রমযানের রোযাকে যথাযথভাবে পালনের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

 রমযানের রোযাকে যথাযথভাবে পালনের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় 

লেখক

মুহাম্মদ শাহিদুল ইসলা

সহকারী অধ্যাপক

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।

 

রমযানের রোযাকে যথাযথভাবে পালনের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

রমযান মাসের আগমনে মুসলিমগণ আনন্দ প্রকাশ করে থাকেন। আনন্দ প্রকাশ করাই স্বাভাবিক স্বত:স্ফূর্ততা। পার্থিব কোন সম্পদের সাথে আল্লাহর এ অনুগ্রহের তুলনা চলে না, তা হবে এক ধরনের অবাস্তব কল্পনা। যখন রমজানের আগমন হত তখন রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিশয় আনন্দিত হতেন। রমযান মাসে সপ্তম আকাশের লওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আকাশের বায়তুল ইজ্জতে মহাগ্রন্থ আল-কুর’আন এক সাথে নাযিল হয়েছে। সেখান থেকে আবার রমযান মাসে অল্প অল্প করে রাসূলুল্লাহ্‌ সা.-এর প্রতি নাযিল হতে শুরু করে। কুর’আন নাযিলের দুটি পর্বই রমযান মাসকে ধন্য করেছে। শুধু আল-কুর’আনই নয় বরং ইবরাহীম আ.-এর সহীফা, তাওরাত, যবুর, ইঞ্জীল সহ সকল ঐশী গ্রন্থ এ মাসে অবতীর্ণ হয়েছে। এ মাসে মানুষের হিদায়াত ও আলোকবর্তিকা যেমন নাযিল হয়েছে তেমনি আল্লাহর রহমত হিসেবে এসেছে রোযা। তাই এ দুই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে বেশি বেশি করে কুর’আন তিলাওয়াত করা উচিত। প্রতি বছর রমযান মাসে জিবরীল রাসূলুল্লাহ সা.-কে পূর্ণ কুর’আন শোনাতেন এবং রাসূল সা.-ও তাকে পূর্ণ কুর’আন শোনাতেন। আর জীবনের শেষ রমজানে আল্লাহর রাসূল দু’বার পূর্ণ কুর’আন তিলাওয়াত করেছেন। যা সহীহ মুসলিমের হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আলোচ্য নিবন্ধে রমযানের রোযা যথাযথভাবে পালনের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সম্পর্কে অতি সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো :

১. মানবজীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামের বিধি-বিধান অনুসরণ করা : রোযা পালনকারী তো বটেই প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হল আল্লাহ যা কিছু আদেশ করেছেন তা পালন করা। আর যা কিছু নিষেধ করেছেন তার প্রত্যেকটি বর্জন করা। এর নামই হল ইসলাম বা স্রষ্টার কাছে মানুষের পূর্ণ আত্মসমর্পণ। একজন মুসলিম যেমন কখনো নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে পারে না, তেমনি অন্য মানুষের খেয়াল-খুশি বা তাদের রচিত বিধানের অনুগত হতে পারে না। যদি হয়, তবে তা স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করা হল না। যদি এভাবে আল্লাহর বিধান অনুসারে জীবনকে পরিচালিত করা যায়, তাকেই বলা হবে পরিপূর্ণ ইসলাম। আর পরিপূর্ণ ইসলামে প্রবেশ করতে আল্লাহর রাব্বুল আলামীন আদেশ করেছেন মানুষকে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ.

‘হে মুমিনগণ! তোমরা সর্বাত্মকভাবে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কর না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’[1]

২. ছোট-বড় সব ধরণের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা : রমজানে সকল প্রকার অন্যায় থেকে বিরত না থাকলে রোযা কবুলের বিষয়টা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। অনেককে দেখা যায় রোযা পালন করে অযথা কথা-বার্তা, ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু সে খবর রাখে না যে, এ সকল অন্যায় কাজ-কর্ম রোযার প্রতিদান লাভে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাদের ব্যাপারেই হয়তো রাসূলুল্লাহ সা.  বলেছেন :

كم من صائم ليس له من صيامه إلا الظمأ، وكم من قائم ليس له من قيامه إلا السهر.

‘অনেক রোযা পালনকারী আছে যারা উপোস থাকা ছাড়া আর কিছু পায় না। আর অনেক রাতজাগা সালাত আদায়কারী আছে যারা রাত্রি-জাগরণ ব্যতীত আর কিছু লাভ করে না।’[2]

. একনিষ্ঠতার সাথে রমযানের রোযা পালন করা : কোন কাজে ইখলাস অবলম্বন করার অর্থ হল কাজটা করার উদ্দেশ্য হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। এ ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারবে না। শুধু রোযা নয়, এ ইখলাস ব্যতীত কোন আমল কবুল হবে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :

وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ.

‘তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে এবং সালাত কায়েম করতে ও যাকাত দিতে, এটাই সঠিক দ্বীন।[3]

৪. রোযা পালনের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ্‌ সা.-এর সুন্নাত অনুসরণ করা : কোন আমল্ততা যতই ইখলাসের সাথে সম্পাদন করা হোক না কেন, যদি আল্লাহর রাসূলের নির্দেশিত পদ্ধতিতে আদায় করা না হয়, তবে তা কবুল করা হবে না। বরং তা আল্লাহর দরবার থেকে প্রত্যাখ্যাত হবে। যেমন রাসূলুল্লাহ সা.  বলেছেন,

من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد .

‘যে এমন আমল করবে যার প্রতি আমাদের দ্বীনের নির্দেশ নেই তা প্রত্যাখ্যাত।[4]

৫. যে সকল কাজের কারনে রোযা ভঙ্গ হয় তা থেকে বিরত থাকা : রোযা পালনকারীকে এ ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে যে, যে সকল আচার-আচরণ রোযা ভঙ্গ করার কারণ হয় অথবা রোযা নষ্ট করার সহায়ক হয় এমন সকল বিষয় থেকে দুরত্ব বজায় রাখা।

৬. আল্লাহর প্রতি ভয় ও নেকীর আশায় রোযা পালন করা : প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির কর্তব্য হল, রোযা-সালাতসহ সকল ইবাদত সঠিক পদ্ধতিতে আদায় করা। কিন্তু তার জানা থাকে না যে, তার এ সালাত ও রোযা আল্লাহ কবুল করেছেন না প্রত্যাখ্যান করেছেন। অতএব তার সর্বদা এ ভয় থাকা উচিত যে, হয়তো আমি আমার ইবাদত-বন্দেগী এমনভাবে আদায় করতে পারিনি যেভাবে আদায় করলে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। ফলে আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিদান হয়তো পাব না।

. রাত্রের শেষভাবে সাহরী খাওয়া : রোযা পালনের জন্য সাহরী খাওয়া সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সা.  বলেছেন :

تسحروا فإن في السحور بركة.

‘তোমরা সাহরী খাও, কারণ সাহরীতে বরকত রয়েছে।[5]

৮. সাহরী দেরি করে খাওয়া : সাহরী খাওয়ার ব্যাপারে সুন্নত হল দেরি করে সাহরী খাওয়া। রাসূলুল্লাহ্‌ সা.  সর্বদা শেষ সময়ে সাহরী খেতেন। ফজরের ওয়াক্ত আসার পূর্ব-ক্ষণে সাহরী খেলে রোযা পালন অধিকতর সহজ হয়, ফজরের সালাত আদায় করার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে কষ্ট করতে হয় না। সতর্কতা Aej¤^b করে ফজরের অনেক আগে সাহরী শেষ করা সুন্নত নয়।

. সাহরীর সময়কে অযথা নষ্ট না করে তার যথাযথ ব্যবহার করা : সাহরীর সময় অত্যন্ত মর্যাদা-পূর্ণ একটি সময়। এ সময় জাগ্রত হওয়ার কারণে আল্লাহ যা পছন্দ করেন এমন অনেক ভাল কাজ করা যায়। যেমন তিনি মুমিনদের প্রশংসায় বলেছেন :

وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ.

‘তারা শেষ রাতে (সাহরীর সময়) ক্ষমা প্রার্থনা করে।’[6]

১০. ইফতারের সময় তাড়াতাড়ি ইফতার করা : সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে রাতের আগমন ঘটে ও ইফতার করার সময় হয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন :

ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ.

‘অতঃপর রাত পর্যন্ত রোযা পালন করবে।’[7]

১১. মুস্তাহাব খাদ্য দ্বারা ইফতার করা : এ প্রসঙ্গে হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে,

عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال :كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يفطر على رطبات قبل أن يصلي، فإن لم يكن رطبات فتمرات، فإن لم يكن تمرات، حسا حسوات من ماء.

আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ‘রাসূলুল্লাহ সা.  সালাতের পূর্বে তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর না পাওয়া যেত তবে শুকনো খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি শুকনো খেজুর না পাওয়া যেত তাহলে কয়েক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করতেন।[8]

১২. ইফতারের পূর্বমুহূর্তে দুআ করা : উল্লেখ্য যে, রোযাদারের জন্য দুটি খুশির সময়। একটি ইফতারের সময় আরেকটি আল্লাহ্‌ যখন রোযার সাওয়াব নিজের হাতে রোযাদারকে প্রদান করবেন তখন। ইফতারের সময় রোযা পালনকারীর দোয়া কবুল হয়। বিশেষ করে ইফতারের সময়। কারণ ইফতারের সময়টা হল বিনয় ও আল্লাহর জন্য ধৈর্য ধারণের চরম মুহূর্ত। এ সময় জাহান্নাম থেকে মুক্তি দানের মুহূর্ত। রাসূলুল্লাহ সা.  বলেছেন :

إن لله تعالى عند كل فطر عتقاء من النار، وذلك كل ليلة، لكل عبد منهم دعوة مستجابة.

‘ইফতারের সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। আর এটা রমজানের প্রতি রাতে। রোযা পালনকারী প্রত্যেক বান্দার দোয়া কবুল হয়।[9]

১৩. রমযান মাসে নেকীর কাজগুলো বেশি বেশি করে আদায় করা : রমযান হল কুর’আন নাযিলের মাস। কুর’আন নাযিলের কারণে রমযান মাসের এত মর্যাদা। এ মাসে অবশ্যই অন্য সকল সময়ের চেয়ে বেশি করে কুর’আন তিলাওয়াত করা উচিত। হাদীসে এসেছে,

عن عبد الله بن عمرو أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: الصيام والقرآن يشفعان للعبد يوم القيامة، يقول الصيام أي رب: منعته الطعام والشهوات بالنهار، فشفعني فيه. ويقول القرآن : منعته النوم بالليل، فشفعني فيه. قال فيشفعان.

আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ সা.  বলেছেন : ‘রোযা ও কুর’আন কেয়ামতের দিন মানুষের জন্য এভাবে সুপারিশ করবে যে, রোযা বলবে হে প্রতিপালক! আমি দিনের বেলা তাকে পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। কুর’আন বলবে হে প্রতিপালক! আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। তিনি বলেন : অতপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে।’[10]

১৪. সৎকর্মের ব্যাপারে আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করা : একটু চিন্তা করে দেখা যেতে পারে যে, কত মানুষ রয়েছে যাদেরকে আল্লাহ তার ইবাদত-বন্দেগী করতে সামর্থ্য দেননি কিন্তু আপনাকে ও আমাকে দিয়েছেন। এটা আমার প্রতি তাঁর এক মহা-অনুগ্রহ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেন :

إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ.

‘আল্লাহ মুত্তাকীদের কাজই কবুল করেন।’[11]

১৫. দরিদ্র ও সহায়-সম্বলহীন প্রতি মমতা ও তাদের সেবা করা : রোযা পালনের মাধ্যমে অসহায় সম্বলহীন, অভুক্ত মানুষের প্রতি দয়া ও মমতা সৃষ্টি হয়। ইফতার করানো, সদকাতুল ফিতর, যাকাত আদায় করার সাথে সাথে ব্যাপকভাবে দান-সদকা করা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে,

كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس بالخير، وكان أجود ما يكون في شهر رمضان.

‘রাসূলুল্লাহ্‌ সা.  ছিলেন মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তার দানশীলতা আরো বেড়ে যেত।[12]

১৬. সুন্দর চরিত্র, ধৈর্য ও উত্তম আচরণ দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করুন : রমযান হল ধৈর্যের মাস আর রোযা হল একটি বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থাকাকালীন অবশ্যই সদাচরণ, ধৈর্য, সুন্দর চরিত্রের অনুশীলন করতে হবে।  রোযাদারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সে যেন মূর্খতাপূর্ণ আচরণকারীর জবাব না দেয়, তার সঙ্গে যে ভ্রান্ত আচরণ করে তাকে বলে দেয়,‘ আমি রোযাদার’। সর্বোপরি তাকে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হবে।

১৭. অপচয় ও অযথা খরচ থেকে বিরত থাকা : অপচয় তা যে কোন বিষয়েই হোক ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ। পবিত্র মাসে যখন আমাদের বেশি করে সৎকাজ করা উচিত তখন আমরা খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোন ধরনের অপচয় করে যেন পাপ অর্জন না করি। রমযান মাসে দেখা যায় অনেকে খেতে পারব মনে করে অনেক কিছু আয়োজন করে। অবশেষে খেতে না পেরে তা নষ্ট করে ফেলে। এটা সত্যিই অন্যায়।

১৮. নিয়মতান্ত্রিকভাবে রমযানের উপযুক্ত সময়কে কাজে লাগান : রমজানের সময়টা অন্য সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সংক্ষিপ্ত মনে হয়। তাই আপনি রুটিন করে সময়টাকে কি কি কাজে ব্যয় করবেন তা যদি ঠিক করে না নেন তাহলে দেখবেন অনেক কাজই অসমাপ্ত রয়ে গেছে। অনর্থক কথা-বার্তা, আড্ডা বাজি, গল্পগুজব, নিষ্ফল বিতর্ক ইত্যাদি পরিহার করুন। কোন কথা বা কাজ করার আগে ভেবে দেখুন কথা বা কাজটা আপনার জন্য কতটুকু কল্যাণ বয়ে আনবে। ‘আমার পাশে বসে অন্য লোক একটি বিষয় আলোচনা করছে তাই আমাকে অংশ নিতেই হছ,তাই একটু বললাম’ এমন যেন না হয়। অযথা কথা ও কাজ পরিহার করা রোযার একটি শিক্ষা ও দাবি।

১৯. দুনিয়াবি কর্মব্যস্ততা থেকে যথাসাধ্য পরিহার করা : রমযান মাসে নিজের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণের জন্য দুনিয়াদারির ব্যস্ততা কমিয়ে দিয়ে একটি ভারসাম্য সৃষ্টি করুন। অনেকেই রমযান মাসকে অর্থ উপার্জন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মুনাফা লাভের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। এ দিকেই বেশি সময় ব্যয় করেন। দুনিয়াদারি যতটুকু না করলেই নয় ততটুকুতো অবশ্যই করবেন। আর বাকি সময়টা আখেরাতের মুনাফা অর্জনের জন্য ব্যয় করুন।

২০. সকল কাজে তুলনামূলকভাবে ভারসাম্য বজায় রাখা : আমাদের মাঝে অনেকে রমযান মাসে যেমন খাওয়া দাওয়া বেশি করে তেমনি আবার বেশি সময় ঘুমিয়ে কাটায়। তারাবীহ ও সাহরীর কারণে যদি রাতে দু ঘণ্টা নিদ্রা কম হয় তবে দিনে তার কাফফারা আদায় করে চার ঘণ্টা ঘুমিয়ে। খাবার ব্যাপারে অনেকে একই নীতি অনুসরণ করে। যদি এরকমই আমাদের অবস্থা হয় তবে আমরা রমজানের জন্য কি কুরবানী করলাম? বিষয়টা গভীরভাবে ভেবে দেখা উচিত।

 তথ্যসূত্র :

  1. সূরা বাকারা, আয়াত, : ২০৮
  2. সুনান আদ-দারেমী, হাদীস নং-২৭২০
  3. সূরা আল-বাইয়েনাহ, আয়াত : ৫
  4. মুসলিম, হাদীস নং-৪৫৯০
  5. বুখারী, হাদীস নং-১৯২৩;মুসলিম, হাদীস নং-২৬০৩
  6. সূরা যারিয়াত, আয়াত : ১৮
  7. সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮৭
  8. আহমদ, আল-মুসনাদ, হাদীস নং- ১৩০১২
  9. বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা, হাদীস নং-৩৬০৫
  10. আহমদ, আল-মুসনাদ, হাদীস নং-৬৬২৬
  11. সূরা মায়িদাহ, আয়াত : ২৭
  12. মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং-৩২০৮

About wj_admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Solve : *
10 ⁄ 5 =