আখলাক সাম্প্রতিক বিষয়

সমকামিতা জিনগত নয়, মনোবিকার

রচনায় : অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান (রাহীল)

গত ১৫ অক্টোবর’১৭ পরিবর্তন ডটকম (poriborton.com) এ জনৈক অ্যাডভোকেট শাহনুর ইসলাম সৈকতের ‘সমকামী’ সাজ্জাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী কে? শিরোনামে লিখিত প্রবন্ধের কিছু বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষিত হল। এই বিষয়গুলোকে আমাদের সামাজিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবনের স্বাভাবিক গতিধারার প্রতি হুমকি হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ার কারণে এর জবাবে কিছু কথা লিখতে বাধ্য হলাম। লেখক একজন আইনজীবী হিসেবে আমার বিজ্ঞ সহকর্মীও বটে। তাই উনার প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা আমার আছে। কেবল উনার লিখিত কিছু কথার জবাব দিচ্ছি বিনীতভাবে।

সাজ্জাদ হোসেন নামক দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এক তরুণের কাহিনী উনি লিখেছেন যে কিনা সমকামী ছিল। তার পরিবার এই কথাটি গোপন রেখে তার বিবাহের আয়োজন করে একটি মেয়ের সাথে। যার পরিণতিতে ছেলেটি বাসররাতে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনায় তার পরিবারের কিছুটা দায় অবশ্যই আছে তবে তা যতটা না তার মৃত্যুর জন্য, তারচেয়ে বেশি ঐ মেয়েটির জীবন নষ্ট করার জন্য- যার সাথে উনাদের সমকামী ছেলের বিয়ে দিয়েছেন পুরো বিষয়টি গোপন করে।

সমকামিতার ট্রিটমেন্ট হিসেবে বিয়ে দিয়ে দেয়াটা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তাছাড়া তথ্য গোপন সংক্রান্ত অপরাধও উনারা করেছেন। সমকামিতা যেহেতু দেশের প্রচলিত আইনে জঘন্য অপরাধ (দণ্ডবিধি- ধারা ৩৭৭), সেহেতু উনাদের উচিত ছিল একজন অপরাধীর সাথে বিবাহ নামক ‘সিভিল কন্টাক্টে’ (ইসলামে বিবাহ একটি সিভিল কন্টাক্ট, কোনোরকম জন্ম জন্মান্তরের বন্ধন টাইপ কিছু নয়) যাওয়ার আগে অপরপক্ষকে তার বিষয়ে পরিপূর্ণভাবে অবহিত করা।

যাই হোক, লেখক এখানে জানতে চেয়েছেন এই মৃত্যুর জন্য দায়ী কে? সমকামিতাকে ‘মানবাধিকার’ হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন। উনি বুঝাতে চেয়েছেন সমকামিতা একটি প্রকৃতিগত ব্যাপার। উনার এই বিষয়ের প্রতি আলোকপাত করতে গিয়ে প্রথমেই আমাদের জানতে হবে এই সমকামিতা বিষয়টি কি?

সমকামিতা হল নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক পারস্পরিক যৌন আকর্ষণের বিপরীতে গিয়ে নারী বা পুরুষ নিজেদের সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বোধ করা। প্রাণীজগতে অন্য কোনো প্রজাতির মাঝে এই বিষয়টি দেখা যায় না। মানব ইতিহাসে এই ধরনের যে কয়টা কাহিনী আমাদের জানা আছে তার বেশিরভাগই ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর ইতিহাসের সাথে জড়িত।

সাম্প্রতিক মেক্সিকোর ভূমিকম্পে ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকাটিতেও এইরকম কিছু মানুষ আছে বলে আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমে এসেছে। তাছাড়া ঐ অঞ্চলে মায়ানদের ইতিহাসও আমরা জানি যারা ধ্বংস হবার আগে ঠিক এই কাজটিই করত। কিংবা জর্ডানের সেই অঞ্চল যা একই কারণে ধ্বংস হবার কথা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত।

আধুনিক সময়ে মিডিয়ার কল্যাণে এই সমকামী বিষয়টি বেশ প্রচার পেয়েছে। দেশি-বিদেশি প্রচুর সংগঠন দেখা যায় যারা এই বিষয়টিকে ‘মানবাধিকার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রচুর অর্থব্যয় করে। উনারা এটাকে প্রথমত বিজ্ঞান দিয়ে প্রমাণের চেষ্টা করেন। যদিও বিজ্ঞান দিয়ে কোনো কিছুকে প্রমাণ কিংবা অপ্রমাণ করতে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কেননা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব সবসময় পরিবর্তিত হতেই থাকে। মূলত মহাবিশ্বের চিরন্তন সত্যগুলো যৌক্তিকভাবে (rationally) প্রমাণিত, সায়েন্টিফিক্যালি নয়।

বিবর্তনবাদীরা আধা মানুষ-আধা ওরাংওটাং বৈশিষ্ট্যওয়ালা একটি মাথার খুলি দিয়ে বহু বছর কোটি কোটি মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল এই বলে যে, এটা বিবর্তনের মধ্যবর্তী প্রজাতির একটি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। এমনকি প্রায় ৪০ বছর পর্যন্ত ব্রিটিশ মিউজিয়ামেও তা রাখা হয়েছিল!! আর মিডিয়া তো আছেই… তখন ওহীর জ্ঞান বঞ্চিত সমাজ ও বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তিরা মনে করেছিলেন যে, তাহলে বিবর্তনই বুঝি সত্য!

কিন্তু পরবর্তীতে উচ্চতর প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেল যে, আসলে তা ছিল এক ‘ক্রিমিনাল’ বিজ্ঞানীর তৈরি করা জালিয়াতি। সে মানুষের খুলির সাথে কৃত্রিম উপায়ে ওরাংওটাং এর চোয়াল জুড়ে দিয়েছিল!!!

এই জালিয়াতি সম্পর্কে ‘A CLOSER LOOK AT THE RELIGION OF DARWINISM’ এ বলা হয়েছে— ‘Darwinists have committed substantial forgeries that went down in history scandals. For example, the Piltdown Man skull, which was discovered in 1912 and deceived the world until 1953, turned out to be a fake fossil fashioned by an evolutionist from a human skull to which he fit the jaw of an orangutan. The teeth of the skull were later added and arranged so as to give the impression that they were human; once in place, they were filed smooth at the place where they joined the jawbone. Then all the parts were stained with potassium dichromate to give the impression of age. Evolutionists displayed this fossil for forty years in the British Museum, the world’s most famous. For forty years the scientific world was utterly deceived.’

একসময় যেই লোকগুলো বিবর্তনবাদকে বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ করার জন্য এই ধরনের বিভিন্ন জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল সেই লোকদের উত্তরসূরিরাই এখন সমকামিতাকে বিজ্ঞানসম্মত হিসেবে মানুষের মাঝে অপপ্রচার চালাতে অজস্র মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। আর তারা এই মিথ্যা ছড়িয়ে দিতে ব্যবহার করছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর LGBT FUND সহ আরও হাজারো ফান্ডের টাকা, নাস্তিক্যবাদী ও জায়োনিস্ট মিডিয়া এবং সমকামিদের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে (যেহেতু পাশ্চাত্যে ভোটের হিসাব নিকাশে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর)।

এমনকি বহু বিজ্ঞানীকেও তারা অর্থ দিয়ে কিংবা রাজনৈতিক চাপে বশে এনে ফেলেছে। আর সাধারণ মানুষ তাদের এই প্রতারণামূলক প্রচারণা দেখে ভাবছে, আসলেই বুঝি প্রকৃতিতে সমকামিতা আছে!!!! আবার অনেক প্রজেক্ট এমন বিজ্ঞানীরাই পরিচালনা করেছেন যারা নিজেরাই সমকামী!!!

অথচ নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এমন একটিও নির্ভুল গবেষণা নেই যা সমকামিতাকে এক মুহূর্তের জন্যও স্বীকৃতি দেয়। বরং প্রকৃতির কোটি কোটি প্রজাতির reproductive life (প্রজনন ঋতু) বিপরীত লিঙ্গের দিকে আকৃষ্ট হওয়া ও প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তারের অসাধারণ ব্যবস্থাপনা এটাই প্রমাণ করে যে, মহান স্রষ্টা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ দিয়েই এই সব প্রাণীকে সৃষ্টি করেছেন- তিনি তাদের সমকামী করে সৃষ্টি করেননি আর প্রকৃতির উদ্দেশ্যময়তার মাঝে সমকামিতার মত নিরর্থক উদ্দেশ্যহীন কাজের কোনও স্থানই নেই। যদিও বিকৃত মস্তিষ্কের সমকামীরা এসব দেখেও না দেখার ভান করে থাকে! কারণ এসব দেখতে গেলে তো আর বিকৃত কামনা চরিতার্থ করার আর উপায় থাকবে না। এমনকি প্রকৃতিতে সমকামিতা থাকার সম্ভাব্যতা যেসব বিজ্ঞানী উড়িয়ে দিয়েছেন তাদের কথার দিকেও এই সমকামিদের বিন্দুমাত্র মনোযোগ নেই। তারা কোনও রকম কোনও অর্থের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া বিজ্ঞানী কিংবা সমকামী বিজ্ঞানীর ভুল গবেষণাকেই নিজেদের ধর্মীয় বাণী হিসেবে কোনরূপ যাচাই-বাছাই ছাড়াই সত্য বলে মেনে নেয়। এখানে খেয়াল করবেন ‘‘ভুল গবেষণা’’ এবং ‘‘তত্ত্ব’’ এই শব্দগুলোর দিকে। কারণ সমকামিতার প্রমাণে কোনো অকাট্য দলীল নেই কেবল কিছু তত্ত্ব ব্যতিত। ঐ তত্ত্বগুলোও ভুল প্রমাণিত হয়েছে বহুবার।

যাই হোক, ঐ আলোচনায় না গিয়ে বরং দেখা যাক এই পর্যন্ত বিজ্ঞান যতদূর এগিয়েছে তাতে সমকামিতার পক্ষে কোনো কিছু আছে কিনা?

প্রকৃতিতে কি সমকামিতা আছে? বা বিজ্ঞান কি আসলেই এটা স্বীকৃতি দিয়েছে যে প্রকৃতিতে সমকামিতা আছে?-নিশ্চয়ই নয়। এমন অসংখ্য বিজ্ঞানী রয়েছেন যারা আসল সত্যটি আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। যেমন Antonio Pardo (Professor of Bioethics at the University of Navarre, Spain) এর কথাই ধরা যাক। পশুদের সমকামী হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে বলেন, ‘‘সঠিকভাবে বলতে গেলে, পশুদের মাঝে সমকামিতার কোনো অস্তিত্ব নেই। বংশবৃদ্ধি করার প্রবৃত্তি থেকে পশুরা সবসময় বিপরীত লিংগের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাই একটা পশু কখনোই সমকামী হতে পারে না।’’

পার্থেনোজেনেসিস বা অযৌণ প্রজননের সাথে প্রাণিজগতের সমকামিতার উদাহরণ টেনে এনেছেন অনেক সমকামী সমর্থক লেখক। অথচ জীববিজ্ঞানের সবচাইতে নীচের ক্লাসের ছাত্ররাও এটা জানে যে-এই প্রক্রিয়ার সাথে সমকামিতার কোনও দূরতম সম্পর্কও নেই।

মূলতঃ Parthenogenesis/অপুংজনি হল এমন একটি অযৌণ বংশবিস্তার পদ্ধতি যার জন্য কোনও সঙ্গীর প্রয়োজন হয় না। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কোনো যৌন মিলনেরও প্রয়োজনই হয় না। একটি মায়ের দেহে নিজে নিজেই কোনও প্রকার যৌন মিলন ছাড়া যখন ডিম বা বাচ্চা উৎপন্ন হয় তখনই তো তাকে Parthenogenesis/অপুংজনি বলা হয়। প্রাণিজগতের ভিতরে মাছ, ব্যাঙ, সরীসৃপ ও পাখিসহ এরকম মোট ৭০টি প্রজাতি আছে যে প্রজাতির স্ত্রীরা কোনো পুরুষ সঙ্গীর সাহায্য ছাড়াই অর্থ্যাৎ কোনো পুরুষ দ্বারা তাদের ডিম্বানু নিষিক্ত করা ছাড়াই তারা বংশ বিস্তার করতে পারে।

আমাদের মানুষের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে কোনো মেয়ে সন্তান ধারণ করার জন্য ঐ নারীর ডিম্বানু কোনো পুরুষের শুক্রানু দ্বারা নিষিক্ত হতে হয়। কিন্তু প্রাণিজগতের ভিতরে হুইপটেল গিরগিটি থেকে শুরু করে মৌমাছি, কমোডো ড্রাগন, আঁশ পোকা এরকম প্রায় ৭০টি প্রজাতি আছে যেইসব প্রজাতির ভিতরে Parthenogenesis/পার্থেনোজেনেসিস এর মত একটি অযৌণ প্রজনন ঘটে থাকে।

এই সব প্রজাতির স্ত্রী লিঙ্গগুলি নিজেরাই কোনো পুরুষ সঙ্গীর সাহায্য ছাড়াই তাদের বাচ্চা জন্ম দিতে পারে। সেইক্ষেত্রে তাদের ডিম্বানুর কোনো নিষেক না ঘটে বরং সরাসরি ভ্রণ তৈরি হয়। সাধারণত পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় স্ত্রী লিঙ্গ থেকে শুধু স্ত্রী লিঙ্গেরই জন্ম নেয়। তবে অনেক সময় পার্থেনোজেনেসিস এর মাধ্যমে স্ত্রী পুরুষ উভয় লিঙ্গের বাচ্চাই জন্ম হয়। যেমন পুরুষ কমোডো ড্রাগন এর ক্ষেত্রে ZZ এবং মেয়ে কমোডো ড্রাগন এর ক্ষেত্রে WZ ক্রোমোজম থাকে। দুটো ভিন্ন ক্রোমোজম থাকার কারণে মেয়ে কমোডো ড্রাগন এর ডিম্বে WW এবং ZZ দুটোই থাকতে পারে। তবে দেখা গেছে ZZ কেবল বেঁচে থাকতে পারে। অর্থাৎ, কমোডো ড্রাগন এর ক্ষেত্রে পার্থেনোজেনেসিস শুধুমাত্র ছেলের জন্ম দিতে পারে।

এখানে উল্লেখ্য যেকোনো প্রজাতির ভিতরে পার্থেনোজেনেসিস বা অযৌন প্রজনন ও স্বাভাবিক যৌন প্রজনন এই দুইটাই একসাথে চলে। যখন ঐ ৭০টি প্রজাতির ভিতরে পুরুষ সঙ্গীর অভাব পড়ে তখন মেয়ে প্রজাতিরা নিজেরাই পার্থেনোজেনেসিস এর মাধ্যমে বাচ্চা জন্ম দেয়। এটা মূলত প্রতিকূল পরিবেশেও যেন তাদের প্রজাতিগুলি বিলুপ্ত না ঘটে সেই জন্যই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদের মাঝে পার্থেনোজেনেসিস এর প্রক্রিয়া টি চালু করে রেখেছেন। উদ্ভিদ জগতের মাঝে পার্থেনোজেনেসিস প্রায়ই ঘটে থাকে। আমাদের পরিচিত অনেক উদ্ভিদ যেমন লেবু কলা আনারসের মাঝে প্রায়ই পার্থেনোজেনেসিস হয়।

এই পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য কি দুটি ভিন্ন নারীর ডিম্বাণু মিলিত হতে হয়? নিশ্চয়ই নয়। পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কোনো যৌন মিলনের প্রয়োজনই হয় না। একটি মায়ের দেহে নিজে নিজেই কোনো প্রকার যৌন মিলন ছাড়া যখন ডিম বা বাচ্চা উৎপন্ন হয় তখনই তো তাকে Parthenogenesis বলা হয়। তাহলে এই পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সাথে সমকামিতার কি সম্পর্ক আছে? পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কখনই কোনো নারী প্রজাতিকে অন্য কোনো নারী প্রজাতির সাথে মিলিত হতে হয় না। আর যেই সকল স্ত্রী প্রজাতিরা পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় বাচ্চা জন্ম দেয় তারা কিন্ত ঠিকই তাদের পুরুষ সঙ্গীদের সাথে যৌন প্রজনন করে। মূলত যখন ঐ সকল প্রজাতিরা যখন কোনো পুরুষ প্রজাতি পায় না তখনই তারা পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় বাচ্চা জন্ম দেয়। উইকিপিডিয়ায় পার্থেনোজেনেসিস সম্পর্কে নিবন্ধটা হল এই লিংকে http://en.wikipedia.org/wiki/Parthenogenesis পুরা উইকিপিডিয়ায় কোথাও লেখা নাই যে পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কোনো নারী প্রজাতিকে তার আরেক নারী প্রজাতির সাথে মিলিত হতে হবে। শুধু উইকিপিডিয়া না প্রাণিবিজ্ঞান বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোনও বই বা জার্নালেও এমন কোনও কথা লেখা নেই যে পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কোনও স্ত্রী প্রাণীকে ঐ প্রজাতির আরেক স্ত্রী প্রাণীর সাথে মিলিত হতে।

আর কিছু লোক পার্থেনোজেনেসিস সম্পর্কে কোনো পড়াশুনা না করেই এই পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়াকেই সমকামিতা মনে করে লাফালাফি শুরু করেছেন। বিজ্ঞান না বুঝেই বিজ্ঞানী বিজ্ঞানী ভাব ধরতে হলে এমন মিথ্যার আশ্রয় তো নিতেই হবে! বিস্তারিত আর বহু আলোচনা করা যায় যা একটি নিবন্ধে সম্ভব নয়।

‘‘একজন মানুষ সমকামী হয়ে জন্মাতে পারে’’-সমকামীরা তাদের এই হীন দাবি বাস্তবায়ন করার জন্য কয়েকজন বিজ্ঞানীর ভুল রিসার্চের আশ্রয় নিয়েছিল এবং এখনো নিচ্ছে। জন্মগতভাবে সমকামী হবার সম্ভাবনার কথা বলতে অনেকে Dean Hamer এর সাম্প্রতিক (?) গবেষণার উদাহরণ দিয়ে থাকেন। বলে থাকেন যে, ডিন হ্যামার তার গবেষণায় আমাদের ক্রোমোজোমের যে অংশটি (Xq28) সমকামিতা ত্বরান্বিত করে তা শনাক্ত করতে সমর্থ হয়েছেন।

অথচ এটা ডাহা মিথ্যা কথা কারণ Dean Hamer এর এই ভুল গবেষণা সাম্প্রতিক না। এটা প্রায় ২১ বছরের পুরনো গবেষণা!!  হোমোফিলিক (সমকামপ্রেমী) লোকেরা তাদের ‘জন্মগতভাবে সমকামী হওয়া যায়’- এই দাবির পক্ষে Dr. Dean Hamer কেই গুরু মানে। ১৯৯৩ সালে বিখ্যাত সায়েন্টিফিক ম্যাগাজিন ‘Science’ Dr. Dean Hamer এর সমকামিতা নিয়ে স্টাডির বিষয়ে এক আর্টিকেল প্রকাশ করে। সে আর্টিকেলে বলা হয় যে- ‘‘সমকামিতা বৈশিষ্ট্যের জন্য হয়তো কোনো জিন দায়ী হতে পারে”। ব্যস, সমকামীরা তো খুশিতে পাগল হয়ে গেল এই স্টাডি পড়ে। আর সমকামীদের পক্ষের মিডিয়াগুলো এটা প্রমোট করা শুরু করল।

প্রথমে শুরু করল National Public Radio, এরপর Newsweek তো এক্কেবারে ‘Gay gene?’ শিরোনামে আর্টিকেলই প্রকাশ করল, এরপর দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরো মনের মাধুরী মিশিয়ে খবরটা ছড়িয়ে দিল। অসৎ মিডিয়ার মত খারাপ জিনিস কমই আছে। Dr. Dean Hamer সাহেবকে মিডিয়া ‘Gay gene’ এর তথাকথিত জনকই বানিয়ে ফেলেছিল! আসলে Dr. Dean Hamer এর গবেষণাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভূলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু পরে স্বয়ং Dr. Dean Hamer এই বলে তার অবস্থান পরিস্কার করেছেন, ‘‘আমরা (গবেষণার) বংশবিবরণ থেকে যে simple Mendelian inheritence পাব বলে ভেবেছিলাম তা পাইনি। আসলে, ‘‘আমরা একটাও সিঙ্গেল ফ্যামিলিতে হোমোসেক্সুয়ালিটি সুস্পষ্টভাবে কখনোও পাইনি যা কিনা মেন্ডেল তার pea plant এর গবেষণায় পেয়েছিলেন।’’

শুধু তাই নয়। তথাকতিত ‘Gay gene’ এর স্রষ্টা উপাধিপ্রাপ্ত Dr. Dean Hamer তো ‘Gay gene’ কে অস্বীকারই করে বসলেন!!! ‘Scientific American’ Magazine তাকে যখন জিজ্ঞেস করে যে সমকামিতা কি বায়োলজিতে solely rooted? তখন তিনি বলেছিলেন, Absolutely not. From twin studies,we already know that half or more of the variability in sexual orientation is not inherited.Our studies try to pinpoint the genetic factors … not negate the psychosocial factors.”

তবে ডিন হ্যামার নিজের অবস্থান পরিস্কার করলেও সমকামীদের সেদিকে কোনও কর্ণপাত নেই। তারা তাদের পুরানো ঢোল বাজিয়েই চলেছে। আসলে তারা বিজ্ঞানও মানে না বরং অপ্রমাণিত রিসার্চগুলোকে নিজেদের বিকৃতির পক্ষে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু পরে যখন সেগুলো ভুল বলে প্রমাণিত হয় তখন তা তারা দেখেও না দেখার ভান করে!

নিজের স্বীকারোক্তি ছাড়াও Dr. Dean Hamer এর গবেষণাকে অনেক বিজ্ঞানীই ভুল প্রমাণ করেছেন। এখানে কয়েকটা সফল রিসার্চের কথা তুলে ধরা হল—

১) মানবজাতি জেনেটিক্সের ফিল্ডে এক বিরাট বড় অর্জন করে যখন তারা ‘The Human Genome’ প্রজেক্ট কমপ্লিট করে। এই প্রজেক্ট শুরু হয়েছিল ১৯৯০ সালে এবং শেষ হয় ২০০৩ সালে। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে মানুষের জেনেটিক কোডের সিকুয়েন্সগুলোকে ম্যাপিং করার উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করা হয়। কিন্তু এই প্রজেক্ট দিয়ে তথাকথিত ‘Gay gene’ কে আইডেন্টিফাই করা সম্ভব হয়নি।

২) X ও Y হল মানুষের সেক্স ক্রোমোসোম। X ক্রোমোসোম ১৫৩ মিলিয়ন base pairs এবং ১১৬৮টি জিন ধারণ করে। X ক্রোমোসোমের থেকে ছোট ক্রোমোসোম Y তে আছে ৫০ মিলিয়ন base pairs এবং ২৫১টি জিন। এই ক্রোমোসোমগুলোকে নিয়ে গবেষণা করেছে Baylor University, The Max Planck University, The Sanger Institue, Washington University মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার এবং প্রচুর সময় খরচ করে এবং তাদের রিসার্চে তারা ‘Gay gene’ এর অস্তিত্ব X ক্রোমোসোমেও পায়নি, Y ক্রোমোসোমেও পায়নি।

৩) Dr. George Rice নামের আরেকজন বিজ্ঞানী পরবর্তীতে ডিন হ্যামারের মত একই গবেষণা করেছিলেন। কিন্তু Dr. George এই গবেষণা থেকে কোনো পজিটিভ ফলাফল লাভ করতে পারেননি। Dr. George Rice তার গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে বলেন, ‘‘আমাদের গবেষণার তথ্যউপাত্ত এমনকোন জীনের উপস্থিতিকে সমর্থন করে না যা কিনা Xq28 পজিশন দ্বারা sexual orientation কে শক্তিশালীভাবে প্রভাবিত করতে পারে।’’

৪) Dr. Neil Whitehead বায়োকেমেস্ট্রির পিএইচডিপ্রাপ্ত একজন অধ্যাপক। উনি এই বিষয় নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছেন যা বিজ্ঞান মহলে সমাদৃত হয়েছে। উনি জন্মগতভাবে সমকামী হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘‘সমকামিতা জন্মগত নয়, জিনেটিক দ্বারা নির্ধারিতও নয় এবং সমকামিতা অপরিবর্তনশীলও নয়।’’

৫) এছাড়া সমকামীরা Drs. J. Michael Bailey, Richard C. Pillard এর পুরোনো Twin Studies রিসার্চকেও দাবি প্রমাণে ব্যবহার করে। অথচ এই স্টাডি উল্টো আরো প্রমাণ করে যে সমকামিতা জন্মগত নয়।

এছাড়া অন্য বিভিন্ন অনুসন্ধান থেকেও জানা যায়, সমকামিতা জন্মগতভাবে প্রাপ্ত কোনও বিষয় নয়। “The Washington Post” একবার রিপোর্ট করেছিলো যে, ‘অধিকাংশ অনুসন্ধানে দেখা যায়– উভকামিতা নারী পুরুষ, বিশেষ করে নারীর ক্ষেত্রে এখন একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। এই অনুসন্ধানে দেখা যায় প্রথমদিকে তারা বিপরীত লিঙ্গের দিকে যায় (সাধারণ)- তারপরে তারা ঝুঁকে সমকামিতার দিকে তার পর তারা হয় উভকামী। আর একদম শেষ দিকে তারা আবার বিপরীত লিঙ্গের দিকে ফিরে আসে (সাধারণ)।

Laura Sessions Stepp, “Partway Gay? For Some Teen Girls, Sexual Preference Is a Shifting Concept,” The Washington Post,

রিপোর্টার ল’রা সিজন স্টেপ সেই রিপোর্টে লিখেছেন, সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে দেখা যায়, সমকামিতা সামাজিক মিথস্ক্রিয়া থেকেই উদ্ভূত হয়। সমকামিতা এক ধরনের আবেগ, কৌতূহল, আকর্ষণ এর দিকে ধাবিত হয়ে উদ্ভূত হয় এবং এটা স্বল্পস্থায়ী যা– সময়ের সাথে পরিবর্তন হয়ে যায়।

ল’রা তার রিপোর্টে কিছু গবেষণা তুলে ধরেন। এর মধ্যে একটি হল– লিসা ডায়মন্ডের। তিনি ইউনিভার্সিটি অফ উতাহ এর মনোবিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক। তিনি ১৯৯৪ সালে একটা গবেষণায়– ১৬ থেকে ৪৩ বছর বয়সী নারী সমকামীদের নিয়ে কাজ করেছিলেন। সেখান থেকে দেখা যায়– দুই তৃতীয়াংশ নারীই পরিবর্তীতে সমকামিতা থেকে সরে এসেছেন। আবারো বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষিত হয়েছেন।

এরকম আর হাজারো হাজারো গবেষণা হয়েছে– যেখানে দেখা গেছে– সমকামিতাকে প্রায় সবাই অতিক্রম করে ফেলেছেন। সমকামিতাকে অতিক্রম করা কোনদিনই অসম্ভব ছিল না। যদি এটা জিনেটিক ব্যাপারই হত– তাহলে সেটা সম্ভব হত না। এর থেকে আবারো দেখা যায়– এটা শুধুই একটা মনোবিকার। অসংখ্য সমকামী তাদের পথ থেকে ফিরে এসেছেন। যার-ফলে এই শব্দটাকে কবর দেবার সময় এসেছে – “born gay”।

১৯৯৩ সালে, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির দুই প্রফেসর Drs. William Byne এবং Bruce Parsons তাদের– “gay gene” studies on brain structure and on identical twins নিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ লিখেন। দীর্ঘ গবেষণা শেষে তাদের প্রবন্ধ– “Archives of General Psychiatry” তে প্রকাশ করেন। তারা তাদের গবেষণায়– গে জীন নিয়ে গবেষণাগুলির মধ্যে অনেক পদ্ধতিগত ত্রুটি পান এবং শেষে উল্লেখ করেন, ‘There is no evidence at present to substantiate a biologic theory. … he appeal of current biologic explanations for sexual orientation may derive more from dissatisfaction with the present status of psychosocial explanations than from a substantiating body of experimental data’

(William Byne and Bruce Parsons, “Human Sexual Orientation: The Biologic Theories Reappraised,” Archives of General Psychiatry, Vol. 50, March 1993: 228-239)

তিনি স্পষ্টই ঘোষণা করে দেন– বায়োলজিক্যালি সমকামিতার পক্ষ কোনো প্রমাণই পাওয়া যায় না। এটা নিখাদ একটা মানসিক সমস্যা। একে বিজ্ঞান নয়– মনোবিদ্যার হাতেই ছেড়ে দিতে হবে। বিজ্ঞানের এখানে কিছু নেই। এটা মানসিক সমস্যা।

এই গবেষণা ব্যাপক তোলপাড় শুরু করে। এই প্রফেসরদের আক্রমণ করা হয়। সমকামিরা এই প্রফেসরদের গবেষণার ফলাফলে বলেন এর দ্বারা কনজারভেটিভদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া হল। Byne ঘোষণা করেন যে– “false dichotomy:Biology or Choice?”। তিনি স্পষ্টই বলেন, তিনি এই ক্ষেত্রে প্রায় নিশ্চিত যে– এটা প্রাকৃতিক ব্যাপার নয়। অনেকগুলি কেস থেকেও এমন কাউকে পাওয়া যায়নি যে সচেতনভাবে তার সেক্সুয়াল আইডেন্টিটি বুঝে নিয়ে যৌনতায় লিপ্ত হয়েছে। যাই হোক, তিনি বিভিন্ন যুক্তি প্রমাণের সাথে উপসংহার টানেন – যে এটা কোনমতেই প্রাকৃতিক হতে পারে না।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা এটা পরিস্কার বুঝতে পারি যে, সমকামিতা কোনো জিনগত বিষয় নয়। এটা কোনো মানবাধিকারের সংজ্ঞায় পড়ে না বরং এক ধরনের মনোবিকার। আর সঠিক ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে এটা হতে ফিরেও আসা যায়। সাজ্জাদ হোসেন নামক সমকামী ছেলেটির অভিভাবক ভুল ট্রিটমেন্ট করেছেন। তাদের বুঝা উচিত ছিল যে, তাদের ছেলে অসুস্থ এবং এর চিকিৎসা বিবাহ নয়।

এদিকে প্রবন্ধের লেখক বিজ্ঞ আইনজীবী সাহেব এটাকে মানবাধিকার প্রমাণ করতে চেয়েছেন আর অতি আবেগী ভাষায় বলতে চেয়েছেন যে ঐ ছেলের কত আশা ছিল আরেকটা ছেলের(!) সাথে ঘরসংসার করার। তিনি লিখেছেন, পরিবারের সদস্যদের বুঝাতে পারেনি যে সে একজন সমকামী। তার যে বিপরীত লিঙ্গ অর্থাৎ মেয়েদের প্রতি কোনো আকর্ষণ নেই, সে যে সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে, সে যে পুরুষকে ভালবাসে, একজন পুরুষকে নিয়ে ঘরসংসার করার স্বপ্ন দেখে তা তার পরিবারের সদস্যদের কাছে খোলাসা করে বলতে পারেনি শুধুমাত্র সমকামিতা সম্পর্কে তার পরিবারের নেতিবাচক মনোভাবের কারণে।

এইবার যাও তার জন্য আরেকটা বিকৃত লোক খুঁজে বের কর। দায়িত্বটা আমাদের লেখক সাহেব নিলেই ভাল করতেন।

মূলত সমকামিতা একটি জঘন্য আচরণ যা মানব সভ্যতার জন্য হুমকিও বটে। তা আইনজীবী সাহেব নিজেই বুঝতে পারেন যে উনার অভিভাবকের যে কোনো একজন এই রোগে আক্রান্ত হলে উনার এই দুনিয়ায় আগমনই ঘটত না। সম্ভবত মানবাধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মানবের প্রবৃত্তি অনুযায়ী যা খুশি তা করার অধিকারকেই উনি মানবাধিকার ভেবে বসে আছেন। নিন্দুকেরা যত কথাই বলুক, আমি অন্তত বিশ্বাস আমার বিজ্ঞ বন্ধু হয়ত তিনি মানবিক আবেগে ভুল জিনিসকে মানবাধিকার ভেবে দেশের আইনে একটি গুরুতর অপরাধকে বৈধ হিসেবে প্রচারের মত অপরাধ করে ফেলেছেন। আশাকরি তিনি এরই মধ্যে উনার ভুল বুঝতে পেরেছেন।

মূলত এই সমকামিতা বিষয়টি অনেকগুলো সামাজিক, সংস্কৃতিগত অবক্ষয়ের ফল। পর্নগ্রাফি, পারিবারিক সহিংসতা, স্বাভাবিক সেক্সের পথ কঠিন হয়ে পড়া এইসবই এর মূল কারণ। পাঠকদের জ্ঞাতার্থে আমি কিছুটা আলোচনা করে রাখলাম-

স্বাভাবিক যৌনাচারের পথ রুদ্ধ করা

মানুষ স্বভাবতই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তার এই সুপ্ত স্বাভাবিক যৌনকামনাকে মিটাবার পথকে যখন রুদ্ধ করা হয় তখন অনেক ক্ষেত্রেই তা বিকৃত পথে আত্মপ্রকাশ করে। দশকের পর দশক ধরে যারা জেলখানায় আটকে থাকে সেই, সামরিক বাহিনীর যেসব সদস্য দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে, ধর্মের বিকৃতি সাধনের ফলে বৈরাগ্যবাদকেই যারা ধর্মের অংশ বানিয়ে নিয়েছে তাদের মধ্যে সমকামিতার মত বিকৃতি বেশি ঘটতে দেখা যায়।

তবে তার মানে এই নয় যে, কোনও মানুষকে বহুদিন বিপরীত লিঙ্গের কাছ থেকে বঞ্চিত রাখলেই সে সমকামী হয়ে যাবে। প্রতিকূল পরিবেশের সাথে সাথে নিজেদের নৈতিক বিকৃতি ও মহান স্রস্টা প্রদত্ত সত্যধর্ম না মানার কারণেই তারা ধৈর্য ধারন না করে বিকৃত উপায় অবলম্বন।

যৌন নির্যাতন 

যৌন নির্যাতন সমকামিতা সৃষ্টির একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ। রিসার্চার Finkelhor তার এক গবেষণায় পেয়েছেন যে, যেসব অল্পবয়সী পুরুষ তাদের থেকে বয়সে বড় পুরুষদের দ্বারা যৌনভাবে নির্যাতিত হয়েছে তাদের সমকামী হবার সম্ভাবনা চারগুণ বেশি। আরেক রিসার্চে দুই-তৃতীয়াংশ লেসবিয়ান বলেছে যে তারা পুরুষদের দ্বারা যৌনভাবে নির্যাতিত হয়েছিল বার বছর বয়সের পর, বিষমকামীদের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ হল ২৮%।

শিশু যৌন নির্যাতনের এক রিপোর্টে ১২%-৩৭% সমকামী বলেছে যে তাদের এই নির্যাতনের অভিজ্ঞতা আছে।

একনজরে সমকামিতা সৃষ্টির কারণ

একটা স্টাডিতে সমকামিতা সৃষ্টির পরিবেশগত সব কারণগুলোকে Path Analysis এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে, নিম্নে সেগুলো দেখানো হল—

কৈশোরের যৌন কার্যকর্ম ও পর্ন আসক্তি 

কৈশোরের যৌন কার্যক্রমের উপর যৌবনের যৌন কার্যক্রম অনেকাংশ নির্ভর করে। বিকৃত পরিবেশে যারা বিকৃতির মধ্য দিয়ে বড় হয় তাদের মস্তিষ্ক ঐ বিকৃতিতেই নিজেকে adapt করে নেই। Van Wyk and Geist এর রিসার্চে দেখা যায় যে, বেশিরভাগ লেসবিয়ান তথা নারী সমকামীরা শৈশব-কৈশোরে সমকামিতায় জড়িত হয়েছিল, পুরুষদের ক্ষেত্রেও এই কথাটা প্রযোজ্য। অর্থাৎ কৈশোরের এইসব বিকৃত আচরণ তাদের যৌনতার স্বাভাবিক বিকাশ পথকে স্বভাবতই রুদ্ধ করে দেয় যার কারণে অনেকে ভবিষ্যতে বিপরীত লিঙ্গের দ্বারা আকৃষ্ট কিংবা উত্তেজিত হয় না।

সমকামিতা ছড়িয়ে দেয়ার আরেকটি মূল অস্ত্র হল পর্ন এর ব্যাপক বিস্তার। পর্ন নিজের সাথে করে যেসব মহামারী সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছে তার মধ্যে সমকামিতা, শিশুকামিতা অন্যতম। অল্প বয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের হাতে হাতে ইন্টারনেট পৌঁছে যাওয়ার কারণে পর্নও তাদের কাছে অতি সহজলভ্য হয়ে গেছে। আর এই পর্ন এর মাধ্যমেই পর্ন ইন্ডাস্ট্রি সমকামিতাকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

কারণ বারংবার বিকৃত আচরণ দেখতে দেখতে এই বিকৃতির প্রতি স্বাভাবিক ঘৃণাটুকুও উবে যায়, নৈতিকতা বিবর্জিত সমাজে বেড়ে উঠা কিশোর-কিশোরীরা এক সময় এতে নিজেরাও জড়িত হয়ে পরে। আমাদের ব্রেনের Adaption ক্ষমতা প্রবল। শৈশব ও কৈশোরে তাদের বিকৃত যৌন আচরণের সাথে ব্রেন নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয় ফলে পরবর্তীতে সে বিপরীত লিঙ্গের দ্বারা উত্তেজিত হতে পারে না।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে পর্ন-আসক্তরা বাস্তব জীবনের যৌনসঙ্গী দ্বারা উত্তেজিত কম হয় কিংবা উত্তেজিত হতে সমস্যা হয়। যখন একজন পর্ন Addict পর্ন দেখে উত্তেজিত হয় তখন সে মূলত নিজেকে Graphic/Virtual Data দিয়ে উত্তেজিত করে আর ব্রেনও এটা এডাপ্ট করে নেয়। তাই যখন ব্রেন Real Data পায় তখন সেটা ঠিকভাবে Analyse করতে পারে না ফলে ব্যক্তি তার সঙ্গী দ্বারা প্রবলভাবে উত্তেজিতও হতে পারে না। সমকামীদের ব্যাপারটাও এই রকমই।

পারিবারিক অবস্থা

বেশিরভাগ সমকামীদের পারিবারিক ইতিহাস ঘেটে দেখলে দেখা যায় যে তাদের সাথে হয় বাবা না হলে মায়ের সাথে সম্পর্কে খারাপ অথবা তাদের মাতা-পিতার দাম্পত্য জীবন খারাপ।

শৈশবকাল সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। কারণ শৈশবকালেই একজন শিশু অন্যকে অনুকরণ করতে শিখে। তাই কোনো ছেলের সাথে যদি তার বাবার সাথে ছোটবেলায় খারাপ সম্পর্ক থাকে তখন সেই ছেলের মধ্যে পুরুষত্ব দুর্বলভাবে সৃষ্টি হয়। তেমনি ছোটবেলায় মেয়ের সাথে যদি তার মায়ের সম্পর্ক খারাপ হয়ে থাকে তখনও সেই মেয়ের মাঝে নারীসুলভ স্বভাব দুর্বলভাবে গঠিত হয়। আর এর ফলে ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই ‘gender non-conformity’ নামক সমস্যার সৃষ্টি হয়। “childhood gender non-conformity” একজন ব্যক্তিকে সমকামী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অশ্লীল ও বিকৃত পরিবেশে বসবাস 

১) সমকামিতা বিস্তারে অশ্লীল পরিবেশে বিকৃত নগরায়নেরও ভূমিকা রয়েছে। নগরায়নে যদি বিকৃত, অশ্লীল উপাদানের প্রভাব বেশি থাকে তাহলে সে নগরায়ন সমকামী সৃষ্টি করে। Laumann এর এক স্টাডি থেকে এই বিষয়টা প্রমাণিত হয়েছে। নিম্নে Laumann স্টাডির ফলাফল দেখানো হল—

এই রিসার্চ থেকে দেখা যায় যে, বড় শহরের অশ্লীল পরিবেশ সমকামিতা সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা পালন করে গ্রাম্য পরিবেশের তুলনায়। পশ্চিমা দেশগুলোর বড় শহরগুলোর পরিবেশ খুবই অশ্লীল ও নোংরা। এজন্য সেখানে ‘সমকামিতার’ মত বিকৃত যৌন আচরণ দেখা যায়ও বেশি।

সবশেষে লেখক জনাব আইনজীবী সাহেবের শেষের কথাগুলোর একটু ব্যবচ্ছেদ করব। উনি বলেছেন, তাইতো নারী ও পুরুষের মাঝে সমকামীদের স্বাভাবিক মানুষের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সাথে নিয়ে সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখায় আমাদের সবার ব্রত হওয়া উচিত।

অন্যথায় সাজ্জাদের মৃত্যু কখনো আমাদের ক্ষমা করবে না, সর্বদা আমাদের পিছু তাড়া করে কুরে কুরে খাবে। আসুন সবাই মিলে সমকামীদের অপরাধীর চোখে না দেখে সমাজের আর দশটা স্বাভাবিক মানুষের মত তাদের সাথে নিয়ে সবার জন্য বসবাসযোগ্য একটি মানবিক পৃথিবী গঠনে অগ্রসর হই।

ভাই, নারী পুরুষের মাঝে হিজড়া নামক তৃতীয় লিঙ্গকে স্বীকৃতি দেয়া যায় কারণ তারা জন্ম নেয় শারীরিক ত্রুটি নিয়ে। আমরা অবশ্যই প্রতিবন্ধীকে প্রতিবন্ধী বলব না তার সামনে তবে জন্মান্ধকে স্বাভাবিক মানুষের মত গাড়ি চালাতেও দিতে পারি না। আর সমকামিতার মত বদভ্যাস বা সামাজিক অবক্ষয়জনিত রোগের রোগীকে ভাল চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। যাতে সেও অন্যদের মত উৎপাদনশীল মানুষ হিসেবে সমাজে টিকে থাকতে পারে। আর মানবিক পৃথিবী তো সেটাই যেখানে মানব প্রজাতি টিকে থাকবে।

কিন্তু আইনজীবী সাহেব যাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন, সবাই যদি তাদের মত হয় তবে আগামী ৫০ বছরের ভিতর পুরো মানব প্রজাতিই ধ্বংস হয়ে যাবে।

সাজ্জাদের মৃত্যু অবশ্যই আমাদের কুরে কুরে খাচ্ছে, কারণ এই বিকৃতি নিয়ে সে কি বাজেভাবেই না মরল। তাই আসুন সমকামীদের অপরাধীর চোখেই দেখি (দেশের আইনে) এবং অসুস্থ, মনোবিকারগ্রস্থ হিসেবে চিকিৎসা করে তাদের স্বাভাবিক মানব সমাজে ফিরিয়ে আনি।

লেখক : বিশেষজ্ঞ আইনজীবী

ই-মেইল: raheel.1953@gmail.com 

বহুল প্রচারের জন্য এই সাইট থেকে কপিকৃত। 

মতামত দিন

Solve : *
28 − 9 =