পর্যালোচনা

আসুন একটু গভীরে চিন্তা করি

আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এমন একটা সময় আসে যখন আমরা কোনো কিছু পাওয়ার জন্য মারাত্মক রকমের ডেসপারেট হয়ে যাই। মনে করি এইটা না পেলে আমার জীবনটাই বুঝি শেষ। এনিহাউ এটা আমাকে পেতেই হবে। আর তখন আমরা সেই জিনিসটার জন্য আল্লাহর কাছে দিনরাত চাইতে থাকি, দোওয়া করি, নফল নামায পড়ি। আর আমরা মনে করি আমি যেহেতু আল্লাহর উপর বিশ্বাস করেছি, তার কাছে খালেস অন্তরে চেয়েছি, নিশ্চই তিনি আমাকে দিবেন। কিন্তু এতোকিছুর পরও আমরা যদি সেই জিনিসটা ফাইনালি না পাই, তখন আমাদের এই অনুভূতি হয় যে, এতো দোওয়া, জিকির, নামাযের পরও আল্লাহ আমার এই ছোট্ট চাওয়াটুকু পূরণ করলেন না!

ঠিক এই রকমের মুহুর্তগুলির জন্যই শয়তান অপেক্ষা করে। আমাদেরকে আস্তে আস্তে নাস্তিকতার দিকে ঠেলে দেয়। আমরা কখনো এতোটাই এক্সট্রিমে চলে যাই যে আমাদের মনে সংশয়ের সৃষ্টি হয়, স্রস্টা যদি সত্যিই থেকে থাকতেন তাহলে নিশ্চয় তিনি আমার ডাক শুনতে পেতেন, আমাকে সাহায্য করতেন। আমাকে এইরকম অসহায়ভাবে ছেড়ে দিতেন না। আমার রাতের পর রাত তাহাজ্জুদের নামাযগুলো, আমার তাসবীহগুলো, আমার প্রতিদিনের তাঁর কাছে কান্নাকাটিগুলো, কই কিছুই তো তিনি শুনলেন না! তাহলে আমি কেনোই বা শুধু শুধু তার কাছে চাইতে যাবো?

কিংবা কখনো যদি আমাদের উপর কোনো কঠিন বিপদ নেমে আসে। যেমন ধরা যাক জন্মের সময় সন্তানের মৃত্যু হলো। কিংবা কোনো পথ-দূর্ঘটনায় কেউ মারা গেলো। কিংবা কেউ দুরারোগ্য কোনো ব্যাধিতে আক্রান্ত হলো। অথচ যার উপর এই বিপদগুলো এলো সে হয়তো অনেক নেক-পরহেজগার ছিলো। দ্বীনদার ছিলো। নিয়মিত নামায পড়তো। ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনো কাজ করতো না যাতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। আর তারই উপরে কিনা আল্লাহ এতো বড় বিপদ দিলেন?

কিংবা কখনো যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, যেমন বন্যা, ভুমিকম্প, সুনামী; আর সেখানে হাজার হাজার নিরপরাধ নর-নারী শিশু মারা যায়, যাদের মধ্যে হয়তো আমাদেরও প্রিয়জনেরা থাকে, আমরা তখন এগুলো সহজে মেনে নিতে পারি না।

আমরা তখন আল্লাহর ইচ্ছার উপর প্রশ্ন করতে শুরু করি, অভিযোগ করতে শুরু করি। তাকদীরে বিশ্বাস হারাতে শুরু করি। আল্লাহ কেনো এই নিরপরাধ মানুষগুলোকে এভাবে যন্ত্রণা দিলেন, কষ্ট দিলেন, মৃত্যু দিলেন? আল্লাহ যদি ন্যায়বিচারকই হবেন তো কেনো তিনি এই পৃথিবীর দুর্নিতীবাজ, সন্ত্রাসী আর শয়তান মানুষগুলোর ওপর তাঁর গজব না পাঠিয়ে বরং নিরীহ মানুষগুলোকে শাস্তি দিতে দিচ্ছেন?

আমি দেখেছি, সিরিয়াতে আজ যে জেনোসাইড চলছে, লক্ষ লক্ষ নিষ্পাপ শিশুদের খুন করা হচ্ছে, ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হচ্ছে, মা-বোনদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে; কিংবা এরকম পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিমরা কল্পনাতীতভাবে অত্যাচারীত হচ্ছে, এগুলো দেখে আমাদের অনেকের মনেই স্রস্টার বিরুদ্ধে হাজার রকমের প্রশ্ন জাগে। আমরা অভিযোগের পর অভিযোগ তুলি। “কেনো তুমি ওদের উপর এতো জুলুম করছো? কেনো তুমি ওদেরকে সাহায্য করছো না? তারা তোমার কী বিগড়ে ছিলো যে তুমি ওদের এতো কষ্ট দিচ্ছো? তুমি কি সত্যিই আছো?” নাউজুবিল্লাহ। আর এইভাবে আমরা এক-পা দু-পা করে নাস্তিকতার দিকে এগোতে থাকি!

আর এইরকমের চিন্তাভাবনা থেকেই কোনো এক নাস্তিক ফেসবুকে একদিন আপডেট দিয়েছিলো “ধর্ম যদি উপহার দেয় শিশু মৃত্যুর শোক, প্রতিটি মায়ের গর্ভে নাস্তিকের জন্ম হোক।” আর তার সেই পোস্টটা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করেছিলো, যার মধ্যে আমাদের মতো অনেক বেকুব মুসলিমরাও ছিলো!

আসলে এইরকমের সব চিন্তা-ভাবনার মূলে আমার মতে একটাই কারন, সেটা হলো, ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ইলমের অভাব। ঈমান, আকীদা, তাকদীর – ইসলামের এই ফানডামেন্টাল জিনিসগুলো সম্পর্কেই আমাদের সঠিক জ্ঞান নেই। যদিও আমরা মুখে বড় বড় সব কথা বলি। নিজেদেরকে পাক্কা মুসলিম বলে পরিচয় দিই। নামায-রোজাও করি। এমনকি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বুজুর্গের মতো ফেসবুকে তর্কবিতর্ক করি। অথচ দ্বীনের ন্যুনতম ইলম আমরা রাখি না। এটা এযুগের নব্য ফিতনাও বলা যায়।

আমাদের জেনে রাখা উচিত যে, ঈমান, আকীদা, তওহীদ, শিরক, হালাল-হারাম – দ্বীনের এইসমস্ত মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে যতটুকু ইলম হাসিল না করলেই নয় ততটুকু হাসিল করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ। আজ আমাদের ঘরে ঘরে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রোফেশার, উচ্চশিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী; কিন্তু আমরা হয়তো এটাই জানি না যে ঈমানের কয়টি আরকান, কিংবা সঠিকভাবে সূরাহ ফাতিহাটাই উচ্চারন করতে জানি না!

তো যাকগে, আমাদের এইসব হাজার রকমের অভিযোগ আর প্রশ্নের উত্তরে আসিঃ

আমাদের জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ আমাদেরকে যে বিপদগুলি দেন সেগুলি সাধারণত দুই ধরনের – এক হলো আল্লাহর দিক থেকে আমাদের জন্য পরীক্ষা (যেটাকে কোরআনে অনেক জায়গাতে ‘ফিতনা’-ও বলা হয়েছে), আর দ্বিতীয়টা হলো শাস্তি (যেটাকে আমরা আল্লাহর ‘আযাব’ বা ‘গজব’ বলি)। আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে; এই পরীক্ষা বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট, প্রাণহানি, রোগ-ব্যাধি, কিংবা ক্ষয়-ক্ষতির আকারে আসতে পারে; আবার আসতে পারে অতিরিক্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, যশ-খ্যাতি, আধিপত্য, কিংবা ধনসম্পদের প্রাচু্র্যের আকারেও। অন্যদিকে, আল্লাহ মানুষের উপর তখনই গজব পাঠান যখন মানুষ পাপ কাজ করে, মারাত্মক গোনাহে লিপ্ত হয়।

পরীক্ষার ব্যাপারে আমাদের জেনে রাখা উচিত যে, আমাদের এই পার্থিব জীবনটাই একটা পরীক্ষা। যে পরীক্ষার জন্য আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছন। যেটার ফল আমরা পাবো মৃত্যুর পর, পরকালের জীবনে। হয় জান্নাত, না হয় জাহান্নাম। পৃথিবীতে আমরা মেডিক্যাল বা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে চান্স পাওয়ার জন্য এন্ট্রান্স এক্সাম দিই। কিংবা কোনো নামীদামী স্কুল-কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য অ্যাডমিশান টেস্ট দিই। আর আমরা সকলেই এটা মানবো যে, যে পদটা যত বেশী গুরুত্বপূর্ণ, যত বেশী মূল্যবান হবে, তার জন্য পরীক্ষাটাও ততো বেশী কঠিন হবে। তো আপনি কি জান্নাতের মতো মহামূল্যবান একটি সম্পদকে অনন্তকালের জন্য পেতে চাইছেন কোনো রকমের পরীক্ষা না দিয়েই?

আল্লাহ তা’আলা বলছেনঃ

তোমরা কি মনে করেছো যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমরা এখনো তাদের অবস্থা প্রাপ্ত হওনি যারা তোমাদের পূর্বে বিগত হয়েছে। তাদেরকে স্পর্শ করেছিলো কষ্ট ও দুর্দশা এবং তারা কম্পিত হয়েছিলো। এমনকি রাসূল ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিলো তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছিলো যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য! জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। (সুরা আল-বাকারাহ, ২:২১৪)

এবং অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, ধন-সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি, ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। আর (হে নবী) তুমি ধৈর্য্যশীলদের সুসংবাদ দাও। (সুরাহ আল-বাকারাহ, ২:১৫৫)

অবশ্যই তোমাদেরকে তোমাদের ধন-সম্পদ ও তোমাদের নিজ জীবন সম্পর্কে পরীক্ষা করা হবে। আর অবশ্যই তোমরা শুনবে তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে এবং মুশরিকদের পক্ষ থেকে অনেক কষ্টদায়ক কথা। আর তোমরা যদি ধৈর্যধারণ করো আর তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে অবশ্যই তা হবে দৃঢ় সংকল্পের কাজ। (সুরাহ আলে ইমরান, ৩:১৮৬)

সুতরাং একজন মু’মিন সর্বদা প্রস্তুত থাকবে আল্লাহর দিক থেকে সমস্ত রকমের পরীক্ষার জন্য। কোনো দুরারোগ্য ব্যাধি হোক, দুর্ঘটনায় সন্তানের কিংবা প্রিয়জনের অকাল-মৃত্যু হোক, অন্যায়ভাবে তার উপর কিংবা পরিবারের উপর জুলুম হোক, অক্লান্ত পরিশ্রম করার পরও সে এক্সামে ফেইল হোক, তার সবচেয়ে নিজের কেউ তার সাথে প্রতারনা করুক – এইভাবে জীবনে যত রকমের বিপদই আসুক না কেনো সে এগুলোকে আল্লাহর দিক থেকে পরীক্ষা হিসেবে মনে করবে। আল্লাহর প্রতিটি ইচ্ছার উপর সে সন্তুষ্ট থাকবে। সবর করবে। অন্যদিকে কারো জীবনে যদি কোনো ধরনের বিপদ-আপদ না আসে, তাহলে তার সন্দেহ করা উচিত যে, সে ইসলামের সঠিক পথে আছে তো? কেননা একজন মু’মিনের জীবন কখনো এতো আরামদায়ক, ক্লেশহীন হওয়ার কথা না।

এখন সিরিয়ার ওই নিষ্পাপ শিশুগুলোর কথাই ভাবুন, যাদের প্রতিদিন হত্যা করা হচ্ছে মিসাইল, ড্রোন, কিংবা রাসায়নিক অস্ত্রের দ্বারা। কিংবা তাদের পিতামাতার কথা ভাবুন, যারা প্রতিদিন নিজের সন্তানের জানাযা পড়ছে। কিংবা ভাবুন রোহিঙ্গাদের কথা, যাদেরকে শুধুমাত্র মুসলিম পরিচয়ের জন্য পাশবিকভাবে খুন করা হচ্ছে, ধর্ষণ করা হচ্ছে, জীবন্ত গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আসলে এগুলো সবই আল্লাহর দিক থেকে তাদের জন্য যেমন পরীক্ষা, ঠিক তেমনি আমাদের জন্য তথা মুসলিম উম্মাহর জন্যও পরীক্ষা। তারা যদি এতে ধৈর্য্য ধারণ করে তাহলে ইনশাআল্লাহ তারা কাল আখেরাতে শহীদের মর্যাদা পাবে। তারা বিনা হিসাবেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তাদের পিতামাতারা শহীদের পিতামাতা হিসেবে সম্মানিত হবেন। জান্নাতে নিজেদের মর্যাদা, সম্মান, আর আল্লাহর নিয়ামত দেখে তারা সেদিন ইচ্ছা প্রকাশ করবে যে, হায়! পৃথিবীতে এইরকম যদি হাজারবার নিহত হতাম!

অন্যদিকে এটা আমাদের জন্য পরীক্ষা যে, আমরা নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য থেকে উম্মাহর জন্য কতটুকু দিতে পারছি। নবীজী (সাঃ) বলেছেন, “আমার সমগ্র উম্মাহ একটি অভিন্ন দেহের ন্যায়। যদি সেই দেহের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথা পায়, তাহলে তার ব্যথায় সারা শরীরই ব্যথিত হয়” (মুসলিম)। তাই আজ উম্মাহর বিপদের সময় আমরা কি তাদের পাশে দাড়াচ্ছি, নিজেদের সর্বাধিক সাধ্যমতো তাদেরকে সাহায্য করছি, না আমরা শুধু নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছি – এটাই আমাদের জন্য পরীক্ষা। আর কাল আখেরাতে নিশ্চয় আমরা এর জন্য জিজ্ঞাসিত হবো।

আল্লাহ তা’আলা বলছেনঃ “আর তোমাদের কি হলো যে, তোমরা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করছো না সেইসব অসহায়-দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুদের জন্য, যারা বলেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দাও; এখানকার অধিবাসীরা ভয়ানক অত্যাচারী! আর তোমার তরফ থেকে কাউকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার তরফ থেকে কাউকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও।” (কুরআন ৪:৭৫)

এখন আপনি ভাবতে পারেন, তাই বলে শুধুমাত্র পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ তার বান্দার উপর এতো কঠিন বিপদ দেবেন? এমনকি নিষ্পাপ শিশুগুলোও তার থেকে রেহাই পাবে না?

এরকমটা আপনার এজন্যই মনে হচ্ছে যেহেতু আপনি দুনিয়াকে তার প্রাপ্যের চেয়ে অনেক বেশী মূল্য দিয়ে ফেলেছেন। জী হ্যাঁ। প্রকৃতপক্ষে আখেরাতের তুলনায় এই রঙীন পৃথিবীটা নেহাতই মূল্যহীন। যার দাম আল্লাহর কাছে একটা মাছির ডানা বরাবরও না! তাই পৃথিবীর এই ক্ষণস্থায়ী দুঃখ-কষ্ট কিংবা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আখারাতের সাপেক্ষে কিছুই না। এটা আপনি হয়তো আজ অনুভব করতে পারছেন না, কিন্তু কাল আখেরাতে ঠিকই বুঝতে পারবেন।

আনাস ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ(সা) বলেন যে, পুনরুত্থানের দিন এমন একজন ব্যক্তিকে আনা হবে যে পৃথিবীতে আরাম-আয়েশ এবং প্রাচুর্যতার মধ্যে জীবন কাটিয়েছিলো কিন্তু এখন সে জাহান্নামের বাসিন্দা হবে। এই লোকটিকে একবার মাত্র জাহান্নামের আগুনে ডুবানো হবে এবং জিজ্ঞেস করা হবেঃ হে আদমসন্তান! তুমি কি (দুনিয়াতে) কোনও শান্তি বা কোনও সম্পদ পেয়েছিলে? সে উত্তর দিবেঃ আল্লাহর কসম! না, ও আমার রব! এবং এরপর এমন একজন ব্যক্তিকে আনা হবে যে জান্নাতের বাসিন্দা কিন্তু সে পৃথিবীতে সবচেয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটিয়েছিলো। এই লোকটিকে জান্নাতে একবার মাত্র ডুবানো হবে এবং তাকে জিজ্ঞেস করা হবেঃ হে আদমসন্তান! তুমি কি (দুনিয়াতে) কোনও কষ্টের মধ্যে ছিলে? সে বলবেঃ আল্লাহর কসম! না, ও আমার রব! আমি দুনিয়াতে কখনোই কোনো কষ্টের সম্মুখীন হইনি বা কোনো দুর্দশায় পড়িনি। (সহীহ মুসলিম)

জী হ্যাঁ, এক মুহূর্তের জান্নাতের স্বাদের কাছে দুনিয়ার পাহাড় পরিমাণ কষ্টও নগন্য। অপরদিকে এক মুহূর্তের জাহান্নামের আযাবের কাছে পৃথিবীতে রাজা-বাদশাহের মতো আরাম-আয়েশও নগন্য।

যে সমস্ত নিরপরাধ মুসলিমদেরকে আজ শুধুমাত্র তাদের মুসলিম পরিচয়ের জন্য, কিংবা দাড়ি-টুপির জন্য, জঙ্গী তকমা দেওয়া হচ্ছে, কোনোরকম প্রমাণ ছাড়াই জঙ্গী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তারপর কারাগারে চলছে অকথ্য পাশবিক অত্যাচার; আর এইভাবে একদিন দু’দিন নয়, বরং বছরের পর বছর, এমনকি কারো পুরো জীবনটাই শেষ হয়ে যাচ্ছে টর্চার শেইলের মধ্যে থার্ড ডিগ্রী টর্চারে। যে দু’চারজনের নাম আমরা খবরের কাগজে পড়ছি যে কেউ হয়তো ১০ বছর, কিংবা ১৫ বছর, কিংবা ২০ বছর পর নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে অবশেষে ছাড়া পেলো; কিন্তু এরকম কতো অসংখ্য জন আছে যারা হয়তো আর নির্দোষ প্রমাণিতই হলো না! হুম, এটাও তাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় রকমের পরীক্ষা। আল্লাহ তাদেরকে সবর করার তৌফীক দিন। ইনশাআল্লাহ ইনশাআল্লাহ, কাল আখেরাতে তুমি এর বিনিময়ে এতো বড় নিয়ামত পাবে যে তোমার আর কোনো অভিযোগ থাকবে না। বরং দুনিয়ার এই অত্যাচারের জন্য সেদিন তুমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করবে।

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’কিয়ামতের দিন ভোগবিলাসে জীবন-যাপনকারীরা যখন দেখবে বিপদ-মুসীবতগ্রস্ত লোকদেরকে সাওয়াব দেওয়া হচ্ছে, তখন তারা আক্ষেপ করে বলবে, হায়! যদি দুনিয়াতেই তাদের চামড়া কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলা হতো।’’ (তিরমিযি ২৪০২)

মনে করুন, ফেরাউনের স্ত্রী, বিবি আসিয়ার কথা। যখন তার চোখের সামনে একে একে তার সন্তানদেরকে ফুটন্ত তেলে ফেলে দেওয়া হচ্ছিলো, কই তিনি তো কোনো অভিযোগ করেন নি। কিংবা মনে করুন, সুরাহ বুরুজে বর্ণিত ওইসব মু’মিনদের কথা, যখন তারা ঈমান হারানোর চেয়ে আগুনে ঝাপ দেওয়াকেই শ্রেয় মনে করেছিলো, কই তারাও তো কোনো অভিযোগ করে নি। যখন খাব্বাবকে (রাঃ) জলন্ত অঙ্গারের উপর চিত করে রেখে দেওয়া হতো, আর আগুনে পুড়ে পিঠের চর্বিগুলো গলে জলন্ত অঙ্গারগুলোকে নিভিয়ে দিতো, যার জন্য তার পিঠে বড় বড় গর্ত তৈরে হয়েছিলো; কই তিনি তো বলেন নি, হে আল্লাহ! কেনো এতো শাস্তি দিচ্ছো আমাকে? কিংবা যখন বিলালকে (রাঃ) তপ্ত মরুভূমিতে শুইয়ে বুকের উপর পাথর চাপিয়ে দেওয়া হতো, কই তিনিও তো বলেন নি, হে আল্লাহ! কেনো এতো শাস্তি দিচ্ছো আমাকে?

সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ)-কে একবার জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর নবী! কোন ধরনের লোককে বিপদাপদ দিয়ে সবচেয়ে বেশী পরীক্ষা করা হয়? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’নবীদেরকে। তারপর তাদের পরে যারা উত্তম তাদেরকে। মানুষকে আপন আপন দ্বীনদারীর অনুপাতে পরীক্ষা করা হয়। দ্বীনদারীতে যে যত বেশী মজবুত হয় তার উপর বিপদ মুসিবত তত বেশী কঠিন হয়। দ্বীনের ব্যপারে যদি মানুষের দুর্বলতা থাকে, তার বিপদও ছোটো ও সহজ হয়। এভাবে তার উপর বিপদ আসতে থাকে। আর এ নিয়েই সে মাটিতে চলাফেরা করতে থাকে। পরিশেষে এমন একটা সময় আসে যখন তার কোনো গুনাহই অবশিষ্ট থাকে না।’’ (তিরমিযি ২৩৯৮, ইবন মাযাহ ৪০২৩)

সুতরাং জীবনে যত বড়ই দুঃখ-কষ্ট-বিপদ আসুক না কেনো, হতাশ হবেন না, ভেঙ্গে পড়বেন না, অভিযোগ করবেন না; বরং সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহর সিদ্ধান্তকে মেনে নেন, সবর করুন। বরং সন্তুষ্ট হন, কেননা “আল্লাহ যখন কাউকে ভালবাসেন, তখন তাকে পরীক্ষা করেন।” (আহমাদ)

রাসূলুল্লাহ (সা) বলেনঃ কোনো ঈমানদারের উপর যখন কোনো ক্লান্তি, অসুখ, দুঃখ, বেদনা, আঘাত, যন্ত্রণা আসে, এমনকি তার যদি একটা কাঁটার খোঁচাও লাগে – এর জন্যও আল্লাহ তার কিছু গুনাহ মাফ করে দেন। (সহীহ বুখারী)

রাসূলুল্লাহ (সা) আরো বলেনঃ মু’মিনের ব্যাপারটা আশ্চর্যজনক, তার সাথে যা ঘটে তা-ই তার জন্য কল্যাণকর। যখন আনন্দদায়ক কিছু ঘটে তখন সে আল্লাহকে শুকরিয়া জানায় এবং এটা তার জন্য আরো ভালো হয়। এবং যখন তার কোনো বিপদ হয় তখন সে ধৈর্য ধরে এবং এটা তার জন্য আরো ভালো হয়। আর এরকম হয় শুধুমাত্র মু’মিনের ক্ষেত্রে। (সহীহ মুসলিম)

অন্যদিকে কোনো বিপদ-আপদ যখন আল্লাহর গজব বা শাস্তি হিসেবে আমাদের উপর আপতিত হয় তাহলে মনে রাখতে হবে, এটা আমাদেরই গোনাহের ফল। আল্লাহ তা’আলা কোরআনে বলেন, “তোমাদের উপর যে বিপদ-আপদ আপতিত হয়, তাতো তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল। আর তিনি তোমাদের অনেক গোনাহই ক্ষমা করে দেন।” (সুরাহ আশ-শুরা, ৪২:৩০)

এখন আমাদের উপর কোনো বিপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবে আসুক কিংবা শাস্তি হিসেবেই আসুক – দুটোই মু’মিনদের জন্য রহমত স্বরূপ। কেননা এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষাস্বরূপ হলে আমরা যদি তাতে ধৈর্য ধারণ করি তাহলে এর বিনিময়ে আমাদের জন্য রয়েছে মহা পুরষ্কার। অন্যদিকে এটা যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তিস্বরূপ হয় তাহলে যে গোনাহের জন্য এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে এই শাস্তির বিনিময়ে সেই গোনাহকে দুনিয়াতেই মাফ করে দেওয়া হয়। সেইসাথে আশা করা যায় যে, এতে আমরা নিজেদের গোনাহের ব্যাপারে সতর্ক হবো, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবো, আর ভবিষ্যতে এই গোনাহ থেকে বিরত থাকবো।

আমি এমন অনেক কাউকেই দেখেছি, যে হয়তো একসময় আরাম আয়েশে ডুবে দ্বীন থেকে পুরোপুরি গাফেল হয়ে জীবন কাটাতো। অতঃপর কোনো এক কঠিন বিপদ আসার পর তার জীবনটা আমূল বদলে গেলো। সে নিজের ভুল বুঝতে পারলো এবং আল্লাহর দিকে অভিমুখী হলো।

এখন কারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আল্লাহ তাহলে ওই সব অবিশ্বাসী, জালিম, রক্তপিপাসু, বর্বর, অত্যাচারীদের শাস্তি দিচ্ছেন না কেনো, যারা মানুষের উপর জুলুম করছে, অন্যায়-অবিচার করছে, হত্যা করছে, ধর্ষন করছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, ফিতনা ছড়াচ্ছে। তারা তো বরং আয়েশ ফুর্তি করে জীবন কাটাচ্ছে। সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, গাড়ি-বাড়ি, ধনসম্পদ, মান-যশ, প্রভাব-প্রতিপত্তি, আধিপত্য সবই আছে তাদের। তারা বরং রাষ্ট্র চালাচ্ছে, মানুষের নেতৃত্ব দিচ্ছে, সবাই বরং তাদেরই তোষামোদ করছে! কই, তাদের তো আল্লাহ পাকড়াও করছেন না? একজন সাধারণ মানুষ যখন তার চোখের সামনে এই রকম চিত্র দেখতে পাই যে, নিরপরাধ, সৎ, স্রস্টাতে বিশ্বাসী, ভালো মানুষগুলোকে তাদের সততার মাশুল দিতে হচ্ছে, অত্যাচারিত হতে হচ্ছে; অন্যদিকে ওই নরপাশন্ডরা, স্রস্টাতে অবিশ্বাসীরা, আরাম-আয়েশে জীবন কাটাচ্ছে; তাহলে এইরকম পরিস্থিতিতে একজন মানুষ কি করে স্রস্টাতে বিশ্বাস করবে? কি করে সে মনে করবে যে, আল্লাহ হলেন ন্যায়পরায়ণকারী, তিনি কারো উপর জুলুম করেন না?

ঠিকআছে, আমি আপনাকে এক মুহূর্তের জন্য কল্পনা করতে বলবো এমন এক পৃথিবীর কথা যেখানে কেউ পাপ করলেই, কোনো অন্যায়-অপরাধ করলেই আল্লাহ তাকে সাথে সাথে শাস্তি দেন। মনে করুন, যে স্রস্টাকে অবিশ্বাস করবে তার জমিতে আল্লাহ বৃষ্টি দেবেন না। কিংবা ধরুন, যে প্রতিমা পূজা করবে সে বাতাস থেকে অক্সিজেন টেনে নিতে পারবে না। কিংবা যেকেউ একটা মিথ্যা কথা বললো, সঙ্গে সঙ্গে সে বোবা হয়ে গেলো। কেউ কোনো দুর্বলের উপর হাত উঠালো, সাথে সাথে তার হাত প্যারালাইজড হয়ে গেলো। কেউ কাউকে অন্যায়ভাবে খুন করলো, সাথে সাথে সে মারাত্মক যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো, আর মারা গেলো। এইরকমভাবে মনে করুন, প্রত্যেক অপরাধের জন্য স্রস্টা যদি অপরাধীকে ইন্সট্যান্ট শাস্তি দেন, আর এটাই যদি প্রকৃতির নিয়মের মতো একটা নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ভাবুন তো আমাদেরকে যে পরীক্ষার জন্য পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে সেটা কি তখন আদৌ কার্যকরী হবে? কারন চোখের সামনে এই অলৌকিক ঘটনাগুলো দেখলে তখন ‘ঈমান বিল গাইব’, অর্থাৎ ‘না দেখে বিশ্বাস’ জিনিসটাই থাকবে না। মনে করুন আমাদের চোখের সামনে যদি আজ জান্নাত-জাহান্নামকে এনে দেওয়া হয় তাহলে আমরা কি তখন আর ঈমানের ভিত্তিতে কোনো কাজ করবো? বরং আমরা যা করবো পুরোটাই আমাদের চর্মচক্ষুতে দেখার উপর ভিত্তি করে। তখন তো ঈমান জিনিসটাই মূল্যহীন হয়ে যাবে। তাহলে আমাদের ‘না দেখে বিশ্বাস’-এর পরীক্ষাটাই আর থাকলো কোথায়? সেইসাথে তখন তো আমরা আমাদের free will অনুযায়ী আর কাজ করবো না, বরং আমরা তখন অনেকটা বাধ্য হয়েই সবকিছু করবো ঠিক যেমনটা স্রস্টা চান, আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে, অনেকটা রোবটের মতো। তাহলে আমাদের free will এর পরীক্ষাটাই আর থাকলো কোথায়?

তাই এইরকম একটা কাল্পনিক পৃথিবীতে আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে পাঠান নি। বরং তিনি আমাদেরকে স্বাধীনতা দিয়েছেন, ক্ষমতা দিয়েছেন, free will দিয়েছেন। আমরা নিজের ইচ্ছামতো যা কিছু করার ক্ষমতা রাখি। আপনি স্রস্টাতে অবিশ্বাসী হতে পারেন, আপনি প্রতিমা পূজারী হতে পারেন, আপনি মুনাফিক হতে পারেন, আল্লাহ আপনাকে ছূট দিয়েছেন, আপনাকে স্বাধিনতা দিয়েছেন। ন্যায়, অন্যায়; ঠিক, বেঠিক; ভালো, মন্দ – দু’টো রাস্তায় আমাদের সামনে খোলা। এখন আমাদের জন্য পরীক্ষা এটাই যে, আমরা নিজেদের মন মোতাবেক, স্রেফ নিজেদের খাহেশ মেটাতে আমাদের যা ভালো লাগে সেটা করছি, না আমাদের স্রস্টা যেটাকে ঠিক বলেছেন, যেটাকে ন্যায় বলেছেন আমরা সেটা করছি, যদিও সেটা আমাদের ইচ্ছাবিরুদ্ধ হয়। এটাই আমাদের free will এর পরীক্ষা। স্রস্টাকে না দেখেই তাঁর প্রতি আমাদের বিশ্বাস এর পরীক্ষা।

আর এই পরীক্ষাটাকে আরেকটু নিখুঁত করার জন্য তিনি পৃথিবীকে এমনভাবে সাজিয়েছেন, যেখানে ন্যায়ের পথে, হকের পথে, সততার পথে মানুষকে কষ্ট পোহাতে হয়; অন্যদিকে অসৎ পথে, বাতিলের পথে, অন্যায়ের পথে বড়ই আনন্দ আর মজা পাওয়া যায়। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “জান্নাত দুঃখ-কষ্ট ও শ্রমসাধ্য বিষয় দ্বারা ঘেরা এবং জাহান্নাম কু-প্রবৃত্তি ও লোভ-লালসা দ্বারা ঘেরা।” (সূনান আত-তিরমিজী, অধ্যায়ঃ ৩৬, হাদীসঃ ২৫৫৯)

নাহলে আল্লাহ চাইলেই পারতেন এমন একটা পৃথিবী তৈরি করতে যেখানে কেউ কোনো গোনাহ করতে পারতো না। কোনো অন্যায়-অপরাধ করতে পারতো না। যেখানে কোনো দুঃখ থাকতো না, কষ্ট থাকতো না, কারো উপর কোনো জুলুম হতো না। যেখানে সবাই সুখী হতো। যেখানে কোনো গরীবী থাকতো না, অনাহার থাকতো না। যেখানে কোনো অসুখ থাকতো না। বার্ধক্য থাকতো না। পঙ্গুত্ব থাকতো না। মৃত্যু থাকতো না। কিন্তু এরকম একটা পৃথিবী হলে তখন আর পরীক্ষার কোনো মূল্যও থাকতো না। বিচারদিবস, পরকাল, জান্নাত-জাহান্নাম – এগুলো তৈরি করাও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়তো!

তাই আল্লাহকে যখন না দেখে বিশ্বাস করেছেন, তখন তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তে আত্মসমর্পণ করুন। তাকদীরের প্রতিটি জিনিসের উপর সন্তুষ্ট থাকুন। আপনার বিশ্বাসের ভিতটাকে দুর্বল হতে দেবেন না। আল্লাহ আপনাকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দান করলে, তাঁর নিয়ামত আস্বাদন করালে অহংকারী হবেন না, উদ্ধত হবেন না; তাঁর সুখরিয়া আদায় করুন, কৃতজ্ঞ হন। আর আপনাকে বিপদ-আপদ দিলে অভিযোগ করবেন না, হতাশ হবেন না; ধৈর্য ধরুন, সবর করুন। আল্লাহ আমাদের সকলকে বোঝার তৌফীক দিন।

Credit: Muhammad Haider

মতামত দিন

Solve : *
19 + 20 =