ইসলামিক গল্প

আমার মাসুদ ভাইয়া, সিরিজ ৪

হঠাৎ কেন এই ভূলে যাওয়া

বিছানায় বসে মায়ের সাথে কথা বলছিলাম ৷ হঠাৎ ৭ বছর বয়সী ছোট ভাই ওমর এলো; এক ক্লিষ্ট, ক্লান্ত ও কান্না ভরা কণ্ঠে ৷ যেন দুনিয়ার সব দুঃখ ওর ঘাঁঢ়ে চেপে বসেছে ৷ এসে মায়ের কাছে আবদার করে বসল মা বিস্কুট খাব ৷ অমনি মা আলমারি থেকে টাকা বের করে দিলেন তাঁকে বিস্কুট খাওয়ার জন্য ৷

ঘটনাটি দেখে আমি একটু মুচকি হাসছিলাম !

মা তখন বললেন, আরে তুই ! ওর ঘটনা দেখে হাসছিস ! জানিস তোর মাসুদ ভাই কি করেছিল !

—কি করেছিল মা !

—বয়স তখন ওর চেয়ে অনেক বড় ! ১১ বা ১২ এর মত হবে ! আমি তখন কাঁপড় সেলাই করছিলাম ! হঠাৎ দেখি তোর ভাই ঘামে ভিজে ঘরে ঢুকল ৷ চেহারা লাল হয়ে আছে ৷চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে ৷ আমি ভেবেছিলাম পাড়ার ছেলেরা হয়তো মেরেছে ৷ তাই আঁদর করে বললাম, বাবা ! কি হয়েছে ! তাঁর চোখের পানি ও কান্নার আওয়াজ আরও বেরে গেল ! আমি আবারও বললাম, বাবা ! বল কি হয়েছে ৷ এরপর সে কাঁদতে কাঁদতে বলল, মা এলাকার এই মাথা থেইকা ঐ মাথা ঘুরলাম ! এইটুকু বলে সে আরও হুঁ হুঁ করে কাঁদতে লাগল ৷ আমি বললাম, হ্যাঁ বল ! সে তখন আমার বুকে ঝাঁপিয়ে পরে মাথা রেখে বলল, মা ! এত জায়গা ঘুইরাও ৫ টাকার ল…লি..পপ চকলেট টা আর পাইলাম না ৷ সব আঙ্কেল খালি কয় নাই ! বলে সে আরও হুঁ হুঁ করে কান্না করতে লাগল ৷

মা এই কথা বলতে না বলতে আমি মুখ চেঁপে হাসতে শুরু করলাম যেন পেঁটটা আরেকটু হলেই ব্লাষ্ট হয়ে যাবে !

এভাবে কথা বলার কিছুক্ষণ পর মাসুদ ভাইয়া আসলেন ‘৷ তারপর আমাদেরকে সালাম দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে কুশল বিনিময় করলেন৷ অতঃপর বিছানায় মায়ের পাশে বসে জিজ্ঞেস করলেন, কিরে ভাই এত হাসি ! কি নিয়ে কথা হচ্ছিল !

—আমরা কথা বলছিলাম তোমার চকলেট কান্না নিয়ে !

—অহ ! আচ্ছা ! তাই এত হাসি !

কিন্তু তুই কি জানিস আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে সেই চকলেট কান্না বিরাজ করছে ৷

আমরা প্রত্যেকেই সেই ১২ বছরের মাসুদের মতই চকলেটকে টার্গেট করে বসে আছি ৷

ভাইয়ার কথা শুনে আমি রীতিমত অবাক হলাম, ভাইয়া কি বলছে এইসব ! অন্তত আমি কাউকে এরকম দেখতে পাচ্ছিনা ৷ আর ভাইয়া বলছে প্রত্যেকের কথা৷ আসলেই আশ্চর্যের ব্যাপার ৷

মা জিজ্ঞেস করল, কি বলছিস তুই এসব ! এটা তুই কিভাবে দেখলি ৷ তাও আবার প্রত্যেকের ক্ষেত্রে !

—হ্যাঁ ! মা ঠিকই বলছি ! বিশ্বাস না হয় পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি পড়ে দেখ —

اقترب للناس حسابهم وهم في غفلة معرضون ٥

“মানুষের হিসাবের সময় নিকটবর্তী আর তাঁরা গাফেল হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ৷”(সূরা আম্বিয়া ২১:১)

আরও দেখতে পার পবিত্র কোরআনের এই আয়াতগুলো

بل تؤثوون الحيوة الدنيا ٥ ولاخرة خير وابقي ٥

“বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দাও ৷ অথচ আখিরাত সর্বোত্তম ও চিরস্হায়ী ৷”( সূরা আ’লা ৮৭:১৬-১৭)

অর্থাৎ আমরা আখিরাতকে পিছনে ফেলে দুনিয়াকে আঁকড়ে ধরে চকলেটের মায়া কান্নার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে রয়েছি !

—আচ্ছা ভাইয়া ! সে না হয় বুঝলাম ! কিন্তু ভাইয়া একটি প্রশ্ন থেকে যায় ৷ আমরা দেখি পূর্বের যুগের মুসলিমদের মধ্যে আল্লাহর দ্বীনের প্রতি অনেক বেশী মনযোগ ছিল, এমনকি ব্রিটিশরা এদেশে আসার পরেও অনেকদিন পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের দ্বীনের ব্যাপারে অনেক বেশী মনযোগী ছিল ৷ এমনকি তাঁরা তাঁদের সন্তানদের ব্রিটিশদের স্কুলে যেতে দিত না একথা জেনে যে, তাঁদের সন্তানরা ইসলাম বিরোধী কথা শিখবে !'(১) কিন্তু ভাইয়া ! হঠাৎ এই পরিবর্তন অন্যভাবে বললে ইসলাম ও আখিরাতকে ছেঁড়ে দুনিয়াকে প্রাধান্য দান আমাকে সত্যিই খুব বিশ্মীত করে ! কিন্তু আমি তেমন কোন ক্লু খুঁজে পেলাম না ! তুমি কি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পার !

—আচ্ছা ! তুই তো বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েছিলি তাই না !

—হ্যাঁ ! এইতো কিছুদিন আগে রাকিবের সাথে গিয়েছিলাম ! কিন্তু এর সাথে বৃদ্ধাশ্রমের কি সম্পর্ক ?

—বলছি ! আগে বল সেখানে গিয়ে কি দেখলি !

—সেখানে অবস্হানরত মা-বাবা যারা আছেন তাঁদের কথা শুনে বুঝলাম যে, তাদের সন্তানরা খুবই নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে, কখনও বা মন ভূলিয়ে নিরাপদে ও সুখে থাঁকার কথা বলে তাঁদের এখানে নিয়ে এসেছে, কেউবা তাঁর স্ত্রীর কথা শুনে ! একজন মা কেঁদে কেঁদে বললেন, জানো ! আমার বাজান আমারে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে রাখত, ঠিকমত কথা বলত না, কথা বলতে গেলে ধমক দিতো ৷ আমার হাতে ভাত খেতে চাইত না ৷ অথচ ছোট থাকতে ও যখন বিসানায় প্রস্রাব করত তহন আমি ওরে আমার ভাল জায়গায় শুইতে দিয়া আমি ওর প্রস্রাবের জায়গায় শুইতাম ৷ ওর অসুখ হইলে দিন-রাইত এক কইরা ফালাইতাম ৷ রাতে জাইগা থাকতাম, সকালে জাইগা থাকতাম আর বারবার দেখতাম আমার বাবাটার অসুখ কি ভাল হইল কিনা ৷ ও যখন বড় হইল আমি চাইতাম ! আমার সোনার চান যেন একবার আমার কাছে আইসা আমারে মা বইলা ডাক দেয়, আমার বুঁকটা ভইরা যাইত ! তাঁরে বুঁকে নিয়া খুব আঁদর করতে মন চাইত সেই ছোট্ট বেলার মত ৷ কিন্তু আমার সোনার চান আমারে বুঝল না ! সোঁজা রিকশায় কইরা আমারে এদিকে ভর্তি কইরা দিয়া গেল !

আর আমাদের দিকে তাঁকিয়ে বললেন, জানো ! তোমরা দুজনে না দেখতে ঠিক আমার সোনার চানের মত ৷ আসো তোমাদেরকে একটু আঁদর করি ৷ এই বলে সে আমাদের কপালে চুমু খেলেন !

সেদিন ঐ ঘটনায় আমি অনেক কেঁদেছিলাম ৷ আজও আমার চোঁখের পানি থেমে নেই ৷ ভাইয়া ও মায়ের দিকে তাঁকিয়ে দেখলাম তাঁরাও খুব কাঁদছে ৷

মা চোঁখের পানি মুঁছে বললেন, হ্যাঁ ! এখনকার সন্তানরা তো এমনই হয় ৷ যে মা-বাবা এত কষ্ট করে, মায়া করে বড় করল, তাঁর সাথে ছাঁয়ার মত থাকল তাঁকেই পাঠিয়ে দিল বৃদ্ধাশ্রমে !

ভাইয়াও চোখের পানি মুছে বললেন, হ্যাঁ মা ! তুমি ঠিক বলেছো ! মহান আল্লাহ যেন আমাদেরকে তাঁদের পথ থেকে রক্ষা করেন !

তবে এই মা তাঁর সন্তানের ব্যাপারে যতটা ভাবে, যতটা তাঁর সন্তানকে কাঁছে পেতে চায়, যতটা তাঁর সন্তানকে স্নেহের চোখে দেখেন ! এক কথায় তিঁনি তাঁর সন্তানের ব্যাপারে যতটা অনুগ্রহশীল তাঁর চাইতে অনেক অনেক বেশী তথা সীমাহীন দয়াময়, মহাঅনুগ্রহশীল ও মহানুভব হলেন আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাআলা ৷ (২)

মা তাঁর হারানো সন্তানকে ফিরে পেলে যতটা খুশি হন মহান আল্লাহ তাঁর চেয়েও অনেক বেশী খুশি যখন বান্দা তাঁর নিকট ফিরে আসে ৷ (২)

যদি কোন কাফের জানত মহান আল্লাহর দয়া কত বিশাল তাহলে তাঁরা কখনও তাঁর জান্নাত থেকে বঞ্চিত হতে চাইত না ৷ (৩)

কট্টর কাফেররা তাঁর প্রিয় মুমিন বান্দাদের কষ্ট দেওয়ার পরও তিনি তাঁদেরকে তওবার প্রতি অাহ্বান করছেন, যেন তাঁরা এমন অপরাধের জন্য ক্ষমা চায় ! ইমানদারদের মত ইমান আনয়ন করে ৷ চিরস্হায়ী জাহান্নামের কঠোর শাস্তি ভোগ করতে না হয় ৷ (৪)

মহান আল্লাহ হলেন সেই সত্তা যার দয়া তাঁর তাঁর রাগের অগ্রবর্তী হয় ৷ (৫)

যিনি তাঁর বান্দাকে ক্ষমা করার পক্ষেই বেশী থাকেন ৷ তাঁকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর পক্ষে থাকেন ৷ (৬)

বান্দা তাঁর দয়া পাওয়ার জন্য যতখানি অগ্রবর্তী হয় মহান আল্লাহর দয়া মায়া তাঁর চেয়ে বেশী তাঁর দিকে এগিয়ে আসে ৷ (৭)

বান্দাকে তিঁনি দয়া করে অফুরন্ত নেয়ামত দান করেছেন ৷ (৮)

সন্তানরা যেমন তাঁদের স্মরণে সবসময় ক্রন্দনরত পিতা মাতার দয়ার কথা ভূলে গিয়ে তাঁদের হেও ও তুচ্ছ জ্ঞান করতে দ্বিধা করেনি ৷ ঠিক তেমনি বান্দাগণও তাঁদের রব মহান আল্লাহর দয়াকে ভূলে তাঁকে তুচ্ছ ও হেও জ্ঞান করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি ! তাই তাঁরা চকলেটের মত মায়া কান্না থেকে আজও বের হতে পারেনি !

ভাইয়ার মুখে মহান আল্লাহকে হেও ও তুচ্ছ জ্ঞান করার কথা শুনে যার পরনাই আশ্চর্য হলাম ! এমন কোন মুসলিম আছে নাকি যে আল্লাহকে হেও করে, তুচ্ছ জ্ঞান করে !

আমি বললাম, ভাইয়া ! মহান আল্লাহর দয়াকে ভূলে যাওয়ার ব্যাপারটা তো বুঝলাম কিন্তু হেও ও তুচ্ছ জ্ঞান করার ব্যাপারটি ঠিক বুঝে আসল না !

ভাইয়া আমার কথার উত্তর না দিয়ে মায়ের দিকে তাঁকিয়ে প্রশ্ন করল

— আচ্ছা ! মা ! যদি কোন সন্তান তাঁদের পিতা মাতাকে তাঁরিয়ে দেয়, তাঁর স্হানে অন্যকে মর্যাদা দেয়, তাঁদেরকে সামনে রেখে অন্যকে পিতা মাতা বলে ডাঁকে অন্যভাবে বললে মূল পিতামাতার সমকক্ষ স্হির করে অথবা তাঁদের কাছে কিছু বলতে বা চাইতে কোন চাকর, বুয়া বা কাঁজের ছেলে এদেরকে মাধ্যম হিসেবে করে তবে এটা কি মা-বাবার প্রতি জুলুম করা হবে না?

—হ্যাঁ ! অবশ্যই জুলুম হবে !

—কেন তা জুলুম হবে বলতে পারিস মেরাজ !

—কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে আপন ও কাছের মানুষ হলো পিতা মাতা যারা তাঁর সন্তানের প্রতি অনেক বেশি উদার যা অন্যদের দ্বারা কখনও সম্ভব নয় ! তাই সন্তানদের এমন আচরণ তাঁদের প্রাপ্য হতে পারেনা ৷ এর দ্বারা তাঁদের পিতৃত্ব বা মাতৃত্ববোধকে বুঁড়ো আঙ্গুল দেখানো হয় !

—ঠিক একইভাবে স্রষ্টার প্রভূত্বকেও সীমাহীন বুঁড়ো আঙ্গুল দেখানো হয়, তাঁর সীমাহীন দয়া ও মহানুভবতাকে হেও ও তুচ্ছ জ্ঞান করা হয়, যখন তাঁর অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হয়, যখন তাঁর স্হলে অন্য কোন নবী, পীর, ফকির,মূর্তি, মৃত বা জীবিত অলী,মাজার, কোন গাছ ইত্যাদি যাবতীয় বস্তু বা ব্যাক্তিকে ডাকা হয় বা ইবাদত করা হয়, তাঁর নামে নামকরণ করা হয়, যখন তাঁর সমকক্ষ স্হির করা হয়, যখন আল্লাহর পাশাপাশি তাঁদেরকে ডাঁকা হয়, যখন তাঁর ইবাদত করার জন্য বা তাঁর নৈকট্য হাসিলের জন্য তাঁকে কাঁছে পাওয়ার জন্য তাদেরকে via হিসেবে ব্যবহার করা হয় ! যখন তাঁর বিধান অন্য বিধান থেকে অচল, সেঁকেলে, অনাধুনিক মনে করা হয়, তাঁর দেওয়া মহামূল্যবান আদর্শ ও মডেল মুহাম্মদ (صلي الله عليه وسلم) থাঁকা সত্ত্বেও অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, সম্পদকে ২য় প্রভূর মত গণ্য করা হয় ৷ অথচ তাঁর দয়া মানুষের পিতা মাতা বা কোন সৃষ্টির সাথে আদৌ তুলনীয় নয় !

এটা কি তাঁর প্রতি জুলুম নয় ? তাকে হেও বা তুচ্ছ করা নয় ? উপরন্তু এমনটি তিনি শিখিয়েছেন বলে দাবী করা কি তাঁর প্রতি মহা অপবাদ নয়?

এইভাবে মহান আল্লাহকে হেও ও তুচ্ছ করার মত যত বিশ্বাস ,কথা, কাজ ও পদক্ষেপ আছে এগুলোকে আরবীতে বলা হয় শিরক (الشرك) !

মহান আল্লাহ বলেন,

ومن يشرك بالله فقد افتري اثما عظيما—

“আর যে মহান আল্লাহর সাথে শিরকে লিপ্ত হয় সে আল্লাহর প্রতি মহা অপবাদ আরোপ করে ৷”(সূরা নিসা ৪:৪৮)

ومن يشرك بالله فقد صلي ضللا بعيدا—

“আর যে আল্লাহর সাথে শিরকে লিপ্ত হয় সে সুদূর গোমরাহীতে নিমজ্জীত হয় ৷”(সূরা নিসা ৪:১১৬)

তিনি আরও বলেন,

ان الشرك لظلم عظيم—

“নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম !”(সূরা লুক্বমান ৩১:১৩)

মুয়াজ ইবনে জাবাল (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত,

بينا انا رديف النبي صلي الله عليه وسلم ليس بيني وبينه الا اخرة الرحل فقال يا معاذ بن جبل قلت لبيك رسول الله وسعديك ثم سار ساعة ثم قال يا معاذ قلت لبيك رسول الله وسعديك ثم سار ساعة ثم قال يا معاذ قلت لبيك رسول الله وسعديك قال هل تدري ما حق الله علي عباده قلت الله ورسوله اعلم قال حق الله علي عباده ان يعبدوه ولا يشركوا به شيئا ثم سار ساعة ثم قال يا معاذ بن جبل قلت لبيك رسول الله وسعديك فقال هل تدري ما حق العباد علي الله اذا فعلوه قلت الله ورسوله اعلم قال حق العباد علي الله ان لا يعذبهم—

“একবার আমি নবী (صلي الله عليه وسلم) পিছনে বসা ছিলাম ৷ তাঁর ও আমার মাঝে লাগামের রশি ছাঁড়া আর কোন কিছুর ব্যবধান ছিল না ৷ তখন তিনি বললেন,হে মুয়ায ইবনে জাবাল ! আমি বললম, হে আল্লাহর রাসূল (صلي الله عليه وسلم) ! আমি আপনার কাছে হাজির আছি ! আবার তিনি পথ চলতে লাগলেন ৷ অতঃপর আবার বললেন, হে মুয়ায ! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (صلي الله عليه وسلم) ! আমি আপনার কাছে হাজির ! অতঃপর তিঁনি আবারও পথ চলা শুরু করলেন ৷ অতঃপর আবার বললেন, হে মুয়ায ! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (صلي الله عليه وسلم) ! আমি আপনার কাছে হাজির ! তিনি বললেন, তুমি কি জান বান্দাদের উপর আল্লাহর অধিকার কি ? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন ৷ তিনি বললেন, বান্দাদের উপর আল্লাহর অধিকার হলো তারা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক করবে না ৷ অতঃপর তিনি আবারও পথ চলতে লাগলেন ৷ অতঃপর আবার বললেন, হে মুয়ায ইবনে জাবাল ! অামি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (صلي الله عليه وسلم) ! আমি আপনার কাছে হাজির ! তিনি বললেন, তুমি কি জান বান্দাগণ যদি আল্লাহর এই অধিকার আদায় করে দেয় তবে আল্লাহর উপর তাঁদের অধিকার কি হতে পারে ! আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন ! তিনি বললেন, (তখন) আল্লাহর উপর বান্দাদের অধিকার হলো তিঁনি তাদেরকে আযাব দিবেন না ৷” (সহীহ বুখারী, অধ্যায় ৭৭: পোশাক পর্ব, অনুচ্ছেদ ১০১, হাদীস ৫৯৬৭, হাদীস ও পর্বসূচীর নম্বরবিন্যাস: মুহাম্মদ বিন হাজ্জ্বাজ)

এভাবেই আমরা মহান আল্লাহর অধিকার ভূলে যাচ্ছি ৷ তাই তাঁকে আমরা স্মরণ রাখতে পারছি না ৷ ফলে চকলেটের মত মায়া কান্না ক্রমশই বাঁড়ছে ৷

আপনারা বুঝেছেন কিনা জানিনা ! তবে ভাইয়ার কথাগুলো আমার কাছে খুবই বোঁধগম্য মনে হচ্ছিল ৷ মন চাচ্ছিল আরও কিছু প্রশ্ন করি ৷ কিন্তু সেদিন আর সুযোগ হলো না ৷ হঠাৎ বাইরে থেকে এশার আযানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসল ৷ আর আমরাও প্রস্তুতি পর্ব শুরু করলাম !

টীকা:

১৷ বিস্তারিত দেখুন, বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস— আব্বাস আলী খান, ৭ম অধ্যায়, পৃষ্ঠা— ১৪০-১৮৮

২৷ সহীহ মুসলিম ২৭৫৪, রিয়াদুস সালেহীন ১৬

৩৷ সহীহ মুসলিম ২৭৫৫

৪৷ দেখুন, সূরা বুরুজ ৮৫:১০

৫৷সহীহ মুসলিম ২৭৫১

৬৷ সূরা নিসা ৪:১১০, সূরা যুমার ৩৯:৫৩ রিয়াদুস সালেহীন ১৬-১৯, ২১ সহীহ মুসলিম ২৭৫২, ২৭৫৬

৭৷ রিয়াদুস সালেহীন ৪১৮

৮৷ সূরা নাহল ১৬:১৮

চকলেট কান্না /মেরাজুল ইসলাম প্রিয়

সূত্র

মতামত দিন

Solve : *
33 ⁄ 11 =