সফরের আদব ও দোয়া সমূহ

সফরের কিছু আদব রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল দোয়া। সহিহ হদিস থেকে বেশ কিছু দোয়া আপনাদের জন্য এনেছি। বৃহস্পতিবার সকাল বেলা সফরে বের হওয়া উত্তম। কা’ব বিন মালেক বর্ণনা করেন, “নবী করীম স: তাবুক যুদ্ধে বৃহস্পতিবার বের হয়েছিলেন এবং তিনি বৃহস্পতিবার বের হওয়া পছন্দ করতেন। (সহীহ বোখারী) অন্য বর্ণনায় আছে, সাখর বিন ওয়াদা’আ গামিদী বলেন: রাসূল স: বলেছেন: “হে আল্লাহ, আমার উম্মতের ভোর বেলার মধ্যে বরকত দান করুন। (বর্ণনাকারী বলেন) তিনি যখন কোন ক্ষুদ্র বা বৃহৎ বাহিনী কোথাও পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিতেন তখন তাদেরকে দিনের প্রথমভাগেই পাঠাতেন।” (আবুদাউদ, তিরমিযী, হাদিস হাসান)

আরেকটি আদব হল সফর সঙ্গী রাখা এবং একজন আমীর মোতায়েন করা।

আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তাঁরা রলেন: রাসূল স: বলেছেন “তিনজন সফরে বের হলে যেন তারা তাদের একজনকে আমীর মোতায়েন করে নেয়।” (হাদিস হাসান, বর্ণনায় আবু দাউদ) মহিলারা একা সফর করা হারাম। আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ স: কে বলতে শুনেছি, তিনি মিম্বারের উপর খুতবা দিচ্ছিলেন, কোন মহিলা যেন মাহরাম ছাড়া সফর না করে। এ কথা শোনে একজন লোক দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমার স্ত্রী হজে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়েছে, অথচ আমি অমুক যুদ্ধে আমার নাম লিখিয়েছি, রাসূলুল্লাহ স: বললেন, তুমি যাও, এবং তোমার স্ত্রীর সাথে হজ কর। (বুখারি: ৩০০৬, মুসলিম: ১৩৪১)

সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের পর দুই রাকাত নামায পড়া মুস্তহাব। কা’ব বিন মালেক রা. বর্ণনা করেন যে, “রাসূল স: যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন প্রথমে মসজিদে গিয়ে দু’রাকাত নামায পড়তেন।” (সহীহ বোখারী ও সহীহ মুসলিম)

সফরের দোয়া:

1. بِسْمِ اللَّهِ, الْحَمْدُ لِلَّهِ, سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ, الْحَمْدُ لِلَّهِ, الْحَمْدُ لِلَّهِ, الْحَمْدُ لِلَّهِ, اللَّهُ أَكْبَرُ, اللَّهُ أَكْبَرُ, اللَّهُ أَكْبَرُ, اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ.
(حديث حسن/ رواه ابو داود و الترمذي عن علي بن ربيعة رحمه الله)

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, সুবাহানাল্লাযী সাখখারা লানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহু মুক্বরিনীন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুন ক্বালিবু~ন। আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা ইন্নি যলামতু নাফসী যুলমান কাছীরান ওয়ালা ইয়াগফিরুযযুনুবা ইল্লা আনতা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা ওয়ারহামনী, ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম।

অর্থ: আমি আল্লাহর নামে আরহণ করিতেছি, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, পাক পবিত্র সেই মহান সত্ত্বার, যিনি উহাকে আমাদের জন্য বশীভূত করে দিয়েছেন যদিও আমরা উহাকে বশীভূত করিতে সক্ষম ছিলাম না, আর আমরা অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করিবো আমাদের রব প্রতিপালকের দিকে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়। হে আল্লাহ, আমি আমার আত্মার উপর অনেক জুলুম করিয়াছি, আপনি ব্যতীত গুনাহ মাফ করার কেহ নাই, সুতরাং আপনি আমাকে আপনার নিজগুণে মাফ করিয়া দিন, এবং আমার প্রতি দয়া করুন, আপনি তো মার্জনকারী দয়ালু।

2. اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا, الْبِرَّ وَالتَّقْوَى, وَمِنْ الْعَمَلِ مَاتَرْضَى, اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا, وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ, اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ, وَالْخَلِيفَةُ فِي الأَهْلِ, اللَّهُمَّ إِنِّا نعُوْذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَر, وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ, وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ, فِي الْمَالِ وَالأَهْلِ وَالوَلَدِ.
(حديث صحيح/ رواه ابو داود و الترمذي عن علي بن ربيعة رحمه الله)

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না আস আলুকা ফী সাফারিনা হাযা, আলবিররু ওয়াত-ত্বাকওয়া, ওয়ামিনাল আমালি মা তারদা। আল্লাহুম্মা হাওইন আলাইনা সাফারানা হাযা, ওয়াতবি আন্না বু’দাহ। আল্লাহুম্মা আনতা সা’হিবু ফিসসাফার, ওয়াল খালিফাতু ফিল আহল। আল্লাহুম্মা ইন্না নাউযুবিকা মিন ওয়াছাইস সাফার, ওয়াকাআ বাতিল মানযার, ওয়াসুইল মুনক্বালাব, ফিল মালি ওয়াল আহলি ওয়াল ওয়ালাদ।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের এ সফরে আমারা আপনার নিকট প্রার্থনা জানাই পূণ্য আর তাকওয়ার এবং আমরা এমন আমলের সামর্থ আপনার কাছে চাই, যা আপনি পছন্দ করেন। হে আল্লাহ, আমাদের জন্য এই সফর সহজ সাধ্য করিয়া দিন, এবং উহার দূরত্বকে আমাদের জন্য হ্রাস করিয়া দিন। হে আল্লাহ, আপনি এই সফরে আমাদের সাথী, আর (আমাদের গৃহে রেখে আসা) পরিবার পরিজনের আপনি রক্ষাণাবেক্ষকারী। হে আল্লাহ, আমরা আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি সফরের ক্লেশ হইতে এবং অবাঞ্চিত কষ্টদায়ক দৃশ্য দর্শন হইতে এবং সফর হইতে প্রত্যাবর্তনকালে সম্পদ ও পরিজনের অনিষ্টকর দৃশ্য দর্শন হইতে।

আকাশ ও সমুদ্র পথে ভ্রমনে এই দোয়াটি অতিরিক্ত পড়া

1. بِسْمِ اللَّهِ مَجْرِيْهَا وَمُرْسَاهَا إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَحِيمٌ, وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّماوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ.
(حديت ضعيف / رواه ابو يعلى فى مسنده عن الحسين بن على رضى الله عنهما)

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি মাজেরেহা ওয়ামুরসা’হা ইন্না রাব্বি লাগাফুরুর রাহিম, ওয়ামা ক্বাদারুল্লাহা হাক্বা ক্বাদরিহি ওয়াল আরদু জামিআন ক্বাবদাতুহু ইয়ামাল ক্বিয়ামাতি ওয়াস-সামাওয়াতু মাতফিয়্যাতুন বিয়ামিনিহী সুবাহানাহু ওয়াতায়ালা আম্মা য়ুশরিকু~ন।

অর্থ: আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ন, মেহেরবান। তারা আল্লাহকে যথার্থরূপে বোঝেনি। কেয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে এবং আসমান সমূহ ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে। তিনি পবিত্র, আর এরা যাকে শরীক করে, তা থেকে তিনি পবিত্র।

সফর অবস্থায় কোথাও অবস্থান করলে এই দোয়া পাঠ করা:

1. أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ.
من نزل منزلا ثم قال أعوذ بكلمات الله ……لم يضره شي حتى يرتحل من منزله ذلك (حديث صحيح / رواه الترمذى والنسائى عن حولة بنت حكيم رضى الله عنها)

উচ্চারণ: আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত্তা~ম্মাতী মিন শাররী মা খালাক।

অর্থঃ আমি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালিমা সমূহের সাহায্যে তাঁর সকল সৃষ্টির অনিষ্ট হইতে আশ্রয় চাই।

ফযীলাত: হাদিসে আছে, যদি কোথাও অবস্থান করা হয় এবং উপরোক্ত দোয়া পাঠ করা হয়, তাহলে সে স্থান ত্যাগ করা পর্যন্ত কোন কিছুই তাহার ক্ষতি সাধন করিতে পারিবে না।

সফর হইতে প্রত্যাবর্তনকালে এই দোয়াটি পড়া:

1. آيِبُونَ تَائِبُونَ, عَابِدُونَ, لِرَبِّنَا حَامِدُونَ.
(حديث صحيح/ رواه مسلم والنسائي عن انس رضي الله عنه)

উচ্চারণ: আ’ইবুনা তা’ইবুন, আ’বিদুনা, লিরাব্বিনা হামিদুন।

অর্থ: আমরা (এখন সফর হইতে) প্রত্যাবর্তন করিতেছি তাওবা করিতে করিতে ইবাদতরত অবস্থায় এবং রবের প্রশংসা করিতে করিতে।

বিঃদ্রঃ আরবি হরফের বাংলা উচ্চারণ লেখা অনেক কষ্টকর, যাথাযথ লেখাও যায় না। তাই যারা এইগুলি শিখতে ইচ্ছুক, তারা আমার লেখা উচ্চারণের উপর নির্ভর না করে রবং যারা ভাল আরবি জানেন তাদের থেকে যেন শিখে নেন। আল্লাহ সকলকে এই দোয়াগুলি শিখার ও আমল করার তাওফিক দিক। আমীন

 

উত্স

About wj_admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Solve : *
30 ⁄ 2 =