ইসলামের ইতিহাস প্রবন্ধ সাম্প্রতিক বিষয়

ফিলিস্তীনীদের কান্না কবে থামবে?

ফিলিস্তীনীরা আজ নিজ দেশে পরবাসী। বহু বছর যাবৎ নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে তারা পথ-প্রান্তরে দেশ হ’তে দেশান্তরে উদ্বাস্ত্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আর যারা দেশের মাটি কামড়ে রয়েছে তাদের উপরে চলছে ইহুদীদের বর্বর নির্যাতন। হত্যা-ধর্ষণ-অপহরণসহ হেন নির্যাতন নেই যা তাদের উপরে চলছে না। দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলতে হয়- কবে শেষ হবে ফিলিস্তীনীদের ওপর এই নিষ্ঠুরতম অত্যাচার! কবে থামবে ওদের কান্না! ওদের গগণবিদারী আহাজারি শুনার কেউ কি নেই? তাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ কি নেই? কি ওদের অপরাধ, কি কারণে আজ ওদের এ করুণ অবস্থা? হ্যাঁ, কারণ একটাই, ওরা মুসলিম, ওরা ফিলিস্তীনী! মুসলিম না হয়ে আজ অন্য কোন জাতি হ’লে হয়তো ওদেরকে এই জ্বলন্ত হুতাশনে জ্বলতে হ’ত না। তখন ওদের উদ্ধারে এগিয়ে আসতো ইহুদী-খৃষ্টান ও তাদের দোসররা। যেমনটি করেছে তারা ইন্দোনেশিয়ার পূর্বতিমুরের ক্ষেত্রে। কিন্তু অবৈধ দখলদার ইহুদীদের ফিলিস্তীন থেকে সরানোর কথা ওরা কখনও বলবে না।

ইসলাম বৈরী শক্তি আজ শুধু ফিলিস্তীনী মুসলমান নয়, বরং সারা বিশ্বের মুসলমানদের কিভাবে নিধন করা যায় তার নীল নক্সা বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে। এজন্য তারা এক মুসলিম রাষ্ট্রের সাথে অপর মুসলিম রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখছে, এক মুসলিমকে অপর মুসলিমের বিরুদ্ধে লাগানোর ছক তৈরী করে তা বাস্তবায়ণ করে যাচ্ছে। অতঃপর সংঘাত বাধিয়ে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং ঐ গোষ্ঠীগুলোর কাছে আবার অস্ত্র বিক্রি করছে। কখনও নির্যাতিত মুসলমানদের প্রতি কিছু লোক দেখানো মানবিক সাহায্য ও পরামর্শ দিয়ে তাদের নিকটতম বন্ধু হিসাবে নিজেদেরকে উপস্থাপন করছে। বর্তমানে সিরিয়া, লিবিয়া ও ফিলিস্তীনীদের গোষ্ঠীগত সংঘাত এবং ইয়েমেন ও আফগানিস্তান প্রভৃতি যুদ্ধ তার প্রকৃষ্ঠ উদহারণ। এককথায় মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও রাষ্ট্রীয় কর্ণধারদেরকে অস্থিরতা, বৈরিতা এবং বিভক্তির ফাঁদে ফেলে এদেরকে করতলগত করছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। অতঃপর বৃহত্তর ও অজেয় এ জাতি-গোষ্ঠীর ওপর দুঃশাসনের ছড়ি ঘুরাচ্ছে। যে কারণে বর্তমান অশান্ত এই বিশ্বে মুসলমানদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে ওঠেছে। হতভাগা মুসলমানরা এখনও তা উপলব্ধি করছে না। তারা তো মুসলমানদের মাথার ওপর কাঁঠাল ভেঙ্গে খাচ্ছে এবং পৃথিবী থেকে তাদেরকে নিঃশেষ করতে চাচ্ছে। অথবা মুসলমানদেরকে ভিক্ষুক-উদ্বাস্ত্ত করে ওদের সেবাদাসে পরিণত করতে চাচ্ছে। ইতিমধ্যে ওরা অনেক দূর অগ্রসর হয়ে গেছে। কেননা বর্তমান বিশ্বে মুসলিম উদ্বাস্ত্তর সংখ্যা প্রায় এক কোটির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে এত্থেকে উত্তরণের উপায় কি?

যুগ  যুগ  ধরে  চলে  আসা  অবৈধ  দখলদার ইসরাঈলরা ফিলিস্তীনী মুসলমানদের ওপর হত্যা-নির্যাতন, বিতাড়ন করে আসলেও সবচেয়ে কলঙ্কিত ইতিহাস রচিত হ’ল- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হঠকারী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্র্যাম্প কর্তৃক গত ৬ই ডিসেম্বর’১৭ ইং তারিখে যেরুসালেমকে ইসরাঈলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে। শুধু মুসলিম বিশ্ব নয় গোটা বিশ্ববাসীকে বোকা বানিয়ে ও ধোঁকা দিয়ে অযাচিতভাবে এ ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তীনী সংকটকে আরও অগ্নিগর্ভে নিক্ষেপ করল। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পরিবর্তে অশান্তির দাবানল জ্বালিয়ে দিল। কারণ মুসলমানেরা কখনও পবিত্র যেরুসালেমকে হাতছাড়া করবে না। এখানে আমরা যেরুসালেম ও ফিলিস্তীনের প্রাচীন ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরব।

যেরুসালেমের পূর্বকথা : যেরুসালেমের ইতিহাস বহু প্রাচীন। খৃষ্টপূর্ব ৪৫০০-৩৫০০ এর মাঝামাঝি সময়ে যেরুসালেমে সর্বপ্রথম বসতি স্থাপন শুরু হয়। আরবী শব্দ ‘সালাম’ এবং ‘হিব্রু ‘শালিমে’র সম্মিলিত রূপ হিসাবে ২০০০ খৃষ্টপূর্বাব্ধে এটির নামকরণ করা  হয় ‘রুসালিমান’। ১৫০০-১৪০০ খৃষ্টপূর্বের মধ্যবর্তী সময়ে তৎকালীন মিশরের রাজা যেরুসালেম এটা ভূ-মধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। ক্রমান্বয়ে মিশরীয় শাসকদের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকলে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশ থেকে স্বাধীনতার দাবী উত্থাপিত হয়।

বাইবেলের বর্ণনা মতে, যেরুসালেম তখন ‘জেবুস’ এবং এর অধিবাসীগণ ‘জেবুসিয়াস’ নামে পরিচিতি লাভ করে। বাইবেলের অপর এক  বর্ণনায় পাওয়া যায়, খৃষ্টপূর্ব ১১শ’ শতকে রাজা দাঊদের [দাউদ (আঃ)] যেরুসালেম জয়ের পূর্বে শহরটি ‘জেবুসিয়াস’দের বাসস্থান ছিল। পরবর্তীকালে তার পুত্র সোলায়মান (আঃ) শহরের দেওয়াল সম্প্রসারণ করেন। ৭ম শতকে অর্থাৎ ৬৩৭ সালে খলীফা ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)-এর শাসনামলে মুসলমানগণ যেরুসালেম জয় করে একে মুসলিম সাম্রাজ্যের অঙ্গীভূত করে নেন।[1] ওমর (রাঃ) উক্ত শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের সাথে এক চুক্তিতে আবদ্ধ হন। উল্লেখ্য, ঐ সময়ে ওমর (রাঃ)-এর ত্যাগ, আদর্শ, মহানুভবতা ও সাধারণ একজন ভৃত্যবেশে খৃষ্টানদের নিকট  নিজেকে উপস্থাপন করলে তাঁর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে তারা বিনা যুদ্ধে ওমর (রাঃ)-এর নিকট যেরুসালেমকে হস্তান্তর করেন। এরপর ১০৯৬ হ’তে ১১৮৭ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত ৯১ বছর খৃষ্টান ক্রুসেডাররা ফিলিস্তীন দখল করে রাখে। তারা মসজিদে আক্বছার মধ্যে আশ্রয় গ্রহণকারী সত্তর হাযারের অধিক মুসলমানকে এক সপ্তাহের মধ্যে হত্যা করে।[2] ১১৮৭ সালের ২রা অক্টোবর সুলতান ছালাহুদ্দীন আইয়ূবীর নিকট পরাজিত হয়ে খৃষ্টান দস্যুরা এদেশ থেকে পালিয়ে যায়। ১২১৯ সালে দামেশকের সুলতান মুয়ায্যম নগরের দেওয়াল ধ্বংস করেন।

১২৪৩ সালে মিশরের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী যেরুসালেম জার্মানীর দ্বিতীয় ফ্রেডারিকের হস্তগত হয়। এ বছরেই যেরুসালেম পুনরায় খৃষ্টানদের দখলে চলে যায় এবং দেওয়াল সমূহ সংস্কার করা হয়। কিন্তু ১২৪৪ সালে তাতাররা শহরটি দখল করে নেয় এবং সুলতান মালিক নগর প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেন। ১৫১৭ সালে ওছমানী খলীফা ইয়াভুজ সুলতান সেলিম কুদসকে ওছমানী খিলাফতের অন্তর্ভুক্ত করেন। এরপর দীর্ঘ ৪০০ বছর যাবত ফিলিস্তীন ওছমানীয় তুর্কী খেলাফতের শাসনাধীনে একটি প্রাদেশিক রাজ্য ছিল। তাদের নিজস্ব সরকার ছিল, ছিল পৌরসভা এবং রাজধানী কনষ্টান্টিনোপলে ওছমানীয় পার্লামেন্টে ছিল তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি।[3]

১৮৯৭ সালে ইহূদীবাদী আন্দোলন একটি সাংগঠনিক রূপ লাভ করে এবং উক্ত সালে সুইজারল্যান্ডের ‘ব্যাসল’ নগরীতে অনুষ্ঠিত প্রথম ইহূদী সম্মেলনে গৃহীত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে একটি নিয়মিত কর্মপদ্ধতি গৃহীত হয়। এ বিষয়ে ইসরায়েল কোহেন (Israel Cohen) তার ‘ইহূদীবাদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস’ নামক বইয়ে লেখেন যে, ইহূদীবাদী আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য হ’ল তাদের প্রাচীন স্বদেশ ভূমি ফিলিস্তীনকে পূর্ণভাবে নিজেদের দখলে ফিরিয়ে আনা।[4] এ সময়ে তারা কৃষি, শিল্প, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতিতে অগ্রগামী করতঃ সমস্ত ফিলিস্তীনীকে একটি কলোনীতে পরিণত করার পরিকল্পনা নেয়। আর এটি প্রকৃত প্রস্তাবে শুরু হয় ১৯০৭-০৮ সালে একটি পরিকল্পিত নীলনক্সা অনুযায়ী ইহূদী উদ্বাস্ত্তদের আগমনের সূত্র ধরে। উল্লেখ্য, এই বৃহত্তর ফিলিস্তীনে অন্তর্ভুক্ত করা হয় আরব রাষ্ট্রের বহু এলাকা, যা ১৯১৭ সালের ২৩শে জুন সংখ্যার প্যালেস্টাইন ম্যাগাজিনে তুলে ধরা হয়। ১৯১৮ সালের জুন সংখ্যা ‘প্যালেস্টাইন’ সাময়িকীতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়ান এবং ওয়াইজম্যানের পরবর্তী ইসরাঈলী প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক বেন জিভি প্যালেস্টাইনের আয়তন হিসাবে পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর, উত্তরে লেবানন পাহাড়, পূর্বে সিরিয়ার মরুভূমি এবং দক্ষিণে সিনাই উপদ্বীপ (Penisuala) দেখান এবং বলেন যে, এটাই হ’ল প্যালেস্টাইনের প্রাকৃতিক সীমানা।[5] প্যালেস্টাইনের পূর্ব থেকে দক্ষিণ অংশের সীমানার মোট আয়তন হয় ৯০,০০০ বর্গকিলোমিটার, যা বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশী।

ইতিমধ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) শেষে ‘ভার্সাই চুক্তি’র বলে বৃটেন ফিলিস্তীনকে তার অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। পরিস্থিতি আরও মারাত্মক সংকটের দিকে অগ্রসর হয়। ১৯১৭ সালের ২রা নভেম্বর বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলফোর-এর ঘোষণা ও নীতি অনুযায়ী ১৯১৮ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিরাগত ইহূদীরা ফিলিস্তীনে প্রবেশ করতে থাকে। এদেরকে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ করে দেয়া হয়। ভূ-মধ্যসাগর তীরবর্তী ১০,১৬২ বর্গমাইল জুড়ে প্রতিষ্ঠিত ফিলিস্তীনে (প্যালেস্টাইনে) ১৯১৮ সালে বৃটিশ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে লোকসংখ্যা ছিল ৭০,৮০০। এর মধ্যে আরব ছিল শতকরা ৯৩ ভাগ এবং বাদবাকী ৭ ভাগ ছিল দেশীয় ইহূদী। মাত্র ৩০ বছর পরে ১৯৪৮ সালে ১৪ই মে যখন বৃটেন সেখান থেকে চলে আসে, তখন ফিলিস্তীনের লোক সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯,৫০,০০০। যার মধ্যে ২ লাখ দেশীয় ইহূদী, ৪ লাখ বহিরাগত ইহূদী ও বাদবাকী সাড়ে ১৩ লাখ সুন্নী আরব মুসলিম।[6]

উল্লেখ্য, ফিলিস্তীনী মুসলমান ও ইহূদীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত খুব বৃদ্ধি পেলে ১৯৩৯ সালে ফিলিস্তীনে ইহূদীদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়। এ দিকে জার্মানীর রাষ্ট্রনায়ক হিটলার ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তার বাহিনী কর্তৃক বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ ইহূদী নিধন এবং অন্যান্য চাপে ফিলিস্তীনে ইহূদীরা আশ্রয় নিতে পারেনি। ১৯৪৭ সালে ২৯শে নভেম্বর মুসলমান-ইহূদী দু’পক্ষে যুদ্ধ বাধে। সমস্যা মিটাতে জাতিসংঘ ফিলিস্তীনীকে দু’ভাগে ভাগ করার খসড়া সিদ্ধান্ত নেয়। যার এক ভাগে থাকবে মুসলমান এবং আরেক অংশে থাকবে ইহূদীরা। আর যেরুসালেম থাকবে স্বতন্ত্র। যার মীমাংসা হবে জাতিসংঘ কর্তৃক দু’পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে। ফিলিস্তীনীরা এ পরিকল্পনা মেনে নেয়নি। জাতিসংঘ কর্তৃক পরিকল্পনা নেয়ার একদিন পরেই নিজেদের অধিকৃত অঞ্চলকে নিয়ে স্বাধীন দেশ হিসাবে ঘোষণা করে। সৃষ্টি হয় ইসরাঈল। যেরুসালেমের পশ্চিম অংশের দখল থাকল তাদের হাতে। শহরের পূর্ব অংশ (পুরনো অংশ) ফিলিস্তীনীদের দখলে থাকে। তবে এর নিয়ন্ত্রণ থাকে জর্ডানের হাতে। তখন থেকে লাখ লাখ ফিলিস্তীনী ঘর ছাড়া হয়। ১৯৪৮ সালে বৃটিশ সেনা প্রত্যাহার করা হ’লে সে বছরই ১৪ই মে ডেভিড বেনগুরিনের নেতৃত্বে ইসরাঈল রাষ্ট্র ঘোষণা করে। এ ঘোষণার কয়েক মিনিট পরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাঈলকে স্বীকৃতি দেয় এবং ১৯৪৯ সালে বৃহৎ শক্তিবর্গ এ রাষ্ট্রকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র করে নেয়। এরপর ইঙ্গ-মার্কিন ও ইসরাঈলী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও হামলার মুখে লাখ লাখ মুসলমান বিতাড়িত হয়ে আরব দেশগুলোতে উদ্বাস্ত্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন শুরু করে। আর ফিলিস্তীনে থেকে যায় মাত্র ২,৪৭,০০০ নির্যাতিত আরব মুসলিম। ফিলিস্তীনের ৮০% ভূ-ভাগ দখল করে নেয় আগ্রাসী ইস্রাঈলী দখলদাররা।[7] সেদিন থেকে বিগত কয়েক যুগ ধরে চলছে ফিলিস্তীনীদের নিয়ে এক রক্তঝরা ইতিহাস।

১৯৬৭ সালের জুনে আরব-ইসরাঈল যুদ্ধ শুরু হ’লে মাত্র ৬ দিনে আরবদেরকে পরাজিত করে মিশরের কাছ থেকে গাযা, সিনাই, পশ্চিমতীর এবং সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি দখল করে নেয়। ১৯৮০ সালের জুলাই মাসে ইসরাঈল পূর্ব ও পশ্চিম উভয় যেরুসালেমকে ইসরাঈলের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করে। ২০১৭ সালের ৬ই ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেরুসালেমকে ইসরাঈলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিলে বিশ্বের মোড় ঘুরে যায়। সম্পূর্ণ এককভাবে আমেরিকার এ হঠকারি সিদ্ধান্ত কোন রাষ্ট্র মেনে নিতে পারেনি। মুসলিম বিশ্ব গর্জে উঠে। মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের সংগঠন ওআইসিও এক যরূরী বৈঠকে ১৩ই ডিসেম্বর পূর্ব যেরুসালেমকে ফিলিস্তীনের রাজধানী ঘোষণা করে। ফলে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরী হয়। শুরু হয় পবিত্র যেরুসালেম বিশেষ করে মসজিদুল আক্বছা ও বহু নবী-রাসূলের জন্মভূমিকে ইহূদীদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য মুসলমানদের আরেক অগ্নিপরীক্ষা।

ফিলিস্তীনের নামকরণ : ফিলিস্তীন কেবল মুসলিম যাহান নয়, বরং গোটা বিশ্ববাসীর নিকট এক আলোচিত ও সমালোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তীন প্রকৃত অর্থে ইহূদীদের নয়; বরং ন্যায়সংগতভাবে মুসলমানদেরই যা উৎপত্তিগত ও ঐতিহাসিক-দালীলিক সূত্রে প্রমাণিত। ফিলিস্তীনের পূর্ব নাম ‘কেন‘আন’। নূহ (আঃ)-এর পঞ্চম অধঃস্তন পুরুষের নাম ‘ফিলিস্তীন’। ‘ক্রিট’ ও ‘এজিয়ান’ সাগরের দ্বীপপুঞ্জ থেকে আগত ফিলিস্তীনীদের নামানুসারে এই অঞ্চল ‘ফিলিস্তীন’ নামে পরিচিত হয়। খৃষ্টানদের আগমনের বহু পূর্বেই এরা এই অঞ্চলে বসতিস্থাপন করে। ফিলিস্তীনীরা ‘আগনন’ সম্প্রদায়ভুক্ত এবং আরব বংশোদ্ভূত। খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে ইসলামের অভ্যুদয়ের সাথে সাথে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-এর সময়ে ১৩-১৭ হিজরী সনে ফিলিস্তীন পূর্ণভাবে ইসলামী খেলাফতের অধীনস্ত হয়।[8]

যেরুসালেম মুসলমানদের নিকট পবিত্র স্থান : উৎপত্তিগত দিক থেকে ফিলিস্তীন মুসলমানদের বলেই প্রতীয়মান হয়। একইভাবে আল্লাহ প্রেরিত বিভিন্ন বাণী, নবী প্রেরণ ও মসজিদুল আক্বছা ও অন্যান্য পবিত্র স্থানের কারণে এটা মুসলমানের নিকট অত্যন্ত সম্মানিত ও পবিত্র স্থান। যা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের অপরিহার্য কর্তব্য। বায়তুল আক্বছার দৈর্ঘ্য ৮০ মিটার ও প্রস্থ ৫৫ মিটার। মসজিদটি ক্বা‘বা গৃহ নির্মাণের ৪০ বছর পর নির্মিত হয়। এটা ১৭ মাস যাবৎ মুসলমানদের প্রথম ক্বিবলা ছিল বলে মুসলমানদের নিকট তা পবিত্র। দাঊদ ও সুলায়মান (আঃ) কর্তৃক নির্মিত এটাই পৃথিবীর দ্বিতীয় ইবাদত গৃহ।[9] ইবনে তায়মিয়া বলেছেন, ‘ইবরাহীম (আঃ)-এর যুগেই মসজিদে আক্বছা নির্মিত হয়েছিল। তবে সুলায়মান (আঃ) তাকে বড় ও মযবূত করে তৈরী করেন।[10] সুলায়মান (আঃ) কর্তৃক এই মসজিদ নির্মাণে ৩০ হাযার শ্রমিকের ৭ বছর সময় লেগেছিল। এই মসজিদুল আক্বছাতেই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পিছনে সকল নবী ছালাত আদায় করেছেন। এখান থেকে তিনি ঊর্ধ্বাকাশে মি‘রাজে গমন করেন। মহান আল্লাহ বলেন,سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِيْ بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيْعُ الْبَصِيْرُ- ‘মহাপবিত্র তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রিবেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আক্বছায়, যার চতুস্পার্শ্বকে আমরা বরকতময় করেছি, তাকে আমাদের নিদর্শনসমূহ দেখাবার জন্য। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা’ (ইসরা ১৭/১)

এ বিষয়ে জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, মি‘রাজের ব্যাপারে কুরাইশরা যখন আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে চেষ্টা করল তখন আমি (কা‘বায়) হিজর অংশে দাঁড়ালাম। আর আল্লাহ বায়তুল মুক্বাদ্দাস (মসজিদটি)-কে আমার সামনে উদ্ভাসিত করলেন। ফলে আমি তার দিকে তাকিয়ে তার চিহ্ন ও নিদর্শনগুলো তাদেরকে বলে দিতে থাকলাম’।[11]

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তিনটি মসজিদ ব্যতীত ছওয়াবের উদ্দেশ্যে অন্য কোন মসজিদে সফর করা যাবে না। তা হচ্ছে, মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদে আক্বছা’।[12]

এই ফিলিস্তীন ও তার আশেপাশে প্রায় পাঁচ হাযার বছর পূর্বে মুসলমানদের আদি পিতা ও নবী ইবরাহীম (আঃ), লূত (আঃ), ইয়া‘কূব (আঃ), দাঊদ (আঃ), ইসহাক্ব (আঃ), ইসমাঈল (আঃ), সুলাইমান (আঃ) সহ কয়েক হাযার নবীর জন্মস্থান, বাসস্থান, কর্মস্থল ও মৃত্যুস্থান। মূসা (আঃ)-এর জন্ম মিশরে হ’লেও তাঁর মৃত্যু হয় এখানে এবং তাঁর মৃত্যু হ’ল বায়তুল মুক্বাদ্দাসের উপকণ্ঠে। নিকটবর্তী তীহ প্রান্তরে মূসা, হারূণ, ইউনুস প্রমুখ নবী বহু বৎসর ধরে তাওহীদের প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন।[13] ঈসা (আঃ) এখানকার ‘বেথেলহামে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এখান থেকেই ইহূদী-নাছারাদের হত্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহ তাকে আসমানে উঠিয়ে নেন। কিয়ামতের পূর্বে তাঁর হাতেই এখানে ইয়াজূজ-মাজূজ ও দাজ্জাল ধ্বংস হবে। ‘তূর’ পাহাড়ও এখানে অবস্থিত।[14] ঈসা (আঃ) আবার পৃথিবীতে আসবেন মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উম্মত হয়ে।

ইসরাঈল জাতিসংঘকে মানে না : নানা কূটজালে জাতিসংঘ ১৯৪৯ সালে ইসরাঈলকে পৃথক রাষ্ট্র হিসাবে সদস্য করে নেয়। এ বিষয়ে ঐ সালের ১১ই মে তারিখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত ৩৭৩/৩ নং প্রস্তাব অনুযায়ী দু’টি শর্তের ভিত্তিতে ইসরাঈলকে জাতিসংঘের সদস্য হিসাবে গ্রহণ করা হয়। (১) কোন রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই ইসরাঈল জাতিসংঘ সনদ মেনে চলবে এবং সদস্য হবার পরদিন থেকেই সে উক্ত সনদ অনুযায়ী কাজ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবে। (২) বিশেষ করে সে ১৯৬৭ সালের ২৯শে নভেম্বর ও ১৯৪৮ সালের ১১ই জানুয়ারীতে গৃহীত প্রস্তাবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে। এই মর্মে উপরোক্ত প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়ন করার জন্য জাতিসংঘের নিয়োজিত বিশেষ রাজনৈতিক কমিটির সম্মুখে ইসরাঈলী প্রতিনিধি পূর্ণ বিবরণ ও ব্যাখ্যা সহ নোটিশ প্রদান করে।[15] ইসরাঈল  এ শর্তদ্বয় মেনে নেয় শুধু স্বীকৃতি পাবার জন্য। অথচ তার ধাপপাবাজি ও কূটকৌশলের প্রকৃতরূপ প্রকাশিত হয় মাত্র দু’মাস পরেই। ইসরাঈল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জাতিসংঘের বিশেষ কমিটিতে পেশ করা হয় যে, ‘ঘড়ির কাটা পিছনে ফিরে যায় না। এটা যেমন অসম্ভব, কোন আরব উদ্বাস্ত্তর পক্ষে তাদের ফেলে যাওয়া পুরাতন আবাসভূমিতে ফিরে আসা তেমনি অসম্ভব’।

সদস্যপদ লাভের সাত মাস পরে ১৯৪৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর ইসরাঈল নেসেটে বেনগুরিয়ান ঘোষণা করেন যে, জাতিসংঘ কর্তৃক  ১৯৪৯  সালের  ২৯শে  নভেম্বর  গৃহীত বিভক্তিকরণ প্রস্তাবকে ইসরাঈল বাতিল, অবাস্তব ও বেআইনী মনে করে। এভাবে ইসরাঈল জাতিসংঘের প্রস্তাবসমূহের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে এবং তা প্রত্যাখ্যান করে। অথচ উক্ত প্রস্তাবসমূহ মেনে চলবে বলে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। উল্লেখ্য, ঐ প্রস্তাবে প্যালেস্টাইনকে দু’টি পৃথক রাষ্ট্রে বিভক্ত করা এবং ফিলিস্তীনী উদ্বাস্ত্তদেরকে তাদের স্বদেশ ভূমিতে ফিরে আসার অধিকার অনুমোদন করা হয়েছে। আর ১৯৬৭ সালের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেই সেখানে দ্রুত শান্তি ফিরে আসত।

ইহূদীদের এই দ্বিমুখী চরিত্রের কারণে বিশ্বে কত বড় সংকট সৃষ্টি করছে তার হিসাব কে রাখে? সারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ইহুদীর সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখ এবং মুসলমানের সংখ্যা ১০০ কোটি। এই ইহুদীরাই সকল গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। মোট জনসংখ্যার মাত্র দশমিক ৯৩ শতাংশ হওয়ার পরও যেন ইহুদীরা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং হিংসা-বিদ্বেষ ও যুদ্ধ-বিগ্রহ ছড়িয়ে দিচ্ছে। আর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণে আমেরিকা ও ইসরাঈলী একে অপরকে ব্যবহার করছে। পর্যায়ক্রমে গোটা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণে রাখা ইসরাঈলের পরিকল্পনা। সেটা হয়ত আমেরিকান খৃষ্টানরাও টের পাচ্ছে না। আল্লাহ এদেরকে ‘অভিশপ্ত’ হিসাবে ঘোষণা করেছেন। এরা মানব জাতির শত্রু। এরা মধ্যপ্রাচ্যকে অশান্ত রাখতে চায়। এই সুযোগে পরাশক্তিগুলো ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছে। জাতিসংঘ ২১শে ডিসেম্বর’১৭ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ঘোষিত যেরুসালেমকে ইসরাঈলের রাজধানীর স্বীকৃতিকে বাতিল ও প্রত্যাখ্যান করে একটি বিল পাস করে। তবে এতেও ইসরাঈল সামান্যতম ভীত নয়। তাদের ভাবখানা হচ্ছে আমরাই বিশ্বে এখন অদ্বিতীয় শক্তি,  আমাদের রোখার  কেউ

নেই (?) জাতিসংঘের ধার আমরা ধারি না!

যেরুসালেম ও আল-আক্বছাকে উদ্ধারে করণীয় : দখলদার ইহুদী সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তির কবল থেকে ফিলিস্তীনকে উদ্ধার করতে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সেই সাথে নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে হবে।-

(১) ফিলিস্তীনী গোষ্ঠীগুলো বিশেষ করে ‘হামাস’ ও ‘ফাতাহ’-এর দ্বন্দ্ব নিরসন করে সকলকে এক ও ঐক্যবদ্ধভাবে দখলদার ইসরাঈলের বিরুদ্ধে লড়তে হবে এবং স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সামরিক প্রশিক্ষণকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। যেমনটি ইসরাঈল পূর্ব থেকে করে আসছে।

(২) ফিলিস্তীনীদেরকে শুধু জাতীয়তা বোধে নয় বরং নিজ মাতৃভূমি ও মুসলমানদের পবিত্র ভূমিগুলো রক্ষার জন্য ঈমানী চেতনা নিয়ে কাজ করতে হবে। এর জন্য বিজাতীয় সকল মতবাদ পরিহার করতে হবে।

(৩) ফিলিস্তীনী শাসক মাহমূদ আববাসকে মধ্যপ্রাচ্য সহ আন্তর্জাতিক মহল থেকে কূটনৈতিক সমর্থন আদায়ের জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং জাতিসংঘের কাছে দাবী করতে হবে যেরুসালেমকে ফিলিস্তীনীদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য।

(৪) এ বিষয়ে ‘আরবলীগ’ ও ‘ওআইসি’কে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে ফিলিস্তীনীদের সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে এবং ওআইসির তত্ত্বাবধানে বিকল্প সামরিক ও অর্থনৈতিক জোট গঠন করতে হবে।

(৫) দেশে দেশে গণতন্ত্রের নামে যে দ্বন্দ্ব চলছে মুসলমানদেরকে তা পরিহার করতে হবে এবং আল্লাহর বিধানের নিকট আত্মসমর্পণ করতে হবে। মোড়ল রাষ্ট্রগুলোর ওপর ভরসা কমিয়ে দান-ভিক্ষার জন্য দ্বারে দ্বারে না ঘুরে নিজ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইনছাফের সাথে দেশ ও জাতিকে পরিচালনা করতে হবে। দেশকে শক্তিশালী করার জন্য যুগোপযুগী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ বিষয়ে মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয়ে বিশ্বমুসলিম পরিষদ গঠন করতে পারে। যেমনটি ১৯৬৮ সালে কায়রো, মক্কা ও আম্মানে এবং ১৯৬৯ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ইসলামী সম্মেলনে ইহূদীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণার ব্যাপারে সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। এখনও এই প্রস্তাবটি কাজে লাগানো যেতে পারে।[16]

(৬) যেরুসালেম সমস্যা জাতিসংঘের যরূরী সভায় উত্থাপন করতঃ দ্রুত সমাধান করতে হবে।

উল্লেখ্য, এই যেরুসালেম সমস্যার সমাধান যদি সেই ১৯৪৮ সালেই করা হ’ত তাহ’লে আজকের ফিলিস্তীনের সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। মূলতঃ এই দুর্দশার জন্য জাতিসংঘের বিলম্বিত ও দুর্বল নীতিই দায়ী। প্রয়োজনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী রাষ্ট্রের ভেটো পাওয়ারের আইনকে বাতিল করতে হবে। কেননা সভ্যতার যুগে ‘এক রাষ্ট্র-একনীতি’র কারণে কার্যতঃ গোটা বিশ্বই শান্তির পরিবর্তে অশান্তির আধারে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ফিলিস্তীন বিষয়ে অসংখ্যবার ভেটো পাওয়ার প্রয়োগই তার প্রকৃষ্ট উদহারণ। একইভাবে চীন বা রাশিয়ার ভেটো ক্ষমতার কারণে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেনা ও বৌদ্ধ কর্তৃক নারকীয় ও বর্বরোচিত হত্যাকান্ডে প্রায় গোটা বিশ্ব এক হয়েও তা থামাতে পারেনি, তাদের ফেরৎ নেয়নি এবং তার কোন বিচার-ফায়ছালা আজও করতে পারছে না।

পরিশেষে বলব যে, মুসলমানদের ন্যায্য অধিকার অন্য কেউ আদায় করে দিবে না। মুসলমানদেরকেই তা আদায় করতে হবে। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অর্থনৈতিক আর রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করাও এ মুহূর্তে অত্যন্ত যরূরী। আল্লাহ আমাদের মযলূম ফিলিস্তীনী ভাই-বোনদের রক্ষা করুন এবং মসজিদুল আক্বছাকে হেফাযত করুন- আমীন!!

– শামসুল আলম
শিক্ষক, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহী।


[1]. দৈনিক ইনকিলাব, ৮ জানুয়ারী, ২০১৮, পৃ. ৭।

[2]. দিগদর্শন, (রাজশাহী : হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ফেব্রুয়ারী ২০১৬), ১/২১৭ পৃঃ।

[3]. দিগদর্শন, ১/২১৭।

[4]. মাহমূদ শীছ খাত্তাব, আরব বিশ্বে ইসরাঈলের আগ্রাসী নীল নক্সা, অনুবাদ : মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, (ঢাকা: প্রথম প্রকাশ, ইফাবা, ১৯৮৭), পৃ. ৬।

[5]. তদেব, পৃঃ ১১ (Palestine magazine vol. 3 no.17)

[6]. দিগদর্শন ১/২১৭।

[7]. দিগদর্শন ১/২১৮।

[8]. দিগদর্শন ১/২১৭।

[9]. ঐ, ১/২১৯।

[10]. মাজমাউল ফাতাওয়া ১৭শ’ খন্ড, ৩৫১ পৃঃ।

[11]. বুখারী হা/৩৮৮৬।

[12]. বুখারী হা/১১৮৯; মুসলিম হা/১৩৯০।

[13]. নবীদের কাহিনী দ্বিতীয় খন্ড, হা.ফা.বা, ডিসেম্বর’১৬, পৃঃ ৮২।

[14]. মুসলিম, হা/২৯৩৭; মিশকাত হা/৫৪৭৫।

[15]. আরব বিশ্বে ইসরাঈলের আগ্রাসী নীল নক্সা (অনুযায়ী, পৃ. ৪৯,৫০।

[16]. আরব বিশ্বে ইসরাঈলের আগ্রাসী নীলনক্সা, পৃ. ৬০।

মতামত দিন

Solve : *
1 × 22 =