

১৪৩৮ সাল থেকে ১৫২৭ সালেরর মধ্যে ব্যাপক সম্প্রসারণশীল ইনকা সাম্রাজ্য বর্তমান পশ্চিম বল্ভিয়ার বেশীভাগ দখল করে। তবে ইনকারা দীর্ঘকাল এই এলাকার উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেনি। কেননা দ্রুত সম্প্রসারণশীল ইনকা সাম্রাজ্য ভিতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। সেকারণে স্পেনিশ বিজয় সহজ হয়ে পড়ে। স্পেনিশ বিজয়  ১৫২৪ খৃষ্টাব্দে শুরু হয় এবং ১৫৩৩ খৃস্টাব্দে সম্পন্ন হয়। বর্তমান বলিভিয়া অঞ্চলটি তখন “ধাপার পেরু” হিসাবে পরিচিত ছিল। ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে বলিভীয় রূপা স্পেনিশ সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস্ব পরিণিত হয়

১৮০৯ খৃস্টাব্দে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয় এবং ১৬ বছর যুদ্ধের পর ১৮২৫ সালের ৬ অগাস্ট প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষাঃ বলিভিয়ায় ১-১৪ বছরের বালক-বালিকাদের শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং অবৈতনিক। দেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তাছাড়া অধিক উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা বিদেশে যায়।

তথ্যসুত্রঃ

  1. http://www.infoplease.com/countryl/bolivia.html
  2. https://en.wikipedia.org/wiki/bolvia
  3. http://www.worldometers.info/world-population/population-by-country/

মতামত দিন