প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-৮)

ইসলামের চরমশত্রু আবু জাহেল

প্রশ্ন: আবু জাহেল কে ?

উত্তর: আবু জাহেল ছিলেন কুরাইশদের বড় নেতা।

প্রশ্ন: তার প্রকৃত নাম কি ছিলো ? তাকে আবু জাহেল বলা হয় কেনো ?

উত্তর : তার প্রকৃত নাম ছিল উমর বিন হিশাম, তার উপনাম ছিল আবুল হাকাম। কিন্তু ইসলামের প্রতি তার শত্রুতাপূর্ণ আচরণের জন্য তাকে আবু জাহেল বলা হতো।

প্রশ্ন: আবু জাহেল কেনো রাসূলুল্লাহ (সা)-এর বিরোধিতা করতেন ?

উত্তর : কারণ, রাসূল (সা) মুর্তিপূজাকে ঘৃণা করতেন এবং আল্লাহর একত্ববাদের (তাওহীদের) দাওয়াত দিতেন।

প্রশ্ন: রাসূল (সা)-এর সাথে তার আচরণ কেমন ছিলো ?

উত্তর: সে রাসুল (সা)-এর সাথে বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করতো। অধিকাংশ সময়ে সে রাসূলকে অপমান করতো, গালি-গালাজ করতো, এমনকি মৃত্যুর হুমকি দিতো। রাসূল (সা)-কে বিরক্ত করার জন্য সে মানুষকে উস্কানি দিতো। আর সে একমাত্র ব্যক্তি যে বিভিন্ন গোত্রের লোকজনকে একত্রিত করে রাসূল (সা)-কে হত্যার প্রস্তাব করেছিলো।

প্রশ্ন: কোথায় তাকে হত্যা করা হয় ?

উত্তর: বদর যুদ্ধে দু’জন আনসার তরুণ তাকে হত্যা করে।

প্রশ্ন: পরবর্তীতে তার যে ছেলে ইসলাম গ্রহণ করে তার নাম কী ?

উত্তর: ইকরিমা বিন আবু জাহেল (রা)।

প্রশ্ন: নওমুসলিমদের সাথে আবু জাহেল কি করত ?

উত্তর: সে যখন শুনত, কোন সম্ভ্রান্ত  বংশের উচ্চমর্যদাসম্পন্ন লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে তখনই তাকে সে অপদস্ত করার চেষ্টা করত, গোপনে তার বদনা করত এবং তাকে কঠিন পরিণতির ভয় দেখাতো। আর নওমুসলিম যদি সামাজিকভাবে দুর্বল হতো, সে তাকে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করতো এবং তাকে কঠোর নির্যাতনের উপর রাখতো।

প্রশ্ন: আবু জাহেল কীভাবে রাসূল (সা)-এর জীবননাশের চেষ্টা করেছিলো ?

উত্তর : একবার আবু জাহেল কুরাইশদের সম্বোধন করে বললেন, “হে কুরাইশগণ! মুহাম্মাদ যেভাবে আমাদের ধর্মের ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়, আমাদের পূর্বপুরুষদের অবমাননা করে, আমাদেরকে বিপথগামী বলে এবং আমাদের দেবতাদের গালি দেয়, মনে হচ্ছে এ জন্য সে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়েছে। আমি শপথ করছি তার এ অপকর্ম থেকে তোমাদের মুক্তি দেয়ার জন্য আমি ভারি পাথর নিয়ে সে যখন সালাত পড়বে তখন তার মাথায় ঐ পাথর নিক্ষেপ করবো। তার আনিত ধর্মের ব্যাপারে আমি মোটেও শংকিত নই। আশা করি বনী আবদে মানাফের লোকেরা আমার সাথে একমত”। সবাই তার কথায় রাজি হয়ে গেল এবং তার কথানুযায়ী কাজ করার জন্য তাকে উত্সাহিত করল।

পরের দিন সকালবেলা আবু জাহেল রাসুল (সা)-এর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। রাসূল (সা) সালাতে দাঁড়ানোর পর তাকে হত্যা করার জন্য আবু জাহেল পাথর নিয়ে অগ্রসর হতে লাগলো। রাসূল (সা)-এর নিকট আসনে না আসতেই পাথরটি তার হাত থেকে পড়ে যায় এবং সে বিবর্ণ চেহার নিয়ে ফিরে আসে। লোকেরা এ দৃশ্য দেখে তাড়াতাড়ি তার কাছে এসে এ ব্যাপারটি সম্পর্কে জানতে চায়। সে বলল, “যখন আমি তার নিকটবর্তী হলাম, বিশাল একটা উট ভয়ংকর দাঁত নিয়ে গতিরোধ করল এবং আমাকে প্রায় খেয়ে ফেলেছিল। পরে রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, এটা ছিল জিবরাঈল! আবু জাহেল যদি আরেকটু অগ্রসর হত তাহলে সে তাকে মেরে ফেলত।

প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ (সা) যখন মানুষদের কাছে দাওয়াত দিচ্ছিলেন তখন আবু জাহেল কী করলেন ?

উত্তর: সে রাসুল (সা)-এর মাথায় ময়লা নিক্ষেপ করল এবং মানুষদেরকে বলল, “তোমরা তার কথা শুনবে না। সে তোমাদেরকে লাত, মানাত এবং উযযার পূজা থেকে বিরত রাখতে চায়”। এ কারণে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর চলার পথে পাথর ও ময়লা নিক্ষেপ করতো।

প্রশ্ন: রাসূল (সা)-কে হত্যার জন্য আবু জাহেল অন্য আরেকটি দিনে কী করেছিলো ?

উত্তর: একবার সে শপথ করল যে, সে রাসূল (সা)-এর মুখমন্ডলে ময়লা নিক্ষেপ করবে এবং পা দিয়ে তার গলা চেপে ধরবে। একাজ করার জন্য সে সামনে অগ্রসর হয়ে হঠাত ফিরে আসল এবং হাত দিয়ে নিজেকে কোন জিনিস থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। তাকে জিজ্ঞেষ করা হলে সে বললো, “আমি একটি আগুনের পরিখা ও কিছু ডানা দেখতে পেলাম”। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, “সে যদি আরেকটু অগ্রসর হতো তাহলে জিবরাঈল তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো একের পর  এক ছিন্ন ভিন্ন করে দিতো”।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য পোস্টগুলো :

  1. প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-১)
  2. প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-২)
  3. প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-৩)
  4. প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-৪)
  5. প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-৫)
  6. প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-৬)
  7. প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-৭)

About wj_admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Solve : *
16 − 5 =