আমি একসময় নাস্তিক ছিলাম

অনেক ছোট তখন । ক্লাস ফাইভে বা সিক্সে পড়ি, তখন থেকে । ধর্ম বই আর রুপকথার বই একরকম লাগত । মনে হত এসবই মানুষের মনগড়া । “মুহাম্মাদ, মূসা কিংবা ইবরাহীম বলে কেও কোনদিন আসেনি পৃথিবীতে ।”

সায়েন্স ফিকশান পড়তাম । জাফর ইকবালের বেশির ভাগ । নানারকম দর্শন খেলা করত মাথায় (আমি ছোটবেলা থেকেই অলস আর ভাবুক )

তাহলে কি কোন মহাজাগতিক প্রাণী আমাদের তৈরি করেছে ? এমন কি হতে পারে তারা এক সমষ্টিগত প্রাণী যারা বহু হয়েও এক ? আর আমরা পরীক্ষামূলক গিনিপিগ । আমাদের থেকে আরও উন্নত কিছু তৈরি হতে যাচ্ছে অনাগত ভবিষ্যতে ।

অথবা মনে হত এই পৃথিবীতে আমিই সব । কেননা সবকিছু আমাকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে পৃথিবীর । আমি যেখানে নেই সেখানে আসলে কিছুই ঘটছেনা ।বাকি সবকিছু প্রগ্রামড, কেবল ইচ্ছাশক্তি আছে আমার ।

কৈশোরে বুঝলাম আসলেই মুহাম্মাদ নামে কেও এসেছিল । ইতিহাস খুব পরিষ্কার । তারপর থেকে নেই আছের দ্বন্দ্ব । সংশয় । ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে কিনা, এই প্রশ্ন আমাকে অনেক কাঁদিয়েছে । লিটারেলি বলছি, কাঁদিয়েছে । কলেজ জীবনে আমার লেখা একটা গদ্য বা কবিতার মত আছে তালাশ-১ (পাবলিক শেয়ার দেয়া আছে) ফ্রেঞ্চ দার্শনিক জ্যাক্স লাকার থেকে একটা দর্শন ধার করে লিখেছিলাম । কবিতাটা এখন পড়লেও বুঝতে পারি, ঐ সময়কার কষ্ট কেমন ছিল । কতটা ভয়াবহ ছিল এই সংশয় ।

আমার জীবনটা খুব বেশি আপস এন্ড ডাউনসে ভরা । বিশেষ করে ক্যারিয়ার । আপ-ডাউন একটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে । আপের ঠিক পরেরটা ডাউন । ডাউনের ঠিক পরেরটাই আপ । ২০০৯ সাল । তেমনি এক ‘ডাউনের’ মুহূর্ত চলছিল । ভয়াবহ ডিপ্রেশন, যেমন করে কবিদের হয় । তেমনি এক সময়ে হঠাৎ করে নামায পড়বার ভুত চাপল মাথায় । দেখিনা কি হয় । কয় ওয়াক্ত, কয় রাকাত পড়েছিলাম মনে নেই । তবে ঐ রকম সুন্দর নামায মনে হয় আমি আমার জীবনে আর কখনও পড়েছি বলে মনে নেই । আমি বলেছিলাম “মালিকি ইয়াওমিদ্দীন, ইয়া কানা’বুদু ওয়া ই’ইয়া কানাস্তাইন । ইহদিনাস সিরতল মুস্তাকীম ” অর্থ তখন বুঝতাম কিছু কিছু ।

“বিচার দিনের মালিক, আমরা শুধু তোমার পূজাই করি আর তোমার কাছেই যাবতীয় সাহায্য চাই । আমাদের সরল পথ দেখাও”

আমাদের সরল পথ দেখাও ।

তবু সংশয় কাটলনা । এরপর অভিনব এক ‘আপ’ এর মুহূর্ত আসলো । বুয়েটের পরীক্ষায় টেকার কল্পনাও ছিল না । টিকে গেলাম কিভাবে যেন । প্রতিজ্ঞা করলাম ইসলাম নিয়ে পড়বই । সারফেস জ্ঞান হলেও নিজে যাচাই করে দেখবো সত্য মিথ্যা । তখনও কিন্তু আমার স্পষ্ট বিশ্বাস ছিল ধর্মগুলো মানুষের বানানো । আর আমার কাছে প্রায় যাবতীয় ইসলামিক কর্মকাণ্ডই হাস্যকর ছিল । আমি শুধু নাস্তিক ছিলাম না । আজকের থাবা বাবার মত না হলেও আসিফ মহিউদ্দিন বা তসলিমার লেভেলের কাছাকাছি ব্লাসফেমি ছিল আমার ভেতরে । দুঃখের বিষয় বুয়েটে ক্লাস শুরুরু আগে প্রায় ছয়মাস অবসর পেলাম গবেষণা করার ইসলাম নিয়ে । কিছুই করলাম না ।

বুয়েটে ঢোকার পর আরেক জীবনের গল্প । হল আমার কোনদিন ভালো লাগেনি । আমি ভালোবাসি নিয়মমাফিক জীবন । দেশের সেবা করবার ব্রত নিয়ে আমি ছাত্রলীগের রাজনীতিও করেছি কিছুকাল । তারপর হয়ে গেলাম ফুল টাইম ন্যাশনাল লেভেলের ব্রিজ প্লেয়ার । একেবারে যাকে বলে ইয়াংস্টার । সময় বয়ে গেল । ধর্ম, দর্শন আর কবিতা ধুয়ে মুছে গেল ৫২ কার্ডের বিস্তর কম্বিনেশন আর সম্ভাব্যতার অংক কষতে কষতে … … … আরেকটি ডাউন সাইডের দরকার ছিল জীবনের । সেটি আসল ২০১২ সালে । শেষের দিকে । তিন বছরের মাথায় আমি আমার প্রতিজ্ঞার কথা মনে করলাম । কোন এক রাত দুটোয়; আহসানউল্লাহ হলের ক্যান্টিনের বারান্দায়, একটি ভাঙা টেবিলে বসে সিদ্ধান্ত নিলাম । এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত (আমার জন্যে ) “জীবনকে গুছিয়ে ফেলতে হবে ।” ঐ সময় তাবলীগ জামাতের ভাইদের গোছানো জীবন আমার মননে দাগ কেটেছিল ।

পড়তে লাগলাম । মওদুদির তুলনামুলক সংস্কৃতির বই না, গাযযালীর দর্শনের সমারোহ না, সাঈদ কুতুবও না । আমি টেক্সট বই পড়া মানুষ, নোট বইতে আমার তখন চলত না । কুরআন পড়তাম । বুঝতাম না । বাংলা পড়তাম । ভালো লাগত না । তারপর, কবে ঠিক মনে নেই, ইংরেজি পড়া যেদিন শুরু করলাম সেদিন মজা পেতে লাগলাম । ফার্স্ট হ্যান্ড মজা । কোন শায়েখ নেই, তাফসীর নেই । শুধু শব্দার্থ আর সহীহ ইন্টারন্যাশনালের টুকটাক ব্যাখ্যা । আর পড়তাম উইকিপিডিয়া । বদর-উহুদ-খন্দক । অনেক জীবনী, অনেক তথ্য । নামায পড়তাম অল্প অল্প । সম্ভবত জীবনকে সাজিয়ে ফেলবার মানসিক ব্যয়াম মনে করে । তারপর, তারপর একটা আয়াত পেলাম … … … সূরা ইউনুস-৯০-৯২।

এই আয়াতটি আমি আগেও পড়েছি । তখন দাগ কাটেনি মনে । অথবা এখন যখন পড়ি তখন মনে হয় এ আর এমনকি আয়াত । এর চাইতে ভয়াবহ জিনিস আছে আল্লাহ্র কিতাবে । কিন্তু তখন দাগ কেটেছিল । মন কে ছিড়েছিল, টুকরো করেছিল । হৃদয়কে অণু পরমাণুতে ভেঙে ফেলে জোড়া দিয়েছিল নতুন করে :
ঈশ্বর ডুবন্ত ঈমান আনা ফেরাউন কে বলছেন : সূরা ইউনুস আয়াত ৯২ (রেফারেন্সটা আমার তখন থেকেই মুখস্থ)

“So today We will save you in body that you may be to those who succeed you a sign. And indeed, many among the people, of Our signs, are heedless”

আমি পাগল হয়ে গেলাম । এই আয়াতের ব্যাখ্যা কি দেয়া যেতে পারে সেটা অনেক পরের কথা । প্রথম কথা এই অনুবাদ কি আসলেই সঠিক আরবীর অনুবাদ । ফেরাউনের মমি আবিষ্কারের পর হুজুরেরা এর অনুবাদ পরিবর্তন করেনি তো ? আরবী যতটুকু পারতাম শব্দ মিলাতে চেষ্টা করে দেখতাম … … … নাহ, বুঝিনা ।

অথবা এও তো সম্ভব যে কুরআনে নতুন আয়াত সংযোজন করে দেয়া । কুরআনের ইতিহাস নিয়ে লেগে গেলাম । সংকলনের গলদ ধরবার চেষ্টা করলাম । যেটা পেয়েছিলাম তা হল এই আয়াত আর উসমানী কুরআনের আয়াত এক । উসমানী মুসাফ হল সেই মুসাফ যা উসমান (রা) মৃত্যুর সময় পড়ছিলেন মানে হল সেই সপ্তম খৃষ্টাব্দের বিষয় যখন ফেরাউনের মমি থেবসের গুপ্ত কবরখানায় কবর চোরদের ধোঁকা দিতে দিতে ব্যস্ত ।

এইখানে থেমে যাওয়া উচিত । কিন্তু আমি পুরো সত্যটা বলতে পছন্দ করি । আমার মাথায় শেষ যে যুক্তি আসলো তা হল মিশরীয়রা যে মমি করত তা মুহাম্মাদ (সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানতো । তারপর একটা লাম্পসাম হিসাব নিকাশ করে লিখে দিয়েছে যাতে মানুষ একসময় কাওকে না কাওকে খুজে পেয়ে বিভ্রান্ত হয়ে ভাববে মুহাম্মাদের বাণী ঠিক । আমি এরপর রসূল সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন নিয়ে লাগলাম । কোথায় সমস্যা ? এই লোক কি করে মমির খবর পেল ? কোথায় মক্কা থেকে এই লোক কখন বেরিয়েছিল ‘ইকর, বিসমি রব্বি’ পড়বার আগে ? দেখেছিলাম তার জীবনের একটি অংশের খুব বেশি ইতিহাস নেই । সেটা হল ২৫ বছর থেকে ৪০ বছর বয়স । কাজেই এই সময় গুহায় যাবার নাম করে বাইবেল, ইতিহাস ইত্যাদি পড়া অস্বাভাবিক কিছু না ।

তারপর থামলাম; হৃদয়কে প্রশ্ন করলাম,, “ এটা কি সত্যি হতে পারে যে একই সঙ্গে একটা লোকের সব কথা সত্যি হয়ে যাবে, আর একটাও মিথ্যা হবেনা । অথবা আমি কি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বড্ড একপেশে জেদের আশ্রয় নিচ্ছি না ? কোন স্পষ্ট বিষয়কে অস্বীকার করবার জন্য ঐতিহাসিক দলিল ছাড়া মনগড়া কল্পনার আশ্রয় নিচ্ছি নাতো”? আমি ইতিহাসের সৎ ছাত্র, তাই আমার হৃদয় হুমায়ুন আজাদ হতে পারেনি ।

ইতিহাস নিয়ে কথা বলতে গেলে মিনিমাম দলিলের প্রয়োজন হয় । এটা ইতিহাসের একটা এটিকেট । আমি রসূল সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের উপর উইলিয়াম মুরের মত লোকেদের কমেন্ট পড়েছি কয়েকটা ইভেন্টে । মুরেরা ছাগলের মত কোন বিষয় বলে দেন না শুধু কল্পনা প্রবণ হয়ে । শুধু একটা পসিবিলিটি বাকি থাকে । তা হল মুসলিমদের লম্বা শাসনের ইতিহাস । এই দীর্ঘ ইতিহাসে চতুর মুসলিম শাসকেরা মুহাম্মাদের মিশর ভ্রমণের ইতিহাস বেমালুম চেপে গেছে । যদিও ফেরাউনের মমি তৈরি হয়েছিল তারও ১৬০০ বছর আগে আর আমি আদৌ নিশ্চিত নই ঐ সময় মিশর গেলেই মমির খবর পাওয়া যেত কিনা । তারপরও বলছি । মুসলিম শাসকেরা কেন এই মিশর ভ্রমণের ইতিহাস গোপন করবে ? মা আয়িশার চরিত্রে কালি লাগানোর চেষ্টার ইতিহাস তো তারা গোপন করেনি ।

মা আয়িশা নিজে বর্ণনা করেছেন সদর্পে যে উনি সকালবেলা এক বেগানা পুরুষের সাথে মদীনায় ফিরেছেন আর সারারাত পথেই ছিলেন । মুসলিম শাসকেরা সেই ইতিহাস গোপন করেনি যখন বলা হল মুহাম্মাদ নিজের পালিত ছেলের বউ আর চাচাতো বোনের রুপের প্রেমে পড়ে, চার স্ত্রীর জায়গায় পঞ্চম গ্রহণ করতে চায় । অথবা যখন সূরা নাজমের আয়াত পরিবর্তনের ইতিহাস; যা নিয়ে The Satanic Verses নামে সালমান রুশদি একটা নভেল লিখে বিখ্যাত হয়ে গেছে । আর কবে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু ‘আলাইহি সাল্লাম হাওয়া খেতে গিয়েছিলেন নীল নদেরও পশ্চিম তীরে, সেই ইতিহাস আব্বাসীয়রা একেবারে মাটিচাপা দিয়ে দেবে ?**********

আমি ততদিনে ইসলামের আরও অনেক বিষয়ে অভিভূত হয়ে নিজের প্রতি একটি সুবিচার করেছিলাম । যুক্তি মানুষকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যাবেই যেখানে প্রত্যেকটি ঘটনার পিছনে অসংখ্য কারণ দাঁড় করানো যায় । কিন্তু যুক্তি দিয়ে যুক্তি প্রয়োগের শিক্ষা একমাত্র এই পৃথিবীর মালিক দিতে পারেন । কুরআনের এমন অসংখ্য আয়াত, ভবিষ্যদ্বাণী আছে যেগুলি দিনের আলোর মত স্পষ্ট যে এটি মানুষের পক্ষে তৈরি করা সম্ভব নয় কিছুতেই । আমি এখানে ছোট্ট একটি উদাহরণ আনলাম মাত্র । ইসলামিক রাষ্ট্রের ধারণা কোন ইউটপিয়ান বিষয় নয় । ইস্লামের প্রায়োগিক দিক গুলো শুধু সুন্দর নয়, বেস্ট । কুরআনের ভাষাগত সৌন্দর্য আমি এখনও যে বুঝি তা না, তখন বোঝার প্রশ্ন ছিল না ।

এই কথাটা আমি খুব বিশ্বাস করি । মাই ইয়াহদিহিল্লাহু ফালা মুদিল্লাল্লা । ওয়া মাইইয়ুদলিলহু ফালা হাদিইয়ালা ।

“Whomsoever Allaah guides, none can leave astray. And whomsoever Allaah leaves astray, none can guide.”

আমি শুধু একটি কিতাবের উপর ঈমান এনেছিলাম আর তার মালিকের প্রতি । আত্মসমর্পণ করেছিলাম যুক্তিতে হেরে গিয়ে । শুধু জেনেছিলাম এই কিতাব এই বিশ্ব সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত, যিনি লালন করেন সমগ্র সৃষ্টিকে । আর আমাকে মানতেই হবে এর কথা । অনন্যোপায় নেই । এই কিতাব আমাকে শিখিয়েছিল তার রব কেমন তা। এই কিতাব জানিয়েছিল কিভাবে অনস্তিত্বের জগত থেকে আমি সালমান অস্তিত্বে আসলাম । আমার হাদিসের প্রতি বিশ্বাস ছিল না, কিতাব আমাকে শিখিয়েছিল যে সে যে মানুষের উপর অবতীর্ণ হয়েছে তাঁর সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা সত্য ।

আমি শূন্য থেকে ইসলামকে শিখেছি । এখানে আমার জার্নির শেষ নয় তবে গল্পটার শেষ । এরপর আছে আকীদাগত দ্বন্দ্ব, মাযহাব, কিতালের মত তীব্র মতপার্থক্যের বিষয়গুলো । আমি আমার নিজের কাছে এবং আমার রবের কাছে সৎ থাকবার চেষ্টা করেছি চিরকাল । ভয় পেয়েছি । ঠিক যাচ্ছি তো । সাহায্য চেয়েছি । আমার কাছে থাকা তথ্য দিয়ে সবকিছু যাচাই করে যেটা ভালো মনে হয়েছে সেদিকে গেছি ।

ইসলামের কোন বিষয়টি আমাকে বিমোহিত করে এখন ?

দুইটি জিনিস । এর একটি বলব । বাকিটা বলতে গেলে অনেক বুঝিয়ে বলতে হবে ।

ইসলামকে নতুন করে আবিষ্কার করা যায় প্রতিমুহূর্তে । ইসলামের বিধানগুলোর প্রায়গিক যৌক্তিকতাকে দিন কে দিন নতুন নতুন করে উপলব্ধি করা যায় । এটি আমাকে আজও ইসলাম কে নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।

শেষকথা : ইসলাম পৃথিবীতে আজব দর্শন হিসেবে গণ্য হয়েছিল । এখনও হচ্ছে ।

গ্যালিলিও, মার্ক্স কিংবা নেই ঈশ্বরবাদের জনকদের তৈরি করা এই সভ্যতার মধ্যগগনে এসে, আমার মতন ছেলেরা ইসলাম গ্রহণ করে, এটিই আমার কাছে বড় তাজ্জব ব্যাপার মনে হয় । আমি বড় হয়েছি যেসব বই পড়ে অথবা কাল আমার ছেলেমেয়েরা যা পড়ে বড় হবে তার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে নাস্তিকতার বীজ । এগুলো আর কে কতটা বোঝে জানিনা, আমি বুঝি । এইজন্যই আমার চারিদিকে নাস্তিকতার ভিড়, সংশয়ের তীব্রতা, যুক্তি আর পালটা যুক্তির মারামারি ।

আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে এই ফিতনা থেকে রক্ষা করুন । যৌক্তিকভাবে যুক্তি প্রয়োগের তৌফিক দিন । আমাদের সন্তান ও তাদের সন্তানদেরকে রক্ষা করুন জাহান্নামের আগুন থেকে । কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য আর কেয়ামত সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই । আর নিশ্চয়ই আল্লাহ্র কিতাবে এমন কিছু আছে যা শুধু চিন্তাশীলদের জন্য সংরক্ষিত । শেষে এসে একটু ভাব নিলাম । আল্লাহ্ মাফ করুন ।

যাদের থেকে অনুপ্রেরণা সিঞ্চন করেছিলাম : সুজা ভাই, জাকি, ইমাম ভাই, মরিস বুকাই, রিপন, কুরআনের বিভিন্ন অনুবাদক ও ক্বারি, বিশেষ করে তৌফিক আস সায়েঘ ও quran.com উইকিপিডিয়া, গুগল ।

আমার ৫ বছর আগে লেখা কবিতা তালাশ -১ এর পরের লেখা এটি । তাই এর নাম হওয়া উচিত তালাশ -২ ।

******** সূরা আন নাজমের আয়াত পরিবর্তিত হয়েছিল এ মর্মে ঐতিহাসিক দলিলে কিছু অসামঞ্জস্যতা দেখা যায় । তাই এটি সত্য কিনা সঠিক বলতে পারবোনা । অনেক মুসলিম ঐতিহাসিক বলেন যে কুরাইশ একটি গ্রুপ কুরআনের সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে সিজদায় পড়ে যায় সিজদার আয়াত শুনে । পরে কারণ হিসেবে এটি বলে । তবে সে ইতিহাস কিন্তু গোপন করা হয়নি ।

#Salman_Saeed

About মুহাইমিনুর রহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Solve : *
17 + 9 =


You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>