তাবলীগ প্রশ্ন ও উত্তর

খ্রিস্টান ভাইদের প্রতি জিজ্ঞাসা

খ্রিস্টান ভাইদের প্রতি যীশু সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা
জিজ্ঞাসা-১
আপনারা বলেন ‘ঈসা’ শব্দের অর্থ নাজাতদাতা, মুক্তিদাতা, পরিত্রাণদাতা। বলুন তো এই অর্থটি কোন অভিধানে আছে? ঈসা শব্দটি আরবী। আরবী কোনো অভিধানে ঈসা শব্দের অর্থ নাজাতদাতা নেই। এ বিষয়ে কী বলবেন?
জিজ্ঞাসা- ২
মসিহ শব্দের অর্থ বলা হয়েছে, মনোনীত ব্যক্তি, এটাও একই রকম। কোনো আরবী অভিধানে এই অর্থ লেখা নেই। এটাও আপনাদের মনগড়া বানানো অর্থ। এভাবে বিভ্রান্তির কারণ কী ?
জিজ্ঞাসা- ৩
যীশু যদি প্রভুই হবেন তাহলে তার আবার বংশ তালিকার প্রয়োজন হয় কেন?

জিজ্ঞাসা- ৪
যীশু যদি আল্লাহর ছেলে হয় তাহলে তার বংশ মানুষের সাথে লাগবে কেন?
জিজ্ঞাসা- ৫
যীশুর জন্ম যদি আল্লাহর কুদরতে হয় তাহলে আবার অন্য এক ব্যক্তিকে পিতা বানাতে হয় কেন?
জিজ্ঞাসা- ৬
যীশুর পিতা কয় জন? বাইবেলে কোথাও যীশু ইশ্বর পুত্র। আবার বংশ তালিকায় পিতা হলো ইউসুফ এমনটি কেন?
জিজ্ঞাসা- ৭
যিশুর বংশতালিকায় পুরুষ গণনায় ভুল কেন? দেখুন এ ব্যাপারে বাইবেল কী বলে? মথিলিখিত সুসমাচারের ১ম অধ্যায়ের ১-১৭ শ্লোকে যীশুর বংশতালিকা বর্ণনা করা হয়েছে। ১৭ শ্লোকটি নিম্নরূপ: “এইরূপে আব্রাহাম অবধি দায়ূদ পর্যন্ত সর্বশুদ্ধ চৌদ্দ পুরুষ; দাউদ অবধি বাবিলে নির্বাসন পর্যন্ত চৌদ্দ পুরুষ; এবং বাবিলে নির্বাসন অবধি খ্রিস্ট পর্যন্ত চৌদ্দ পুরুষ।”
এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, যীশুর বংশতালিকা তিন অংশে বিভক্ত, প্রত্যেক অংশে ১৪ পুরুষ রয়েছে এবং যীশু থেকে আব্রাহাম পর্যন্ত ৪২ পুরুষ। এ কথাটি সুস্পষ্ট ভুল। মথির ১/১-১৭-ও বংশ তালিকায় যীশু থেকে আব্রাহাম পর্যন্ত ৪২ পুরুষ নয়, বরং ৪১ পুরুষের উল্লেখ রয়েছে। প্রথম অংশ: ইবরাহীম আ. থেকে দাউদ আ. পর্যন্ত ১৪ পুরুষ, দ্বিতীয় অংশ সুলাইমান আ. থেকে যিকনিয় পর্যন্ত ১৪ পুরুষ, তৃতীয় অংশ শল্টীয়েল থেকে এবং যীশু পর্যন্ত মাত্র ১৩ পুরুষ রয়েছেন। তৃতীয় খ্রিস্টিয় শতকে বোরফেরী এই বিষয়টি সম্পর্কে আপত্তি উত্থাপন করেন, কিন্তু এর কোনো সঠিক সমাধান কেউ দিতে পারেননি। এধরণে বহু ভুল বাইবেলে উল্লেখ আছে। বইটির পরিধি বৃদ্ধির ভয়ে এখানে এই কয়েকটি পেশ করলাম।
জিজ্ঞাসা- ৮
কুরআন অনুযায়ী ঈসার প্রকৃত অনুসারী কে ? কুরআন VS খ্রিস্টান ১.কুরআন বলে যীশু আল্লাহর বান্দা। ২.কুরআন বলে, যীশু রাসূল ছিলেন। ৩. কুরআন বলে, আল্লাহকে ছাড়া আর কারো উপাসনা করা যাবে না। ৪. কুরআন বলে যীশু শুধু বনী ইসরাইলের জন্য আদর্শ। ৫. কুরআনে যীশু বলেন আল্লাহই আমার প্রতিপালক তোমরা তারই ইবাদত কর। ৬ কুরআন বলে, ঈসা আ. আল্লাহর নির্দেশে পাখির মধ্যে রুহ ফুক দিতেন এবং মৃত মানুষকে তাঁরই নির্দেশে জীবিত করতেন। ৭. কুরআন বলে, ঈসা আ.-কে শূলিতে চড়ানো হয়নি। ৮. কুরআন বলে, ঈসা আ. কে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। ৯. কুরআন বলে এক আল্লাহর উপাসনা কর। ১০. কুরআন বলে যীশু নবী ছিলেন। ১. খ্রিস্টানগণ বলেন যীশু নিজেই আল্লাহ। ২. খ্রিস্টানগণ বলেন যীশু আল্লাহর পুত্র ছিলেন। ৩. খ্রিস্টানগণ বলেন, তিন স্রষ্টার উপাসনা করতে হবে। ৪. খ্রিস্টানগণ বলেন, যীশু সকল জাতির জন্য। ৫. খ্রিস্টানগণ বলেন, তিনজন প্রতিপালক, তাদেরই ইবাদত কর। ৬, খ্রিস্টানগণ বলেন, তিনি নিজের ক্ষমতায় ফুঁ দিয়ে পাখি বানাতেন ও মানুষ জিন্দা করতেন। ৭. খ্রিস্টানগণ বলেন, যীশু আ. কে শূলিতে চরানো হয়েছে (ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে)। ৮. খ্রিস্টানরা বলে, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন পরে কবর দেয়া হয়েছে, তিনদিন পর আবার জীবিত হয়েছেন। তরিকুল জান্নাতঃ পৃঃ ২৮ ৯. খ্রিস্টানরা বলে, তিন খোদার উপসনা কর। ১০. খ্রিস্টানরা বলে, যীশু প্রভু ছিলেন।
জিজ্ঞাসা- ৯
আপনি যীশুর উপর বিশ্বাসী হয়ে একটি পরীক্ষা দিতে পারবেন কি? বাইবেলের মার্ক লিখিত সুসমাচারের ১৬:১৭-১৮ নং পদে লেখা আছে – যীশু বলেন, ‘‘যারা বিশ্বাস করে তাদের মধ্যে এই চিহ্নগুলো দেখা যাবে, আমার নামে তারা মন্দ আত্মা ছাড়াবে, তারা নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে, তারা হাতে করে সাপ তুলে ধরবে, যদি তারা ভীষণ বিষাক্ত কিছু খায় তবে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না আর তারা রোগীদের গায়ে হাত দিলে রোগীরা ভালো হবে।’’ – মার্ক ১৬:১৭-১৮
এখন খ্রিস্টান ভাইদের প্রতি আমার প্রশ্ন, আপনি কি সত্যিই যীশুকে বিশ্বাস করেন? যদি বলেন হ্যাঁ, তাহলে এই চিহ্নগুলোর ওপর আমল করে দেখান। অর্থাৎ আরবী, ফার্সি, চাইনিজ, মালয় ইত্যাদি ভাষায় কথা বলুন, ভীষণ বিষাক্ত বিষ খেয়ে দেখান, আর হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের গায়ে হাত বুলিয়ে দিন যেনো তারা ভালো হয়ে যায়। যদি এই চিহ্নগুলো না দেখাতে পারেন, তাহলে বুঝা যাবে, প্রকৃত পক্ষে যীশুর ওপর আপনার কোনো বিশ্বাসই নেই। কেউ হয়তো বলতে পারেন, আমার বিশ্বাস অসম্পূর্ণ; যদি পূর্ণ বিশ্বাস থাকতো তাহলে এই পরীক্ষায় পাস করা সম্ভব হতো।
ব্যাপারটি যদি এমনই হয়। তাহলে আমি আবার একটু জানতে চাইবো, আপনার কি তাহলে কিঞ্চিত পরিমাণ বিশ্বাস আছে? যদি বলেন হ্যাঁ, তাহলে এবার আপনাকে নিজ কিঞ্চিত বিশ্বাসের পরীক্ষা দিতে হবে। বাইবেলের মথি লিখিত সুসমাচারের ১৭:২০ নং পদে আছে ‘‘যীশু তাদের বললেন, “ তোমাদের অল্প বিশ্বাসের জন্যই পারলে না। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, যদি একটা শর্ষে দানার মতো বিশ্বাসও তোমাদের থাকে তবে তোমরা এই পাহাড়কে বলবে, ‘এখান থেকে সরে ওখানে যাও, আর তাতে ওটা সরে যাবে। তোমাদের পক্ষে কিছুই অসম্ভব হবে না।” – মথি – ১৭:২০
এবার বলবো আপনার সামনে যদি পাহাড় থাকে, সেটাকে সরে যেতে বলুন, দেখুন সরে কিনা। যদি পাহাড় না থাকে তাহলে সামনের গাছটিকে বলে দেখুন সরে কিনা। যদি তাও না সরে তাহলে বুঝা যাবে, আপনার কোনো বিশ্বাস নেই। কারণ আপনি কাজের দ্বারা বিশ্বাস দেখাতে পারেননি। আর এই বিশ্বাস আপনাকে মুক্তিও দেবে না। এ কথাও আপনাদের ধর্মীয়গ্রন্থ বাইবেলে উল্লেখ আছে। দেখুন যাকোবের ২:১৪ এর শুরুতেই আছে “কাজের দ্বারা বিশ্বাস দেখাও ‘আমার ভাইয়েরা যদি কেউ বলে তার বিশ্বাস আছে কিন্তু কাজে তা না দেখায় তবে তাতে কী লাভ? সেই বিশ্বাস কি তাকে পাপ থেকে উদ্ধার করতে পারে?” – যাকোব – ২:১৪
আপনার গ্রন্থই বলছে আপনার এই বিশ্বাস আপনাকে মুক্তি দিতে পারবে না। এখন প্রশ্ন জাগে কেন মুক্তি পাওয়া যাবে না। কারণ যেহেতু উক্ত চিহ্নগুলো আপনারা দেখাতে পারেন না। এর পরও কি এই মানব রচিত ধর্মে থাকবেন?
জিজ্ঞাসা- ১০
যীশুখ্রিস্টের ধর্ম কী ছিল? খ্রিস্ট শব্দটি একটু বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। নামকরণ ও সংজ্ঞা: খ্রিস্ট যীশুর একটি খেতাব যা হতে খ্রিস্টিয়ান বা খ্রিস্ট ধর্ম শব্দের উদ্ভব। আসলে খ্রিস্ট ধর্ম নামটি খ্রিস্টানধর্মগ্রন্থ বাইবেল অনুযায়ী স্রষ্টা প্রদত্ত শব্দ নয়, বা যীশু কিংবা তার শিষ্যগণ বা পূর্বের কোনো ভাববাদী তা উল্লেখ করেননি। এমনকি খ্রিস্টধর্ম শব্দটি খ্রিস্টধর্ম গ্রন্থে নেই। খ্রিস্টিয়ান ব্যাখ্যা মতে খ্রিস্টধর্ম বলতে বুঝায় খ্রিস্টের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ধর্ম। খ্র্রিস্টধর্মের উৎস: ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী খ্রিস্টধর্মের উৎস হল ইয়াহুদী ধর্ম এবং যীশুর জীবনী ও শিক্ষার সমন্বয়। ইয়াহুদী ধর্ম একক সত্যময় ঈশ্বরের ধারণা প্রদান করে।
যীশুর সাক্ষ্যে যীশুর ধর্ম যীশুর সাক্ষৎ তার ধর্ম ছিল অভিন্ন ¯্রষ্টার ইচ্ছা পালন করা। তিনি বার বার বলেছেন, তারই ইচ্ছামতই হোক (মথি-২৬:৩৯) তারই ইচ্ছামত কাজ করতে চাই। ( যোহন-৫: ৩০) তার ইচ্ছা পালন করা, (যোহন-৪:৩৪) ইত্যাদি। ইচ্ছা পালন করা অর্থাৎ বিধাতার ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করা আরবীতে এক কথায় ইসলাম। অতএব যীশুর ধর্ম খ্রিস্টধর্ম বা মসিহী জামাত বা ঈসায়ী ছিল না। বরং ইসলাম ছিল তার প্রকৃত ধর্ম । এখন প্রশ্ন জাগে- তাহলে যীশু কোন ধর্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য এসেছিলেন? তিনি নতুন কোনো ধর্ম আনেননি। বরং পূর্বের ধর্ম প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “মনে করিওনা যে আমি (পূর্বের ) ভাববাদী গ্রন্থ লোপ করিতে আসিয়াছি, আমি লোপ করিতে আসি নাই, কিন্তু পূর্ণ করিতে আসিয়াছি। (মার্ক- ৫:১৭)
জিজ্ঞাসা- ১১
আপনাদের প্রভূকে কিছু দুষ্ট লোক শূলে চড়াল, অপমান করল। যিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারল না তিনি আবার খারাপ লোকদের রক্ষা করতে পারবে কিভাবে?
জিজ্ঞাসা -১২
যীশু কি বলেছেন আমি তিন জনের একজন? বাইবেল থেকে এর প্রমাণ দিতে পারবেন কি? পক্ষান্তরে কুরআন বলে ‘তোমরা তাকে তিনের এক বলো না’। তিনি নবী।
জিজ্ঞাসা – ১৩
যীশু কি বলেছেন তোমরা বাইবেলের অনুসরণ কর? বাইবেল থেকে এর প্রমাণ দিতে পারবেন কি?
জিজ্ঞাসা- ১৪
আপনাদের বিশ্বাস অনুযায়ী যীশু কবরে কয় দিন কয় রাত ছিলেন ? তিনি যা বলেছেন তাকী বাস্তবায়ন হয়েছে? দেখুন বাইবেল কি বলে। – তাঁর এই কথাগুলো বাস্তবায়ন হয়েছিল কি? মথি (১২/৩৯)- যীশু বলেন”, তিনি উওর করিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, এই কালের দুষ্ট ও ব্যভিচারী লোকে চিহ্নের অনে¦ষণ করে, কিন্তু যোনা ভাববাদীর চিহ্ন ছাড়া আর কোন চিহ্ন ইহাদিগকে দেওয়া যাইবে না। কারণ যোনা যেমন তিন দিন ও তিন রাত্র বৃহৎ মৎস্যের উদরে ছিলেন, তেমনি মনুষ্যপুত্রর তিনদিন ও তিন রাত্র পৃথিবীর গর্ভে থাকিবেন।” যোহন (২০/১-১৮)
জিজ্ঞাসা -১৫
যীশুর জীবনী কি আল্লাহর কালাম হতে পারে? কোনো ব্যক্তি বা নবীর জীবনী কখনো আল্লাহর কালাম হতে পারে না। প্রচলিত ইঞ্জিলে সূচি পত্রের শুরুতে লেখা আছে ‘হযরত ঈসা মসীহের জীবনী ’ আর জীবনী যেহ আল্লাহর কালাম হতে পারে না। তাই এই প্রচলিত ইঞ্জিলও আল্লাহর কালাম নয়।
জিজ্ঞাসা- ১৬
মানুষের লেখা চিঠি-পত্র কি আল্লাহর কালাম হতে পারে? এই প্রচলিত ইঞ্জিলে ২৭টি অধ্যায় আছে এর মধ্যে ১৪টি হলো সেইন্ট পলের স্বরচিত চিঠি। যীশুকে আকাশে উঠিয়ে নেয়ার অনেক পরের সেইন্ট পল নামে একজন মানুষ বিভিন্ন জাতিকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখেছে। এই মানব রচিত চিঠি আল্লাহর কালাম হয় কী ভাবে?
জিজ্ঞাসা- ১৭
আপনারা বলেন, যীশু নিষ্পাপ তাই তিনি শূলিতে চড়ে সকলের পাপ মাফ করে দিয়েছেন। এক পাপি অন্য পাপীকে মুক্তি দিতে পারবে না। আমরা দেখতে পাচ্ছি বাইবেল অনুযায়ী যীশু পাপী। তাহলে তিনি পাপ থেকে পরিত্রাণ দিবেন কী ভাবে? দেখুন বাইবেল কী বলে- ১. “যীশু মানুষদেরকে গালিগালাজ করতেন”মথি (১৬/২৩) মানুষকে গালি দেয়া কি পাপ নয়? ২. যীশুর অহেতু গাছকে অভিশাপ দিয়ে মেরে ফেলা। মথি (২১/১৮-২১)- মার্ক (১১/১৩-১৪)- অহেতু গাছকে অভিশাপ দিয়ে মেরে ফেলা কি পাপ নয়? ৩. যীশু অহেতুক কিছু অবুঝ প্রাণীকে সমুদ্রে ডুবিয়ে মারেন। মার্ক (৫/১০-১৩)- অবুঝ প্রাণীকে সমুদ্রে ডুবিয়ে মারা কি পাপ নয়? ৪.উলঙ্গ হয়ে চলাফেরা করা’’ যিশাইয় (২০/২-৪)- উলঙ্গ হয়ে চলাফেরা করা কি পাপ নয়? ৫.মানুষের মল ও গোবিষ্ঠা ভক্ষণ করা” যিহিঙ্কেল (৪/৪-১৫)- মানুষের মল ও গোবিষ্ঠা ভক্ষণ করা কি পাপ নয়? ৬.“অকারণে হত্যা করা ও অভিশাপ দেওয়া”: মথি (২১/১৮-২১)- “অকারণে হত্যা করা ও অভিশাপ দেওয়া কি পাপ নয়? ৭. . “যীশুর নিরপরাধ প্রাণীকে হত্যা করা’’ মথি (৮/২৮-৩২)- . “যীশু নিরপরাধ প্রাণীকে হত্যা করা কি পাপ নয়?
জিজ্ঞাসা- ১৮
যীশু পৃথিবীতে কেন এলেন ? শান্তি দিতে না অশান্তির আগুন জ্বালাতে ? বাইবেল অনুযায়ী যীশু অশান্তি সৃষ্টির জন্য এসেছেন। আর এটা কিভাবে সম্ভব যে একজন নবী বা ঈশ্বর অশান্তির জন্য এসেছেন ? মথি ১০/৩৪ নিম্নরূপ: “ মনে করিও না যে আমি পৃথিবীতে শান্তি দিতে আসিয়াছি ; শান্তি দিতে আসি নাই, কিন্তু খড়গ দিতে আসিয়াছি। লূক ১২/৪৯ ও ৫১ নি¤œরূপ: “(৪৯) আমি পৃথিবীতে অগ্নি নিক্ষেপ করিতে আসিয়াছি; আর এখন যদি তাহা প্রজ্বলিত হইয়া থাকে, তবে আর চাই কি ?…(৫১) তোমরা কি মনে করিতেছ, আমি পৃথিবীতে শান্তি দিতে আসিয়াছি? তোমাদিগকে বলিতেছি, তাহা নয়, বরং বিভেদ সৃষ্টি করিতে আসিয়াছি।” এখানে বলা হয়েছে যে, তিনি খড়গ, হানাহানি, ধ্বংস ও বিভেদ সৃষ্টির জন্য আগমন করেছেন। এ থেকে বুঝা যায় যে, তিনি মুক্তি, শান্তি, মিলন ও রক্ষার জন্য আগমন করেননি; কাজেই যাদেরকে ধন্য বলা হবে এবং ঈশ্ব^রের পুত্র বলা হবে তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত নন। যিনি অশান্তির জন্য এসেছেন তিনি আবার মানুষের পাপ মুক্ত করবে কিভাবে?
জিজ্ঞাসা-১৯
প্রকৃত নাম কি? যীশু না ঈসা? আপনারা বলেন, নামের অনুবাদ। নামের কখনো অনুবাদ হয় না। যেমন যখন লেখা হয় বারাক ওবামা সবভাষায় এই নামই লেখা হয়। নামের অর্থ লেখা হয় না। তাহলে আপনারা এমনটি করেণ কেন?বাইবেল সম্পর্কিত কিছু জিজ্ঞাসা
জিজ্ঞাসা – ২০
খ্রিস্টান ভাইদের জিজ্ঞাসা করবো, এ কথা বাইবেলে কোথায় আছে বাইবেল সকল মানুষের জন্য? আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, বাইবেলের কোথাও নেই তাওরাত ইঞ্জিল সকল মানুষের জন্য। বা বাংলাদেশীদের জন্য। আপনি যেই গ্রন্থকে বিশ্বাস করছেন সেটাই তো আপনার জন্য নয়। তাহলে আপনি কিসের উপর প্রতিষ্ঠিত আছেন? তা বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নিন। বুঝার চেষ্টা করুন আপনি কি সত্যের উপর আছেন, না ভুলের উপর চলছেন। পক্ষান্তরে কুরআন সকল মানুষের জন্য হেদায়াত নামা। চাই মানুষটি খ্রিস্টান হোক, হিন্দু হোক, মুসলমান হোক। যেই হোক না কেন, সকল মানুষের জন্য এই কুরআন। আল্লাহ পাক বলেছেন, “রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত।” সূরা বাকারা – আয়াত হিন্দু, খ্রিস্টান, মুসলিম সকলেই মানুষ। আর কুরআনও সকল মানুষের জন্য। অতএব, কোনো খ্রিস্টান যদি মানুষ হয়ে থাকেন, তাহলে তাকে কুরআন মানতে হবে। তবেই সে হেদায়াত পাবে।
জিজ্ঞাসা-২১
খ্রিস্টান ভাইদেরকে জিজ্ঞাসা করবো, বলুনতো আপনাদের বাইবেল/তাওরাত ইঞ্জিল কোন ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে? ঈসা নবী কোন ভাষায় কথা বলতেন? যদি বলেন অরমীয়। তাহলে বাইবেল লেখা হয়েছে কোন ভাষায়? আপনি বলবেন হিব্রু ভাষায়। যেই ভাষায় ঈসা নবী কথা বলতেন ইঞ্জিল প্রচার করতেন, সেই ভাষায় ইঞ্জিল লেখা হলো না, লেখা হলো অন্য ভাষায় কেন ?
জিজ্ঞাসা-২২
প্রথমেই ভাষার হেরফের হয়ে গেল, পরবর্তীতে যেই ভাষায় অর্থাৎ হিব্রু ভাষায় যেই ইঞ্জিল বা বাইবেল লেখা হলো, সেই ভাষা কি এখন প্রচলিত আছে? জিজ্ঞাসা-২৩
যীশুকে আসমানে উঠিয়ে নেয়ার পর থেকে ৩০০ বছরের মধ্যে সময়ের ইঞ্জিল কেউ দেখাতে পারবেন কি? আমি বহু খ্রিস্টান ভাইদের এই ওপেন চ্যালেঞ্জ করেছি, কেউ দেখাতে পারেনি। আর পারবেই বা কি ভাবে, নেই তো; যা আছে তারমধ্যে আবার অসংখ্য ভুল। বৈপরিত্যের তো কথায় নেই। বিকৃতির তো অভাবই নেই।
জিজ্ঞাসা- ২৪
বর্তমানে আমরা যেই বাইবেল দেখি তা হলো বাংলা অনুবাদ। কিন্তু সাথে আসলটি দিয়ে দেয়া উচিৎ ছিল। সেটি দেওয়া হলো না কেন? পক্ষান্তরে কুরআন আরবী ভাষায়, যেই নবীর উপর কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে, তার ভাষা ছিল আরবী। প্রত্যেক নবীর উপর যেই কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে তা সেই নবীর মাতৃভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। একটি জিনিস বুঝার বিষয়, কুরআন মূলত লিখিত ভাবে আসেনি। আল্লাহ পাক তা মানুষকে মুখস্থ করিয়ে অন্তরে অন্তরে হেফাজত করেছেন। এই ভাষা মুখস্থ করাও সহজ, লক্ষ লক্ষ কুরআনের হাফেজ, ফলে এর মাধ্যমে কুরআনকে হেফাজত করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসা- ২৫
খ্রিস্টান ভাইদেরকে জিজ্ঞাসা করবো, বাইবেল, কিতাবুল মুকাদ্দাস, বর্তমান প্রচলিত তাওরাত, ইঞ্জিল এগুলো আল্লাহর কালাম একথা কি প্রমাণ করতে পারবেন? এগুলো আসমানি গ্রন্থ একথা কুরআন ও বাইবেলে কোথাও আছে কি?
জিজ্ঞাসা- ২৬
খ্রিস্টান ভাইদেরকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, বলুন তো আল্লাহর কালাম কি পরিবর্তন হতে পারে ? উত্তরে বলবেন, না। আমি বলবো যেটা পরিবর্তন হয় সেটা আল্লাহর কালাম হতে পারে না। আর যদি বাইবেলের মধ্যে পরিবর্তন পাওয়া যায় তাহলে সেটাও আল্লাহর কালাম নয়। বর্তমান বাইবেল যে পরিবর্তন হয় তার কিছু প্রমাণ নিম্নে উল্লেখ করছি।
জিজ্ঞাসা-২৭
বাইবেলে পরির্বতন ও পরিবর্ধন কেন? আল্লাহর কালামে কি পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হতে পারে? এ ব্যাপারে এখানে কিছু প্রমাণ পেশ করছি।
১নং প্রমাণ কেরী বাইবেলের ভুমিকাতেই লেখা হয়েছে “গত দুইশত বৎসরে বেশ কয়েকবার এই বাইবেল সংশোধিত হয়েছে এবং প্রায় ৫০ বৎসর পূর্বে শেষ বারের মত সংশোধিত হয়েছে বলে জানা যায়। বেশ কয়েক বৎসর পূর্বে দুই বাংলার বাইবেল সোসাইটির নীতি নির্ধারকগণ বর্তমান প্রজন্মের জন্য বাইবেলের আরো একটি সংশোধনের প্রয়োজন আছে বলিয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন।
প্রিয় পাঠক! আপনিই বলুন- আল্লাহর কালামের কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হয় না। আর যেটার সংশোধনের প্রয়োজন হয়, সেটা আল্লাহর কালাম হতে পারেনা। বাইবেল বা কিতাবুল মুকাদ্দাস ইত্যাদির যেহেতু সংশোধনের প্রয়োজন হয় তাই এগুলোও আল্লাহর কালাম নয়। এর মধ্যে পরিবর্তন পরিবর্ধন হয়। এর একটি জলন্ত প্রমাণ নিম্নে পেশ করলাম।
প্রমাণ নং-২ বাইবেলের ২ বংশাবলী ২১:২০ এ আছে অহসিয়র পিতা যিহুরাম রাজার বিবরণ। তিনি ৩২ বছর বয়সে রাজত্ব লাভ করেন। ৮বছর রাজত্ব করেন। এর পর তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৪০ বছর। তার মৃত্যুর পর তারই কনিষ্ঠ ছেলে অহসিয় রাজত্বভার গ্রহণ করেন। সে সময় তার বয়স ছিল ৪২ বছর । তাহলে বুঝা গেল পিতার চেয়ে ছেলে ২ বৎসরের বড়’। এটা হলো কেরী বাইবেলের তথ্য। বাইবেলের পরবর্তি এডিশনে ৪২ এর স্থানে ২২ বছর লিখে দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তন কারা করল? কেন করল?
জিজ্ঞাসা- ২৮
প্রচলিত তাওরাত, ইঞ্জিল কি আল্লাহর কালাম ? প্রচলিত তাওরাত-ইঞ্জিল বিকৃত ও মানবরচিত গ্রন্থ। কুরআনে তার অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়। পাঠকদের বুঝার সুবিধার্থে নিম্নে কয়েকটি প্রমাণ পেশ করলাম। ১ নং প্রমাণ: “ তোমাদের কিছু লোক নিরক্ষর। তারা মিথ্যা আকাঙক্ষা ছাড়া আল্লাাহ্র গ্রন্থের কিছুই জানে না। তাদের কাছে কল্পনা ছাড়া কিছুই নেই। “ অতএব, তাদের জন্য আফসোস। যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে অবতীর্ণ- যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব, তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্যে এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্যে।” প্রিয় পাঠক! উপরে কুরআনের বিবরণ থেকে বুঝতে পেরেছেন তারা কিভাবে পরিবর্তন করেছে। এখনও পোপ বা ফাদারগণ টাকার বিনিময়ে পাপ ক্ষমা করিয়ে দেন। কোনো খ্রিস্টান যদি বড় ধরনের পাপ করে তারা পোপ বা ফাদারদেরকে টাকা দিয়ে পাপ মার্জনা করিয়ে আনে। আয়াতের দ্বিতীয় অংশ তাদের বাস্তব কর্মের সাথে মিলে যায়। আল্লাহ নিজেই তাদের জন্য আক্ষেপ করেছেন। আল্লাহ সকল খ্রিস্টান ও অমুসলিম ভাই-বোনকে হেদায়াত দান করুন। আমীন।
২নং প্রমাণ: প্রচলিত তাওরাত-ইঞ্জিল আল্লাহর কালাম নয়। এগুলোর পূর্বের কিতাবে যা কিছু ছিল সেগুলোও তারা পরিবর্তন করেছে। দেখুন আল্লাহ তাআলা বলেন- يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَوَاضِعِهِ. “হে রাসূল, তাদের জন্যে দুঃখ করবেন না, যারা দৌড়ে গিয়ে কুফরে পতিত হয়; যারা মুখে বলে: আমরা মুসলমান, অথচ তাদের অন্তর মুসলমান নয় এবং যারা ইহুদি; মিথ্যা বলার জন্যে তারা গুপ্তচর বৃত্তি করে। তারা অন্য দলের গুপ্তচর, যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা বাক্যকে স্বস্থান থেকে পরিবর্তন করে।” এই আয়াতের প্রথম অংশের সম্বোধনটি মিলে যায় বর্তমান কিছু খ্রিস্টানদের সাথে। তারা নিজেদের মুসলমান দাবি করতে চায়। নিজেদেরকে ঈসায়ী মুসলিম বলে পরিচয় দেয়। এদের অন্তরে থাকে কুফর। মূলত এরা খ্রিস্টান। মুসলমানদের ধোকা দেয়ার জন্যই এই নাম ব্যবহার করে। তারা মুসলমানদের উদ্দেশ্যে, বাইবেলের নাম পরিবর্তন করেছে। মুসলমানদেরকে ধোকা দেয়ার জন্য নাম দিয়েছে কিতাবুল মুকাদ্দাস। সেখানে তারা ইসলামী পরিভাষা ব্যবহার করেছে। হে আল্লাহ! তাদেরকে হেদায়াত দান করুন। মুসলমানদেরকে তাদের চক্রান্ত হতে হেফাজত করুন। আমীন। আল্লাহ বলেন “তারা বাক্যকে স্বস্থান থেকে পরিবর্তন করে।” যেমন বাইবেল পরিবর্তন করে বানিয়েছে কিতাবুল মুকাদ্দাস। এমন বহু প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। বইটির কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে এখানে উল্লেখ করা সম্ভব হলো না।
৩নং প্রমাণ: “অতএব তাদের জন্য আফসোস। যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ- যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্যে এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্যে।” যেমন বাইবেল, প্রচলিত তাওরাত , ইঞ্জিল, কিতাবুল মুকাদ্দাস।
৪নং প্রমাণ: “হে আহ্লে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রাসূল আগমন করেছেন। কিতাবের যেসব বিষয় তোমরা গোপন করতে, তিনি তার মধ্য থেকে অনেক বিষয় প্রকাশ করেন এবং অনেক বিষয় মার্জনা করেন। তোমাদের কাছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি এসেছে এবং একটি সমুজ্জ্বল গ্রন্থ।” নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের মাধ্যমে তাদের স্বরূপ উদঘাটন হয়েছে। কুরআন এসেছে। এটাকে তাদের মানা উচিৎ। এটা একটি সমুজ্জল গ্রন্থ। পবিত্র কুরআনের বাণী দ্বারা পরিষ্কারভাবে আমরা জানতে পারলাম, ইহুদি খ্রিস্টানগণ তাদের গ্রন্থের কিছু অংশ গোপন করেছে, নিজ হাত দ্বারা লিখে পরিবর্তন করে দিয়েছে। আর বলছে এগুলো আল্লাহ্র পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আল্লাহ্র বাণী। এছাড়া আরো বহু প্রমাণ কুরআানে বিদ্যমান এখানে এ কয়টিই উল্লেখ করলাম। এখন আমরা দেখবো তাওরাত, ইঞ্জিল, কিতাবুল মুকাদ্দাস যে তাদের হাতের লিখিত কিতাব যা পরিবর্তনশীল, তার দু-একটি চিত্র । ২য় রাজাবলীর ৮/২৬ শ্লোকে উল্লেখ আছে “অহসীয় রাজা ২২ বৎসর বয়সে রাজত্ব গ্রহণ করেন। পক্ষান্তরে ২য় বংশাবলীর ২২/২ শ্লোকে বলা হয়েছে ৪২ বৎসর বয়সের কথা। উভয় বর্ণনার বৈপরিত্য দেখুন ২০ বৎসর বয়সের ব্যবধান। ২য় বংশাবলীর ২১/২০ এবং ২২/১-২ শ্লোকে অহসিয়ের পিতা যিহোরাম এর মৃত্যুকালীন বয়স বলা হয়েছে ৪০ বৎসর, এবং তার পর পরই অহসিয় সিংহাসনে বসেন। সুতরাং ২য় তথ্যটি যদি সঠিক হয় তবে প্রমাণীত হয় ছেলের চাইতে পিতা ২ বৎসরের ছোট। আর এ ধরনের মিথ্যা বানোয়াট কথা কখনো আল্লাহ্র বাণী হতে পারে না।
ইঞ্জিল নামে প্রচলিত গ্রন্থটি সেইন্ট পল নামের এক ধুর্ত খ্রিস্ট বিরোধী ইহুদির লিখিত কিছু চিঠি। আর কিছু পুস্তিকার নাম। কথিত ইঞ্জিলে মোট ২৭ টি অধ্যায়। তার মাঝে ১৪ টি অধ্যায়ই তার লিখিত চিঠি। এতে রয়েছে যীশুএর জীবনী, তাকে শূলিতে চড়ানো, আকাশে উঠিয়ে নেওয়া এমনকি আকাশে উঠিয়ে নেওয়ার পরের ইতিহাসও তাতে স্থান পেয়েছে। সুতরাং উক্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনার দ্বারা স্পষ্ট বুঝা গেল, বর্তমান প্রচলিত ইঞ্জিল যদি যীশুর ওপর অবতারিত ইঞ্জিল হতো তাহলে যীশুকে আকাশে উঠিয়ে নেয়ার পরবর্তী ঘটনা তাতে থাকতো না। তাওরাত-ইঞ্জিল যদি আল্লাহ্র বাণীই হতো, তবে এই গ্রন্থে কোনো প্রকারের ভুল-ভ্রান্তি, বৈপরীত্য বা অশ্লীল কথা থাকতো না। অথচ তাতে হাজারো ভুল ও বৈপরিত্য পরিলক্ষিত হয়। বহু ইহুদি খ্রিস্টান গবেষক তাদের গ্রন্থের উপর গবেষণা করে একথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে এই গ্রন্থ নবীগণের অনেক পরবর্তী যুগের কোনো ব্যক্তি বর্গের। যার ফলে এতে রয়েছে ব্যাপক ভুল-ভ্রান্তি ও বৈপরীত্য।
জিজ্ঞাসা-২৯
আপনারা কি বাইবেল সংকলনের ইতিহাস জানেন? যদি বলেন হ্যাঁ তাহলে এই বাইবেল মানেন কিভাবে ? যদি বলেন না। তাহলে আপনাদের জন্য এখানে সংক্ষিপ্ত ভাবে বাইবেল সংকলনের ইতিহাস পেশ করছি। (ক) তাওরাত-ইঞ্জিল কখনই সাধারণ মানুষের পাঠ্য বই ছিল না। বরং একান্ত কতিপয় ধর্মগুরু বা পুরোহিত বছরে দুই একটি অনুষ্ঠানে বা প্রয়োজনে তা করতেন। সাধারণ মানুষের জন্য বাইবেল পাঠ নিষিদ্ধ ছিল। কয়েক‘শ বছর আগেও বাইবেল পাঠ করলে আগুনে পুড়িয়ে মারা হতো। (খ) মূসা আ. তাওরাতের একটি মাত্র কপি সিন্ধুকের মধ্যে রেখে গিয়েছেন, প্রতি সাত বছর পর পর তা পড়ার জন্য। কিন্তু তার মৃত্যুর সাত বছরের মধ্যেই ইহুদিরা তার ধর্ম ত্যগ করে র্শিক কুফুরে লিপ্ত হয়ে যায়। এভাবে তাওরাতের পা-ুলিপিটি হারিয়ে যায়। শত শত বছর পরে লোক মুখের প্রচলনে তা লিখা হয়। (গ) যীশুর শিষ্যগণ তার ইঞ্জিল লেখেননি। কারণ, তিনি তাদের বলেছিলেন যে, তারা জীবিত থাকতেই কেয়ামত হবে। যীশুর শিষ্যগণ এ কথায় বিশ্বাস করতেন ও ভবিষ্যদ্বাণী করতেন যে, তারা জীবিত থাকতেই কেয়ামত এসে যাবে। এ বিশ্বাসের ভিত্তিতে ইঞ্জিলে আল্লাহ্র কালাম লিখতে নিষেধ করা হয়েছে: “আর তিনি আমাকে কহিলেন , তুমি এ গ্রন্থের ভাব বাণীর বচন সকল মুদ্রাঙ্কিত করিয় না (লিখিয় না); কেননা সময় সন্নিকট। যে অধর্মচারী, সে ইহার পরও অধর্মাচরণ করুক এবং যে কলুষিত সে উহার পরেও কলুষিত হউক; এবং যে ধার্মিক, সে ইহার ধর্মাচারণ করুক ; এবং যে পবিত্র সে ইহার পরেও পবিত্রকৃত হউক।”
(ঙ) খ্রিস্টান গবেষক পাদরীগণ একমত যে, যীশুর তিরোধানের পরে দুইশত বছরের মধ্যে প্রচলিত ইঞ্জিল গুলির কোনো নাম কোথাও পাওয়া যায় না। এ সময়ে খ্রিস্টানগণ অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে বিভিন্ন দেশে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করেছেন। কিন্তু কেউ যীশুর ইঞ্জিলের কোনো লিখিত রূপ সংরক্ষণ করেননি। প্রথম শতাব্দির মধ্যেই এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে খ্রিস্টান চার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বিশপ নিযুক্ত হয়েছে। এসকল বিশপের অনেক চিঠি ও বই এখনো সংরক্ষিত আছে। কিন্তু সেগুলিতে প্রচলিত ইঞ্জিল গুলির কোনো নাম উল্লেখ নেই। দুুইশত বছর পর্যন্ত কোনো চার্চে কোনো ইঞ্জিল শরীফ সংরক্ষিত রাখা বা পঠিত হওয়া তো দূরের কথা এগুলির কোনো উল্লেখই পাওয়া যায় না। অর্থাৎ মথি, মার্ক, লুক, ও যোহনের লেখা ইঞ্জিল নামে কোনো পুস্তক যে পৃথিবীতে বিদ্যমান একথাটিই দুইশত বছর পর্যন্ত কেউ জানতো না। এটি কোনো বিতর্কিত তথ্য নয়, বরং সকল খ্রিস্টান কর্তৃক স্বীকৃত সত্য ।
(চ) প্রায় তিনশত বছরের মাথায় সমাজে অগণিত ইঞ্জিল শরীফ প্রকাশ পেতে থাকে। পরবর্তী কয়েক‘শ বছর যাবত সাধু পলের অনুসারী ত্রিত্ববাদী পাদরীগণ এ সকল ইঞ্জিলের মধ্য থেকে তাদের পছন্দসই ইঞ্জিল গুলি বাছাই করে “সঠিক” (canonical) এবং বাকী ইঞ্জিল গুলিকে “সন্দেহজনক” ((non canonical/ apo cryphal) ) বলে দাবি করেন। কোনটি সঠিক এবং কোন্টি সন্দেহজনক তা নিয়েও তাদের মতভেদের অন্ত নেই। আবার “সঠিক” ইঞ্জিলগুলির পান্ডুলিপিগুলির মধ্যেও অগণিত বৈপরীত্য ও ভুলভ্রান্তি বিদ্যমান। পক্ষান্তরে কুরআন এমনটি নয়।
জিজ্ঞাসা- ৩০
আপনাদের বাইবেল অনুযায়ী জাগতিক সমস্যা সমূহের সমাধান দেয়া কি সম্ভব? নিম্নে কিছু তালিকা দিচ্ছি, বাইবেল থেকে কি এর উত্তর আপনারা দিতে পারবেন? আশাকরি পারবেন না। কারণ, বইবেল হলো অসম্পূর্ণ একটি গ্রন্থ। এটা মানব রচিত গ্রন্থ। এর মধ্যে মানবজাতির কোনো সমস্যার সমাধান নেই। আমি নিম্নে কিছু তালিকা দিচ্ছি বাইবেল দ্বারা এর সমাধান দিতে পারবেন কি? ১. পিতা মৃত্যুর পর অনেক সম্পদ রেখে গেল। উদাহরণ সরূপ ৪ বিঘা জমি ছিল । এই সম্পদের মালিক হবে ৩ মেয়ে ২ ছেলে। এবার বাইবেল অনুযায়ী এই জমির সুষ্ঠু বণ্টন হবে কিভাবে? ২. বাইবেল অনুযায়ী চুরির শাস্তি কী ? বাইবেল থেকে প্রমাণ দিতে পারবেন কি? ৩. ডাকাত ও রাহাজানির শাস্তি কী ? বাইবেল থেকে প্রমাণ দিতে পারবেন কি? ৪. কেউ একজনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করল এর সমাধান কী? ৫. কেউ কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিলো বাইবেল অনুযায়ী এই সমস্যার সমাধান কী? ৬. একই সম্পদের দু ’জন দাবিদার। বাইবেল অনুযায়ী সমাধান কী? ৭.কেউ কারো মেয়েকে অপহরণ করল । বাইবেল অনুযায়ী সমাধান কী? ৮. লেন-দেনের বিভিন্ন সমস্যার, বাইবেল অনুযায়ী এর সমাধান কী? ৯.ব্যাংকিং সম্পর্কিত সমস্যা সমূহের বাইবেল অনুযায়ী সমাধান কী? ১০. পৃথিবীতে কোথাও কি খ্রিস্টিয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা আছে? যারা বাইবেলের আইন মেনে চলে? ১১. বিচার ব্যবস্থার সমস্যার বাইবেল অনুযায়ী সমাধান কী? ১২. রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালার সমস্যা বাইবেল অনুযায়ী সমাধান কী? ১৪ বাংলাদেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সমস্যা বাইবেল অনুযায়ী সমাধান কী? ১৫. রাজনৈতিকভাবে হরতাল ডাকা হয় বাইবেল অনুযায়ী এর সমাধান কী? ১৬. কয়দিন পর পর শোনা যায় বাংলাদেশের আইন সংশোধনের কথা। ফলে পক্ষে বিপক্ষে অনেক আন্দোলন হয়। মিছিল হয়। তৈরী হয় বহুবিধ সমস্যা। বাইবেল অনুযায়ী সমাধান কী? ১৭. সহশিক্ষা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক মতভেদ আছে। বাইবেল অনুযায়ী সমাধান কী? ১৮. শিক্ষা ব্যাবস্থা দূর্নীতি ছাত্র-ছাত্রীদের সেশন জট ইত্যাদি বাইবেল অনুযায়ী সমাধান কী? ১৯. তরুণ-তরুণীদের প্রেম-প্রীতিতে বাধা পড়লেই আত্মহত্যা করছে বাইবেল অনুযায়ী এর সমাধান কী? এমন অনেক সমস্যায় মানব জাতি হাবুডুবু খাচ্ছে এসব কোনো সমস্যার সমাধান বাইবেল, বর্তমান তাওরাত ইঞ্জিল দিতে পারবে না। সব কিছুর সমাধান এ সব কিতাবে নেই। কারণ, এগুলো মানব রচিত বই । আর কুরআনে সকল সমস্যার সমাধান আছে। কারণ এটা মানুষের ¯্রষ্টার কালাম। তিনি মানবের সমস্যা সম্পর্কে খুব ভালো করে জানেন। তাই তিনি মানবের সকল সমস্যার সমাধান তার এই কালামেপাক ও তার প্রিয় হাবিব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন।
জিজ্ঞাসা- ৩১
আপনারা যীশু ও মুসা আ. এর ওপর যেই কিতাব অবতীর্ণ হয়ে ছিল এমন একটি কিতাব দেখাতে পারবেন কি?
জিজ্ঞাসা- ৩২
বাইবেল কি নির্ভুল? বাইবেলে অগণিত ভুল আছে, খ্রিস্টান প-িতরাই বলেছেন এতে প্রায় পঞ্চাশ হাজার ভুল আছে। এখানে বাইবেল থেকে কয়েকটি ভুল আপনাদের সামনে পেশ করছি। এর উত্তর কি ভাবে দিবেন? দেখুন-
জিজ্ঞাসা- ৩৩
সুলাইমান আ.এর বারান্দার উচ্চতা বর্ণনায় ভুল কেন? ২বংশাবলির ৩য় অধ্যায়ের ৪র্থ শ্লোকে সুলাইমান আ. এর মসজিদ বা আল-মাসজিদুল আকসার (বাইবেলের ভাষায়: শলোমনের মন্দিরের) বর্ণনায় বলা হয়েছে: “আর গৃহের সম্মুখস্থ বারান্দা গৃহের প্রস্থানুসারে বিংশতি হস্ত দীর্ঘ ও এক শত বিংশতি হস্ত উচ্চ হইল।” “১২০ হাত উচ্চ” কথাটি নিখাদ ভুল। ১ রাজাবলির ৬ অধ্যায়ের ২ শ্লোকে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, শলোমনের নির্মিত মন্দিরের উচ্চতা ছিল ত্রিশ হস্ত। তাহলে বারান্দা কিভাবে ১২০ হাত উঁচু হবে? আদম ক্লার্ক তার ভাষ্যগ্রন্থে ২ বংশাবলির ৩য় অধ্যায়ের ৪র্থ শ্লোকের ভুল স্বীকার করেছেন। এজন্য সিরিয় (সুরিয়ানী) ভাষায় ও আরবী ভাষায় অনুবাদে অনুবাদকগণ ১২০ সংখ্যাকে বিকৃত করেছেন। তারা “এক শত” কথাটি ফেলে দিয়ে বলেছেন: “বিশ হাত উচ্চ।” ১৮৪৪ সালের আরবী অনুবাদে মূল হিব্রু বাইবেলের এ ভুল “সংশোধন”(!) করে লেখা হয়েছে: “আর গৃহের সম্মুখস্থ বারান্দা গৃহের প্রস্থানুসারে বিংশতি হস্ত দীর্ঘ ও বিংশতি হস্ত উচ্চ হইল।”
জিজ্ঞাসা- বাইবেল কি স্ববিরোধ মুক্ত? বাইবেলে বৈপরীত্য ও স্ববিরোধ ভরপুর । এখানে বহু বৈপরীত্যের মধ্যে মাত্র কয়েকটি পাঠকদের খেদমতে পেশ করলাম। এবার খ্রিস্টান ভাইদের প্রতি আমার জিজ্ঞাসা বলুন তো এই বৈপরীত্যযুক্ত গ্রন্থ কি আল্লাহর কালাম হতে পারে? আপনারা এই স্ববিরোধ যুক্ত গ্রন্থটি মানেন কেন? এর সমাধান কী?
জিজ্ঞাসা-৩৪
বিন্যামীনের সন্তানদের নাম ও সংখ্যায় বৈপরীত্য কেন? দেখুন বাইবেল এ ব্যাপ্যারে কী বলে? ১ বংশাবলির (বংশাবলি ১ম খ-) ৭ম অধ্যায়ের ৬ শ্লোকে বলা হয়েছে: “বিন্যামীনের সন্তান- বেলা, বেখর ও যিদীয়েল, তিন জন।” পক্ষান্তরে ১ বংশাবলিরই ৮ম অধ্যায়ের ১ শ্লোকে বলা হয়েছে: বিন্যামীনের জোষ্ঠ পুত্র বেল, দ্বিতীয় অস্বেল, তৃতীয় অহর্হ, চতুর্থ নোহা ও পঞ্চম রাফা।” কিন্তু আদিপুস্তক ৪৬ অধ্যায়ের ২১ শ্লোকে বলা হয়েছে: “বিন্যামীনের পুত্র বেলা, বেখর, অস্বেল, গেরা, নামন, এহী, রোশ , মুপ্পীম, হুপ্পীম ও অর্দ।” তাহলে বিন্যামীনের সন্তান সংখ্যা প্রথম বক্তব্যে তিন জন এবং দ্বিতীয় বক্তব্যে ৫ জন। তাদের নামের বর্ণনাও পরস্পর বিরোধী, শুধু বেলার নামটি উভয় শ্লোকে উল্লেখ করা হয়েছে , বাকিদের নাম সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর তৃতীয় শ্লোকে বিন্যামীনের সন্তান সংখ্যা ১০ জন। নামগুলি আলাদা। তৃতীয় শ্লোকের নামগুলির সাথে প্রথম শ্লোকের সাথে দুজনের নামের এবং দ্বিতীয় শ্লোকের দুজনের নামের মিল আছে। আর তিনটি শ্লোকের মিল আছে একমাত্র ‘বেলা’ নামটি উল্লেখের ক্ষেত্রে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্লোকদ্বয় একই পুস্তকের। উভয় পুস্তকের লেখক ইয্রা ভাববাদী। এভাবে একই লেখকের লেখা একই পুস্তকের দুটি বক্তব্য পরস্পর বিরোধী বলে প্রমাণিত হলো। আবার তাওরাতের আদিপুস্তকের বক্তব্যের সাথে ইয্রার দুটি বক্তব্যেও বৈপরীত্য প্রমাণিত হলো। এ সস্পষ্ট পরস্পর বিরোধী বক্তব্য আপনাদেরকে হতবাক করে দিয়েছে। তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, ইয্রাই ভুল করেছেন। এ ভুলের কারণ হিসেবে আপনারা উল্লেখ করেন যে, ইয্রা পুত্র ও পৌত্রের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেননি এবং যে বংশতালিকা দেখে তিনি বংশাবলির এই তালিকা লিখেছেন সেই মূল বংশতালিকাটি ছিল অসম্পূর্ণ।
জিজ্ঞাসা-৩৫
ইসরাইল ও যিহুদা রাজ্যের সৈনিকদের সংখ্যার বৈপরীত্য কেন? শামূয়েলের দ্বিতীয় পুস্তকের ২৪ অধ্যায়ের ৯ম শ্লোকটি নিম্নরূপ: “পরে যোয়াব গণিত লোকেদের সংখ্যা রাজার কাছে দিলেন; ইসরাইলের খড়গ-ধারী আট লক্ষ বলবান লোক ছিল; আর যিহূদার পাঁচ লক্ষ লোক ছিল।” অপর দিকে বংশাবলি প্রথম খ-ের ২১ অধ্যায়ের ৫ম শ্লোক নিম্নরূপ: “আর যোয়াব গণিত লোকদের সংখ্যা দায়ূদের কাছে দিলেন। সমস্ত ইসরাইলের এগার লক্ষ খড়গধারী লোক ও যিহূদার চারি লক্ষ সত্তর সহস্র খড়গধারী লোক ছিল।” তাহলে প্রথম বর্ণনামতে ইসরাইলের যোদ্ধাসংখ্যা ৮,০০,০০০ এবং যিহূদার ৫,০০,০০০। এর দ্বিতীয় বর্ণনামতে তাদের সংখ্যা: ১১,০০,০০০ ও ৪,৭০,০০০ উভয় বর্ণনার মধ্যে বৈপরীত্যের পরিমাণ দেখুন! ইসরাইলের জনসংখ্যা বর্ণনায় ৩ লক্ষের কমবেশী এবং যিহূদার জনসংখ্যার বর্ণনায় ত্রিশ হাজারের কমবেশি। বাইবেল ভাষ্যকার আদম ক্লার্ক তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে স্বীকার করেছেন যে পরস্পর বিরোধী বক্তব্যের মধ্যে কোনটি সঠিক তা নির্ণয় করা খুবই কঠিন। বস্তুত বাইবেলের ইতিহাস বিষয়ক পুস্তকগুলিতে ব্যাপক বিকৃতি ঘটেছে এবং এবিষয়ে সমন্বয়ের চেষ্টা অবান্তর। বিকৃতি মেনে নেওয়াই উত্তম; কারণ তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই এবং বাইবেলের বর্ণনাকারী ও লিপিকারগণ ইলহাম-প্রাপ্ত বা ঐশী প্রেরণা প্রাপ্ত ছিলেন না।
জিজ্ঞাসা- ৩৬
অহসিয় রাজার রাজ্যগ্রহণকালীন বয়স বর্ণনায় বৈপরীত্য কেন? দেখুন এব্যাপারে বাইবেল কি বলে? রাজাবলি দ্বিতীয় খ-ের ৮ম অধ্যায়ের ২৬ শ্লোক নিম্নরূপ: “অহসিয় বাইশ বৎসর বয়সে রাজত্ব করিতে আরম্ভ করেন এবং যিরূশালেমে এক বৎসরকাল রাজত্ব করেন।” উভয় বর্ণনার মধ্যে মাত্র ২০ বৎসরের বৈপরীত্য! দ্বিতীয় তথ্যটি সন্দেহাতীতভাবে ভুল; কারণ, বংশাবলি দ্বিতীয় খ-ের ২১ অধ্যায়ের ২০ শ্লোক এবং ২২ অধ্যায়ের ১-২ শ্লোকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অহসিয়ের পিতা যিহোরাম ৪০ বৎসর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন এবং তার মৃত্যুর পরপরই অহসিয় রাজ-সিংহাসনে বসেন। এখন যদি দ্বিতীয় তথ্যটি নির্ভুল তাহলে প্রমাণিত হয় যে, অহসিয় তার পিতার চেয়েও দুই বছরের বড় ছিলেন! আর এ যে অসম্ভব তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এজন্য আদম ক্লার্ক, হর্ন, হেনরি ও স্কট তাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে স্বীকার করেছেন যে, বাইবেল লেখকের ভুলের কারণে এ বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে।
জিজ্ঞাসা- ৩৭
সুলাইমান আ.-এর অশ্বশালার সংখ্যা বর্ণনায় বৈপরীত কেন? ১ রজাবলির ৪র্থ অধ্যায়ের ২৬ শ্লোকটি নিম্নরূপ: “ শলোমনের রথের নিমিত্তে চল্লিশ সহ¯্র অশ্বশালা ও বারো সহ¯্র অশ্বারোহী ছিল। এর বিপরীত ২ বংশাবলির ৯ম অধ্যায়ের ২৫ শ্লোকটিতে আছে: “শলোমনের চারি সহস্র অশ্বশালা দ্বাদশ সহস্র অশ্বারোহী ছিল। এখানে উভয় বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য সুস্পষ্ট। প্রথম শ্লোকে দ্বিতীয় শ্লোকের চেয়ে ৩৬,০০০ বেশি অশ্বশালার কথা বলা হয়েছে। বাইবেল ভাষ্যকার আদম ক্লার্ক বলেন: সংখ্যাটির উল্লেখের ক্ষেত্রে বিকৃতি ঘটেছে বলে স্বীকার করে নেওয়াই আমাদের জন্য উত্তম।
জিজ্ঞাসা- ৩৮
কুরআন নিজের সত্যতা সম্পর্কে যেমন চ্যালেঞ্জ করে আপনাদের বাইবেল কি এমন চ্যালেঞ্জ করতে পারে? কুরআন যেমন নিঃসন্দেহের ঘোষণা দেয় আপনাদের বাইবেল কি এই ঘোষণা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ? দেখুন কুরআন কী বলে- কুরআন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এসেছে। এর মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহপাক বলেন, ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ এই কিতাবের মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই। এবং চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেছেন। ‘‘এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মতো একটি সূরা রচনা করে নিয়ে আস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকেও সাথে নাও-এক আল্লাহ্কে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক। ২৪. আর যদি তা না পার -অবশ্যই তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোজখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।
জিজ্ঞাসা- ৩৯
“নবীমদপান করে উলঙ্গ হয়ে থাকতেন এধরনের ভুল তথ্য ও অশ্লীল বক্তব্য কি আল্লাহর কালাম হতে পারে? “নবী মদপান করে উলঙ্গ হয়ে থাকা”আদিপুস্তক (৯/২০-২১)- পরে নোহ কৃষি কর্মে প্রবৃত্ত হইয়া দ্রাক্ষাক্ষেত্র করিলেন। আর তিনি দ্রাক্ষারস পান করিয়া মত্ত হইরেন, এবং তাম্বুর মধ্যে বিবস্ত্র হইয়া পড়িলেন।
জিজ্ঞাসা-৪০
নিজ কন্যাদের সাথে ব্যভিচার কর এটাকি বাইবেলের শিক্ষা নয়? দেখুন বাইবেল কি বলে “নিজ কন্যাদের সাথে ব্যভিচার করা” আদিপুস্তক-১৯: ৩৩-৩৮ জিজ্ঞাসা- “পিতার স্ত্রীকে ধর্ষণ করা এটা কি বাইবেলের শিক্ষা নয়? দেখুন বাইবেল কী বলে “পিতার স্ত্রীকে ধর্ষণ করা” আদিপুস্তক-৩৫:২২, ২ শমূয়েল-১৬:২২
জিজ্ঞাসা – ৪১
নিজের বোনকে ধর্ষণ করা এটাকি বাইবেলের শিক্ষা নয়? দেখুন বাইবেল কি বলে-“নিজের বোনকে ধর্ষণ করা” ২ শমূয়েল -১৩:১১-১৪
জিজ্ঞাসা- ৪২
নিজের পুত্রবধুর সাথে ব্যভিচার করা কি বাইবেলের শিক্ষা নয়? দেখুন বাইবেল এ ব্যাপারে কী বলে-“নিজের পুত্রবধুর সাথে ব্যভিচার করা” আদিপুস্তক- ৩৮:১৫-১৮, ২৭-৩০
জিজ্ঞাসা-৪৩
পূর্ববর্তী নবী রাসূলদের চোর-ডাকাত বলে অপবাদ দেয় কেন? দেখুন বাইবেল কী বলে- যোহন- ১০:৭-৮ অতএব যীশু পুনর্বার তাহাদিগকে কহিলেন, সত্য, সত্য, আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, আমিই মেষদের দ্বার। যাহারা আমার পূর্বে আসিয়াছিল, তাহারা সকলে চোর ও দস্যু, কিন্তু মেষেরা তাহাদের রব শুনে নাই।
প্রচলিত ইঞ্জিল সম্পর্কিত কিছু জিজ্ঞাসা
জিজ্ঞাসা- ৪৪
প্রচলিত ইঞ্জিল কি আল্লাহর কালাম ? ইঞ্জিল থেকে প্রমাণ দেখাতে পারবেন কি?
জিজ্ঞাসা-৪৫
বর্তমান ইঞ্জিল হলো বাইবেলের একটি অংশ, যা নতুন নিয়ম নামে পরিচিত। আমরা জানি বাইবেল নামে কোনো কিতাব আল্লাহ কোনো নবীর ওপর পাঠান নি। বাইবেল যেহেতু আল্লাহর কালাম নয়। তাহলে তারই একটি অংশ যেটাকে মুসলমানদের ধোকা দেয়ার জন্য নাম দিয়েছে ইঞ্জিল সেটা আবার আল্লাহর কালাম হয় কিভাবে?
জিজ্ঞাসা-৪৬
খ্রিস্টানদের ধর্মীয় গ্রন্থে ইসলামী লোগো ব্যাবহার করা কি প্রতারণা নয়? মুসলমানদের ধোঁকা দেয়া নয় কি? খ্রিস্টানদের ধর্মীয় লোগো হলো ( )ক্রুশ এই ক্রশ ব্যাবহার না করে করে ইসলামী লোগো। এর কারণ হলো মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে তাদের ঈমান হনন করা। মসলমানদের তাদের ধর্মে দীক্ষিত করা। নিম্নে কিছু লোগো পেশ করছি-
জিজ্ঞাসা-৪৭
ইঞ্জিল শরীফ কাদের পরিভাষা ? এই শব্দটি মুসলামানদের থেকে চুরি করা। কারণ বাইবেলে কোথাও এই শব্দটি নেই । বরং বাইবেল , নতুন নিয়ম জিজ্ঞাসা-৪৮
ইঞ্জিল কোন ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে? এটা কোন ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে তা কোথাও লেখা নেই।
জিজ্ঞাসা- ৪৯
অনুবাদের সাথে মূল কিতাবের সংযোগ করেননি কেন? মূল ইঞ্জিল যদি অনুবাদের সাথে যুক্ত থাকত তাহলে মানুষ বুঝতে পারত অনুবাদটি সঠিক না ভুল। করবেনই কিভাবে? আসল ইঞ্জিল তো আপনাদের কাছে নেই। পক্ষান্তরে কুরআন অনুবাদের সাথে মূল টে∙ট দেওয়া থাকে । আপনাদেরটায় থাকে না কেন?
জিজ্ঞাসা- ৫০
প্রচলিত ইঞ্জিলের অনুবাদক কে? ইঞ্জিলের শুরুতে লেখা আছে “বাংলা অনুবাদ”। লেখা নেই অনুবাদকের নাম ও তার পরিচয়। অনুবাদক কি ভালো মানুষ না খারাপ মানুষ। চোর না ডাকাত, কিছুই লেখা নেই। অনুবাদকের পরিচয় থাকলে বুঝা যায় অনুবাদটি সঠিক না ভুল। পক্ষান্তরে কুরআন শরীফের শুরুতে অনুবাদকের নাম ও তার পড়ালেখার ডিগ্রিসহ পরিচয় উল্লেখ করা হয়। যাতে মানুষ বুঝতে পারে অনুবাদকের জ্ঞানী কতটুকু ও তার অনুবাদটি কেমন যা মূল্যায়ন করা যায়?
জিজ্ঞাসা-৫১
আল্লাহর কালামের কি সংস্করণের প্রয়োজন হয়? আল্লাহর কালামের কোনো ধরণের সংস্করনের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু ইঞ্জিলের প্রথম পৃষ্ঠার মাঝামাঝি স্থানে লেখা আছে ‘দ্বিতীয় সংস্করণ’ বুঝা গেল এর পূর্বেও খ্রিস্টানগণ এর সংস্করণ করেছে। প্রিয় পাঠক আপনিই বলুন সংস্করণ কাকে বলে, সংস্করণ বলা হয় কোনো একটি জিনিসকে নতুন করে ঢেলে সাজানো। যেমন একটি ঘর আগে টিনের ছিল, কিছুদিন পর এসে দেখলেন ঘরটি সংস্কার করে ইট দিয়ে বিল্ডিং করেছে। তাহলে আপনি ঘরের মালিককে বলবেন। ভাই! আপনার ঘর কবে সংস্করণ করলেন? যা আল্লাহর কালাম হবে তাতে কোনো ধরণের সংস্কারের প্রয়োজন হয় না। আর যেই কিতাবের সংস্কারের প্রয়োজন হয়, সেটা আল্লাহর কালাম হতে পারে না। উপরোক্ত আলোচানা দ্বারা বুঝতে পালাম বর্তমান ইঞ্জিলের সংস্কার হওয়ার কারণে এটা আল্লাহর কালাম নয়। আমার জিজ্ঞাসা তাহলে আপনারা এই ইঞ্জিল মানেন কেন?
জিজ্ঞাসা -৫২
আপনারা কি প্রভুর কথা মানেন ? যদি বলেন হ্যাঁ মানি। তাহলে আপনাদের ইঞ্জিল অনুযাযী আমিও প্রভু। ইঞ্জিলের ভূমিকাতে লেখা আছে ‘হযরত ’ শব্দটির অর্থ প্রভু। আমার নামের শুরুতে লেখা হয় ‘হযরত ’ মাওলানা মুফতি যুবায়ের আহমদ, ইঞ্জিল অনুযায়ী প্রথমে আমি প্রভু, এর পর অন্য কিছু। আর আমি প্রভু হয়ে বলছি, আপনাদের খ্রিস্টধর্ম ভুল ধর্ম । আপনারা খ্রিস্টবাদ ছেড়ে দিন ইসলাম গ্রহণ করুন।
জিজ্ঞাসা-৫৩ 
সিপারা কাদের পরিভাষা ? আপনারা মুসলমান থেকে এই পরিভাষা টি চুরি করে এনেছেন। চুরি করতেও ভুল করেছেন। কারণ ইঞ্জিলের শুরুতেই লেখা আছে প্রথম সিপারা। এই সিপারা শব্দের অর্থ কি আপনারা জানেন? সিপারা হলো ফার্সি ভাষা। ‘সিহ’ শব্দের অর্থ ত্রিশ। আর ‘পারা’ শব্দের অর্থ হলো অংশ। অর্থাৎ ত্রিশতম অংশ। প্রথম সিপারা অর্থ হচ্ছে প্রথম ত্রিশতম অংশ। এটা হলো হাস্যকর একটি বিষয়। বাইবেলে তো এই অংশটি নেই। তাহলে এই সংযোগটি করল কারা? কেন করল? প্রিয় পাঠক! আপনারাই বলুন, আল্লাহর কালামে কী এ ধরনের সংযোজন থাকতে পারে? মানব কর্তৃক সংযোজন- বিয়োজন আল্লাহর কালাম হয় কি ভাবে?
জিজ্ঞাসা-৫৪
মথির সাথে ‘হযরত’ শব্দটি কে যোগ করল? যদি বলেন আল্লাহ তাহলে বাইবেলে মথির সাথে হযরত শব্দটি নেই কেন? তাহলে কারা এই শব্দটি যোগ করল? অবশ্যই খ্রিস্টানগণ।
জিজ্ঞাসা-৫৫
এটা যদি আল্লাহর কলামই হতো তাহলে লেখার সময়কাল নিয়ে সন্দেহ কেন? কারণ প্রচলিত ইঞ্জিলের শুরুতেই লেখা আছে ‘লিখিবার সময় ৫০-৫৫ কিংবা ৬৬-৬৮ খ্রিস্টাব্দ, আল্লাহর কালাম হলে কিংবা আসে কেন? সন্দেহ দ্বারা তার শেষ হবে কিভাবে? বুঝা গেল প্রচলিত ইঞ্জিলের শুরুই সন্দেহ দ্বারা। পক্ষান্তরে কুরআন শুরুই করেছে সন্দেহ মুক্ত চ্যলেঞ্জ দ্বারা। আল্লাহ তাআলা বলেন “এই কিতাবে কোনো সন্দেহ নেই। ” সূরা বাকারা – আয়াত ২ প্রিয় পাঠক! আপনারা মানবেন কোন কিতাবকে? সন্দেহ মুক্ত কিতাব না সন্দেহ যুক্ত কিতাব? আসুন বিষয়টি নিয়ে একটু ভাবি। আল্লাহর কাছে দুআ করি সঠিক পথে পরিচালনার জন্য। চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য ।
জিজ্ঞাসা- ৫৬
যীশুর উপর যেই ইঞ্জিল অবতীর্ণ হয়েছিল সেই ইঞ্জিল কোথায় ?
জিজ্ঞাসা-৫৭
যীশু জীবিত থাকা অবস্থায় ইঞ্জিল লেখা হলো না। তাকে আকাশে উঠিয়ে নেওয়ার ৫০-৬০ বছর পর কেউ তার জীবনী লিখেছে সেটা আবার ইঞ্জিল হয় কিভাবে?
জিজ্ঞাসা-৫৮
আপনাদের ইঞ্জিল কয়টি ? আমার কাছে ৩টি ইঞ্জিল আছে। একটি অন্যটির সাথে কোনো মিল নেই । সূচিপত্রে একটি ইঞ্জিলের অধ্যায় আছে ৫টি। অন্য একটি ইঞ্জিলের অধ্যায় আছে ২৭টি। একটি অপরটির সাথে না আছে কোনো বিষয়বস্তুর মিল। না আছে লেখার মিল। এমন কেন? আল্লাহর কালাম হলে কি এতো অমিল থাকতো? পক্ষান্তরে পুরো পৃথিবীতে যত কুরআন আছে সবগুলো এক। একটি অক্ষরেরও পরিবর্তন নেই।
জিজ্ঞাসা-৫৯
পুরো পৃথিবীতে বাইবেলের কি কোনো হাফেজ আছে? আমি চ্যালেঞ্চ করে বলতে পারি, বিশ্বজুড়ে বাইবেলের একটি মুখস্তকারীও দেখাতে পারবেন না। পক্ষান্তরে লক্ষ লক্ষ হাফেজ পাওয়া যাবে যারা এক সাথে পুরো কুরআন মুখস্ত শুনিয়ে দিবে। এমনকি ছোট ছোট শিশুরাও তা সুন্দর করে মুখস্ত শুনিয়ে দিবে। আপনাদের এই প্রচলিত ইঞ্জিল যেহেতু আল্লাহর কালাম নয় তাই পৃথিবীতে এই গ্রন্থের মুখস্তকারীও কেউ নেই।কিতাবুল মুকাদ্দাস সম্পর্কিত কিছু জিজ্ঞাসা
জিজ্ঞাসা-৬০
কিতাবুল মুকাদ্দাস এটা কি?
জিজ্ঞাসা-৬১
কিতাবুল মুকাদ্দাস নামে কোনো কিতাব আল্লাহ তাআলা কোনো নবীর উপর পাঠিয়েছেন কি?
জিজ্ঞাসা-৬২
কিতাবুল মুকাদ্দাসতো খ্রিস্টানদের বই। তাহলে মুসলমানদের লোগো ব্যবহার করেছে কেন?
জিজ্ঞাসা-৬৩
কিতাবুল মুকাদ্দাসে লেখা আছে তৌরাত শরীফ, জবুর শরীফ, নবীদের কিতাব, ইঞ্জিল শরীফ, আমার জিজ্ঞাসা হলো তাহলে কুরআন শরীফ কোথায়? জিজ্ঞাসা-৬৪
খ্রিস্টান ভায়েরা বলেন কিতাবুল মুকাদ্দাস হলো বাইবেলের অনুবাদ। বাইবেল অর্থ সমষ্টি। আর আরবী অনুবাদ হলো “মাজমুআ”। তাহলে কিতাবুল মুকাদ্দাস কেন? কিতাবুল মুকাদ্দাস অর্থ হলো পবিত্র গ্রন্থ। হওয়ার দরকার ছিল মাজমুআ এমন ভুল কেন ?
জিজ্ঞাসা-৬৫
মুসলমানদের প্রতারণার জন্য এমন ধোঁকা ও ভুল অনুবাদ দিয়ে প্রচার করতে হয় কেন? জিজ্ঞাসা-৬৬ কিতাবুল মুকাদ্দাসে হাজার হাজার ভুল কেন? জিজ্ঞাসা-৬৭
কিতাবুল মুকাদ্দাসে স্ববিরোধ কেন?
জিজ্ঞাসা-৬৮
কিতাবুল মুকাদ্দাস কোন ভাষায় বাইবেল থেকে অনুবাদ করা হয়েছে?
জিজ্ঞাসা-৬৯
কিতাবুল মুকাদ্দাস কবে আবিষ্কার হয়েছে?
জিজ্ঞাসা-৭০
কিতাবুল মুকাদ্দাস খ্রিস্টানদের ধর্মীয় গ্রন্থ। মুসলিম পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে কেন?
জিজ্ঞাসা-৭১
আপনাদের বাইলের নিজস্ব কোনো শক্তি নেই। তাই আপনাদের অন্যদের পরি ভাষা ব্যবহার করে নিজেদের ধর্মের প্রচার করতে হয় কেন?
জিজ্ঞাসা-৭২
বাইবেলের আরবী অনুবাদের নাম দিয়েছেন ‘কিতাবুল হায়াত’ কেন ?
জিজ্ঞাসা- ৭৩
আরবী কিতাবুল মুকাদ্দাসে তৌরাত শরীফ, ইঞ্জিল শরীফ, জবুর শরীফ নবীদের কিতাব লেখা নেই। বাংলাটায় সংযোগ হলো কোথা থেকে? জিজ্ঞাসা-৭৪
আপনারা কোন কিতাব মানেন ? বাইবেল না কিতাবুল মুকাদ্দাস? যদি বলেন দুনোটা তাহলে এটা কিভাবে সম্ভব? একটি অপরটির সাথে কোনো মিল নেই।
খ্রিস্টানদের বিশ্বাস সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা
জিজ্ঞাসা- ৭৫
আপনারা বলেন আদম গুনাহগার ছিলেন। তার সন্তানগণও গুনাহগার। এই গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য যীশু এসেছেন। কিন্তু বাইবেল বলে একজনের পাপ অন্য জন মুক্তি দিতে পারবে না। আপনারা বাইবেল বিরোধী বিশ্বাস করেন কেন? দেখুন বাইবেল কী বলে। “যে পাপ করিবে সে মরিবে। পিতার পাপ পুত্র বহন করিবে না, পুত্রের পাপ পিতা বহন করিবে না।” মথি- ১২:৭, যিহিঙ্কেল -১৮:২০
জিজ্ঞাসা- ৭৬
যীশু সকল বিশ্বাসীদের পাপ ক্ষমা করবেন এর প্রমাণ আছে কি?
জিজ্ঞাসা- ৭৭
যারা যীশু উপর বিশ্বাস আনবে তারা পাপ থেকে মুক্তি পাবে, প্রশ্ন হল তবে যারা যীশুর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মুক্তির কী হবে?
জিজ্ঞাসা- ৭৮
পিতা-পুত্র পবিত্র আত্মা, এই তিনজন মিলে একজন। আবার একজনই আবার তিনজন এ কথা কি বাইবেলে আছে?
জিজ্ঞাসা-৭৯
ইসা আ. বলেছেন আল্লাহ একজন। আপনারা তিন জন বলেন কেন? দেখুন বাইবেল কী বলে – “অধ্যাপক তাহাকে কহিল, বেশ, গুরু আপনি সত্য বলিয়াছেন যে, তিনি এক এবং তিনি ব্যতিত অন্য নাই।” র্মাক- ১২: ৩২০১. নবীদের অসৎ চরিত্র যেখানে বলছে তারা পাপাচার করে না সত্য কোনটা ? যোহন-৪:৯ যে কেহ ঈশ্বর হইতে জাত, সে পাপাচরণ করে না, কারণ তাহার বীর্য তাহার অন্তরে থাকে; এবং সে পাপ করিতে পারে না, কারণ সে ঈশ্বর হইতে জাত”।
খ্রিস্টানদের ধর্ম সম্পর্কে আমাদের জিজ্ঞাসা
জিজ্ঞাসা – ৮০
আপনাদের ধর্মটি যে সঠিক, বাইবেল থেকে এর প্রমাণ দিতে পারবেন কি? পারবেন না। কারণ বাইবেলের কোথাও এই প্রশ্নের উত্তর নেই। পক্ষান্তরে ইসলাম ধর্ম সঠিক। আল্লাহর নিকট এক মাত্র মনোনীত ধর্ম। ইসলাম ছাড়া আর কোনো ধর্ম আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। কুরআনেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। কুরআন কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেন. “নিঃসন্দেহে আল্লাহ্র নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম একমাত্র ইসলাম। এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ যারা আল্লাহ্র নিদর্শন সমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ্ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রূত।” আল্লাহ তাআলা অন্যত্রে বলেন- “যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিনকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।” আল্লাহর নিকট ইসলাম হলো একমাত্র মনোনীতধর্ম। আপনাকে মুসলমান হওয়ার দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন। কারণ ইসলাম ছাড়া আর কোনো ধর্র্ম আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।
জিজ্ঞাসা – ৮১
বলুন তো আপনারা কি নিজ ধর্মীয় বিধি বিধানগুলো মানেন? যদি বলেন হ্যাঁ, মানি। তাহলে বলবো আপনাদের বিধান অনুযায়ী কুফর- শিরক ও ব্যভিচারের শাস্তি হলো মৃত্যুদন্ড। এই শাস্তিগুলো প্রয়োগ করেন না কেন? চলুন দেখি বাইবেল এব্যাপারে কী বলে? বাইবেলে কুফর-শিরক এর শাস্তি মৃত্যুদন্ড ঐদিন কোনো ব্যক্তি, পুরুষ, নারী, ছোট-বড়, যে কেউ কোনো মূর্তি, প্রতিমা, ছবি প্রতিকৃতি প্রতিষ্ঠা করে, শিরক করে বা শিরকের প্রচারণা করে বা প্ররোচনা দেয়, তাহলে তাকে পাথরের আঘাতে হত্যা করতে হবে। এমনকি যদি কোনো নবীও অনেক মুজেযা দেখানোর পর কোনোভাবে শিরকের প্ররোচনা দেন, তাহলে তাকেও পাথরের আঘাতে হত্যা করতে হবে। যদি কোনো জনপদবাসী র্শিকে পতিত হয়, তাহলে সে গ্রামের বা নগরের সকলকে অবশ্যই হত্যা করতে হবে এবং সে গ্রামের পশু-পক্ষীও হত্যা করতে হবে। গ্রামের সকল সম্পদ ও দ্রব্যাদি পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এক্ষেত্রে তওবার কোনো সুযোগ নেই। ব্যভিচার এর একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড এমন কি পরনারীর প্রতি দৃষ্টিপাতকে ঈসা মসীহ ব্যভিচার বলে গণ্য করেছেন এবং উক্ত ব্যক্তিকে তার চোখ তুলে ফেলে দিতে বলেছেন, তিনি বলেন “ যে কেহ কোনো স্ত্রীলোকের প্রতি কামভাবে দৃষ্টিপাত করে, সে তখনই মনে মনে তাহার সহিত ব্যভিচার করিল। আর তোমার দক্ষিণ চক্ষু যদি তার বিঘœ জন্মায় তবে তাহা উপড়াইয়া দূরে ফেলে দাও, কেননা সমস্ত শরীর নরকে নিক্ষিপ্ত হওয়া অপেক্ষা বরং একটি অঙ্গের নাশ হওয়া তোমার পক্ষে ভাল। এবার আমি খ্রিস্টান ভাইদেরকে জিজ্ঞেস করতে চাই। ভাই! আপনারা খ্রিস্টানগণ আপনাদের ব্যক্তি, দেশ ও রাষ্ট্রগুলিতে তাওরাত ইঞ্জিলের বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠা করছেন না কেন? আপনাদের কিতাবের নির্দেশ অনুযায়ী শিরক, ব্যভিচার ইত্যাদি পাপের শাস্তি প্রতিষ্ঠা করছেন না কেন? সকল খ্রিস্টান চার্চে ঈসা মসীহ, তার মাতা মরিয়ম ও অন্যান্য অগণিত মানুষের প্রতিমা বিদ্যমান। এগুলো ধ্বংস করছেন না কেন? যারা এগুলিকে বানিয়েছে, এগুলোতে ভক্তি বা মান্নত-উৎসর্গ করছে বা উৎসাহ দিচ্ছে তাদের সকলকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করছেন না কেন?
জিজ্ঞাসা- ৮২
আপনাদের ধর্মটি কি বিশ্বজনীন? যদি বলেন হ্যাঁ। তাহলে বাইবেল থেকে কি এর প্রমাণ দেখাতে পারবেন? আশা করি পারবেন না। কারণ এর সঠিক উত্তর বাইবেলে কোথাও নেই। পক্ষান্তরে কুরআন ও বাইবেল পড়ে আমরা জানতে পারি খ্রিস্ট ধর্ম হলো শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি জাতির জন্য। আপনাদের ধর্মীয় গ্রন্থ বাইবেলে আছে, যে যীশু শুধুমাত্র বনী ইসরাইল/ইহুদীদের নিকট প্রেরিত হয়েছেন। যেমন যীশু বলেন- “আমাকে শুধু বনী ইসরাইলের হারানো মেষদের নিকট পাঠানো হয়েছে। আরো বলা হয়েছে- তোমরা অইহুদীর নিকট যেয়ো না। বরং ইসরাইল জাতির হারানো ভেড়াদের কাছে যেয়ো। এই ধর্ম মানতে হলে আপনাকে ইসরাঈলে যেতে হবে। কারণ সেখানে বনি ইসরাঈলের লোকজন থাকে। এর কোনো সঠিক উত্তর আপনাদের কাছে আছে কি?
জিজ্ঞাসা-৮৩
খ্রিস্টান ভাইদের প্রতি জিজ্ঞাসা- আপনারা মিথ্যার মাধ্যমে ধর্মপ্রচার করাকে পুণ্যকর্ম বলে মনে করেন কেন? একজন শিশুও জানে মিথ্যা খারাপ জিনিস। ধর্মের মধ্যে খারাপ জিনিসটি ব্যবহার করেন কেন? দেখুন আপনাদের সেইন্ট পল কী বলে? প্রচলিত খ্রিস্টধর্মের প্রতিষ্ঠাতা সাধু (সেইন্ট) পল বলেন-“আমার মিথ্যায় যদি ঈশ্বরের সত্য তাঁহার গৌরব উপচিয়া পড়ে তবে আমিও বা এখন পাপী বলিয়া আর বিচারিত হইতেছি কেন? ফলে তারা ধর্ম প্রচারে মিথ্যাচার ও প্রতারণাকে মূলনীতিতে পরিণত করেছে।
জিজ্ঞাসা- ৮৪
আপনাদের ধর্ম অশান্তি শিক্ষা দেয় কেন? সারা পৃথিবীতে খ্রিস্টানরা জঙ্গীবাদী ও সন্ত্রাস করছে এই শিক্ষা কোথা থেকে পেল? অবশ্যই আপনাদের ধর্মীয় গ্রন্থ শিক্ষা দেয়। নিম্নে আপনাদের বাইবেল থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি। কী ভয়ঙ্কর মিথ্যা! যে ধর্মের পোপ-পাদরিগণ বিগত প্রায় ২ হাজার বছর ধরে ধর্মের নামে কয়েক কোটি মানুষকে জেলে দিয়ে, জবাই করে বা জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। তারা তাদের ধর্মকে শান্তির ধর্ম বলে দাবি করেন! যিশু বলেন: “পরন্তু আমার এই যে শত্রুগণ ইচ্ছা করে নাই যে, আমি তাদেও উপরে রাজত্ব করি, তাহাদিগকে এই স্থানে আন, আর আমার সাক্ষাতে বধ কর।”
কী ভয়ঙ্কর কথা! নবী-রাসুল তো দূরের কথা কোনো জালিম শাসক কি এরূপ নির্দেশ দিতে পারে? কেউ হয়ত বলতে পারেন, যুদ্ধের ময়দানে শত্রুদেরকে হত্যা করা। কোনো জালিম হয়ত বলতে পারেন, আমার রাজত্বের বিরূদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করে তাদেরকে হত্যা কর। কিন্তু শুধু তার রাজত্ব অপছন্দ করে বলে নিরস্ত্র মানুষদেরকে ধরে এনে জবাই করা!! তাও আবার নিজের সামনে! জবাই-এর সময় কিভাবে মানুষ ছটফট করে তা দেখার জন্য? মানুষের রক্ত দেখে মন ঠান্ডা করার জন্য? এরূপ ভয়ঙ্কর নির্দেশ কি কোনো নবী প্রদান করতে পারেন? কিতাবুল মুকাদ্দাসের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধবন্ধী, নিরস্ত্র নারী, পুরুষ, শিশু ও অবলা প্রাণী নির্বিচারে হত্যা করতে, বিধর্মীদের উপাসনালয় ভেঙ্গে ফেলতে, সরলপ্রাণ বিধর্মীদেরকে খানাপিনার দাওয়াত দিয়ে তাদের হত্যা করতে, নিরস্ত্র বন্দীদেরকে জবাই করার বা পুড়িয়ে মারার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এ সকল ‘পবিত্র’ নির্দেশের ভিত্তিতেই যুগে যুগে খ্রিস্টান পাদরি ও পোপগণ লক্ষকোটি মানুষকে ধর্মের নামে হত্যা করেছেন। লক্ষকোটি নিরপরাধ বিজ্ঞানী, গবেষক, সাহিত্যিক, ধর্মীয় ভিন্নমতাবলম্বী ও অন্যধর্মাবলম্বী মানুষকে হত্যা, জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ করা, কারাগারে আবদ্ধ রাখা, নির্মম অত্যাচার করা বা জোরপূর্ব ধর্মান্তর করা খ্রিস্টান পাদরী-পোপ ও শাসকদের অতি পরিচিত ইতিহাস।
এ কথা সত্য যে, মুসলিমগণ অনেক সময় ইসলামের শিক্ষা না বুঝে বা বিকৃত করে হানাহানিতে লিপ্ত হন। তবে খ্রিস্টানগণ যে ধরনের হানাহানি ও ধ্বংসযজ্ঞে লিপ্ত হয়েছেন সে তুলনায় মুসলিমদের হানাহানি কিছুই নয়। বিভিন্ন মুসলিম দেশে খ্রিস্টানরা অন্যায় ভাবে আক্রমন করেছে। ফিলিস্তীনের শিশু নারীদের উপর নির্মম নির্যাতন এসব কি? কারা হানাহানি করছে? আফগানিস্তানে নির্মম ভাবে নিরপরাধ মানুষকে ধরে ধরে মারছে। শিশুদেরকে এতিম করছে। মা দেরকে বিধবা বানিয়েছে। পিতাকে সন্তান হারা করছে। একটি শান্তিগামী দেশকে বোমা মেরে তামা বানিয়ে দিয়েছে। এরা কারা? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বুশ,ওবামা কোন ধর্মের? ইরাকে অন্যায় ভাবে হামলা করল কারা ? ইরানের উপর হামলা করল কোন ধর্মের লোকেরা? এখনো বিভিন্ন দেশে অন্যায় ভাবে আক্রমণ করছে কারা? বুশ, ওবামা শপথের সময় কোন ধর্মের গ্রন্থের উপর হাত রেখে রাষ্ট্রিয় শপথ গ্রহণ করে? বাইবেলের উপর শপথ নিয়ে ধর্মের জন্যই মানুষ হত্যা করছে। এটা কোন ধর্মের শিক্ষা? অবশ্যই বলতে হবে খ্রিস্টধর্মের শিক্ষা। নিজেরা বিশ্বজুড়ে অশান্তির আগুণ জ্বালাচ্ছেন। আর মুখে বুলি আওড়াচ্ছেন আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করছি। দাবি করছেন শান্তির ধর্ম। মুসলমানেরা অন্যায় ভাবে কোনো দেশের উপর আক্রমণ করেছে এমন একটি প্রমাণও দেখাতে পারবেন না। যখন ইসলামী খেলাফত ছিল, সকল ধর্মের লোকেরা শান্তিতে ছিল। খ্রিস্টধর্মের লোকেরাই এই শান্তি সহ্য করতে পারেনি। তারা কলহ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন দেশে বিভক্ত করেছে। সারা বিশ্বে অশান্তির আগুন জ্বালিয়েছে। এই আগুন নিভানো সম্ভব এক মাত্র ইসলামের উপর চলার মাধ্যমেই। তাই আমি আপনাদের ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়ার জন্য দাওয়াত দিচ্ছি। আপনি মুসলমান হয়ে যান। জাহান্নামের চিরস্থায়ী আগুন থেকে বেঁচে যাবেন। হে আল্লাহ আপনার এই গাফেল বান্দাদের হেদায়াত দান করুন। তাদেরকে আপনার জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচান। হে আল্লাহ আপনি অন্তরর্যামী সকল অমুসলিমদের অন্তরকে খুলে দিন ইসলামকে কবুল করার জন্য। আমিন।
জিজ্ঞাসা- ৮৫
খ্রিস্টধর্মের পরিত্রাণ কি বিশ্বজনীন না নির্দিষ্ট জাতির জন্য ? প্রশ্ন উদয় হয় খ্রিস্টধর্মের পরিত্রাণ কি বিশ্বজনীন? অন্য কথায় যীশু কি সমগ্র মানব জাতির জন্য প্রেরিত? না তিনি শুধু বনী ইসরাইলদের হারানো ভেড়াদের জন্য। দেখুন বাইবেল কী বলে। যীশু হলেন ইসরাইল বংশের লোকদের নবী। আমাদের বাংলাদেশীদের নবী নন। কারণ যীশু নিজেই বলেছেন, “আমি ইসরাইল বংশের নবী”। দেখুন মথি লিখিত সুসমাচারের ১৫:২৪ নং পদে লেখা আছে ‘‘উত্তরে যীশু বললেন, আমাকে কেবল ইসরাইল বংশের হারানো মেষদের কাছেই পাঠানো হয়েছে। আবার মথি লিখিত সুসমাচারের ১০:৫ নং পদে লেখা আছে, “যীশু সেই বারোজনকে এই সব আদেশ দিয়ে পাঠালেন, “তোমরা অইহুদীদের কাছে বা শমরীয়দের কোনো গ্রামে যেয়োনা, বরং ইসরাইল জাতির হারানো মেষদের কাছে যেয়ো।”
বাইবেলের এই আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম, যীশু হলেন শুধু ইসরাইল বংশের নবী। ইসরাইল ছাড়া অন্য কোনো জাতির নবী নন। কুরআনও তাই বলে, আল্লাহ তাআলা বলেন “স্মরণ কর যখন মারইয়াম-তনয় যীশু বললেন, হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসুল আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন। তাঁর নাম আহমদ।” (উল্লেখ্য হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর নাম ছিল আহমদ।) যুক্তির দাবীও হলো যীশু আমাদের নবী নন। যেমন আমাদের বর্তমান (২০১৬) প্রধান মন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা। তার পূর্বে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। প্রশ্ন হলো, এখন আমরা কাকে প্রধানমন্ত্রী মানবো? অবশ্যই শেখ হাসিনাকে। কারণ তিনি হলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তবে খালেদা জিয়াকে সম্মান করবো। ঠিক তেমনিভাবে যীশু হলেন পূর্ববর্তী নবী। তাকে আমরা সম্মান করবো; কিন্তু মানবো বর্তমান নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। কারণ তিনি হলেন বর্তমান নবী।
একথা বললে আমার খ্রিস্টান ভাইয়েরা মথির ২৮:১৯এর একটি শ্লোক থেকে একটি উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন যে, “তোমরা গিয়ে সমস্ত জাতির লোকদেরকে আমার উম্মত কর। ” কিন্তু এই উক্তিটি হযরত ঈসা (আ.) এর কথা না। সম্ভবত সেন্ট পৌলের কোনো শিষ্য এটা জুড়ে দিয়েছেন। কারণ- ক. এতে ঈসা (আঃ) – এর বক্তব্য স্ববিরোধী হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে প্রথমত; বক্তব্য তাঁর জীবদ্দশায় নব্যুয়তি কার্যক্রম পরিচালনা করার সময়ের, আর শেষ বক্তব্যটি কথিত কবর থেকে উঠে শিষ্যদের সঙ্গে দেখা করার সময়ের। যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন এবং ধর্ম প্রচার করেছেন তখন বলেছেন, আমি কেবল ইসরাইল বংশের মেষদের (লোকদের) নিকটেই প্রেরিত হয়েছি, তোমরা অ-ইহুদীদের বা শমরীয়দের কোনো গ্রামে যেওনা, বরং ইসরাইল বংশের লোকদের নিকটে যেও, আর মৃত্যুর পর তিনি বলবেন “ তোমরা সকলকে আমার উম্মত কর” এটা বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না।
খ. ঈসা (আ.) দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর তাঁর প্রধান শিষ্য সেন্ট পিটার (পিতর) অনেক লোকের সামনে বলেছিলেন, আপনারা তো জানেন যে, একজন ইহুদীর পক্ষে একজন অ-ইহুদীর সংগে মেলামেশা করা বা তার সংগে দেখা করা আমাদের শরীয়তের বিরূদ্ধে । যীশু যদি সত্যিই সকলকে শিষ্য করার নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তবে তাঁর প্রধান শিষ্য এমন কথা বলবেন, তা কি চিন্তা করা যায়? গ. সেন্ট পিতর নিজেও লিখেছেন, ইহুদীদের নিকট সুখবর প্রচার করার ভার যেমন পিতরের উপর দেওয়া হয়েছিল, তেমনই অ-ইহুদীদের নিকট সুখবর প্রচার করার ভার খোদা আমার উপর দিয়েছেন। যীশু ঐদিন বাস্তবেই শিষ্যদেরকে সকলের নিকট খ্রিস্টধর্মের দাওয়াত পৌঁছানোর আদেশ দিয়ে গিয়ে থাকেন, তবে সেইন্ট পল কেন বলছে, ইহুদীদের নিকট সুখবর প্রচার করার ভার পিতরকে দেওয়া হয়েছিল? ঘ. ইঞ্জিলের ইব্রাণী নামক পত্রে আছে, প্রভু বলেন, দেখ! সময় আসিতেছে যখন আমি ইসরাইল ও এহুদার লোকদের জন্য একটা নতুন ব্যবস্থা স্থাপন করিব। উক্ত পত্রে একই অধ্যায়ে ১০ নং পদে বলা হয়েছে, প্রভূ আরও বলেন, সেই সময়ের পরে ইস্রায়েলীয়দের জন্য আমি এই ব্যবস্থা স্থাপন করিব।
এসব থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, পুরাতন ও নতুন নিয়ম উভয়টাই কেবল ইহুদীদের জন্য ছিল। সুতরাং নতুন নিয়ম নিয়ে আগমনকারী হযরত ঈসা আ.ও কেবল তাদেরই নবী ছিলেন, অন্যদের নয়।
ঙ. যীশু যে ঐ কথা বলেননি তার আরেকটি প্রমাণ হলো, তিনি তার শিষ্যদেরকে একথাও বলেছিলেন যে, আমি তোমাদের সত্যই বলছি ইসরাইল দেশের সমস্ত গ্রামে তোমাদের যাওয়া শেষ হওয়ার আগেই মনুষ্যপুত্র আসবেন। সুতরাং ইহুদীদের নিকট দাওয়াত পৌঁছানো শেষ হওয়ার আগেই যেহেতু তার পুনরাগমন ঘটবে, তাই তিনি অ-ইহুদীদের নিকট দাওয়াত পৌঁছানোর আদেশ দিবেন কোন যুক্তিতে? চ. তিনি যদি ঐ কথা বলে থাকেন, তবে লূক ও ইউহান্নার পক্ষে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি আদেশ উল্লেখ না করার কোনো কারণ থাকতে পারে না।
জিজ্ঞাসা-৮৬
বাইবেল অনুযায়ী সকল মানুষ ঈশ্বরের পুত্র তাহলে শুধু যীশু কে শুধু ঈশ্বরের পুত্র বলা হয় কেন? দেখুন বাইবেল কী বলে- আদি পুস্তক (৬/২-৪)-তখন ঈশ্বরের পুত্রেরা মনুষ্যদের কন্যাগণকে সুন্দরী দেখিয়া যাহার যাহাকে ইচ্ছা, যাত্রা পুস্তক (৪/২২)- আর তুমি ফরৌণকে কহিবে, সদাপ্রভু এই কথা কহেন, ইসরাইল আমার পুত্র, আমার প্রথমজাত। মথি (৫/৯,৪৪,৪৫)- ধন্য যাহারা মিলন করিয়া দেয়, কারণ তাহারা ঈশ্বরের পুত্র বলিয়া আখ্যাত হইবে। যোহন (৮/৪১-৪৪)- তোমাদের পিতার কার্য তোমরা করিতেছ। তাহারা তাহাকে কহিল, আমরা ব্যভিচারজাত নহি; আমাদের একমাত্র পিতা আছেন, তিনি ঈশ্বর যোহনের পত্র (৩/৯-১০, ৪/৭, ৫/১-২)- যে কেহ ঈশ্বর হইতে জাত, সে পাপাচরণ করে না, বাইবেলে, মথিতে (২৩/৯-১০)- নং এ আছে “আর পৃথিবীতে কাহাকেও পিতা বলে সম্বোধন করিও না, কারণ তোমাদের পিতা এক জন, তিনি সেই স¦র্গীয়। তোমারা আচার্য বলিয়া সম্ভাসিত হইও না, কারণ তোমাদের আচার্য এক জন, তিনি খ্রিস্ট”। যোহন (১/১৮, ৩/১৬, ৩/১৮)- ঈশ্বরকে কেহ কখনও দেখে নাই বাইবেলে ঈশ্বর বলেন: যাত্রাপুস্তক (৪/২২)- ইসরাইল আমার পুত্র, আমার পুত্র অন্যত্র ইয়াকুব (আ:) – এর পৌত্র (ইউসুফ (আ:) – এর দ্বিতীয় পুত্র) ইব্রাহিমকে আল্লাহর প্রথম পুত্র হিসাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে: (যিরমিয় ৩১/৯)- “যেহেতু আমি ইস্রায়েলের পিতা এবং ইব্রাহিম আমার প্রথমজাত পুত্র”। “দায়ুদ নবীকে ঈশ্বর বলেন”গীতসংহিতা (২/৭”তুমি আমার পুত্র, অদ্য আমি তোমাকে জন্ম দিয়াছি”। জিজ্ঞাসা- প্রতিমা পূজা কারী অভিশাপগ্রস্ত তাহলে খ্রিস্টানরা গির্জায় প্রতিমাকে সেজদা করেন কেন? দেখুন বাইবেল কী বলে? “যে ব্যক্তি কোনো ক্ষোদিত বা ছাঁচে ঢালা প্রতিমা, সদা প্রভুর ঘৃণিত ব¯ুÍ, শিল্প করের হস্ত নির্মিত ব¯ুÍ নির্মাণ করিয়া গোপনে স্থাপন করে সে শাপগ্রস্ত। তখন সমস্ত লোক উত্তর করিয়া বলিবে: আমেন।” দ্বিতীয় বিবরণ: -২৭:১৫, প্রকাশিত বাক্য -২১:৮
জিজ্ঞাসা- ৮৭
ধনী খ্রিস্টানরা কি জান্নাতে যেতে পারবে? দেখুন বাইবেল কী বলে? ০১. “এ ধর্মের বিধানে কোন ধনী বা বড় লোক জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না”: “এ ধর্মের বিধানে কোন ধনী বা বড় লোক জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না”: যীশুর একথা কতটুকু সত্য? মথি (১৯/২৩-২৪)- তখন যীশু আপন শিষ্যদিগকে কহিলেন, আমি তোমাদের সত্য কহিতেছি, ধনবানের স¦র্গ রাজ্যে প্রবেশ করা দুস্কর, আবার তোমাদিগকে কহিতেছি, ঈশ¡রের রাজ্যে ধনবানের প্রবেশ করা অপেক্ষা বরং সূচের ছিদ্র দিয়া উটের যাওয়া সহজ “।
জিজ্ঞাসা-৮৮
খ্রিস্টধর্ম মানবতাবিরোধী কেন? ০২. এখানে যীশুর এই কথা দ্বারা নারী জাতির স্বাধীনতাকে ভূলণ্ঠিত করা হয়েছে এবং কন্যা সন্তানদের ওপর পুরুষের জোর কর্তৃত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। অন্য দিকে কন্যা সন্তানদের এভাবে কুমারী জীবন পালন করার জন্য পৃথিবী জনশূন্য হয়ে যেত নয় কি? কথাটি বিজ্ঞান সম্মত? “নিজে বিবাহ না করে চিরকুমার বা চিরকুমারী থাকা এবং যদি বিবাহ করে ফেলে তাহলে মেয়েদের কে বিবাহ না দিয়ে চিরকুমারী রাখাই উত্তম”: ১-করিন্থীয় (৭/২৬,৩৭)- ফলে আমার বোধ হয়, উপস্থিত সঙ্কট প্রযুক্ত ইহাই ভাল, অর্থাৎ অমনি থাকা মানুষ্যের পক্ষে ভাল,। ‘‘কিন্তু যে ব্যক্তি হৃদয়ে স্থির, যাহার কোন প্রয়োজন নাই, আপনি আপন ইচ্ছা সম্বন্ধে কর্তা, সে যদি আপন কন্যাকে কুমারী রাখিতে হৃদয়ে স্থির করিয়া থাকে, তবে ভাল করে।”
জিজ্ঞাসা- ৮৯
খ্রিস্টধর্ম বিধবাদের অধিকার ক্ষুন্ন করে কেন? দেখুন বাইবেল কী বলে- বিধবা মহিলাকে বিবাহ করা ব্যভিচার করার সমান” “আর আমি তোমাদিগকে কহিতেছি, ব্যভিচার দোষ ব্যতিরেকে যে কেহ আপন স্ত্রীকে পরিত্যাগ করিয়া অন্য স্ত্রীলোককে বিবাহ করে, সে ব্যভিচার করে; এবং যে ব্যক্তি সেই পরিত্যক্তা স্ত্রীকে বিবাহ করে, সেও ব্যভিচার করে।” শিষ্যেরা তাঁহাকে কহিলেন, যদি আপন স্ত্রীর সঙ্গে পুরুষের এইরূপ সম্বন্ধ হয়, তবে বিবাহ করা ভাল নয়। তিনি তাঁহাদিগকে কহিলেন, সকলে এই কথা গ্রহণ করে না, কিন্তুু যাহাদিগকে ক্ষমতা দেত্তয়া হইয়াছে, তাহারাই করে। কারণ এমন নপুংসক আছে, যাহারা মাতার উদর হইতে সেইরূপ হইয়া জন্মিয়াছে; আর এমন নপুংসক আছে, যাহাদিগকে মানুষে নপুংসক করিয়াছে; আর এমন নপুংসক আছে, যাহারা স্বর্গ-রাজ্যের নিমিত্তে আপনাদিগকে নপুংসক করিয়াছে। যে গ্রহণ করিতে পারে, সে গ্রহণ করুক।” মথি- ১৯:৯-১২ জিজ্ঞাসা-৮৯
ক্যথলিক খ্রিস্টানদের ফাদার ও সিস্টারগণ চির কুমারী থাকেন এটা কি অযুক্তিক ও অসামাজিক পদ্ধতি নয়?
জিজ্ঞাসা- ৯০
গ্রির্জাগুলোতে ফাদারদের অনৈতিক কর্ম চলে কেন? প্রত্রিকার পাতায় প্রায়ই এ ধরণের খবর পাওয়া যায়। এমনকি সন্ধার পর গির্জা খুলা জাবেনা বলে পোপ নির্দেষ জারি করে। ধর্মের পবিত্র স্থানের অবস্থা যদি এমন হয়, তাহলে বাকি আর কি হতে পারে তাকি কল্পনা করা যায়? পাঠকদের সুবিধার জন্য এখনে দৈনিক আমারদেশ পত্রিকার একটি কার্টিন পেশ করছি। “ধামেরিান গির্জ থেকে বের করে দেয়া হলো তিন ব্যাথলিক পাদ্রীকে।’ আমেরিকার তিন ক্যাথলিক পাদ্রীকে অপ্রাপ্ত বয়সীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও যৌন হেনস্তার অভিযোগে স্থায়ীভাবে খ্রিস্টান ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ফিলডেলফিয়ার অর্চবিশপ চার্লস জে চাপুট এ ঘোষণা দিয়েছেন। এ ঘোষণায় বলা হয়েছে, গির্জার মূল্যবোধ লঙঘনের কারণে রেভারেন্ড জোসেফ জে গালাগার এবং রেভারেন্ড মার্ক গাস্পার খ্রিস্টান ধর্মের আচার –অনুষ্ঠান পরিচালনার অনুপযুক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে মন্সিগনার রিচার্ড টি পাওয়ার্সকেও অনুরুপ দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভঅবে সরিয়ে দেয়া হয়। আশির দশকে গির্জার বলকদের সঙ্গে যৌন অশোভন আচরণ করেছেন বলে এর আগে গালাগরের বিরুদ্ধে দুদফা অভিযোগ উঠেছে। এয়াড়া গির্জা কর্তৃপক্ষ গালাগারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নতে অস্বীকার করায় গালাগারের যৌন হেনস্তার শিাকার একজন ২০০৯ সালে আত্মহত্যা করেন্ েএই বালকের পারিবারিক আইনজীবীর পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয, গালাগারকে যৌন নির্যানের দায়ে কারাগারে পাঠানো উচিৎ ছিল। কিন্তু আর্চবিশপ এ জাতীয় ঘঁনা ধামাচাপা দেয়ায় তা হয়নি। ( দৈনিক আমারদেশ ১০-০৪-২০১৩ইং)
জিজ্ঞাসা-৯১
খ্রিস্টধর্মের শিক্ষা কি মানুষকে অনৈতিক কর্ম থেকে বিরত রাখতে পারে? কারণ আমরা দেখতে পাই, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী অপকর্ম চলে ঐসব দেশে যেসব দেশে খ্রিস্টধর্মের লোকেরা বসবাস করে। এই ধর্ম তার শিক্ষা দিয়ে মানুষকে এতো অপকর্ম তেকে বিরত রাখতে পারেনা কেন?
জিজ্ঞাসা-৯২
খ্রীষ্টধর্মের সাথে প্রচলিত ইঞ্জিলের মধ্যে বিদ্যমান ঈসা মাসীহের কথা ও কর্মের সাথে কোনো মিল নেই কেন? দেখুন পৌলের উদ্ভাবিত ঈসায়ী ধর্মের মূল ভিত্তি যা ঈসা মসীহের কথার সাথে অমিল। (১) যীশুর ঈশ্বরত্ব, (২) ত্রিত্ববাদ, (৩) পুত্রত্ব, (৪) আদমের পাপে সকল মানুষের জাহান্নামী হওয়া, (৫) তাওবা সত্ত্বেও মানুষদের ক্ষমা করায় আল্লাহর অক্ষমতা, (৬) মানুষদের মুক্তির জন্য আল্লাহর নিজ পুত্রকে কুরবানী করতে বাধ্য হওয়া, (৭) যীশুর ক্রুশে মরে অভিশপ্ত হওয়া, (৮) যীশুর নরকভোগ করা, (৯) শরীয়তের বিধিবিধান বাতিল হওয়া।… প্রচলিত ইঞ্জিলের মধ্যে এ সকল বিষয়ে ঈসা মাসীহের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই বরং এগুলির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট বক্তব্য অনেক। সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠিত মিথ্যা হলো সাধু (সেইন্ট) পল-এর বানানো ধর্মকে “ঈসায়ী” ধর্ম বা “খ্রীষ্টধর্ম” নামকরণ
জিজ্ঞাসা-৯৩
আপনারা ত্রিত্বের বিশ্বাস করে বলুন ত্রিত্বের স্বরূপ কী?
জিজ্ঞাসা-৯৪
পিতার সাথে পুত্রের সম্পর্ক কী?
জিজ্ঞাসা-৯৫
যীশু কিভাবে ও কখন থেকে ঈশ্বর? জন্ম থেকে না মানুষ হিসেবে জন্মের পরে?
জিজ্ঞাসা-৯৬
যীশুর মধ্যে একটি ব্যক্তিত্ব না দুটি ব্যক্তিত্ব?
জিজ্ঞাসা-৯৭
তৃতীয় ঈশ্বরের উৎস কী?
জিজ্ঞাসা-৯৮
সেইন্ট পল কে? তিনি ঈসা নবীকে দেখেছেন? যীশু কি তার কথা কিছু বলে গিয়েছেন? যদি না বলে থাকেন তাহলে তার কথা আপনারা মানেন কেন?
জিজ্ঞাসা-৯৯
সেইন্ট পলের মতে শরীয়ত পালন শুধু অপ্রয়োজনীয়ই নয়; উপরন্তু তা মুক্তির পথে প্রতিবন্ধক। তাহলে আপনারা শরীয়ত তথা দশ আজ্ঞার বুলি আওড়ান কেন? দেখুন এব্যপারে সেইন্ট পলের কী মত পোষণ করে? তাহলে সেইন্ট পলের মতে: শুধু মনের বিশ্বাস ও মুখের স্বীকারোক্তি মুক্তির জন্য যথেষ্ট, শরীয়ত পালন শুধু অপ্রয়োজনীয়ই নয়; উপরন্তু তা মুক্তির পথে প্রতিবন্ধক, “কেননা ব্যবস্থা (শরীয়ত) দ্বারা পাপের জ্ঞান জন্মে” (পবিত্র বাইবেল,রোমীয় ৩/২০)।
শরীয়ত সকলকে পাপের মধ্যে আবদ্ধ করে, শরীয়তই পাপের উৎস, শরীয়ত পালন করে কেউ ধার্মিক হতে পারে না; বরং পাপী ও অভিশপ্ত হয়। শরীয়ত পালনকারী ঈসা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত! অর্থাৎ ঈসা সহ সকল নবী ও তাঁদের অনুসারীরা পাপী, অভিশপ্ত ও আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত! পাঠক, আপনি কি জানেন সাধু (সেইন্ট) পল যাকে অভিশাপ, শত্রুতা, গজব ও পাপ বলে আখ্যায়িত করলেন সেই শরীয়ত বা বিধিবদ্ধ আজ্ঞাগুলো কী? মূসা আঃ – এর দশ আজ্ঞা (Ten Commandments) নিম্নরূপ: মূসা আঃ বললেন, ঈশ্বর এই সকল কথা বললেন: ১- আমার ব্যতিরেকে তোমার অন্য দেবতা না থাকুক [অর্থাৎ আমার সঙ্গে কাউকে শরীক করো না]; ২- তুমি কোন মূর্তি নির্মাণ করো না; ৩- তুমি তাদের কাছে প্রণিপাত করো না; ৪- তুমি বিশ্রাম দিন স্মরণ করে পবিত্র করো; ৫- তোমার পিতা ও তোমার মাতাকে সমাদর করো; ৬- নর হত্যা করো না; ৭-ব্যভিচার করো না; ৮- চুরি করো না; ৯- তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না; ১০- তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীতে কিম্বা দাসে কি দাসীতে . তার কোন বস্তুতেই লোভ করো না। (পবিত্র বাইবেল, পুরাতন ও নূতন নিয়ম, ১৯৭৩ সাল, যাত্রা পুস্তক ২০:৩-১৭, দ্বিতীয় বিবরণ ৫:১,১৬-২১) ।
পৌলীয় খ্রীষ্টধর্মে এগুলো মান্য করা পাপ, গজব, অভিশাপ ও আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার মূল কারণ! তাহলে অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে এবং আল্লাহর রহমত বেশি বেশি পেতে অবশ্যই শিরক করতে হবে, ব্যভিচার করতে হবে, নরহত্যা করতে হবে, চুরি করতে হবে, পিতামাতাকে সমাদর করা থেকে বিরত থাকতে হবে, প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে হবে, প্রতিবেশীর স্ত্রী ও সম্পদে লোভ করতেই হবে! এ সকল পাপ যে যত বেশি করবে সে তত বেশি আল্লাহর রহমত লাভ করবে!!!
জিজ্ঞাসা-১০০
পৌলের অনুসারী খ্রীষ্টান প্রচারকগণ তাদের এ মানবতা বিরোধী ও মানবীয় প্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক ধর্মকে ‘সহজ ধর্ম’ বলে প্রচার করেন। তারা বলেন: তাদের ধর্ম সহজ এবং ইসলাম ধর্ম কঠিন। ইসলাম ধর্মে মুক্তি পেতে মুত্তাকী হতে হয়; কিন্তু তাদের ধর্মে বিশ্বাস থাকলেই হলো; কাজেই যত খুশি পাপ করেও জান্নাত পাওয়া যায়!!!! এমন দাবি কি সঠিক ? বিষয়টি বুঝার জন্য নিম্নের বিষয়গুলি বিবেচনা করুন:
(ক) সরল মানুষকে প্রতারণা করার এটি বড় অস্ত্র। এ অস্ত্র দিয়ে সেইন্ট পল ঈসা -এর ধর্ম নষ্ট করেন। শুধু বিশ্বাসেই মুক্তি, কোনো কর্মই জরুরী নয়। ব্যভিচার, নরহত্যা, দুর্নীতি, মাদকতা ইত্যাদি যত পাপই কর না কেন যীশু তোমাকে ত্রাণ করবেন। বিশ্ব মানবতাকে ধ্বংস করার জন্য এর চেয়ে বড় প্রতারণা আর কী হতে পারে? বর্তমান বিশ্বে মানবতার অধঃপতন, নৈতিক অবক্ষয়, দুর্নীতি, স্বার্থপরতা, মাদকতা ও হিংস্রতার প্রসারের মূল কারণ পৌলের এ ধর্ম। এজন্য খ্রিস্টান সমাজের মানুষ হৃদয়ের পবিত্রতা হারিয়ে অবক্ষয়ের গভীরে নিমজ্জিত হয়েছেন। খ্রিস্টানপাদরীগণ কর্তৃক খ্রিস্টান চার্চগুলোর মধ্যে যে পরিমাণ ব্যভিচার, ধর্ষণ, শিশুধর্ষণ, গর্ভপাত ইত্যাদি ভয়ঙ্কর পাপ সংঘটিত হয়, বিশ্বের অন্য কোনো ধর্মের ধর্মগৃহে এর শতভাগের একভাগ পাপাচারেরও নজীর নেই।
(খ) প্রচলিত ঈসায়ী ধর্ম সহজ নয়। মানুষের বানানো ধর্ম যা হয়। একদিক সহজ করতে যেয়ে অন্যদিক কঠিন হয়ে গিয়েছে। এ ধর্মে হারামকে হালাল করা হয়েছে আর হালালকে হারাম বানানো হয়েছে। এ ধর্মের নির্দেশ হলো পাপ করলে সরাসরি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যাবে না, বরং পাপের কথা পাদরীর কাছে বলতে হবে। নিজে বিবাহ না করে চিরকুমার বা চিরকুমারী থাকা এবং মেয়েদেরকে বিবাহ না দিয়ে চিরকুমারী রাখাই উত্তম (মথি ১৯/৯-১২, ১ করিন্থীয় ৭/১-৪০)। ঈশ্বরের জন্য পিতামাতা, স্ত্রী-পরিজন ত্যাগ করা প্রয়োজন; তাতে শতগুণ পিতামাতা স্ত্রী পরিজন পাওয়া যাবে! (মথি ১৯/২৯, মার্ক ১০/২৯-৩০, লুক ১৮/২৯-৩০)। এ ধর্মের বিধানে কোনো ধনী জান্নাতে যেতে পারবে না (মথি ১৯/২৩-২৪; মার্ক ১০:২৫)।
(গ) এ ধর্মের সবচেয়ে কঠিন হলো বিশ্বাস। প্রচারকগণ বলেন: শুধু যীশুকে বিশ্বাস করলেই মুক্তি। তবে কিভাবে তাঁকে বিশ্বাস করতে হবে তা সত্যিকার অর্থে কেউ বলতে পারে না। খ্রীষ্টান পণ্ডিতগণ স্বীকার করেছেন যে, ত্রিত্ববাদ একটি ননসেন্স বা নির্বোধ প্রলাপ; কেউই তা বুঝেন না ত্রিত্বের স্বরূপ কী? পিতার সাথে পুত্রের সম্পর্ক কী? যীশু কিভাবে ও কখন থেকে ঈশ্বর? জন্ম থেকে না মানুষ হিসেবে জন্মের পরে? তার মধ্যে একটি ব্যক্তিত্ব বা দুটি ব্যক্তিত্ব? তৃতীয় ঈশ্বরের উৎস কী? ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিগত দুই হাজার বছরে অন্তত দু কোটি খ্রীষ্টান মারামারি করে খুন হয়েছেন। Nestorian, Monarchianism; Trinitarian heresies, Modalism, Tritheism, Partialism, Adoptionism, Arianism, The Filioque fracas, Schism…… ইত্যাদি আর্টিকেলগুলি যে কোনো এনসাইক্লোপিডিয়া অথবা ইন্টারনেটে দেখলেই পাঠক বুঝবেন, খ্রীষ্টধর্মের “ঈমান” কত ভয়ানক দুর্বোধ্য ও কঠিন।
(ঘ) কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি এরূপ সহজত্বের ঘোষণা দিয়ে বলা হয় যে, আমাদের প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান বলে বিশ্বাস করে ভর্তি হলেই হলো, লেখাপড়া করুক অথবা না করুক, পরীক্ষার খাতায় কিছু লিখুক অথবা না লিখুক, তাকে আমরা সর্বোচ্চ ফলাফল দিয়ে পাস করাব, তবে যারা নিয়মিত লেখাপড়া করাকে ভাল রেজাল্টের পথ বলে মনে করে তারা এরূপ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে… আপনি কি উক্ত প্রতিষ্ঠানে আপনার সন্তানকে ভর্তি করবেন? এ প্রতিষ্ঠান কি কোনো ভাল ছাত্র তৈরি করতে পারবে?
এভাবে কোনো দেশ যদি ঘোষণা দেয় যে, আমাদের দেশের নাগরিক হলে শত খুন সব মাফ, যত বড় অপরাধীই হোক না কেন আমরা তার শাস্তি মওকুফ করে দেব, তবে যারা আইন মেনে সুশীল নাগরিক হতে চায় তাদেরকে এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হবে… আপনি কি সে দেশের নাগরিক হতে আবেদন করবেন? সে দেশ কি সুনাগরিক তৈরি করতে পারবে? মনে করুন একজন মা এত মমতাময়ী যে, তাঁর সন্তানদের সকল অপরাধের প্রশ্রয় দেন, কোনো অপরাধেই রাগ করেন না সে মায়ের সন্তান কি ভাল মানুষ হতে পারবে?
(ঙ) সম্মানিত পাঠক, মনে করুন, একটি ছেলে প্রায়ই মায়ের অবাধ্য হয়। এরপর যখনই মনটা নরম হয় মায়ের কাছে যেয়ে মাকে জাড়িয়ে ধরে, ক্ষমা চায়। তখন মা আদর করেন ও দোআ করেন। প্রায়ই এমন ঘটে। মায়ের আরেক ছেলে। প্রায়ই মায়ের অবাধ্যতা করে। সে জানে তার পিতা বা ভাই তার জন্য মায়ের কাছে সুপারিশ করবেন। কাজেই সে মায়ের সান্নিধ্যে কখনোই যায় না। অথবা যখনই মনটা নরম হয় তখন বড়ভাইকে মায়ের কাছে তার জন্য সুপারিশ করতে অনুরোধ করে। বলুন তো কোন্ সন্তান সত্যিকার মাতৃপ্রেম ও মায়ের স্নেহ লাভ করবে?
সম্মানিত পাঠক, প্রতি মুহূর্তেই আমরা পাপ করি। যখনই মনটা একটু নরম হয় তখনই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়াই হলো পাপ মোচনের সঠিক পথ। পাপের মাধ্যমে আল্লাহর থেকে আমরা যতটুকু দূরে যাই, আল্লাহর যিকর ও তাওবার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর অনেক বেশি প্রেম ও নৈকট্য লাভ করি। ইসলামের শিক্ষা হলো, একজন মা তার সন্তানকে যতটুকু ভালবাসেন আল্লাহ তাঁর বান্দাকে তার চাইতে অনেকগুণ বেশী ভালবাসেন (সহীহ বুখারী , বাংলা অনুবাদ, হাদীস নং-২৫০১ দ্রষ্টব্য)। তিনি বান্দাকে সৃষ্টি করেছেন। মা তো সন্তানকে সৃষ্টি করেননি। মা সন্তানের জন্য যতটুকু করেন তাও আল্লাহ পাকের অনুগ্রহে করে থাকেন। সুতরাং তিনি আমাদের মায়ের চেয়েও অনেক বেশী প্রিয়, অনেক আপন। দীন শিক্ষার জন্য মানুষের উস্তাদ বা আলিমের প্রয়োজন। কিন্তু মহান আল্লাহর কাছে দু’আ করতে বা তাওবা করতে পাপীকে কারো কাছে যেতে হয় না। কোনো মসজিদ, মাদ্রাসা বা আলিম-ইমামের কাছেও তাকে যেতে হয় না। নিজের স্থানে থেকে নিজের মনের আবেগ ও অনুশোচনা দিয়ে প্রতিটি মানুষ সরাসরি মহান আল্লাহকে ডাকবে, পাপ করলে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইবে। এভাবেই ক্রমান্বয়ে পাপী বান্দা আল্লাহর প্রিয়তম ওলীতে পরিণত হয়।
পক্ষান্তরে পৌলের পাপমোচন “সহজ” থিয়রি পাপীকে ক্রমান্বয়ে মহাপাপীতে পরিণত করে। ত্রাণকর্তা বা মধ্যস্থতাকারীর উপর বিশ্বাস ও নির্ভরতার কারণে সে পাপ ত্যাগ করতে পারে না, কখনো প্রার্থনার আবেগ হলে মূলত উক্ত মধ্যস্থের কথাই তার হৃদয়ে জাগে। এভাবে তার হৃদয় আল্লাহর যিকর থেকে বঞ্চিত হয়, ক্রমান্বয়ে পাপ তার হৃদয়কে অন্ধকার করে তাকে চির জাহান্নামী করে।
সম্মানিত পাঠক, পৌলের এ ‘সহজ’ ধর্ম মানবীয় প্রকৃতি বিরোধী। মানবীয় প্রকৃতির দাবি, মহান আল্লাহর ইবাদত ও যিকরের মাধ্যমে হৃদয়ে প্রশান্তি আনয়ন করা। খ্রীষ্টধর্মে এর কোনোই সুযোগ নেই। এজন্য পাশ্চাত্যের অনেক উচ্চশিক্ষিত খ্রীষ্টান ‘সহজধর্ম’ ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করছেন, কারণ, খ্রীষ্টান ধর্মে আল্লাহর যিকর, গুণগান, আখিরাত-মুখিতা ইত্যাদি কিছুই নেই। কালেভদ্রে চার্চে গিয়ে যে প্রার্থনা করা হয় তাও দুনিয়া মুখি। আর আল্লাহর মর্যাদা ও গুণগান ও আল্লাহর যিকর ছাড়া কখনোই মানুষের হৃদয় প্রশান্তি পায় না। এজন্য মানব সভ্যতাকে সাধু পৌলের প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে, আদম, নূহ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসা (আঃ) ও সকল নবীর দেখানো মুক্তির পথের নির্দেশনা দিতে, সর্বোপরি দেশের সরল মুসলিম নরনারীকে এদের প্রতারণা থেকে রক্ষা করার তৌফিক দান করুন।
খ্রিস্টান ভাইদের প্রতি আকুল আবেদন প্রিয় ভাইটি আমার, আমি আপনার খুবই হিতাকাঙ্ক্ষী। আপনাকে খুব ভালবাসি আপনার প্রতি আমার খুব মায়া হয়। আপনার জন্য আমি সর্বদা দু’আ করি। আপনার জন্য আমি ব্যাকুল হয়ে যাই, অস্থির হয়ে যাই। মাঝে মাঝে আমার ঘুম চলে যায়। কারণ আপনি না বুঝার কারণে বা ভুল বুঝে চিরস্থায়ী জাহান্নামে ঝাঁপ দিচ্ছেন। চলছেন চিরস্থায়ী অন্ধকার ও জাহান্নামের পথে।
আপনি যেই পথে আছেন সেটা শান্তির পথ নয়। ভাই! আমি আপনার হাতে ধরি, পায়ে ধরি, আপনি মুসলমান হয়ে যান। জাহান্নামের পথ ত্যাগ করুন। আমি চাইনা আপনি চিরস্থায়ী জাহান্নামে জ্বলুন। আমি চাই না আপনি কঠিন শাস্তি ভোগ করুন। দেখুন ভাই এই দুনিয়ার আগুনে সামান্য সময় আঙ্গুল দিয়ে রাখতে পারি না। প্রখর রোদ্রে সূর্যের তাপ সহ্য করতে পারি না। তাহলে চিরকাল যেই আগুনে থাকতে হবে তা কিভাবে সহ্য করব? ভাই! আমি আপনাকে এই কথাগুলো বলছি, এর বিনিময়ে আপনি কিন্তু আমাকে টাকা-পয়সা কিছুই দিবেন না। শুধু আপনাকে ভালবাসি বলেই এ কথাগুলো বলছি। আবারও বলছি ভাই আপনি মুসলমান হয়ে যান। আপনি ফিরে আসুন শান্তির পথে, ফিরে আসুন সত্যের পথে। আপনার বিস্তারিত কিছু জানার থাকলে আমার সাথে যোগাযোগ করুন। বিতর্ক নয় সত্য জানার যদি আপনার আগ্রহ থাকে, আপনি যদি আরো কিছু জানতে চান, তাহলে আপনাকে সময় দিব। আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর দিব ইনশাআল্লাহ।
ভাইটি আমার! শেষ বারের মতো অনুরোধ করছি আপনি আল্লাহর দরবারে দু’আ করুন, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে সঠিক পথ দেখান। হে আল্লাহ! জাহান্নামে নিক্ষেপ করিয়েন না। হে আল্লাহ! আমাকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন। সকাল সন্ধা পড়ুন “ইয়া হাদী ইয়া রাহীম” আপনি অনেক বিপদ হতে মুক্তি পাবেন। ভাই আপনার ইসলামে ফিরে আসার সংবাদ না পাওয়া পর্যন্ত আমার অস্থির মন শান্ত হবে না। আপনি মুসলমান হয়ে আপনার এই হৃদয়বান ভাইটিকে শান্ত করুন। সুসংবাদটি জানিয়ে ভাইটিকে স্থির করুন।
ইতি আপনার হিতাকাংক্ষি ভাই যুবায়ের আহমদ
(ঈষৎ পরিমার্জিত)
উৎসঃ ফেসবুক

মতামত দিন